সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মানুষের শরীর নিয়ে একটি মজার তথ্য প্রকাশ করেছেন। আমাদের শরীরের দুটি পাশ থাকে—ডান এবং বাম। সাধারণত আমরা মনে করি, দু’পাশ সমান। যেমন—ডান হাত, ডান পা, ডান চোখ, ডান কান; এবং বাম পাশে তেমনই সব কিছু।
কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরের দু’পাশ সমান নয়। ডান পাশ বাম পাশের তুলনায় একটু বেশি ভারী, বড় এবং মজবুত। উদাহরণস্বরূপ, ডান পায়ের পাতা বাম পায়ের চেয়ে সামান্য বড়। মুখের ক্ষেত্রেও ডান দিকের চিবুক, চোখ এবং কান তুলনামূলকভাবে বেশি কর্মক্ষম।
পায়ের উদাহরণ দিলে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষের ডান পায়ের শক্তি বাম পায়ের চেয়ে বেশি। ঠিক একইভাবে, ডান হাত বাম হাতের চেয়ে শক্তিশালী। আমরা প্রায়শই ডান হাত দিয়ে কাজ করি—খাই, লিখি বা অন্য কাজ করি। এমনকি হাটাহাটি বা দৌড়ানোর সময়ও আমরা ডান পায়ের উপর বেশি নির্ভর করি। কেউ চাইলে দ্রুত বাম দিক ঘুরতে পারে না, কিন্তু ডান দিক ঘুরতে পারে।
এছাড়াও, হৃৎপিণ্ডের ডান অংশ বাম অংশের তুলনায় কিছুটা বেশি শক্তিশালী। কঙ্কালের গঠনও এই ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে মানানসইভাবে তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, মানুষের মস্তিষ্ক এবং শরীর মানসিক প্রভাবের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আকস্মিক দুর্ঘটনা বা খারাপ সংবাদ শোনার ফলে কেউ তীব্র মানসিক আঘাত পেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানসিক আঘাতকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে—“দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া অল্প সময়ের জন্য বিঘ্নিত হওয়া, যা প্রায়শই নিজেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।”
মানসিক আঘাতের সময় রোগী কয়েক মিনিটের জন্য দুর্বল বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। হৃৎস্পন্দন দ্রুত হতে পারে, দেহের তাপমাত্রা কমতে পারে এবং চোখের পাপড়ি বিস্ফোরিত হতে পারে। এর কারণ হলো, এই সময় রক্ত চলাচলে অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের জন্য এই প্রতিক্রিয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
শরীরের রক্ত চলাচলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলে শরীরের উপরের অংশ কিছু সময়ের জন্য শীতল হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত উত্তেজনা বা আবেগও মানসিক আঘাতের কারণ হতে পারে। সুতরাং, মানসিক আঘাত পেলে অবিলম্বে ডাক্তারের সাহায্য নেওয়া উচিত। যতক্ষণ ডাক্তার পৌঁছায়নি, রোগীকে শান্ত ও সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা প্রয়োজন এবং শরীরকে গরম রাখার চেষ্টা করা দরকার।
মানুষের ডান এবং বাম দিকের পার্থক্য এবং মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়া—দুটি বিষয়ই আমাদের শরীরের অসাধারণ জটিলতা ও সংবেদনশীলতার উদাহরণ।
ভবেশ রায়
