শেকড় সংগঠন বা মাদার অর্গানাইজেশক ব্যাকড রাজনৈতিক দল
অনেকের ধারণা ভারতীয় জনতা পার্টির মূল শক্তি ও অস্ত্র হিন্দুত্ববাদ। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো হিন্দুত্ববাদ তাদের একটি অস্ত্র বা শক্তি হলেও তাদের আরো কয়েকটি শক্তি রয়েছে যে কারনে তাদের নানা রকম সমালোচনা ও বিতর্ক থাকা সত্বেও তাদেরকে প্রতিহত করা যাচ্ছে না।
প্রথম কারণটি মাতৃ সংগঠন বা মার্দার অর্গানাইজেশন। বিজেপি রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকা এবং সব বিপদ মোকাবিলা করার জন্য তাদেরকে যারা সব ধরনের শক্তি ও সমর্থন যোগায় তারা হলো রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ বা আর-এস-এস। এটি তাদের মাদার অর্গানাইজেশন Mother Organization.
বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক রাজনৈতিক দল একেবারে শূন্য থেকে গড়ে ওঠেনি। বরং তাদের জন্ম হয়েছে কোনো একটি বিদ্যমান সংগঠন, আন্দোলন বা সামাজিক শক্তির ভেতর থেকে। এসব “মাদার অর্গানাইজেশন” থেকেই তারা আদর্শ, সংগঠন কাঠামো ও জনসমর্থন লাভ করেছে। ফলে নতুন দলটি একদিকে যেমন দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে, অন্যদিকে তেমন একটি শক্তিশালী শেকড়ের ভিত্তিতে এগিয়ে গেছে।
বিজেপি ও আরএসএস: এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্ম হয় জনসংঘ থেকে, আর জনসংঘের জন্ম হয়েছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) নামের একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন থেকে। আরএসএস এখনও বিজেপির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। গ্রাম থেকে শহর—প্রতিটি স্তরে তাদের শাখা, স্বেচ্ছাসেবক ও আদর্শভিত্তিক প্রশিক্ষণ বিজেপিকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি জোগায়। ফলস্বরূপ বিজেপি কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারক হয়ে উঠেছে।
বিশ্বে বহু রাজনৈতিক দল জন্ম নিয়েছে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগঠন থেকে। কিন্তু সবার বিশেষত্ব এক নয়। কেউ কেউ মাদার অর্গানাইজেশন থেকে জন্ম নিয়ে পরবর্তীতে স্বাধীন শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে, আবার কেউ কেউ এখনও সেই শেকড় সংগঠনের ভরসা ও সহায়তা নিয়েই শক্তি ধরে রেখেছে। বিশেষত ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর মতো দলগুলোর উত্থান প্রমাণ করে, একটি শক্তিশালী “ব্যাকবোন” সংগঠন রাজনৈতিক দলকে টিকিয়ে রাখার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতা রাখে।
ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) উৎপত্তি সরাসরি জড়িত ছিল ভারতীয় জনা-সঙ্ঘ (Bharatiya Jana Sangh) — আর তা ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর রাজনৈতিক প্রকাশ মাত্র। RSS আজও রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন না-হলেও সাংগঠনিক ও আদর্শগতভাবে BJP-র শক্তিশালী পেছনের বাহিনী হিসেবে কাজ করে: স্থানীয় শাখা (শাখা/শাখাচালক), ছাত্র-যুব সংগঠন এবং সামাজিক কার্যক্রম BJP-কে মাঠে দৃঢ় অবস্থান দেয়। এই সম্পর্কটি রাজনৈতিক উত্থান-পতন, কর্মী-ভিত্তি এবং ভোট-মোবিলাইজেশনে স্পষ্টভাবে পড়ে।
ইউরোপে শ্রমিক সংগঠন থেকে লেবার পার্টি
ইউরোপের বহু দেশে শ্রমিক আন্দোলনই রাজনৈতিক দল গঠনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। যেমন ব্রিটিশ লেবার পার্টি, যার জন্ম উনবিংশ শতাব্দীর শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন থেকে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই থেকে উঠে আসা এ দলটি পরবর্তীতে ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে। শ্রমিক সংগঠনের অভিজ্ঞতা ও সংগঠিত কর্মীবাহিনী দলটির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে দেয়। তবে এখানে মাদার সংগঠন বলা যায় না। কারণ শ্রমিক সংগঠনগুলো লেবারপার্টির পেছনের শক্তি হিসেবে কাজ করে না অফিসিয়ালী। এটা আমরা শেকড় সংগঠন থেকে তৈরী হওয়া দল বলতে পারি।
ব্রিটিশ লেবার পার্টি (Labour Party) ছিল মৌলিকভাবে শ্রমিক ইউনিয়ন ও কর্মী-সংগঠনের রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ। ট্রেড-ইউনিয়নগুলো পার্টির অর্থিক, সংগঠনিক ও কণ্ঠস্বর প্রদান করে আজও — আনুষ্ঠানিকভাবে বহু ইউনিয়ন পার্টির সঙ্গে সংযুক্ত/অ্যাফিলিয়েটেড এবং সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা আছে। অর্থাৎ এখানে ‘মাদার-সংগঠন’ বলতে প্রচলিতভাবে বোঝানো যায় — দীর্ঘমেয়াদি কর্মী-বেস ও কল্যাণমূলক আদর্শ দেওয়া সংগঠনকে।
উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন থেকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস
ভারতের ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস শুরুতে ছিল একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণির আলোচনামূলক সংগঠন। কিন্তু ধীরে ধীরে মহাত্মা গান্ধী ও অন্যান্য নেতাদের হাত ধরে এটি হয়ে ওঠে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল, যা স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। এখানেও দেখা যায়, একটি সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন থেকেই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের জন্ম ও বিকাশ ঘটে। এখানেও সময় প্রয়োজনের কারণে যেসব সাংগঠনিক তৎপরতা থেকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস এর জন্ম হয়েছে সেগুলো সঙ্গত কারণে বিলুপ্ত হয়েছে এতে করে সেগুলো বিলুপ্তি করে দল ঘোষণা করলেও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস এখন আর তুলনামূলক শক্তিশালী সংগঠন নয় বিশেষ করে বিজেপির বিপরীতে। যদিও ভারত জুড়ে অনেক আঞ্চলিক দল তৈরী হওয়াও কংগ্রেস এর দূর্বলতার অন্য একটি কারণ ।
সশস্ত্র সংগ্রামের শেকড় থেকে এএনসি
কিছু রাজনৈতিক দলের শেকড় খুঁজে পাওয়া যায় মুক্তিসংগ্রামী সংগঠন বা গেরিলা আন্দোলনে। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC), যা মূলত জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সংগঠন থেকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। মাদার সংগঠনের সংগ্রামী ঐতিহ্য পরবর্তীতে দলটিকে জনগণের আস্থা ও ক্ষমতায় পৌঁছে দেয়। এর সাথে ভারতের কংগ্রেস দলের সাথে মিল রয়েছে। তবে ভারতীয় কংগ্রেস অতীতে তার বসন্ত কাটিয়ে কয়েক প্রজন্ম নেতৃত্ব দিয়ে তারপর পিছিয়ে পড়েছে। সেখানে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস এখনো তার পিক আওয়ার পুরো শেষ করেনি।
আধুনিক যুগে সামাজিক আন্দোলন থেকে দল
