Political org, Social, Admin,

সমাজকল্যাণে ১৫টি প্রস্তাবনা

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য ১৫টি প্রস্তাবনা

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক রূপান্তরের যুগে প্রান্তিক, অনগ্রসর ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (NSSS)’ এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান ডিজিটাল অবকাঠামো ও স্থানীয় প্রশাসনিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে মন্ত্রণালয় প্রথাগত ভাতার বাইরে গিয়ে আরও সুনির্দিষ্ট, আচরণগত পরিবর্তনমূলক এবং মানবসম্পদ উন্নয়নমুখী কিছু আধুনিক কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারে। এই প্রতিবেদনে এমন ১০টি বাস্তবায়নযোগ্য ধারণার সারসংক্ষেপ, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল উপস্থাপন করা হলো।

 ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী/প্রকল্পের প্রস্তাবনা

১. গ্রামীণ প্রান্তিক নারী ও মায়েদের জন্য পুষ্টিজ্ঞান প্রশিক্ষণ কর্মসূচী

  • সারসংক্ষেপ: গ্রামীণ এলাকায় বংশানুক্রমিক অপুষ্টির চক্র ভাঙতে এবং ‘পুষ্টি-স্বাক্ষরতা’ বৃদ্ধিতে অনগ্রসর মা ও গর্ভবতী নারীদের টার্গেট করে একটি আচরণগত পরিবর্তনমূলক (BCC) প্রশিক্ষণ প্রকল্প।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিদ্যমান ‘পল্লী মাতৃকেন্দ্র (RMC)’ ও ‘পল্লী সমাজসেবা (RSS)’ কার্যক্রমের আওতায় প্রতি গ্রামে “উঠান বৈঠক” মডেলে এটি পরিচালিত হবে। প্রতি পাড়া থেকে ১ জন নারী ‘পুষ্টি দূত’ হিসেবে কাজ করবেন। ডিজিটাল উপায়ে (ভিডিও/অ্যানিমেশন) পুষ্টিকর রান্না ও সুষম খাদ্য বণ্টন শেখানো হবে।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: গ্রামীণ মা ও শিশুদের মাঝে অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও স্টান্টিং (খর্বকায়ত্ব)-এর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং সঠিক খাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে পারিবারিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

২. শর্তযুক্ত পুষ্টি ভাউচার ও ডিজিটাল খাদ্য কার্ড (Conditional Cash Transfer)

  • সারসংক্ষেপ: অতি-দরিদ্র পরিবারগুলোর গর্ভবতী মা এবং ২ বছর পর্যন্ত বয়সী শিশুদের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করতে সাধারণ ভাতার পরিবর্তে শর্তযুক্ত বিশেষ পুষ্টি সহায়তা প্রদান।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: উপকারভোগী মায়েরা স্থানীয় সমাজসেবা বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে শিশুর নিয়মিত ওজন ও পুষ্টি বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ (Growth Monitoring) করালে তবেই তাদের মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে পুষ্টি-ভাউচার আনলক হবে, যা দিয়ে নির্দিষ্ট পুষ্টিকর খাদ্য কেনা যাবে।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: শতভাগ লক্ষ্যভিত্তিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস।

৩. কমিউনিটি-ভিত্তিক কিচেন গার্ডেন ও ক্ষুদ্র ডেইরি উদ্যোগ

  • সারসংক্ষেপ: গ্রামীণ ও শহর-উপকণ্ঠের দরিদ্র নারীদের পুষ্টি স্বাবলম্বিতা অর্জনে এবং সুষম খাদ্যের জোগান বাড়াতে ঘরের আঙিনায় চাষাবাদ ও ক্ষুদ্র পশুপালনে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (NGO)-গুলোর মাধ্যমে নারীদের বীজ, সার ও হাঁস-মুরগি পালনের জন্য ক্ষুদ্র অনুদান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তা ও ভিটামিনের চাহিদার অভ্যন্তরীণ জোগান এবং নারীদের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি।

৪. “স্মার্ট স্কিলস” – প্রতিবন্ধী ও দুস্থ যুবকদের জন্য আইটি ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ

