Ramnath Biswas

বানিয়াচং থেকে বিশ্বপথে রামনাথ বিশ্বাস

বানিয়াচং থেকে বিশ্বপথে রামনাথ বিশ্বাস

রামনাথ বিশ্বাস, যিনি সাইকেল চড়ে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন— এই বাক্যটুকু শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কোনো আধুনিক দুঃসাহসিক অভিযাত্রীর ছবি। কিন্তু রামনাথ বিশ্বাস সেই ছবির চেয়ে অনেক বড়, অনেক গভীর। তিনি শুধু পথিক নন, তিনি এক জীবনদর্শন। চলুন, জানা-অজানা নানা সূত্র ধরে গড়ে তোলা যাক এই অসাধারণ মানুষটির বিস্তৃত চরিত।

১৮৯৪ সালের ১৩ জানুয়ারি, তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমার বানিয়াচঙ গ্রামে। ঠিক কোন পথ বেয়ে যে ছোট্ট রামনাথ একদিন পৃথিবীর পথে পথে ছড়িয়ে পড়বেন, তা হয়তো কেউ জানতেন না । বীরজানাথ বিশ্বাস ও গুণময়ী দেবীর সন্তান রামনাথের শৈশব সুখের ছিল না। মাত্র দুই বছর বয়সে মাতৃহারা হন, আর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় পিতৃহারা ।

বিদ্যালয়ের নাম ছিল হরিশ্চন্দ্র হাইস্কুল। পড়াশোনা বেশি দূর এগোয়নি, কিন্তু জীবনের কঠিন পাঠ তিনি নিজেই আয়ত্ত করেছিলেন। বাল্যকাল থেকেই তাঁর মধ্যে ছিল এক অদম্য জেদ। বানিয়াচঙের বিদ্যাভূষণপাড়ার সেই মাটির বাড়িতে শৈশব কেটেছে নানা ঘাত-প্রতিঘাতে। টাইফয়েড, ডায়রিয়ার মতো রোগ তো ছিলই, সেই সঙ্গে ছিল কঠোর ব্রাহ্মণ্য পরিবারের রক্ষণশীলতা । কিন্তু এই রক্ষণশীলতাই তাঁকে এক সময় গ্রামছাড়া করেছিল— তিনি যখন হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে মেলামেশা শুরু করলেন, এমনকি গরু ও শূকরের মাংস খেতেও দ্বিধা করলেন না, তখন গ্রামের লোকে তাঁকে একঘরে করে দিল । এই ‘একঘরে’ হয়েই তিনি জগৎজোড়া পরিবার বানাবেন, তা তখন কে জানত?

দেশান্তর: সৈনিক থেকে বিপ্লবী

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন রামনাথ। ইন্ডিয়ান লেবার কোর-এ যোগ দেন। শরীর দুর্বল বলে তাঁকে বিদায় করতে বাধ্য হন। কিন্তু ১৯১৭ সালে আবার যোগ দেন এবং এইবার তাঁকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পথে পথে ঘুরতে হয় । তখন সড়কপথের অবস্থা কল্পনা করা যায়? দিনে ত্রিশ মাইল হাঁটা ছিল নিয়মিত ঘটনা। এই ভ্রমণই তাঁর মনে প্রথম বিশ্বভ্রমণের বীজ বপন করে দেয়।

এরপর ১৯২৪ সালে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরে কিছুদিন পর সিঙ্গাপুর চলে যান। সেখানে একটি খনিতে সুপারভাইজারের কাজ নেন। ইংরেজি, মালয়, চাইনিজ ও হিন্দিতে তাঁর দখল কাজটা পেতে সাহায্য করেছিল । সিঙ্গাপুর বন্দরে জাহাজের ভিড় দেখে, নানা দেশের মানুষের আনাগোনা দেখে তাঁর ভিতরের পর্যটক জেগে ওঠে। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বয়স তখন পঁয়ত্রিশ। সঙ্গে কিছু সঞ্চয়, আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি।

এদিকে, শুধু কর্মজীবনেই নয়, রাজনৈতিক জীবনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। অনুশীলন সমিতির সদস্য হিসেবে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি । বিপ্লবীর এই সত্তা পরে বিশ্বপর্যটকের সত্তায় মিশে গিয়ে তাঁকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছিল।

