মন কেন এত কথা বলে?
মন কে আমার যত চাই যে, বোঝাইতে এ আমার চায় রঙের ঘোড়া দৌড়াইতে। এটাইতো সত্যি যে আমরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তা করি না যা আমাদের করা উচিত বা করা প্রয়োজন বরং আমরা তাই করি যা আমাদের এ চায় বা আমাদের করতে ভালো লাগে। এর এখানেই আমাদের সাফল্য ব্যর্থতার খতিয়ান লিখা হয়। কখনো কখনো এএইও হয় যে, এ যেটা চায় সেটা করেও সাফল্য আসে। যদি সেটা সঠিক হয়। সূতরাং সঠিক কাজটি করা জরুরী। আধ্যাত্মবাদে বিশ্বাসীরা অবশ্য বলেন যে, আমাদের এ আমাদেরকে সবসময় সঠিক দিকে পরিচালিত করে বরং আমরা আমাদের একে বিভ্রান্ত করি, ভুল তথ্য দিয়ে ভুল দিকে পরিচালনা করে, অন্যের কথা শুনে দিকভ্রান্ত হই, এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় মনে জায়গা দিয়ে সেদিকে ধাবিত করি।
যাই হোক কোনো কোনো পরিস্থিতিতে একে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সেসব বিষয়গুলো একবার চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক।
১. বাস্তব জ্ঞান
যখনি কোনো বিষয়ে আমাদের বাস্তব জ্ঞান থাকবে তখনি সে বিষয়টি আমরা যুক্তি ও তথ্য দিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারব আর এটা করার মধ্য দিয়ে আমাদের অজান্তেই আমাদের এ সে যুক্তি মেনে নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না। এজন্য যখন যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব সে বিষয়ে যতটা সম্ভব জানার চেষ্টা করব।
২, সামাজিক সংযোগ
মানুষ সামাজিক জীব এটা পুরণো কথা। ঘরে বসে থেকে এটা জপ করার বিষয় নয়। এটা নিত্যকার জীবনে অনুভব ও ফলাফল লাভ করার বিষয়। বিভিন্ন ব্যাপারে সমাজে লোকদের সাথে আমাদের কানেকটিভিটি থাকা দরকার। বিভিন্ন সভা সমিতি দলাদলি পদাপদি নিয়ে হাউকাউ আছে এসব কমিউনিটির সুফলও রয়েছে। এসব তোমাকেকানেকটিভি দিবে যা তোমার এ ভালো রাখতে ও নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করবে।
৩. সমস্যা চিহ্নিত করুন চিন্তার সংযোগ করুন
নিজের একে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে যে চিন্তার যে পয়েন্টগুলো তোমাকেভাবাচ্ছে, সেগুলো বোঝার চেষ্টা করুন। তারপর নেতিবাচক চিন্তাগুলো বিবেচনা করে ইতিবাচক চিন্তাগুলো বিশ্লেষন করুন। তোমার লক্ষ্যের সাথে সমন্বয় করুন।
৪. একে অবসর দিন
এ খারাপ হওয়ার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসুন। কোনো কিছু খুব বেশি সমস্যার মনে হলে বা কষ্টদায়ক হলে, কিছু সময়ের জন্য বিষয়টিকে এড়িয়ে যান। অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দিন। সম্ভব হলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন, দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন, মুভি দেখুন, কমেডি দেখুন। প্রিয় কোনো গান শুনুন। ঘরের আলো বন্ধ করে দিন এবং গান শুনুন। এটা চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। পর্যাপ্ত ঘুম সব শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সমাধানের একটি অন্যতম উপায়।
৬. মেডিটেশন
একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধ্যান বা মেডিটেশন করা খুব উপকারী একটি বিষয়। যখন নেতিবাচক চিন্তাগুলো মনে আসে তখন মানসিক দৃঢ়তা কমে যায়। এ ধরনের চিন্তা মানসিক শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। নিয়মিত মেডিটেশনের অভ্যাস একে শান্ত করে এবং দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।
৭. শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
এ ভীষণ বিক্ষিপ্ত এবং অস্থির থাকলে একে নিয়ন্ত্রণের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। এ ব্যায়াম করতে প্রথমে গভীরভাবে শ্বাস নিন। কিছুক্ষণ আটকে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে কয়েকবার ধরে করুন। এ ব্যায়াম তোমাকেশিথিল করতে সাহায্য করবে। নেতিবাচক চিন্তা ও আবেগগুলো থামাতে সাহায্য করবে।
লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