  • সারসংক্ষেপ: শারীরিক প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া যুবসমাজকে প্রথাগত হস্তশিল্পের বাইরে এনে আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং, ডেটা এন্ট্রি ও আইটি দক্ষতার মাধ্যমে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করা।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও আইসিটি বিভাগের সাথে সমন্বয় করে প্রতিটি জেলায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রগুলোতে বিশেষায়িত কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং বেসরকারি আইটি ট্রেইনারদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান লিংকেজ তৈরি।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্ভরশীলতা দূরীকরণ, ডিজিটাল রেমিট্যান্স খাতে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতায়ন।

৫. পিপিপি মডেলে “অবসর” – সিনিয়র সিটিজেন কেয়ার ও ডে-কেয়ার কমপ্লেক্স

  • সারসংক্ষেপ: একক পরিবার বা নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির যুগে প্রবীণ নাগরিকদের একাগ্রতা, চিকিৎসা ও বিনোদনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা এবং হসপিটালিটি সেন্টার তৈরি।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) কর্তৃপক্ষের অধীনে এবং বেসরকারি করপোরেট ও অভিজ্ঞ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী সংস্থার বিনিয়োগে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত প্রবীণ কমপ্লেক্স নির্মাণ ও পরিচালনা।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ সামাজিক জীবন নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্বমানের প্রবীণ সেবার সুযোগ তৈরি।

৬. প্রাতিষ্ঠানিক হোমে “ফোর্টিফাইড ফুড” বা অনুপুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য বাধ্যতামূলককরণ

  • সারসংক্ষেপ: মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব নিবাসী যেমন এতিমখানা ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী মেধা ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পুষ্টি-উন্নত খাদ্য সরবরাহ।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: সকল সরকারি শিশু পরিবার, ছোটমণি নিবাস এবং সেফ হোমে সাধারণ চাল-ডালের পরিবর্তে জিঙ্ক, আয়রন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ “পুষ্টি চাল” (Fortified Rice) সরবরাহ এবং পুষ্টিমান ধরে রেখে রান্নার আধুনিকায়নে বাবুর্চিদের প্রশিক্ষণ।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে থাকা শিশুদের শতভাগ সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ এবং শারীরিক দুর্বলতাজনিত রোগের ঝুঁকি কমানো।

৭. হিজড়া ও প্রান্তিক অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বেসরকারি খাতে বৃত্তিমূলক লিংকেজ (MoU Scheme)

  • সারসংক্ষেপ: থার্ড জেন্ডার (হিজড়া), বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কেবল উৎসব-ভাতা বা সাহায্য দেওয়ার পরিবর্তে স্থায়ী কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মূলধারার সমাজে পুনর্বাসন।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: সমাজসেবা অধিদপ্তরের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ শেষে দেশের বৃহৎ তৈরি পোশাক (RMG) শিল্প, হস্তশিল্প এবং করপোরেট হাউজগুলোর সাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করে সরাসরি চাকরির ব্যবস্থা করা।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: সামাজিক বৈষম্য হ্রাস, চাঁদাবাজি বা রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তির প্রবণতা বন্ধ এবং টেকসই নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।

৮. প্রাক-স্কুল ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোতে মোবাইল হেলথ ও নিউট্রিশন ক্যাম্পেইন

  • সারসংক্ষেপ: সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অটিজম স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট নিশ্চিত করা।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুষ্টি ইনস্টিটিউটের সাথে যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ সমাজসেবা দল (Mobile Unit) গঠন করে নিয়মিত বিদ্যালয়গুলোতে ক্যাম্পেইন ও আয়রন-ফলিক অ্যাসিড বিতরণ।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: প্রাথমিক স্তরেই শিশুদের প্রতিবন্ধকতা ও অপুষ্টির লক্ষণ শনাক্ত করে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা।

৯. সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা গ্রহীতাদের জন্য “ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি ও পুষ্টি বার্তা”