বিশ্বাস ও মানবতা: টাকা ছাড়াই পৃথিবী

রামনাথ বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বাস ছিল মানুষের প্রতি। তিনি বিশ্বাস করতেন, পথে পথে মানুষের দ্বারস্থ হয়েই বেঁচে থাকতে হবে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি একবার বলেছিলেন, “টাকা পয়সা না থাকলে ভাবনা কী? মানুষ আছে, তাঁরাই তো ভরসা।” এই অদ্ভুত দর্শন নিয়েই তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন বিশ্ব জয়ের পথে। পরে তিনি এই অভিজ্ঞতা নিয়েই লিখেছিলেন ‘Round The World Without Money’ বইটি ।

প্রথম যাত্রায় তাঁর সাইকেলের সঙ্গে একটি ত্রিকোণ ফলক লাগানো ছিল, তাতে লেখা— “হিন্দু ট্রাভেলার”। তখন ভারতীয়দের জন্য ভ্রমণ অনুমতি পাওয়া ছিল দুরূহ ব্যাপার। পাসপোর্ট, ভিসা— সবই জটিল। কিন্তু রামনাথ বিশ্বাসের কাছে এগুলো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি ।

তাঁর মানবতা ছিল সার্বজনীন। তিনি দেখিয়েছেন, মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। চীন, জাপান, তুরস্ক, আফ্রিকা— সবখানেই তিনি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। কানাডায় তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল এক মাস, কিন্তু সেখানেও তিনি মানুষের সন্ধান পেয়েছেন । জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড— সব দেশেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পেয়েছেন আশ্রয় ও সাহচর্য।

একাগ্রতা ও শপথ: তিন মহাদেশ, তিন অভিযান

রামনাথ বিশ্বাসের জীবনের সবচেয়ে বড় কীর্তি তাঁর তিনটি বিশ্বভ্রমণ। প্রতিটি ভ্রমণই ছিল কয়েক বছরব্যাপী এবং মহাদেশব্যাপী।

প্রথম যাত্রা (১৯৩১-৩৩): ১৯৩১ সালের ৭ জুলাই সিঙ্গাপুরের কুইন স্ট্রিটে এক মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর প্রথম বিশ্বভ্রমণ । সঙ্গে এক জোড়া চটি, দুটো ধুতি, একটি সাইকেল আর বক্সভর্তি মেরামতির সরঞ্জাম । মালয়, থাইল্যান্ড, ইন্দোচীন, চীন, কোরিয়া, জাপান পেরিয়ে পৌঁছালেন কানাডায়। সেখান থেকে ফিরলেন দেশে। বানিয়াচঙের ঐতিহাসিক এরালিয়া মাঠে যখন দেশে ফিরলেন, গ্রামবাসী বিশাল সংবর্ধনা দিল। সেখানেই তিনি এক বক্তৃতায় বানিয়াচঙকে “বিশ্বের সর্ববৃহৎ গ্রাম” বলে ঘোষণা করেছিলেন ।

দ্বিতীয় যাত্রা (১৯৩৪-৩৬): এইবার রওনা হলেন ভিন্ন পথে। ভারত থেকে আফগানিস্তান, পারস্য, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, তুরস্ক, বুলগেরিয়া, যুগোশ্লাভিয়া, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া, চেকোশ্লোভাকিয়া, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ফ্রান্স পেরিয়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছালেন । এই দীর্ঘ পথ পরিশ্রমে তাঁর শরীর ভেঙে পড়ল। ইংল্যান্ড থেকে জাহাজে করে ফিরলেন মুম্বাই। সুস্থ হয়ে গেলেন শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করতে। কবিগুরু সম্ভবত তাঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন ।

তৃতীয় যাত্রা (১৯৩৮-৪০): এশিয়া ও ইউরোপের পর এবার লক্ষ্য আফ্রিকা। মুম্বাই থেকে জাহাজে করে মোম্বাসা। সেখান থেকে সাইকেলে কেনিয়া, উগান্ডা, নিয়াসাল্যান্ড, রোডেশিয়া পেরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তারপর আমেরিকা। ১৯৪০ সালে দেশে ফিরলেন ।

তিনটি ভ্রমণ, প্রায় এক দশকব্যাপী, আর সাইকেলটাই ছিল তাঁর একমাত্র বাহন। এই একাগ্রতা, এই নিষ্ঠা, এই শপ্ত— পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

সাহিত্য ও বই: চল্লিশটি গ্রন্থের ভুবন

রামনাথ বিশ্বাস শুধু পথিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দক্ষ লেখক। ভ্রমণকাহিনি লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি প্রায় চল্লিশটি বই লিখেছিলেন বলে জানা যায় । কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দেশ ভাগের পর যখন তিনি পূর্ব পাকিস্তানে থাকতেন, তাঁর বই প্রকাশের জন্য প্রকাশক পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করলেন ‘পর্যাটক প্রকাশনা’ ।

তাঁর বইয়ের তালিকা দীর্ঘ। ‘অন্ধকারের আফ্রিকা’, ‘আজকের আমেরিকা’, ‘জুজিৎসু জাপান’, ‘তরুণ তুর্কী’, ‘দুরন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা’, ‘নিগ্রো জাতির নবজীবন’, ‘প্রশান্ত মহাসাগরে অশান্তি’, ‘বেদুঈনের দেশে’, ‘ভাবাঘুরের বিশ্বভ্রমণ’, ‘ভিয়েতনামের বিদ্রোহী বীর’, ‘মরণবিজয়ী চীন’, ‘মাও মাওয়ের দেশে’, ‘মালয়েশিয়া ভ্রমণ’, ‘লাল চীন’, ‘বিদ্রোহী বলকান’, ‘সর্বস্বাধীন সিরিয়া’, ‘হলিউডের আত্মকথা’— এই বইগুলোর প্রতিটি যেন এক একটি মহাদেশের আত্মকথা ।

বিশেষ করে ‘তরুণ তুর্কী’ বইয়ের মাধ্যমে তিনি কামাল পাশার নতুন তুরস্কের ছবি এঁকেছিলেন, আর ‘লাল চীন’ ও ‘মরণবিজয়ী চীন’ বইয়ের মাধ্যমে চীনের সমাজ পরিবর্তনের গল্প বলেছিলেন । তাঁর লেখার ভাষা সহজ, সাবলীল, আর ঘটনাবহুল। পড়তে বসলে মনে হয় তিনিই যেন আমাদের সঙ্গে বসে গল্প বলছেন।

বিশ্ব ও সাইকেল ভ্রমণ: যে অভিযাত্রী বিস্মিত করেছিলেন বিশ্বকে

রামনাথ বিশ্বাসের ভ্রমণের পদ্ধতি ছিল অভিনব। তিনি কখনো জাহাজে, কখনো সাইকেলে, কখনোবা পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন হাজার হাজার মাইল। তার সাইকেলের ফ্রেমে একটি ধাতব ফলক ঝুলত, যাতে লেখা থাকত ভ্রমণের বার্তা ।

১৯৩১ সালে তিনি যখন প্রথম যাত্রা শুরু করেন, তখন পৃথিবীতে সাইকেলে বিশ্বভ্রমণের ধারণাটাই ছিল দুঃসাহসিক। তাঁর পরই হয়তো আরও অনেকে বেরিয়েছেন, কিন্তু তিনিই ছিলেন বাঙালি হিসেবে অগ্রপথিক। চীনের প্রাচীর, জাপানের ফুজিয়ামা, ইউরোপের আল্পস, আফ্রিকার সাহারা, আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন— সবই তিনি দেখেছেন সাইকেলের চাকা ঘুরিয়ে।

কানাডায় এক মাস জেল খেটেছিলেন । কারণ কী? হয়তো কোনো নিয়মকানুনের অজ্ঞতা, নয়তো কোনো ভুল বোঝাবুঝি। কিন্তু জেলও তাঁর মনোবল দমাতে পারেনি। বেরিয়েই আবার বাকি পথ পাড়ি দিয়েছেন।

বসতবাড়ি ও বানিয়াচঙ: ইতিহাসের করুণ পরিণতি

রামনাথ বিশ্বাসের জন্মস্থান বানিয়াচঙের বিদ্যাভূষণপাড়ায় তাঁর পৈতৃক বাড়ি। এই বাড়ির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি। ৪ একর ৪৮ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বাড়িতে ছিল একটি মন্দির ও পুকুর । বাড়ির পাশেই পুকুর, সেই পুকুরেই হয়তো তিনি সাঁতার কেটেছেন, বা মন্দিরে বসে ধ্যান করেছেন।

