কান, সমালোচনা
কান

আপনি কি সমালোচনা সহ্য করতে পারেন?

আপনি কি সমালোচনা সহ্য করতে পারেন?

সমালোচনা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে বাংলাদেশে সামাজিক, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রসঙ্গে আমরা প্রায়ই সমালোচনার মুখোমুখি হই। কখনো এটি সহনশীলতা এবং আত্মমর্যাদা পরীক্ষা করে, আবার কখনো মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এই আত্মযাচাই প্রশ্নপত্রটি আপনাকে সাহায্য করবে নিজের সমালোচনা সহনশীলতা ও প্রতিক্রিয়া ধরার ক্ষেত্রে নিজের মানসিক প্রবণতা চিহ্নিত করতে। প্রতিটি প্রশ্নের তিনটি উত্তর দেওয়া হয়েছে, যা তিনটি মানসিক মাত্রা নির্দেশ করে।

নির্দেশনা: প্রতিটি প্রশ্নে আপনাকে সবচেয়ে প্রযোজ্য উত্তরটি নির্বাচন করতে হবে। উত্তরগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত নম্বরগুলো পরে গণনা করা হবে। এখানে সঠিক ফলাফলের উপায় হলো সৎভাবে উত্তর দেয়া। নিজের দোষ স্বীকার করা তাহলে এই পরীক্ষার দ্বারা আপনি নিজেকে এক ধাপ উন্নত করতে পারবেন।

প্রশ্ন ও উত্তর

১. আপনি কি সমালোচনা শুনলে রেগে যান?

ক) সমালোচনা শুনে মন খারাপ হয়, সে সমালোচনা করে তার সাথে দূরত্ব তৈরি হয়। (৫)
খ) সমালোচনা শুনলে মনে হয় মানুষ অযথা শত্রুতা করছে, আপনার কোনো সমস্যা নেই। সে সমালোচনা করছে সে লোকটা খারাপ। (১০)
গ) সমালোচনা শুনলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, যে সমালোচনা করে আপনিও তার সমালোচনা করেন। (১৫)

২. আপনি কি অন্যের সঙ্গে মতভিন্নতা সহজে মেনে নিতে পারেন?

ক) হ্যাঁ, আমি চেষ্টা করি অন্যের মত ভিন্নতা বোঝার। যুক্তিসঙ্গত হলে মেনে নিই। অযৌক্তিক হলে বিনয়ের সাথে দ্বিমত পোষন করি (৫)
খ) মাঝে মাঝে মেনে নিই, তবে কিছু বিষয়েই মনস্থির থাকি। বেশীরভাগ সময় মেনে নিইনা। আমার কাছে মনে হয় আমি সঠিক।  (১০)
গ) না, অন্যের মত আমার কাছে ভুল মনে হয় এবং মানতে চাই না। এটা নিয়ে আমার সাথে মানুষের সম্পর্কও নষ্ট হয়। (১৫)

৩. আপনি কি নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন?

ক) সহজে স্বীকার করি এবং পরবর্তীতে শিখি। ভুল না হলেও বিনয়ের সহিত বোঝার চেষ্টা করি। (৫)
খ) কিছু ভুল স্বীকার করি, কিছুতেই চাপ অনুভব করি। ভুল স্বীকার করা কখনো শেখানো হয়নি। ভুল স্বীকার করলে মনে হয় ছোট হয়ে যাব। অনেকে আবার এটা নিয়ে রাজনীতি করে।  (১০)
গ) স্বীকার করি না, অন্যের ওপর দোষ চাপাই। বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করি এটা আমার ভুল নয়। অথবা রেগে যাই, যাতে অন্যরা আমাকে ব্যাপারটা বোঝাতে না আসে (১৫)

৪. আপনি কি কাজের জন্য অন্যের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন?

ক) হ্যাঁ, সহমত না হলেও পরামর্শ গ্রহণ করি। সবার পরামর্শ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। (৫)
খ) মাঝে মাঝে পরামর্শ গ্রহণ করি, তবে নিজের মত চালাই। আমরা ধারণা অন্যরা আমার চেয়ে কম বোঝে, তাই নিজের বুদ্ধিতে চলি (১০)
গ) না, অন্যের পরামর্শকে অগ্রাহ্য করি। আমার কাজে অন্যদের নাক গলানো পছন্দ করি না। নিজের বুদ্ধিতে ঠকলেও সমস্যা নেই। অন্যের বুদ্ধি নিয়ে তাকে ক্রেডিট দিতে চাই না। (১৫)

৫. আপনি কি নেতিবাচক মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আঘাত মনে করেন?

ক) না, ব্যক্তিগতভাবে নেই এবং বিশ্লেষণ করি। না তা মনে করি না। এবং কেউ সত্যি সত্যি ব্যক্তিগত আঘাত করে তাকো বোঝানোর চেষ্টা করি। (৫)
খ) মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়, কিন্তু নিজেকে শান্ত রাখি। কিন্তু সত্যি সত্যি যখন কেউ এমনটা করে তখন মেনে নিতে পারি না। এটা নিয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। (১০)
গ) হ্যাঁ, খুব রাগ বা আঘাত অনুভব করি। এবং আমি পাল্টা আক্রমণ করি (১৫)

৬. আপনি কি চাপের সময় শান্ত থাকতে পারেন?