  • সারসংক্ষেপ: বর্তমান G2P (গভর্নমেন্ট টু পারসন) ডিজিটাল ভাতা বিতরণ ব্যবস্থার সাথে ফাইন্যান্সিয়াল ও সামাজিক সচেতনতা যুক্ত করা।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ (বিকাশ/নগদ) এবং ইউএসএসডি (USSD) কোডের মাধ্যমে ভাতা পাওয়ার সাথে সাথে উপকারভোগীর মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুষ্টি সচেতনতার ক্ষুদেবার্তা (SMS) ও ভয়েস মেসেজ পাঠানো।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: গ্রামীণ নারীদের নিজস্ব ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভাতার অর্থ পুষ্টিকর খাবার ক্রয়ে ব্যবহারে উৎসাহিত করা।

১০. নগর দুস্থ ও ভবঘুরেদের জন্য “শহুরে ট্রানজিট ও কর্মমুখী আশ্রয় কেন্দ্র”

  • সারসংক্ষেপ: প্রধান শহরগুলোতে ভাসমান, ভিক্ষুক ও ভবঘুরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসনে আধুনিক লজিস্টিক কেন্দ্র স্থাপন।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: সিটি কর্পোরেশনগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে ট্রানজিট শেল্টার স্থাপন, যেখানে অস্থায়ী আশ্রয়ের পাশাপাশি তাদের মানসিক কাউন্সেলিং ও বাধ্যতামূলক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: নগর জীবনকে ভিক্ষুকমুক্ত ও নিরাপদ করা এবং লক্ষ্যহীন ভাসমান জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর।

১১. জলবায়ু স্বেচ্ছাসেবক স্কলারশিপ (Climate Volunteer Scholarship)

  • সারসংক্ষেপ: জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও সচেতন করে তুলতে একটি বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচী। যে সকল শিক্ষার্থী জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বা পরিবেশ সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষণ নেবে ও মাঠপর্যায়ে কাজ করবে, তাদের জন্য এই বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ সমন্বয়ে এটি বাস্তবায়িত হবে। সরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহী শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সফলভাবে প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবী কাজ সম্পন্নকারীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ফিস মওকুফ বা বিশেষ আর্থিক স্কলারশিপের কোটা নির্ধারণ করা হবে।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশে একটি বিশাল ও দক্ষ তরুণ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী (Climate Volunteers) তৈরি হবে এবং তরুণদের মাঝে পরিবেশগত সচেতনতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।

১২. ঠিকানা বিনিময় কর রেয়াত (Homestead Exchange Tax Rebate)

  • সারসংক্ষেপ: দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর স্থায়ী আবাসন ও পুনর্বাসনে বেসরকারি খাত এবং বিত্তবান ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি বিশেষ কর রেয়াত (Tax Rebate) নীতি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভূমিহীনদের পুনর্বাসনে জমি, ফ্ল্যাট বা অর্থ দান করলে তাকে কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হবে।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর যৌথ নীতিমালার আওতায় এটি পরিচালিত হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি বা সম্পত্তি ভূমিহীন পরিবারকে দান করলে বা আবাসন নির্মাণে সরাসরি অর্থায়ন করলে তাকে আয়করে বিশেষ রেয়াত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কর ছাড়ের হার ও পলিসি ভিন্ন ভিন্ন (Slab-based) হবে।

  • কাঙ্ক্ষিত ফলাফল: আবাসনহীন মানুষের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে, সরকারি বাজেটের ওপর চাপ কমবে এবং আবাসন খাতে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) বৃদ্ধি পাবে।

১৩. বন্ধুত্বের স্মৃতি (Memories of Friendship – International Philanthropy Scheme)

  • সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিদেশি অনুদান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি কর রেয়াত বান্ধব কর্মসূচী। বিদেশি নাগরিকেরা এককভাবে বা স্থানীয় নাগরিকদের সাথে যৌথ উদ্যোগে স্থায়ী সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে এই সুবিধা পাবেন।

  • বাস্তবায়ন কাঠামো: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয়ে এই ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হবে। কোনো বিদেশি নাগরিক বা প্রবাসী যদি বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ, এতিমখানা বা বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন, তবে