জনসংখ্যা ও আয়তন
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মৌলভীবাজার জেলা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (২০২২ সালের আদমশুমারি) তথ্যানুসারে জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ (২.০ মিলিয়ন)। জেলার আয়তন প্রায় ২,৭৯৯ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
ইতিহাস ও নামকরণ
মৌলভীবাজার নামটি এসেছে “মৌলভী” শব্দ থেকে, যা ইসলামি বিদ্বানের উপাধি। একসময় এখানে প্রচুর মৌলভী বা ধর্মীয় শিক্ষিত ব্যক্তি বসবাস করতেন এবং তাঁদের উদ্যোগে একটি হাট বা বাজার গড়ে ওঠে। সেই থেকেই এ অঞ্চলের নাম হয় মৌলভীবাজার।
ভৌগোলিক অবস্থান
মৌলভীবাজার জেলার পূর্বে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য, উত্তরে সিলেট, পশ্চিমে হবিগঞ্জ এবং দক্ষিণে সুনামগঞ্জ অবস্থিত। এ জেলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য হলো চা-বাগান, পাহাড়, হাওর এবং বনাঞ্চল।
অর্থনীতি
মৌলভীবাজারকে বাংলাদেশের চা শিল্পের রাজধানী বলা হয়। দেশের মোট চা-বাগানের বড় একটি অংশ এ জেলায় অবস্থিত। এছাড়াও কৃষি, ফলমূল, মাছ ধরা এবং প্রবাসী আয়ের ওপর অর্থনীতি নির্ভরশীল। প্রবাসী মৌলভীবাজারবাসীরা বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন এবং তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স এ জেলার অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখে।
শিক্ষা ও সংস্কৃতি
মৌলভীবাজারে শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সংস্কৃতিগতভাবে এ জেলা সমৃদ্ধ—লোকসংগীত, নৃত্য, কবিতা ও বাউল গানের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত।
পর্যটন
মৌলভীবাজার একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। এর প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
- মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
- শ্রীমঙ্গল চা বাগান
- হামহাম জলপ্রপাত
- হাকালুকি হাওর
মৌলভীবাজার শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেই নয়, বরং জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জেলা। এর পাহাড়, হাওর, চা-বাগান এবং প্রাণবন্ত মানুষজন এ জেলাকে বাংলাদেশের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত অঞ্চলে পরিণত করেছে।

