আইনি_দস্তাবেজ
আইনি_দস্তাবেজ

আনলোড ড্রেজার বিক্রয় দলিল

আনলোড ড্রেজার বিক্রয় দলিল

জলযান বা আনলোড ড্রেজার ক্রয়-বিক্রয় একটি জটিল ও উচ্চমূল্যের লেনদেন, যেখানে একটি আইনসম্মত ও বিশদ চুক্তিপত্র অপরিহার্য। এ ধরনের চুক্তি উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনগত জটিলতা এড়াতে সহায়ক।

নিচে একটি সম্পূর্ণ বাংলা চলিত ভাষায় লেখা আনলোড ড্রেজার বিক্রয় দলিল দেওয়া হলো, যাতে সকল তথ্য কাল্পনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিক্রয় দলিল

প্রথম পক্ষ / বিক্রেতা:
নাম: মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিতা: মোঃ আব্দুল হালিম, ঠিকানা: ১২৩, নদীপাড় রোড, চাঁদপুর। জাতীয়তা: বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম, পেশা: ব্যবসা।

দ্বিতীয় পক্ষ / ক্রেতাগণ:
নাম: মোঃ সাজিদ হাসান ও অংশীদারগণ, পিতা: মোঃ নুরুল আমিন, ঠিকানা: ৪৫৬, বন্দর রোড, নারায়ণগঞ্জ। জাতীয়তা: বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম, পেশা: ব্যবসা।

পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার নামে স্মরণ করে এই আনলোড ড্রেজার (এম. ভি সোহানা আনলোড ড্রেজার) ক্রয়-বিক্রয় দলিলের বর্ণনা শুরু করছি। আমি, নিচের তফসিলে বর্ণিত “এম. ভি সোহানা আনলোড ড্রেজার” (রেজিস্ট্রেশন নং: এম-০১-১৬০১০)-এর সম্পূর্ণ মালিক ও ভোগদখলকারী।

বর্তমানে আমার আর্থিক প্রয়োজনে নগদ টাকার একান্ত প্রয়োজন হওয়ায়, নিচের তফসিলে বর্ণিত “এম. ভি সোহানা আনলোড ড্রেজার” (রেজিস্ট্রেশন নং: এম-০১-১৬০১০) বিক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনারা (ক্রেতাগণ) উক্ত ড্রেজারটি ৪৫,০০,০০০/- (পঁয়তাল্লিশ লক্ষ) টাকা দিয়ে ক্রয় করতে ইচ্ছুক। আজ থেকে এই দলিল মোতাবেক ড্রেজারটির মালিকানা আপনাদের কাছে হস্তান্তরিত হলো। আপনারা ছাড়া অন্য কেউ এই ড্রেজারের মালিকানা বা অংশীদারিত্ব দাবি করতে পারবে না। যদি কেউ দাবি করে, তা আইনত অগ্রাহ্য ও বাতিল বলে গণ্য হবে, এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমি (বিক্রেতা) এই ড্রেজারটির যদি সম্পর্কিত কোনো ঋণ বা মর্টগেজ থাকে, আমি নিজ দায়িত্বে তা পরিশোধ করব। এ বিষয়ে যে কোনো টালবাহানা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিক্রয়কৃত ড্রেজারটির যে কোনো মামলা-মোকদ্দমা বা আইনি সমস্যা বর্তমানে নেই। যদি আমার প্রদত্ত তথ্যে কোনো মিথ্যাচার বা গোপনীয়তা থাকে, এবং তার কারণে আপনারা (ক্রেতাগণ) ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে আমি আপনাদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকব। আমি বিক্রেতা, ড্রেজারটির সমস্ত সরকারি ভ্যাট পরিশোধ করে সম্পর্কিত কাগজপত্র বুঝিয়ে দেব। এই জলযানের নামে কোনো ঋণ বকেয়া নেই।

এই দলিলটি আমি স্বেচ্ছায়, সুস্থ মস্তিষ্কে, সরল মনে এবং যে কোনো প্ররোচনা ছাড়াই পড়ে ও বুঝে নিয়েছি। উপস্থিত স্বাক্ষীগণের সামনে আমরা উভয় পক্ষ এই দলিলে স্বাক্ষর করলাম।

তারিখ: ১৫/১১/২০২৩ ইং

তফসিল পরিচয়:
ড্রেজারের নাম: “এম. ভি সোহানা আনলোড ড্রেজার”, রেজিঃ নং: এম-০১-১৬০১০, ইঞ্জিন সংখ্যা: ৩, হর্সপাওয়ার: ৭২০ BHP, নির্মাণ কাল: ২০১৭, দৈর্ঘ্য: ১৮.২০ মিটার, প্রস্থ: ৪.৬০ মিটার, গভীরতা: ১.০৫ মিটার। এই ড্রেজারটি এই দলিল দ্বারা বিক্রয় করা হলো।

স্বাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর:
১. মোঃ কামরুল হাসান, ঠিকানা: ৭৮/সি, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ
২. মোঃ আল আমিন, ঠিকানা: ৪৫/ডি, বাজার রোড, চাঁদপুর
৩. মোঃ সোহেল রানা, ঠিকানা: ৫৬/ই, সদর রোড, নারায়ণগঞ্জ

 

বিক্রেতার স্বাক্ষর:

 

__________________

(মোঃ রফিকুল ইসলাম)

 

ক্রেতাগণের স্বাক্ষর:

 

__________________

(মোঃ সাজিদ হাসান ও অংশীদারগণ)

 

পরামর্শ:
আনলোড ড্রেজারের মতো বড় জলযান ক্রয়-বিক্রয়ের সময় অবশ্যই সকল কাগজপত্র (রেজিস্ট্রেশন, সার্ভে সার্টিফিকেট, ট্যাক্স রসিদ, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর verification) carefully verify করুন। বাংলাদেশ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বা অন্যথায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মালিকানা হস্তান্তর (নামজারী) সম্পন্ন করুন। একটি স্বাধীন surveyor দিয়ে জলযানটি পরিদর্শন করুন। চুক্তিপত্রটি আইনজীবীর মাধ্যমে review করে নিন।

নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply