আকাশের দিকে তাকালেই দেখা যায় মেঘ ভেসে যাচ্ছে। কোথাও কালো বরণ জল টলটল ঘন মেঘ, কখনো পাহাড়সদৃশ সাদা মেঘ ভেসে যাচ্ছে আকাশে। এটা আকাশে খুবই এক পরিচিত দৃশ্য।
কিন্তু পৃথিবীর এমন দুটো স্থান আছে, যেখানকার আকাশে কখনোই কোনো মেঘ ভাসতে দেখা যায় না। এই স্থান দুটো হলো উত্তর মেরু (North pole) এবং দক্ষিণ মেরু (South pole)।
এই দুটো স্থানে কোনো মেঘ সৃষ্টি হয় না তার কথা বলার আগে আমরা জেনে নিই আসলে মেঘ কেমন করে সৃষ্টি হয়।
সূর্যের তাপে সমুদ্রের জল বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠে জলীয় বাষ্প আকারে। শুধু সাগরের জল নয়, সূর্যের তাপে ডাঙার নদীনালা, জলাভূমি, মাটি থেকে রস এবং বৃক্ষলতার পাতা থেকেও প্রতি মুহূর্তে জল বাস্প হয়ে উঠে যায় আকাশে। পরে এই জলীয় বাষ্পই মেঘের আকার ধারণ করে আকাশে ভাসে। কখনো এই মেঘের জলীয় বাষ্প আরো ঘন হয়ে বৃষ্টি আকারে মাটিতেও নেমে আসে।
কিন্তু পৃথিবীর এই দুটো মেরুবিন্দুতে সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে না। অনেকখানি তীর্যক আকারে পড়ে। ফলে এই মেরু অঞ্চলে সূর্যের যে আলো নেমে আসে, তা খুবই ক্ষীণ।
এই ক্ষীণ আলোর উত্তাপও অত্যন্ত কম। তাই কম উত্তাপের ক্ষীণ আলো মেরু অঞ্চলের বরফের জমে থাকা জলকে বাস্পীভূত করতে পারে না।
জল বাস্পীভূত না হওয়ার জন্যই মেরু অঞ্চলের আকাশে জলীয় বাষ্পও জমতে পারে না। তাই মেঘেরও সৃষ্টি হয় না। মেরু অঞ্চলে আমাদের দেশের মতো ঝরঝর করে তাই কখনো বৃষ্টিও নামে না।
মেঘের সৃষ্টি কিভাবে হয়?
মেঘ মূলত জলীয় বাষ্পের ঘনীকরণ থেকে তৈরি হয়। সূর্যের আলো সমুদ্র, নদী, জলাভূমি, মাটি ও গাছপালার পাতার জলকে বাষ্পে পরিণত করে। এই বাষ্প যখন আকাশে ওঠে এবং ঠাণ্ডা হয়, তখন ঘন হয়ে ছোট ছোট জলকণার আকারে মেঘের আকার নেয়। এই প্রক্রিয়া হলো মেঘের মূল উৎপত্তি।
সাধারণভাবে, মেঘ দেখা যায় যখন যথেষ্ট জলীয় বাষ্প এবং পর্যাপ্ত সূর্যের উত্তাপ থাকে। বাষ্প যদি ঘন হয়ে খুব বেশি হয়, তবে তা বৃষ্টির আকারেও পৃথিবীতে নেমে আসে।
উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পৃথিবীর এমন দুটি অঞ্চল যেখানে সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে না। এখানে আলো আসে তীর্যক কোণে, তাই আলো এবং উত্তাপ খুবই কম।
-
কম উত্তাপের কারণে বরফ বা জমে থাকা পানি সহজে বাষ্পে পরিণত হয় না।
-
জলীয় বাষ্প না থাকায়, মেঘ গঠনের জন্য পর্যাপ্ত উপাদান থাকে না।
এটি একদম বিপরীত হয় আমাদের দেশে বা উষ্ণ অঞ্চলে, যেখানে প্রচুর সূর্যের তাপ পানিকে বাষ্পে রূপান্তরিত করে, ফলে মেঘ এবং বৃষ্টি দেখা যায়।
মেরুতে মেঘ না থাকায়:
-
আকাশ সবসময় স্বচ্ছ ও পরিষ্কার দেখা যায়।
-
বৃষ্টি, তুষারপাত বা ঝড়ের অভাব।
-
দিনের বেলা সূর্যের আলো সীমিত হলেও রাতের বেলা তাপ কম থাকার কারণে বরফ দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে।
এই কারণে মেরু অঞ্চলের পরিবেশ অনেকটা স্থির ও অচল বলে ধরা হয়।
মেঘহীন আকাশের কারণে মেরুর আকাশ অত্যন্ত নীল ও বিস্তৃত মনে হয়, এবং রাতের আকাশে উজ্জ্বল উত্তর ও দক্ষিণ ধ্রুবতারকা দেখা যায়। মেঘ না থাকায় সূর্য বা চাঁদের আলো সরাসরি মাটিতে পড়ে, যা বরফের প্রান্তরে অদ্ভুত প্রতিফলন তৈরি করে।
মেরুর আকাশে মেঘ নেই কারণ এখানে সূর্যের আলো খুব কম তীর্যক কোণে আসে, ফলে বরফ ও পানি বাষ্পে পরিণত হয় না। মেঘ না থাকায় বৃষ্টি, ঝড় বা ঘন কালো মেঘ দেখা যায় না।

