শিক্ষনীয় গল্প: বাতিওয়ালা

শিক্ষনীয় গল্প: বাতিওয়ালা

রাস্তার বাতি: একটি শিক্ষনীয় গলপ

এক শহরের ছোট একটি মহল্লায় তিন রাস্তার মোড়কে ঘিরে লোকজনের বসবাস, জমায়েত আশপাশে ছোট ছোট ব্যবসা জমতে লাগলো। তার পাশে কিছু সামাজিক কাজও শুরু হলো কেউ পানি খাওয়ায়, কেউ রাস্তা পরিষ্কার করে দেয় ইত্যাদি।

রাস্তাটি খুব মসৃণ ছিলনা। খানাখন্দে ভরা। তাই এক বাতিওয়ালা জনস্বার্থে একটা বাতি লাগালেন। প্রয়োজনে এবং মাঝে মধ্যে জ্বালাতেন। মানুষ বেশ প্রশংসা করতো। বিনে পয়সায় উপকার কে খারাপ বলবে?
এভাবে ৫ বছর যাওয়ার পর হঠাৎ প্রাকৃতিক দূর্যোগে রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে গেল। তখন এলাকার মানুষ ও গণ্যমান্যরা মিলে বাতিওয়ালার কাছে গেল। গিয়ে বলল তারা খরচ দিবে বাতিটা যেন সন্ধ্যায় লোক চলাচলের সময়টাতে অন্তত সপ্তাহে ৬ দিন জ্বালানো যায়।

বাতিওয়ালা এই নিয়মিত দায়িত্ব নিতে একটু সময় নিলেও একসময় রাজি হয়ে যায়। এমন অর্থের বিনিময়ে বাতিসেবা দেয়া শুরু করে। দূর্যোগ যাওয়ার পর দেখা দিল রাস্তার সংকট। বন্যার পর রাস্তা খানাখন্দে ভরা, হঠাৎ চোর ডাকাতের উৎপাতও বেড়ে গেছে। তাই বাতি সারারাত জ্বালানো হলো, সংখ্যা বাড়ানো হলো ইত্যাদি। খরচ বাড়িয়ে বাতিওয়লাকে বলে বাতি চলমান রাখা হলো ২ বছর। সারারাত এবং ৭ দিন মাসে সবসময় বাতি জ্বলল। যদিও কথা ছিল শুধু কিছু সময়।

২ বছর পর বাতিওয়ালা বলল। আমার পক্ষে বাতি জ্বালিয়ে রাখার জন্য সারাক্ষন সময় দেয়া সম্ভব হয়না। আমি বরং ২ ঘন্টা জ্বালাবো এবং এর জন্য কোনো খরচ দিতে হবে না। এভাবে ৫ মাস চলে গেল।

তখন দেখা গেল এলাকার লোকজন অভ্যস্ত হয়ে গেছে বাতিতে চলতে এখন আর তারা বাতি ছাড়া চলতে পারে না। তারা অন্য বাতি খুজল অন্য বাতিওয়ালা খুজলো কিন্তু মনমতো কাউকে পেল না।

তারপর আবার দেনদরবার করে বাতিওয়ালাকে বোঝালো বছর দুয়েক তিনি বাতিসেবা দিলে পরে তারা অন্য ব্যবস্থা করে নেবেন। এভাবে শুরু হলো আবার বাতিসেবা।  কিন্তু ২ বছর হওয়ার আগে দেশের পট পরিবর্তন হলো, পরিস্থিতি বদলে গেল। এলাকায় চুরি, ডাকাতি, হামলা লুটপাট হলো, নতুন পক্ষ বিপক্ষ সৃষ্টি হলো। কতলোক এলাকা ছেড়ে গেল। গণ্যমান্যরা সামনে থেকে সরে গেল। তাদেরকে নিয়েও শুরু হলো মাতামাতি।

কেউ বাতি চুরি করতে এলো, কেউ বাতির খুটি নিতে এলো, কেউ বাতি জ্বালানোর ব্যবসা চালু করতে এলো। কিন্তু কারো কোনো উদ্দেশ্য সাধিত হলো না। সেবামূল্য সময়মত পেয়েও না পেয়ে বাতিওয়ালা সেবা দিয়ে গেল। এলাকাবাসী বলল ১ মুহুর্তের জন্য বাতি বন্ধ হলে তাদের অনেক কিছু লুট হয়ে যেতে পারে এমনকি চুরি হতে পারে বাতির খুটিও। তাই নতুন পরিস্থিতিতে সেবা চলমান থাকল বেশ কয়েকমাস ধরে।
রাস্তায় একটা বাতি জ্বললে সব মানুষ মনে করবে ভাল হলো। এই বাতির আলো দিয়ে রাস্তা পার হওয়া যাবে। আর চোরবেটা মনে করবে এই আলো জ্বললে তার অসুবিধা হবে। তাই সে অন্যদের বোঝাতে লাগলো- এই আলোটা এতই প্রখর যে, এতে আপনার ইবাদাতের অসুবিধা হবে।

এদিকে পট পরিবর্তনে নতুন কিছু লোক গজে উঠল। তারা প্রথমে খুটির দখল নিতে চাইল। তাদের ধারণা বাতিওয়ালা ও আর সমিতির নেতারা বাতির টাকায় মনে হয় ভালোই ব্যবসা হবে- তাই বাতি এখন তাদেরকে নিতে হবে। একালাবাসিকে প্রথমে ‍উত্যক্ত করার চেষ্টা করলো। মানে এমন কিসিমের কিছু লোককে দলে ভিড়িয়ে নিলো বাতির দখল নিতে চাওয়া ব্যক্তি।

এলাকাবাসীর সমর্থন না পেয়ে তারা বাতি ছেড়ে দিতে বাতিওয়ালাকে ক্রমশ চাপ দিল, তাতে কাজ না হওয়াতে হুমকি দিল, তাতে কাজ না হওয়াতে তার বিরুদ্ধে আলো বেচে টাকাওয়ালা হওয়ার অভিযোগ তুলল। যাকে দেশের ভাষায় বলে দূর্নীতি। অবশ্য তারা প্রথমে ঠান্ডা মাথায় প্রস্তাবও দিয়েছিল। যে বাতির দায়িত্ব তাদের হাতে দিতে হবে। বাতি কখন জ্বলবে কখন বন্ধ হবে এসব তারা ঠিক করবে। বাতির মেরামতও তাদের দায়িত্বে থাকবে। বাতিওয়ালা শুধু বলেছিল জনগনের সমর্থন নিয়ে আসেন।

লুটেরাদের সাথে ২/৪ এলাকাবাসী জুটলো, কাউকে বোঝালো এলাকার মানুষ হিসেবে এই বাতিতে আপনারও অধিকার রয়েছে আসেন দখল করি। কাউকে বলল বাতি থাকলে আপনার ইবাদাতের সমস্যা হবে আপনি এটা বন্ধ করেন। মুলত তাদের পেছনে বড় গ্যাংস্টার যাদের এলাকা দখল ও বড়ো ধরনের ডাকাতির পরিকল্পনা রয়েছে। বাতিটাই এখন সমস্যা। আর সমস্যা বাতিওয়ালা।

এতটুকু লিখে গল্পটা আমি চ্যাট জিপিটিকে দিয়েছিলাম শেষ পরিণতিসহ গুচিয়ে লিখতে। তারপর পর যা লিখল-

https://tinyurl.com/nham66jk

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply