রাজনীতিতে ‘‘আমার লোক” এবং “আমাদের লোক’’ তত্ত্ব
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, সংকট, অভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিপ্লব হলে। তার পক্ষ এবং বিপক্ষ নিয়ে মানুষ দুই বা তার বেশীরভাগ ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। যারা সুবিবেচক, দূরদর্শী এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে পারে তারা এটাকে অতিক্রম করে বিভিন্ন কৌশলে দেশগঠনে আত্ম নিয়োগ করে এবং বিভক্তি থেকে বের হয়ে আসে।
যাদের দুই পক্ষের মধ্যে শক্তির ব্যবধান কম থাকে, বিজয়ী পক্ষ পতিততের ফিরে আসার আশংকায় থাকে, পতিতরা নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যে ফিরে আসার জন্য কসরত করতে থাকে এবং যাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিপ্লব, অভ্যুত্থান বেহাত হয়ে যায়। অথবা যারা বিপ্লবীরা নিজেরা্থই হারিয়ে ক্ষমতা ও সম্পদের ভাগাভাগিতে ব্যস্ত থাকে তাদের ক্ষেত্রে কি হয়?
তারা ‘‘আমার লোক’’ বা ‘‘আমাদের লোক’’ তত্ব ব্যবহার করে। এর দ্বারা তারা বিভক্তি সৃষ্টি করে সমাজে একটা অস্থিরতা ধরে রাখে। জনগনের একটা অংশটকে নিজেদের পক্ষে রাখতে তাদের সাতখুন মাফ করে ন্যায় ও অন্যায় সুবিধা দেয়। আর প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখে।
তাদের আদর্শিক ও আইনগত প্রতিপক্ষ না থাকলেও তারা বিভক্তির মাধ্যমে সুবিধা নিতে প্রতিপক্ষ তৈরী করে অথবা তাদের ভুল রাজনীতির কারণে তাদের প্রতিপক্ষ তৈরী হয়ে যায়। তারপর তারা আরো বেশী বিভক্তি সৃষ্টি করে। একসময় দুই পক্ষ যখন ভারী আর বিষোদগার বেড়ে যায় তখন শুরু হয় বলপ্রয়োগ। নিজেদের লোকদের নানা অন্যায় সুবিধা দিয়ে দমন করা হয় প্রতিপক্ষ।
তৃতীয় বিশ্বের ;দেশগুলোতে খুন, গুম, হত্যা, নির্যাতন চলে। একসময় আমার পতন হয় জালিম শাসকের । পতনের জন্য শুরু হয় যুদ্ধ। সেখানে থাকে পক্ষ বিপক্ষ। আবার বিপ্লব। আবার পক্ষের লোকদের অন্যায় সুবিধা দেয়া হয়। আবার সমাজে বঞ্জিত শ্রেণী তৈরী হয়। আবার বিপ্লাব। আবার আমার লোক ততত্ব আবার বিপ্লব। দ্বিতীয় বিশ্বুদেব্ধর পর বিশ্বের বিভিন্ন ৪৫০টি অভ্যুত্থান হয়। আর দেশের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০। কোনো কোনো দেশে গত ৮০ বছরে ১০ বার অভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু দেশ সে চক্রের মধ্যে রয়ে গেছে।
আমার লোক তত্ত্ব ও তত্ত্বের মূল কাঠামো
“আমার লোক” = ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠজন, যাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর টিকে থাকার সাথে সরাসরি জড়িত।
“আমাদের লোক” = শাসকগোষ্ঠীর সমর্থক শ্রেণী, যারা সুবিধা-অসুবিধা বণ্টনে বিশেষ মর্যাদা পায়।
“অন্য লোক” = প্রতিপক্ষ বা নিরপেক্ষ জনগণ, যাদের হয় দমন করা হয়, না হয় প্রান্তিক করে রাখা হয়। এভাবে শাসকগোষ্ঠী আদর্শ বা ন্যায়ের ভিত্তিতে নয়, বরং “বিশ্বস্ততা”র ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কখনো কখনো প্রতিপক্ষকে রাষ্ট্রবিরোধী ও অন্যায়কারী হিসেবে দেখানো হয়। যাতে করে জুলুম নির্যাতন করা যায়। কারণ ভাল কুকুর মারতে গেলে লোকে কথা বলবে। পাগলা কুকুর মারতে গেলে লোকে ভাববে ঠিক কাজ করছে।
নিরব লোক: দেশ ও সমাজের একটা অংশ নিরব দর্শক থাকে। ওর ওদেরকে সবাই নিজেদের পক্ষে বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করে। ওরা যেদিকে যাবে সেদিক ভারী হবে। ফলে এই নিরব গোষ্টিতে সবাই নিজেদের বক্তব্য বোঝানোর চেষ্টা করে।
প্রক্রিয়াটি কিভাবে কাজ করে?
রাজনৈতিক-মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখলে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে এ ধরনের ঘটনার পেছনে। বিজয়ী পক্ষ আশঙ্কা করে পতিতরা ফিরে আসবে, তাই বাড়তি সুবিধা দিয়ে “আমার লোক” ধরে রাখে। কখনো আবার ভয় ও আনুগত্যের রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতার বলয়কে শক্তিশালী করতে এবং প্রতিপক্ষকে দূর্বল করতে এটা করা হয়।
মজার ব্যাপার হলো কখনো কখনো প্রতিপক্ষের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য কৃত্রিম শত্রু তৈরি হয়, যাতে সমর্থকরা শাসকের চারপাশে ঘনীভূত থাকে। তবে অভ্যাসগত দুর্নীতির মনোষ্কামনা থেকেও একবার যখন ক্ষমতার সঙ্গে স্বজনপ্রীতি ও বিশেষ সুবিধা যুক্ত হয়, তখন সেটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্থায়ী হয়ে যায়। এমন ঘটনাও ঘটে চলেছে অবিরত।
ইতিহাসের সাক্ষ্য
‘আমার লোক এবং আমাদের লোক’’ অতীতের অনেক সমাজ ও রাষ্ট্রও এই মানসিকতা দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই—যখনই রাষ্ট্র কোনো গোষ্ঠী, রাজবংশ, বিপ্লবী শক্তির হাতে বন্দি হয়, তখন তারা সমাজকে ভাগ করে নেয় ‘‘আমার লোক’’ বনাম ‘‘অন্য লোক’’-এ। শেষ পরিণতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়—অস্থিরতা, পতন, কিংবা বহিঃশক্তির দখল। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দিলাম:
রোমান সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতক – খ্রিস্টীয় ৫ম শতক)
সম্রাটরা “আমার লোক” হিসেবে সেনেটের অনুগত অভিজাত, সামরিক বাহিনীর বিশেষ লিজিওন এবং দরবারি গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দিতেন। প্রতিপক্ষ অভিজাত বা ভিন্ন লিজিওনকে “অন্য লোক” হিসেবে দমন করা হতো। এখানে এলিটরা ছিল রাষ্ট্রের মালিক। এখানে সামন্ত আর দাস। মাঝখানে কোনো মধ্যবিত্ত ছিলনা।
গোষ্ঠীগত বিভাজন এতটাই বেড়ে যায় যে, সেনাবাহিনী এক সম্রাটকে সমর্থন করলে অন্য লিজিওন অন্য সম্রাট ঘোষণা করত। অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ ও দুর্বলতার সুযোগে বর্বর জাতিগুলো আক্রমণ করে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্য ভেঙে দেয় (৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ)। প্রাচীন সভ্যতায় দাস বিদ্রোহের নজিরও রয়েছে।
ফরাসি বিপ্লব-পরবর্তী ফ্রান্স (১৭৮৯–১৮১৫)
বিপ্লবীরা রাজতান্ত্রিক শ্রেণী ও চার্চকে “শত্রু” ঘোষণা করে। পরে আবারো জ্যাকোবিন বনাম গিরোদিন, এরপর নেপোলিয়নের সময়ে “আমার লোক” ছিল সেনাবাহিনী ও আমলাতন্ত্র দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হতে থাকে। কারণ তার আগে আবার গির্জা থেকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর হস্তক্ষেপ তৈরী করে ধার্মিক অধার্মিক তত্ত তৈরী করা হয়েছিল। এমনকি বড়ো বড়ো বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক সত্য বলার জন্য জেল, জুলুম ও মৃত্যু বরণ করেছিলেন।ঠ
বারবার পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজনে রক্তক্ষয়ী গৃহদ্বন্দ্ব হয়। অবশেষে নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে এবং ফ্রান্স দীর্ঘ সময় অস্থিরতার মধ্যে থাকে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন (১৯১৭–১৯৯১)
বলশেভিকরা বিপ্লবের পর “আমার লোক” হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের বিশেষাধিকার দেয়, আর বাকিরা “অন্য লোক” হিসেবে দমন হয়। স্তালিনের আমলে “আমার লোক” তত্ত্ব ভয়ঙ্কর রূপ নেয়—বিশ্বস্তদের পুরস্কার, আর ভিন্নমতাবলম্বীদের গুলাগ বা মৃত্যুদণ্ড হয়। লাখ লাখ মানুষ হয় এই তত্বের নির্মম বলি। এখানে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী ও আদর্শিকদের দলভূক্ত করে। বাকীদের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে।
সমাজে ভীতি ও বিভাজন গভীর হয়। অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। অবশেষে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়।
লাতিন আমেরিকার সামরিক শাসন (১৯৫০–১৯৮০ দশক)
সামরিক জান্তারা নিজেদের লোক (সেনাবাহিনী ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠী)কে সুবিধা দিয়ে সাধারণ জনগণ ও ভিন্নমতাবলম্বীদের শত্রু মনে করত এবং বঞ্জিত করতো নানা অধিকার ও মর্যাদা থেকে।
শেষ পরিণতি হিসেবে যখন গুম, নির্যাতন, হত্যা ব্যাপক আকার নেয়। চিলি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ অনেক দেশে সামরিক শাসনের পতনের পর দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক রূপান্তর শুরু হয়, তবে প্রচণ্ড ক্ষত রয়ে যায় রাজপথের পিচঢালা পাথরে, মানুষের মনে আর ইতিহাসের পাতায়।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান (১৯৪৭–বর্তমান)
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর। পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্রিটিশদের মতো নিজেদের উচ্চ বংশীয় ভাবতো। তারা নিজেরা রাষ্ট্রকে দখল করে সুবিধা ভোগ করেছে। বঞ্চিত হয়েছে বাঙালী আর মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত এবং সংখ্যালঘু অন্যান্য সকল সৃগোষ্ঠি। আর এই পদ্ধতির চর্চা ও বীজ গেথে দিয়ে গিয়েছিল ব্রিটিশেরা। ব্রিটিশ ভারতে সাদা চামড়ার ব্রিটিশ আর কালো বাদামী ভারতীয় মর্রযাদা ছিল সামন্তযুগের দাস ও এলিটদের মতোই। এবং প্রথম দিতে এখানেও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর অস্তিত্ব ছিলো না।
ফল স্বরুপ মাত্র ২৪ বছর বা এক জেনারেশনে ভেঙ্গে যায় একটি সার্বজনীয়ন ও বহুল আকাংখিত রাষ্ট্রের কাঠামো। জন্ম নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তান ভেঙে যায় (১৯৭১)। বাংলাদেশে বারবার অভ্যুত্থান, স্বৈরশাসন ও দলীয়করণের কারণে এখনও “আমার লোক” রাজনীতি বহমান।
স্বাধীন বাংলাদেশে আমার লোক ও রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা
স্বাধীন বাংলাদেশে নিজেদের লোক নিয়ে রাজনৈতিক বলয় সৃষ্টি করে দেশকে লুটে খাওয়া আর বিরোধীদের দমন করার জন্য ‘‘আমাদের লোক’’কে স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষ নামের মোড়কে প্রতিনিয়ত প্রচারণার মধ্যে দিয়ে ছিল। গোয়েবলেসের সময় নিশ্চয় এত মাধ্যম ছিল না। মিথ্যা প্রচারের। এখন সে সুবিধাটাকে কাজে লাগিয়ে। লুট ও ডাকাতি নয়, হত্যা, গুম, নির্যাতন শুধু নয়। বিদেশীদের ডেকে এনেও নানাভাবে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। একটা রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িকতা, ফ্যাসিজনের স্বর্গ, ঘৃণার উর্বর জমিন বানিয়ে বছরের পর বছর ঘৃণার চাষ করা হয়েছে। বিরোধীদের শুধু স্বাভাবিক জীবন নয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে জীবনও কেড়ে নিয়েছে।
ফল স্বরুপ বাংলাদেমের ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো অভ্যুত্থানে। দুপুরের ভাত রান্না করে সেটা না খেতে পেরে পালিয়ে যেতে হয়েছে লক্ষণসেনের মতো। কিন্তু ঘৃণার চাষ করে পালিয়ে গেছে। সে পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু এরপর দেখা গেলো। সে আমার লোক আমাদের লোক থিয়রীতে চলছে দেশ। শুধু পক্ষ বদল হয়েছে। সে আমলে সুপ্রিম এর নির্দেশে পুরো দলের সমর্থনে হয়েছে। বেশী হয়েছে। এখন পরিমাণে কম হলেও গুম ছাড়া সবকিছুই হচ্ছে। হয়তো ততটো সংঘবদ্ধভাবে হচ্ছে না কিংবা সুপ্রীম এর নির্দেশে হচ্ছে না।
কেউ জানিনা এটা কতদিন চলবে?
এই চক্রাকার সংকট
এখানে একটা চক্র তৈরি হয়, যেমন বিপ্লব বা অভ্যুত্থান → ক্ষমতা দখল → “আমার লোক” তত্ত্বের প্রয়োগ → সমাজে বিভক্তি → অন্যায় ও দমননীতি → প্রতিপক্ষ সৃষ্টি → নতুন অভ্যুত্থান বা বিপ্লব। আর এভাবে চলতে থাকে। এই চক্র ভাঙতে না পারলে রাষ্ট্র একই স্থানে ঘুরপাক খায়। অনেক দেশ—যেমন হাইতি, সুদান, মালি, মায়ানমার, পাকিস্তান—এখনও এই অবস্থায়।
যেখানে “আমার লোক” তত্ত্ব শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হয়েছে, সেখানে সমাজে বিভাজন ও অবিশ্বাস জমাট বেঁধেছে। শেষ পরিণতিতে এসেছে হয় অভ্যন্তরীণ পতন, বহিঃশক্তির আগ্রাসন বা অর্থনৈতিক ধ্বংস। যারা এই চক্র থেকে বের হয়েছে (যেমন সিঙ্গাপুর, ঘানা, দক্ষিণ আফ্রিকা), তারা “আমার লোক বনাম অন্য লোক”–এর পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রনীতি ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে।
বর্তমানে কোথায় চলছে এই নীতি
ভারত
ভারতে আমার লোক কারা এই মতবাদকে ‘‘ডাবল ইঞ্জিন’’ নাম দিয়ে শাসক দল (বর্তমানে বিজেপি) ও তাদের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী, হিন্দুত্ববাদী সংগঠন (আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ইত্যাদি), দলীয় সমর্থক আমলারা মিলে এক শক্তিশালী চক্র তৈরী করেছে। হিন্দু আর হিন্দুত্ব রক্ষার নামে ক্ষমতার রাজনীতি আর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভোটের কারসাজি ভারতের রাজনীতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে। আর বাদাবাদিতে ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পড়ছে সুশীল সমাজ ও প্রগতিশীল চিন্তাশীলেরা।
এখানে বিরোধী রাজনৈতিক দল, সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়, সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের শত্রু বানিয়ে প্রতিনিয়ত ছোটবড় সংঘাত আর চাপের মধ্য দিয়ে তাদেরকে অবনত রেখে ক্ষমতার মসনদ শক্তিশালী করাই হচ্ছে আসল কাজ।
চর্চার ধরনগুলো যেমন-
-সরকারি চাকরিতে ও প্রশাসনে দলীয় ঘনিষ্ঠদের অগ্রাধিকার।
– রাজনৈতিক মতভিন্নদের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা ব্যবহার।
– গণমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া।
-নাগরিকত্বের প্রশ্নতুলে মুসলিমদের কোনঠাসা করে রাখা।
পরিণতি
ফলে সামাজিক সাম্যতার দিকে যেতে পারতো বিশ্বের বহত্তর গণতান্ত্রিক এই দেশটি। সেখানে জনগনের মধ্যে বিভক্তি তাদের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে দেশে বিদেশের বিশ্লেষকদের। শেষ পরিণতির ঝুঁকি হিসিবে সামাজিক বিভাজন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সংবিধানিক ভারসাম্য দুর্বল হওয়ার আশংকা প্রবল হয়ে আছে।
চীনে ‘‘আমার লোক’’ হলো চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (CCP) সদস্য ও বিশ্বস্তরা। বিশেষ করে শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত। অন্য লোক হলো ভিন্নমতাবলম্বী, মানবাধিকারকর্মী, সংখ্যালঘু (উইঘুর, তিব্বতি), এবং পার্টির প্রতি অনুগত নন এমন উদ্যোক্তারা।
চর্চার ধরন:
– রাষ্ট্রীয় সম্পদ, ব্যবসার সুযোগ ও উচ্চপদ কেবল পার্টি-সমর্থকদের জন্য।
– বিরোধী মতকে “রাষ্ট্রবিরোধী” হিসেবে দমন।
– নজরদারি রাষ্ট্র ব্যবস্থা (surveillance state) ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ নিয়ন্ত্রণ।
এখানে রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙ্গে পড়া ও সমাজ ব্যবস্থায় অশনি সংকেতের আশংকা কম। কারণ রপ্তানী নির্ভর দেশ হওয়াতে সাধারণ জনগনের জন্য অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। আছে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্বারা ভিন্নমত নজরদারীর কৌশল। কিন্তু এখানে যে ক্ষতিটা হবে, সেটা বিশ্বে
