রিকশাওয়ালা শ্বশুর

আদতে এটা কোনো কবিতা নয় -জাহাঙ্গীর শোভন

আদতে এটা কোনো কবিতা নয়

-জাহাঙ্গীর শোভন

 এমন কোনো কথাই ছিল না যে,

আমি বিয়ে করে সংসারী হবো।

বরং আমার বাউন্ডুলে হয়ে যাবার

হাজারো লক্ষণ ছিলো।

মা বলতেন, আমার মতো ছেলেকে কেউ কোনো

মেয়ে দিবে না। মানে বউ পাবো না আমি!

আর যদি রিকসাওয়ালা ভুলে তার মেয়েকে দিয়েও দেয়।

কয়দিন পর নাকি ফেরত নিয়ে যাবে।

একথা শুনতে শুনতে…

সে দৃশ্য আমি এতবার কল্পনায় দেখেছি।

এর প্রতিটি মূহুর্ত আমার মনে গেঁথে আছে।

বিশেষ করে, আমার কথিত রিকসাচালক শ্বশুর

তার মেয়েকে ফেরত নিয়ে যাচ্ছে,

ভাত কাপড় দিতে পারছিনা বলে

আমার বউটিও তার বাবার সাথে বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছে।

সে দৃশ্য বড়ো জীবন্ত, অদ্ভূৎ, মায়াবী সুন্দর

আর দু:খ ঝরানিয়া।

আমি দেখতে পাই, আমার রিকসাজীবি শ্বশুর এলেন

তারপর কোনো কথা না বলে তার মেয়েকে ঘর থেকে বের হতে বললেন

শ্বশুরের চোখ লাল। পানি টলমল। ঘাড় থেকে ঘামছা হাতে নিয়ে তিনি

মুখ ‍মুছলেন। মেয়েকে রিকসায় উঠতে বলে দাঁড়িয়ে আছেন।

বউটি আমার, কান্না ছাপা দিতে শাড়ীর আঁছলে ঢেকেছে মুখ।

টপ টপ করে পড়া চোখের জল, সে যেন মুছতে ভুলেই গিয়েছে।

বার বার পেছন ফিরে চাইছে। ময়লা পুরনো শাড়ী, আধপেটা ভাত

সব কিছু সে ভুলতে পারে। যদি স্বামী একবার তাকে থেকে যেতে বলে।

ভালবাসা এখানে জানালা নয় দরজা দিয়ে যাচ্ছে।

পালিয়ে নয়, চোখের সামনে দিয়ে।

বউটি আমার শেষ-মেষ চলেই যাচ্ছে।

আমার মা’র কথা সত্যি প্রমাণ করাই যেন তার দায়।

এখনো

হাঁ, এখনো এই দৃশ্যটি দেখি।

আর আমার গরিব শ্বশুর আর তার মেয়ের জন্য মন খারাপ হয়।

মায়া অনুভব করি।

কখনো কখনো মনে, অন্য এক প্যারালাল পৃথিবীতে সত্যিই সত্যি

ভাত কাপড় দিতে পারি নি বলে, আমার রিকসামালিক শ্বশুরের মেয়ে

আমাকে ছেড়ে বার বার চলে যায়। হয়তো।

তাই প্রতিদিন বউয়ের জন্য ভালবাসা আর বাচ্চাদের জন্য আদর কিনে

ঘরে ফিরি।

যেন বউটি চলে না যায়।

যেন শ্বশুর তার মেয়েকে ফেরত নিয়ে না যান।

আমার মাও সেদিনটির কথা ভুলে যান।

(৬ এপ্রিল, ২০২২)

বহুদিন পর ক্রিয়েটিভ কিছু লিখতে চাইলাম।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply