Eid Memory

গরু দৌড় ও ঈদ উল আযহা

গরু দৌড় ও ঈদ উল আযহা

 

১৯৯৭ সালের একটি অন্ধকার সন্ধ্যারাত। মানে ৮টা কি ৯টা। তাও আবার ঈদের আগের দিন। হঠাৎ গোয়াল ঘরের বাঁশ ভেঙ্গে ভোঁ-দৌড় দিলো কোরবানির জন্য কেনা গরু। ভো-দৌড় না বলে ভড় ভড় দৌড় বলা ভাল। কারণ বাঁশটি গরুর রশির সঙ্গে ঝুলছে আর গরুর পায়ের সাথে লেড়ে ভড় ভড় শব্দ হচ্ছে। শুকনো মোটা বাঁশ বলে কথা। পরিবারের কিশোর ছেলের হাতেই পড়ে কোরবানির গরু দেখভালের দায়িত্ব। শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে কিশোর দিলো গরুর পিছনে ছুট। ছুটতে ছুটতে…

২০২০ সাল করোনায় আক্রান্ত দেশ। হাঁটের বিকল্প হিসেবে অনলাইনে গরু বিক্রি শুরু হলো। রাজধানী বাসীর জন্য বাতাসে বাজার বসানো হলো নাম ডিজিটাল হাট। ছবি দেখে গরু ক্রয়, তারপর জবাই হয়ে বাসায় আসবে গরু। সেই কিশোর পেল ডিজিটাল হাটের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব। ২৩ বছর আগের সেই কিশোর এখন দুই সন্তানের বাবা বাচ্চাদের নিয়ে ঢাকায় থাকেন। দায়িত্বের খাতিরে ঈদের ৩ দিন আগে থেকে দিনরাত কসাইখানায়। অনলাইনে ঢাকাবাসীর কেনা গরু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে সেগুলো ওজন ও স্বাস্খ্য দেখে কসাইখানায় তথা স্লটারিং হাউজে বুঝে নেয়ার কাজ সমন্বয় করছে। কিছু গরুর ক্ষেত্রে শর্ত ভঙ্গ হয়েছে। বিক্রেতাকে বলা হলো গরু পাল্টে দিতে। বিক্রেতা যেহেতু চুক্তিবদ্ধ দিতেতো হবে। কিন্তু এক বিক্রেতার ১৪টি গরু ঈদের আগের দিন পার হওয়ার পরও স্লটারিং হাউজে আসলো না। ক্রেতারা টেনশনে আর সমন্বয়কারী হাইপার টেনশনে, কতৃপক্ষ সুপার টেনশনে। বিক্রেতা এসে জানালেন তার গরু ট্রাকসহ হাওয়া। কোনো খোঁজ নেই। ড্রাইভার ফোন ধরছেনা।

হায় আল্লাহ। রাত পোহালে ঈদ। ক্রেতাকে কি জবাব দিবে ডিজিটাল হাটের পরিচালনা কতৃপক্ষ ডিএনসিসি ও ই-ক্যাব। সেই দৌড় গরুর পেছনে ২৩ বছর আগে ১ গরুর পেছনে এখন ১৪ গরুর পেছনে। শেষতক সেদিন যেমন পাশের গ্রামে গিয়ে গরু ধরা গেছে এবারও সমাধান হয়েছে। ৬ জন ক্রেতা টাকা ফেরত নিয়েছেন ৮জন ক্রেতাকে গরু দিতে হয়েছে। তবে আরো বড় গরু। বাড়তি টাকার ভার বিক্রেতার। তবে এখন নয় পরে দেবেন। তবু ভাল সুরাহা হলো অন্য একটি খামার থেকে গরু এনে দেয়া হলো ক্রেতাকে।

 গরু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ করে বাসায় পাঠানোর পর একজন ক্রেতা গরুর জিহবা না পেয়ে সেকি নাখোশ। পরের দিন তার জন্য নিজেদের গরু থেকে জিহবা পাঠানো হলো। একজন ক্রেতা ভুড়ি পরিষ্কার না পেয়ে সে কি অসন্তুষ্ঠ তার গরুর ভূড়ি আবার এনে পরিষ্কার করে ফের ডেলিভারী দেয়া হলো। যাদের গরু ওজনে কম হলো তাদের মূল্য ফেরত দেয়া হলো। যারা তিন ভাগের এক ভাগ মাংস দান করতে চেয়েছেন তাদের দেয়া মাংস ঢাকার গরিব মানুষদের হাতে তুলে দেয়া হলো।

 এভাবে আরো ২ দিন স্লটারিং হাইজে কাটিয়ে প্রতিটি ধাপে নানা সমস্যার সমাধান করে ঈদের ৩ দিন সকালে বের হয়ে রাত ১০টায় বাসায় ফিরি বাচ্চাদের কাছে। গতবারের ঈদটা আমার এভাবে গিয়েছে। এবারো একই দায়িত্ব। হয়তো সেভাবেই যাবে। কিন্তু বহু মানুষকে ঈদের আনন্দ দিতে কাজ করেছি সেটাই আমার ঈদ। এবারো ডিজিটাল হাটে থাকবো কসাইখানায় সকলের কোরবানির গরু জবাই করে বাসায় পাঠানোর কর্মযজ্ঞে। গরু অথবা মাংস ডেলিভারী পাওয়ার পর লোকেরা যে ধন্যবাদ দেয় সেটাইকেই ঈদের শুভেচ্ছা মনে করি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply