স্পেন শেঞ্জেন ভিসা প্রসেসিং গাইড
স্পেন ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর একটি। ঐতিহাসিক স্থাপনা, সাগরতট, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং সুস্বাদু খাবারের জন্য দেশটি সারা বিশ্বের ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে। পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা বা পারিবারিক ভ্রমণ—যে কারণেই হোক, স্পেনে প্রবেশের জন্য শেঞ্জেন ভিসা প্রয়োজন। নিচে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় নথি, আবেদন প্রক্রিয়া, ফি এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতাগুলো উল্লেখ করা হলো।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সাধারণ নথি
-
বৈধ পাসপোর্ট: অন্তত ২টি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের পুরোনো হতে পারবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অন্তত ৩ মাস বৈধ থাকতে হবে। আবেদনকারীর স্বাক্ষর থাকতে হবে। আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটিও দিতে হবে।
-
পাসপোর্ট সাইজের ছবি: আকার ৩.৫ x ৪.৫ সেমি। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড। শেষ ৬ মাসে তোলা হতে হবে। সামনে থেকে তোলা এবং মুখ স্পষ্ট থাকতে হবে।
-
সম্পূর্ণ আবেদন ফর্ম।
-
বায়োমেট্রিক ডাটা (আঙুলের ছাপ)।
-
স্পেন ভিসা ফি।
-
ভ্রমণ পরিকল্পনা বা যাত্রাপথ।
-
ফিরতি টিকিট বা অন্য দেশে যাওয়ার প্রমাণ।
-
ভ্রমণের কারণ উল্লেখ।
-
ফ্লাইট রিজার্ভেশন।
-
আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ: শেষ ৩ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যক্তিগত সম্পদ বা অন্যান্য সম্পত্তি।
-
আবাসনের প্রমাণ: হোটেল বুকিং রেফারেন্স নম্বর, ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর।
-
ভ্রমণ মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স: পুরো ভিসা সময়ের জন্য বৈধ থাকতে হবে। সব শেঞ্জেন দেশে কার্যকর হতে হবে। কমপক্ষে ৩০,০০০ ইউরো কভারেজ থাকতে হবে। নথিতে ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ, কভারেজ ও বৈধতার বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে।
-
চাকরির প্রমাণপত্র: নিয়োগকর্তার নাম ও ঠিকানা, কাজের ধরন, চাকরি শুরুর তারিখ, বেতন, ভ্রমণের কারণ ও ছুটির সময়কাল।
-
কপি জমা: পাসপোর্টের আইডি পৃষ্ঠা, পুরোনো শেঞ্জেন ভিসা, রেসিডেন্স পারমিট (যদি থাকে)।
অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারী (১৮ বছরের নিচে)
-
জন্ম সনদের কপি।
-
দত্তক হলে দত্তক নেওয়ার প্রমাণপত্র।
-
বাবা-মা তালাকপ্রাপ্ত হলে তালাকের কাগজপত্র।
-
বাবা-মা মারা গেলে মৃত্যু সনদ।
-
উভয় অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবকের সম্মতিপত্র।
-
বাবা-মা বা অভিভাবকের পাসপোর্ট কপি।
স্পেন ভিসা ফি
-
সাধারণ আবেদন ফি ৮০ ইউরো।
-
৬ বছরের কম বয়সী শিশু ও অনেক শিক্ষার্থী ভিসা ফি থেকে অব্যাহতি পায়।
-
আবেদন জমার সময় আলাদা নন-রিফান্ডেবল সার্ভিস চার্জ দিতে হতে পারে।
আবেদন করার ধাপ
-
সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন।
-
আবেদন ফর্মে ভ্রমণের কারণ হিসেবে “Tourism” নির্বাচন করুন।
-
কতবার প্রবেশ করতে চান তা নির্ধারণ করুন (একক বা একাধিক প্রবেশ)।
-
অনলাইনে ফর্ম পূরণ করুন। প্রিন্ট করে কনস্যুলেটে জমা দিন।
-
প্রয়োজন হলে সাক্ষাৎকারের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
-
নির্ধারিত সময়ে কনস্যুলেট বা ভিসা সেন্টারে আবেদন জমা দিন।
-
আবেদন অবশ্যই ভ্রমণের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে জমা দিতে হবে।
-
ভ্রমণের তারিখের ৬ মাসের বেশি আগে আবেদন জমা দেওয়া যাবে না।
-
বায়োমেট্রিক ডাটা দিতে হবে। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
-
-
ভিসা ফি প্রদান করুন।
কোথায় আবেদন করবেন
-
নিজ দেশের স্প্যানিশ কনস্যুলেট বা অনুমোদিত ভিসা সেন্টারে আবেদন করতে হবে।
-
যেখানে স্প্যানিশ কনস্যুলেট নেই, সেখানে অন্য শেঞ্জেন দেশের কনস্যুলেট আবেদন গ্রহণ করতে পারে।
-
আবেদন অবশ্যই নাগরিকত্ব বা বসবাসরত দেশের কনস্যুলেটে জমা দিতে হবে।
প্রসেসিং সময়
-
সাধারণত ১৫ দিনে ভিসা প্রসেস হয়।
-
জটিল ক্ষেত্রে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অনুমোদিত ভিসার পর
-
ভিসার তথ্য সঠিক আছে কিনা মিলিয়ে নিন।
-
ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন হলে কনস্যুলেটকে জানান।
-
শেঞ্জেন ভিসা পাওয়া মানেই প্রবেশ নিশ্চিত নয়। সীমান্তে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে।
ভিসা বাতিল হলে
-
প্রত্যাখ্যানের কারণ উল্লেখ করা ফর্ম সংগ্রহ করুন।
-
একই কনস্যুলেটে আপিল করতে পারবেন।
-
অথবা, মাদ্রিদের হাই কোর্ট অব জাস্টিসে আবেদন করতে পারবেন, যা ভিসা প্রত্যাখ্যানের ২ মাসের মধ্যে করতে হবে।
-
আপিল প্রসেসের জন্য নন-রিফান্ডেবল ফি দিতে হবে।
ভ্রমণের সতর্কতা
-
সর্বদা ভ্রমণ বীমা সঙ্গে রাখুন।
-
আবাসন ও ফ্লাইট বুকিং নিশ্চিত রাখুন।
-
ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করবেন না।
-
সীমান্তে প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবে দিন।
-
কনস্যুলেট বা দূতাবাসের জরুরি যোগাযোগ নম্বর লিখে রাখুন।