ক) হ্যাঁ, চাপ হলেও চেষ্টা করি ধৈর্য ধরতে। সমস্যা সমাধানের কোনো শান্ত উপায় বের করি (৫)
খ) মাঝে মাঝে শান্ত থাকি, মাঝে মাঝে উত্তেজিত হই। যদি কখনো রেগে যাই পরে সরি বলে শান্ত হয়ে যাই (১০)
গ) না, চাপে খুব সহজে উত্তেজিত হই। শান্ত থাকতে পারি না, রেগে যাই, হই চই করি, লোকজনকে বকা দেই। (১৫)

৭. আপনি কি সমালোচনা নিয়ে শিক্ষা নিতে পারেন?

ক) হ্যাঁ, সমালোচনার মধ্যে শিক্ষার দিক খুঁজি। নিজের দোষ খুজি, বুঝতে পারলে শোধরানোর চেষ্টা করি (৫)
খ) মাঝে মাঝে শিক্ষার দিক দেখি, মাঝে মাঝে রেগে যাই। যারা বা যেখানে সমালোচনা হয় তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি (১০)
গ) না, সবসময় সমালোচনা হলে প্রতিক্রিয়া করি। এবং যারা সমালোচনা করে তাদের পাল্টা সমালোচনা করি, সামনে অথবা পেছনে। (১৫)

৮. আপনি কি আপনার ভুল শুধরানোর জন্য পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন?

ক) হ্যাঁ, আমি পরামর্শ অনুযায়ী চেষ্টা করি।  আগে এবং পরে পরামর্শ চাই। এবং গ্রহণ করি। (৫)
খ) কখনো কখনো চেষ্টা করি, কিন্তু পুরোপুরি অনুসরণ করি না। বিশেষ করে যখন বিপদে পড়ি তখন পরামর্শ না নিয়ে উপায় থাকে না। (১০)
গ) না, পরামর্শকে মানি না। নিজেই চেষ্টা করি অথবা চেষ্টা না করে অপেক্ষা করি। কেউ ভুল শুধরাতে আসলে দু’কথা শুনিয়ে দি (১৫)

৯. আপনি কি সমালোচনার পর সম্পর্ক ঠিক রাখতে পারেন?

ক) হ্যাঁ, সম্পর্ক অটুট রাখার চেষ্টা করি। সাময়িক সমস্যা হলেও পরে ঠিক করে নিই (৫)
খ) মাঝে মাঝে সম্পর্ক ঠিক রাখতে পারি, মাঝে মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে ব্যাপারটা আমি ভুলতে পারি না (১০)
গ) না, সমালোচনার কারণে সম্পর্কের দূরত্ব হয়। এবং আমিও সামনে বা পেছনে পাল্টা সমালোচনা করি। (১৫)

১০. আপনার দলে বা টিমে কি সমালোচনা চর্চা করা হয়।

ক) হ্যাঁ, আমি সব সময় আমার কলিগদের কাছে আমার ভুল সম্পর্কে জানতে চাই। আমরা একে অপরকে সেভাবে উন্নত করি। (৫)

খ) কখনো কখনো প্রয়োজন মনে হলে সমালোচনা ও বিশ্লেষণ করি। তবে তা নিয়মিত কাজের অংশ নয় বা চর্চা হয়না। (১০)
গ) ব্যাপারটা একেবারেই হয়না। বরং কেউ কারো সমালোচনা সহ্য করে না। ফলে কেউ দোষ স্বীকার করে না। আবার সবাই সবার বিরুদ্ধে পেছনে লেগে থাকে।  (১৫)


ফলাফল গণনার ছক

কোড:

  • উত্তর ক = ৫

  • উত্তর খ = ১০

  • উত্তর গ = ১৫

ফলাফলের মান:

  • ৫০–৭০: খুব ভালো – আপনি সমালোচনা সহ্য ও গ্রহণ করতে পারেন, মানসিকভাবে স্থিতিশীল।

  • ৭৫–১২০: মাঝারি – মাঝে মাঝে সমালোচনা প্রতিক্রিয়া সমস্যা তৈরি করে। সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

  • ১২৫–১৫০: সমস্যা রয়েছে – সমালোচনা সহ্য করতে সমস্যা, রাগ বা বিরক্তি আপনার মানসিক চাপ বাড়ায়।

ব্যবহার: প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন করুন, তার নম্বর যোগ করুন এবং মোট স্কোর দেখুন। এটি আপনার মানসিক সহনশীলতা এবং সমালোচনার প্রতি মনোভাব চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। এবার আপনি বোঝার চেষণ্টা করুন আপনার ভুলগুলো কী এবং সেগুলো কীভাবে শোধরাবেন।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply