৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী ধারাবাহিকতা

৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী ধারাবাহিকতা

৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী ধারাবাহিকতা

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলন, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করেছিল। ১৯৬৬ সালে  শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এ আন্দোলন তীব্রতর হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবের বন্দিত্ব এবং আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে এ গণঅভ্যুত্থান গড়ে ওঠে। ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হন, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। ফেব্রুয়ারিতে গণআন্দোলনের চাপে আইয়ুব খান শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন এবং ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ প্রত্যাহার করা হয়। এ গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং পাকিস্তানে ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বে সামরিক শাসন জারি হয়, যা পরবর্তী সময়ে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে।

১. গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি ও পেছনের কথা
 পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানে অর্থনৈতিক বৈষম্য
 ১৯৬৬ ছয়দফা, লাহোরে
 ড. আহমদ হাসান দানী : স্বাধীন বাংলাদেশের সম্ভাবনা
 আওয়ামী লীগ : পিডিএমপন্থি : ছয়দফাপন্থি
 ন্যাপ-কমিউনিস্ট-ছাত্র ইউনিয়ন : ছয় দফা অসম্পূর্ণ
 মাওলানা ভাসানী-চীনপন্থি কমিউনিস্ট : সিআইএ-র দলিল
 ১৯৬৫: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ
 ১৯৬৫ : নির্বাচন

২. ছয় দফায় কী ছিল
 ফেডারেশন  কেন্দ্রের ক্ষমতা প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র  এক পাকিস্তানে দুই মুদ্রা
 কেন্দ্র কর ধার্য করতে পারবে না  অঙ্গরাষ্ট্র (প্রদেশ) গুলো অন্য দেশের সঙ্গে স্বাধীন বাণিজ্য করতে পারবে, নিজ নিজ বাণিজ্য প্রতিনিধি থাকবে এবং অন্যদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে  আঞ্চলিক বাহিনি গঠন করতে হবে।

৩. ৭ই জুন (১৯৬৬) হরতাল
 ইত্তেফাক নিষিদ্ধ  ড. আবু মাহমুদ লাঞ্ছিত  ড. আবদুল মতিন চৌধুরী প্রভোস্ট পদ থেকে অপসারিত  প্রফেসর আবদুর রাজ্জাকের ঘৃণাভরে দেশত্যাগ

৪. বেতারে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ  পালটাপালটি বিতর্ক

৫. আরবি হরফে বাংলা (১৯৬৭) লেখার প্রস্তাব

৬. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
 পূর্ব বাংলায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগ
 ৩৫ জন গ্রেফতার
 বন্দি শেখ মুজিব ঘটনার ‘হোতা’
 রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব চার্জশিট
 বিচার শুরু
 উন্নয়ন দশক ১৯৫৮-১৯৬৮
 ছাত্রদের ১১ দফা [১. কলেজ সরকারিকরণ বন্ধ করা, শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাতিল, ২. সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ৩. ৬ দফা, ৪. সকল প্রদেশের স্বায়ত্তশাসন, ৫. শিল্প জাতীয়করণ, ৬. কৃষকের খাজনা হ্রাস, ৭. শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, ৮. পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ৯. জরুরি আইন প্রত্যাহার, ১০. সিয়েটো, সেন্টো চুক্তি বাতিল, ১১. রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তি।
 ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন [মেনন], ছাত্র ইউনিয়ন [মতিয়া], এনএসএফ [দোলন]
 প্রত্যক্ষ আন্দোলন শুরু ১৭ই জানুয়ারি ১৯৬৯
 ১৪৪ ধারা জারি এবং ভঙ্গ
 ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান নিহত, ২০ জানুয়ারি। রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল
 গণঅভ্যুত্থান। ২৪শে জানুয়ারি ১৯৬৯। কিশোর মতিয়ুর নিহত। গভর্নর হাউস আক্রমণ। সান্ধ্য আইন জারি। শহরের নিয়ন্ত্রণ ভার সেনাবাহিনীর হাতে।
 প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকের প্রস্তাব। শেখ মুজিবসহ রাজবন্দিদের মুক্তি দাবি। আইয়ুব গেট আসাদ গেট। আইয়ুব পার্ক  মতিয়ুর পার্ক
 ১৫ই ফেব্রুয়ারি সেনানিবাসে সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যা। প্রতিবাদে বিক্ষোভ
 ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ড. জোহা হত্যা। সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে ঢাকায় বিক্ষোভ
 ২২শে ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ রাজবন্দিদের মুক্তিলাভ
 ২৩শে ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবকে সংবর্ধনা। ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদান
 ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে গোলটেবিল বৈঠক। ১০ই মার্চ পুনরায় বৈঠক। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ও ১১ দফা উত্থাপন
 গভর্নর মোনায়েম খানকে ২৫শে মার্চের মধ্যে অপসারণ দাবি, মোনায়েমের বিদায়
 ২৫শে মার্চ। প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের বিদায়। নতুন করে সামরিক শাসন। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের আগমন।

মূল্যায়ন
 ছাত্রসমাজ একটা নতুন ভূমিকায়
 সাধারণ মানুষের মধ্যে লড়াকু মেজাজের জন্ম
 ৬০০ শহিদ
 মুক্তিযুদ্ধের একটা মহড়া হয়ে গেল।

 

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply