১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব ভেগান দিবস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু পশ্চিমা বিশ্ব নয়, বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে ভেগান জীবনধারা। ভেগানরা খাদ্যতালিকায় কোনো প্রাণিজ উৎসের খাবার রাখেন না। তাদের খাবারের মূল উপাদান শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বীজ ও বাদাম। অনেক তারকা, ক্রীড়াবিদ ও স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ এখন নিয়মিত ভেগান ডায়েট অনুসরণ করছেন।
তবে মনে রাখতে হবে, ভেজিটেরিয়ান আর ভেগান এক নয়। ভেজিটেরিয়ানরা উদ্ভিজ্জ খাবারের পাশাপাশি দুধ ও ডিমের মতো প্রাণিজ খাবার খান, কিন্তু ভেগানরা এসবও পরিহার করেন।
ভেগান ডায়েটের উপকারিতা
ভেগান ডায়েট ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক। এটি গাউট বা ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। ভেগান খাদ্য প্রদাহ প্রতিরোধে সহায়ক, ফলে এটি শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
প্রাণিজ আমিষে থাকা অতিরিক্ত চর্বি শরীরের জন্য ক্ষতিকর, অথচ ভেগান খাদ্যে সেই চর্বি থাকে না। ফলে এই ডায়েট হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায় ও হৃদ্পিণ্ডকে সুস্থ রাখে। এছাড়া ভেগান খাবার উচ্চ ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অ্যানাল ফিসার, পাইলস ও রেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
কিছু জটিলতা
সব প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড শুধুমাত্র উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া যায় না। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ভেগান ডায়েট অনুসরণ করলে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে। উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন ও জিংক পাওয়া তুলনামূলক কঠিন। এছাড়া দুধ না খাওয়ায় ক্যালসিয়ামের ঘাটতিও দেখা দিতে পারে।
করণীয়
শরীরের ওজন অনুযায়ী আমিষের চাহিদা পূরণ করতে নিয়মিত ডাল, মটরশুঁটি, সয়াবিন, সয়ামিট ও বাদাম খেতে হবে। যেহেতু বেশির ভাগ ডালে মেথিওনিন ও সিস্টাইন নামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যামাইনো অ্যাসিডের ঘাটতি থাকে, তাই সেগুলো সয়াবিন বা বাদামের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পূর্ণাঙ্গ বা ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন পাওয়া সম্ভব।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন বি-১২, আয়রন, জিংক ও ক্যালসিয়ামের সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া গুড ফ্যাট ও প্রয়োজনীয় মাইক্রো ও ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের জন্য খাদ্যতালিকায় কাঠবাদাম, আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়ার বীজ ও ফ্ল্যাক্স সিড যোগ করা উচিত।
দীর্ঘ মেয়াদে ভেগান ডায়েট অনুসরণ করতে চাইলে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। প্রতি তিন মাস পরপর কিছু নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে শরীরের অবস্থা যাচাই করা ভালো।
— মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