জার্মানির গ্রিন পার্টির জন্ম হয়েছে পরিবেশ আন্দোলন ও শান্তি আন্দোলনের ভেতর থেকে। প্রথমে তারা ছিল নাগরিক আন্দোলনকারী সংগঠন, পরে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হয়ে জাতীয় সংসদেও প্রভাব বিস্তার করে। এই দলে দেখা যায়, মাদার সংগঠনের সামাজিক দাবি কীভাবে পরিণত হয় জাতীয় রাজনীতির বড় ইস্যুতে। তবে গ্রিন পার্টি পুরো বিশ্বের জন্য একটি ব্যতিক্রম রাজনৈতিক দল। যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছে। কোথাও রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কোথাও অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে। তাদের কাছে পরিবেশ বড় ইস্যু কারণ রাজনৈতিক অনেক সংকট সমস্যার বিষয়ে তাদের গুরুত্ব না থাকায় সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদেরকে সেভাবে বিবেচনা করে না। তাই তাদের প্রতি সমর্থন থাকলেও ভোটের মাঠে তার প্রতিফলন সমর্থনের সমানুপাতিক নয়।
ইসরায়েলের লিকুদ পার্টি ও শেকড় সংগঠন
ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির জন্ম হয়েছিল জায়নিস্ট আন্দোলন ও “হেরুট” সংগঠনের ভেতর থেকে। যদিও এটি সময়ের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে, কিন্তু এখনও বিভিন্ন জায়নিস্ট সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন দলটিকে জনভিত্তি ও আন্দোলনশক্তি সরবরাহ করে। এই সংগঠনটির সাথে বিজেপি আরএসএস এর মিল রয়েছে। ফলে লিকুদ পার্টি নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা সত্বেও দিনশেষে তারাই জিতে। তারা মুলত অন্য একটি দলের রাজনৈতিক শাখা। এটা আসলে রাজনৈতির একটা কৌশল। বলতে পারেন মানুষের সমর্থন আদায়ের জন্য একটি ম্যাটিকুলাস প্নান।
ইসরায়েলের লিকুদ-কয়েডামি (Likud) পার্টির শেকড় পাওয়া যায় হেরুট ও রিভিশনিস্ট জায়নিস্ট আন্দোলনে; ঐতিহাসিকভাবে সেই আন্দোলনের সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্ক ও যুবমুভমেন্টগুলোর ধারাবাহিকতা পরবর্তীতে লিকুদকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলটি মূলত ঐতিহাসিক-আদর্শগত সংগঠনের ধারাবাহিকতা হিসেবে কাজ করেছে।
নেটওয়ার্ক
রাজনীতিতে কিছু দল এমন আছে যাদের জন্ম কোনো বৃহৎ সামাজিক বা সংগঠনিক নেটওয়ার্ক থেকে — এবং সেই নেটওয়ার্ক আজও সক্রিয়ভাবে দলটিকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষমতায় পৌঁছে দিতে কাজ করে। মাদার-অর্গানাইজেশন বলতে আমি এখানে বোঝাচ্ছি — যে প্রতিষ্ঠান (ধর্মীয়/সাংস্কৃতিক/সামাজিক বা কাজী-কাজিকাণ্ডের) দীর্ঘমেয়াদি ভাবে দলকে কোর-ক্যাডার, অর্থ, নৈতিক বৈধতা ও জনভিত্তি সরবরাহ করে।
আওয়ামী লীগের জন্ম ২৩ জুন ১৯৪৯-এ “ইস্ট পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ” থেকে, এবং সেই পূর্ববর্তী মুসলিম-লিগের শাখা-রূপ আজকের অর্থে নেই; তাই তাকে সক্রিয় মাদার-অর্গানাইজেশন বলা ঠিক হবে না। তবে বাংলাদেশে বহু দল প্রচলিত মাদার-সংগঠন নয়, বরং শক্তিশালী ‘অফিশিয়াল/অনুজ’ উইংস — ছাত্র, যুব, শ্রমিক ইত্যাদি সংগঠন-এর ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ: আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (JCD) — এই অনুজ-সংগঠনগুলো আজও পার্টির জন্য কর্মী, স্থানীয় নেতৃত্ব ও মাঠ-তৈরি করে।