কিন্তু এই ঐতিহাসিক স্থাপনার পরিণতি করুণ। দেশ ভাগের পর যখন তিনি কলকাতায় চলে যান, তাঁর বাড়িটি পড়ে থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয় এক ওহাব উল্লাহ নামের ব্যক্তি বাড়িটি দখল করেন। তারপর ওই ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ ও তাঁর ভাই আবু সালেক এই সম্পত্তি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে বসেন ।

দীর্ঘদিন ধরে এই বাড়ি ছিল দখলদারদের কবলে। পর্যটক ও সাংবাদিকরা যখন এই বাড়ি দেখতে যেতেন, তাঁদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে । ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এক সাংবাদিক ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে । এই ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। যাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এর সভাপতি আশরাফুজ্জামান উজ্জল।

একশত বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়ে বাড়িটি রক্ষার দাবি জানান। রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, ফেরদৌসী মজুমদার, মফিদুল হক প্রমুখ এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ।

অবশেষে ২০২২ সালের নভেম্বরে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসন বাড়িটি উদ্ধার করে। সেখানে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয় ‘রামনাথ বিশ্বাস স্মৃতি পাঠাগার’ নামে । তবে বাড়ির আদি কাঠামো প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মন্দিরের একটি অংশ ছাড়া প্রায় সবই নিশ্চিহ্ন । বাড়ির বাকী অংশ বেদখল হয়ে আছে। যা দখলমুক্ত করার জন্য বাংলাদেশের সুশীল সমাজ, লেখক ও ভ্রমণপ্রেমীরা সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি: শেষ জীবন ও মৃত্যু

দেশ ভাগের পর রামনাথ বিশ্বাস পাকিস্তানের নাগরিক হয়েই থেকে যান। কিন্তু তাঁর বই ছাপানোর জন্য প্রকাশক না পাওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত কলকাতায় চলে আসেন। সেখানে আনন্দবাজার পত্রিকায় তাঁর ভ্রমণকাহিনি ধারাবাহিকভাবে ছাপা হতে থাকে ।

১৯৫৫ সালের ১ নভেম্বর কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অকুতোভয় পথিক । কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরেও তাঁর সৃষ্টি আজও বেঁচে আছে। রামনাথ বিশ্বাসের নামে গুয়াহাটিতে একটি ফাউন্ডেশন প্রতি বছর বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য পুরস্কার প্রদান করে। ‘রামনাথ বিশ্বাস স্মারক বক্তৃতা’ নামে এক বিশেষ বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয় সেখানে ।

বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স এসোসিয়েশন ইতোমধ্যে ‘‘ রামনাথ বিশ্বাস অ্যাডভেঞ্চার পুরষ্কার’’ ঘোষণা করেছে। এর আগে রামনাথ বিশ্বাস এর বসতভিটা উদ্ধারের জন্য কমিটি গঠন, ঢাকা থেকে বানিয়াচং সাইকেল র‌্যালী, স্মারকলিপি পেশ ও সংবাদ সম্মেলন এর আয়োজন করা হয়েছে।

নি নিজে বেঁচে থাকতে দেখে যেতে পারেননি তাঁর জন্মভিটের পরিণতি, কিন্তু এখন তাঁর স্মৃতি রক্ষার চেষ্টা চলছে। বানিয়াচঙের মাটিতে আজও যখনই কেউ সাইকেল চালিয়ে যান, মনে পড়েন সেই মানুষটির কথা, যিনি একদিন এই মাটি ছেড়ে পৃথিবী জয় করতে বেরিয়েছিলেন শুধু একটি সাইকেল নিয়ে।

রামনাথ বিশ্বাস আমাদের কাছে শুধু এক পর্যটক পরিচয়ে যথার্থ নন।  তিনি এক প্রতীক— স্বপ্ন দেখার, স্বপ্ন পূরণের, আর মানুষে মানুষে মেলবন্ধনের প্রতীক। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, পথই হলো গন্তব্য, আর মানুষের বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় পুঁজি। রামনাথ বিশ্বাস এক পাথরে ফুল ফোটানো প্রবাদের মতো এক আত্মবিশ্বাসের নাম।