ভারতে পুরুষ বন্ধ্যাকরণে বলপ্রয়োগ ও বৈষম্যের নীতি

ভারতে পুরুষ বন্ধ্যাকরণে বলপ্রয়োগ ও বৈষম্যের নীতি

উট্টাওয়ার (হরিয়ানা, ভারত): জরুরি অবস্থার তাণ্ডবে এক গ্রামের বলিদান

প্রোগ্রামটি মূলত ২৫ জুন ১৯৭৫ থেকে মার্চ ১৯৭৭ পর্যন্ত চলেছিল, যা ভারতের জরুরি অবস্থার সময়কাল। এই সময়টিকে প্রায় ১৭‑১৮ মাস ধরা হয় প্রথম বছরে (১৯৭৫‑৭৬) স্বচ্ছন্দে উৎসাহমূলক ধাপে শুরু হলেও, পরবর্তী تقریباً ১০ মাসে (অক্টোবর ১৯৭৫ থেকে মার্চ ১৯৭৭) সরকারি চাপ ও জোর প্রয়োগ শুরু হয়। উট্টাওয়ার হলো হরিয়ানা রাজ্যের মেওয়াত অঞ্চলের একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাম, দিল্লি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে ।  ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন, যতক্ষণ নাগরিক অধিকার শাসনমূলকভাবে স্থগিত ছিল

প্রাথমিক পর্যায় (১৯৭৫‑৭৬) – উৎসাহমূলক কর্মসূচি গণপ্রজাতন্ত্রের অধীনে: অর্থ, খাদ্য বা সুবিধাপত্রের বিনিময়ে স্বেচ্ছায় স্টেরিলাইজেশন করা হত

  1. বলপ্রয়োগ পর্যায় (১৯৭৬‑৭৭)
  • সরকারি কর্মচারীদের মাঝে কোটা নির্ধারণ এবং কর্মসংস্থানের হুমকি; যারা না করতেন, তাদের বেতন ও পদোন্নতির অধিকার আটকে দেওয়া হতো The New Yorker+13The Indian Express+13PubMed+13

  • স্টেরিলাইজেশন সার্টিফিকেট ছাড়া অনেক সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত: সরকারি কর্ম, রেশন কার্ড, সেচ, ভবন অনুমতি ইত্যাদি Ideas for IndiaThe Indian Express

  • পুলিশ-ফোর্সের প্রাতঃভ্রমণ অভিযান: গ্রাম ঘিরে ধরে পুরুষদের একজন করে ট্রাকে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া, রাত তিনে লাউডস্পিকার দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করা – যা বিশেষভাবে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে বিভিন্ন গ্রামে ঘটেছিল

 ঘটনা: ১৯৭৬ সালের নভেম্বর

  • ৬ নভেম্বরে ১৯৭৬, গভীর শীতে ভোরবেলার দিকে পুলিশ ব্যাপকভাবে গ্রাম ঘিরে ফেলে, উচ্চশিক্ষিত গোষ্ঠীর পুরুষদের একত্রিত করে বলবৎ ভাসেকটমি (পার্মানেন্ট বলপ্রসারণ) ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়

  • প্রায় ৮০০ পুরুষকে ওই দিনে বলপূর্বক স্টেরিলাইজ করা হয়, যদিও গ্রামের চোখে সংখ্যা আরও বেশি বলা হয়

 গ্রামের প্রবীণ স্মৃতি: বলিদান বনাম বাঁচার আশা

  • গ্রামপ্রধান আব্দুল রেহমান পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সময় বলেছিলেন: “একটা মেওয়াতি কুকুরকেও না, আমাদের মানুষকে কইরা দাও?”—গ্রামের অনেকেই আশ্রয় নেন আড়াভাল্লিকে,‌ যাতে নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়

  • কিন্তু কিছু প্রবীণ, যেমন মোহাম্মদ দিনু  স্বেচ্ছায় হাজির হন, জনসত্তার বিপদ এড়াতে, এবং পরবর্তীতে এটি তিনি “বলিদান” হিসেবে বর্ণনা করেন কারণ এতে গ্রাম বেঁচে যায় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা বজায় থাকে। 

  • আজ তিনি নব্বইয়ের কোঠায়, ২০২৫ সালে ভারতের জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তিতে উনি একমাত্র বেঁচে থাকা টার্গেট ব্যক্তিরূপে চিহ্নিত

 প্রসঙ্গ ও প্রেক্ষিত

  • ভারত ১৯৫২ সালে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনার সূচনা করেছিল, তারপর ১৯৬০-এর দশকে গড় জন্মহার প্রতি নারীতে প্রায় ৬ সন্তান ছিল

  • বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্থিক সহায়তার শর্তসাপেক্ষে জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালু করা হয়; বিশ্বব্যাংক থেকে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছিল ভারত

  • এক বছরে প্রায় ৬ মিলিয়ন পুরুষ, আর ১৯৭৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ৮ মিলিয়ন মানুষ বলপূর্বক স্টেরিলাইজড হন; এছাড়া প্রায় ২,০০০ মৃত reported ছিল ব্যর্থ কার্যক্রমের ফলে

 অতর্কিত ন্যায্যতার অভাব ও ধাক্কা

  • গ্রামটির মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়—মেও গোষ্ঠীর মানুষের জন্মহার তুলনামূলক উন্নত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়; বৈষম্যমূলক আচরণ স্পষ্ট ছিল

  • সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট কোটার দাবি পূরণ না হলে বেতন কাটা, কর্মচ্যুতি হুমকি, এমনকি সেচপানিও বন্ধ করার মতো শাস্তিমূলক নীতি প্রয়োগ করা হয়

পরিসংখ্যান

  • ১৯৭৫‑৭৬: প্রায় ২.৬ মিমেন (vasectomies) এবং সম্ভাব্য মোট স্টেরিলাইজেশনের সংখ্যা প্রায় ৩ মিলিয়ন ছিল Ideas for India+7Project MUSE+7PubMed+7

  • ১৯৭৬‑৭৭: মোট স্টেরিলাইজেশন প্রায় ৮–৮.৩ মিলিয়ন, যার মধ্যে ৬.২ মিলিয়ন পুরুষরা (vasectomies) অন্তর্ভুক্ত ছিল Ideas for IndiaLegacy IASProject MUSEWikipedia

  • পুরুষদের বাধ্যনামায় অংশ ছিল মোট সংখ্যার প্রায় ৭৫%, নারীদের (tubectomies) অংশ ছিল মাত্র ২৫% BBC+2Project MUSE+2PubMed+2

  • প্রায় ১,৭৭৮ জন নিহত হয়েছিল জটিলতা বা অপচারে, যা Shah কমিশন রিপোর্টে উল্লেখ আছে Legacy IASWikipedia

 ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও সংঘর্ষ

  • সবচেয়ে বেশি স্টেরিলাইজেশন হয়েছিল উত্তর ভারতের হরিয়ানা, উত্তর‑প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ রাজ্যগুলিতে। এগুলোকে “vasectomy belt” বলা হয়েছে Legacy IASThe Indian Express

  • রাজধানী দিল্লির আশপাশেও, বিশেষত মুসলিম ও নিম্নবিত্ত এলাকায় যেমন Turkman Gate, Nasbandi Colony, অত্যন্ত জোরালো অভিযান চালানো হয়েছিল Wikipedia+5Wikipedia+5The Economic Times+5

  • Relatively সামনের দক্ষিন বা অন্য রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম সংবেদনশীলভাবে পরিচালিত হয়েছিল।

 ধর্মভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতা ও প্রভাব

  • মুসলিম এবং আদিবাসী/সংখ্যালঘু সমাজকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হয় কারণ তাঁদ