শেকড় সংগঠন থেকে জন্ম নেয়া সব দলের ‘শেকড়’ই আজও সক্রিয় নয়। সেই-সঙ্গে আছে এমন উদাহরণ যেখানে শেকড়-সংগঠন আজও সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দলকে সহায়তা করে — RSS-BJP, শ্রমিক-লেবার সম্পর্ক, এবং রিভিশনিস্ট-জায়নিস্ট ধারার রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ইত্যাদি তা প্রমাণ করে। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই “মাদার” ছিল কিন্তু তা এখন নেই; এর বদলে আছে ছাত্র-যুব-শ্রমিক উইংস, সিভিল-সোসাইটি নেটওয়ার্ক ও ধর্মীয়/সাংস্কৃতিক দলগুলো, যারা বাস্তবে পার্টিকে মাঠে টিকে থাকতে সাহায্য করে। এই পার্থক্য বোঝা জরুরি — কেননা ‘অতীতের মাদার’ না থাকলে অবশ্যই সেটা দলকে কমজোরি করবে না, যদি পাশে থাকে সক্রিয়, সংগঠিত ও সমর্থক-শাখা।
মাদার অর্গানাইজেশন থেকে জন্মের সুবিধা
রাজনৈতিক দলের সাফল্য কেবল নির্বাচনী প্রচারণা বা জনপ্রিয় নেতার ওপর নির্ভর করে না। বরং এর গভীর শেকড় যদি একটি শক্তিশালী মাদার অর্গানাইজেশনে প্রোথিত থাকে, তবে দলটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। বিজেপি-আরএসএস মডেল, কিংবা আওয়ামী লীগ–ছাত্রলীগের সম্পর্ক প্রমাণ করে যে, শেকড় সংগঠনের সহায়তা রাজনৈতিক দলকে শুধু জন্মই দেয় না, বরং দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখার শক্তি জোগায়।
-
সংগঠিত কাঠামো: নতুন দল শুরুতেই কর্মী ও নেতাদের অভিজ্ঞ কাঠামো পেয়ে যায়।
-
আদর্শগত ভিত্তি: শেকড় সংগঠনের স্পষ্ট নীতি ও লক্ষ্য নতুন দলের আদর্শকে মজবুত করে।
-
জনআস্থা: পূর্ববর্তী আন্দোলনের জনপ্রিয়তা নতুন দলকে দ্রুত জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
-
সংগ্রামের উত্তরাধিকার: ঐতিহাসিক সংগ্রাম নতুন দলের বৈধতা ও নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করে।
- অবিচ্ছিন্ন কর্মী সরবরাহ – ছাত্র, যুব ও শ্রমিক সংগঠন থেকে নিয়মিত নতুন কর্মী আসে।
- দিক নির্দেশক থাকে– মূল সংগঠনের দর্শন দলকে দীর্ঘমেয়াদে দিকনির্দেশনা দেয়।
- সংগঠিত ভোটব্যাংক – সামাজিক-ধর্মীয় বা সাংগঠনিক ভিত্তি দলকে স্থায়ী ভোটশক্তি দেয়।
- সংকটে টিকে থাকার ক্ষমতা – প্রতিকূল সময়ে মাদার অর্গানাইজেশন মাঠে থেকে দলকে বাঁচিয়ে রাখে
- মাঠ সমন্বয়: মাঠে দ্রুত কর্মী মোবিলাইজ করতে পারে।
- ইতিহাস ও নৈতিক বৈধতা: ঐতিহাসিক সংগ্রাম/চলমান কার্যক্রম দলের জন্য ‘বৈধতা’ হিসেবে কাজ করে
- নির্দিষ্ট আদি-নীতির ধারাবাহিকতা: পার্টি-নীতিতে ধারাবাহিকতা ও আদর্শগত স্পষ্টতা আসে।
- সংকটকালে সহায়তা: বয়কট/বর্হিবিশ্বে চাপ পড়লে মাদার সংগঠন মাঠে ঝাঁপিয়ে দলের পাশে দাঁড়াতে পারে।
- নেতৃত্ব সংহট মোকাবিলা: রাজনৈতিক দলে কোথাও প্রার্থী সংকট দেখো দেলে মূল দল থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়। আবার রাজনৈতিক শাখায় বেশী দলাদলি হলে কিছু নেতা মুল শাখায় স্থানান্তর তরা যাবে।
- নেতাকর্মীদের পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই: অরাজনৈতিক সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন থাকার পর। জানা যায় কার কোন বিশ্বয়ে দক্ষতা আছে। এটা পরে রাজ্য পরিচালনায় সহেযোগিতা করে।
- নেতৃত্বে চর্চা: মূল সংগঠনে নেতৃত্বের চর্চার মাধ্যমে প্রচুর নেতা তৈরী হয় দলে কখনো নেদত্ব সংকট থাকে না।
বিশ্ব রাজনীতির দিকে তাকালে স্পষ্ট হয় যে, কোনো রাজনৈতিক দল হঠাৎ করেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের জন্ম হয় পূর্ববর্তী সংগঠন বা আন্দোলনের ভেতর থেকে। এই মাদার অর্গানাইজেশনই তাদের দেয় মূলধারায় প্রবেশের সুযোগ, জনগণের আস্থা ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা। তাই বলা যায়, একটি রাজনৈতিক দলের শক্ত শেকড় তার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত।
