ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকে টাকা রাখলে থাকবে নিরাপদ?

সম্প্রতি দেশের কয়েকটি ব্যাংকে গ্রাহকদের টাকা আটকে যাওয়ার ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘ভালো ব্যাংক’ ও ‘খারাপ ব্যাংক’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, কোন ব্যাংক বেশি সুদ দিচ্ছে আর কোনটা কম—এই হিসাবের মধ্যে অনেকে পড়েছেন দ্বিধায়। তবে শুধু সুদের হার দেখে নয়, টাকা রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।

কষ্টার্জিত অর্থ, ঝুঁকি কেন?

প্রতিটি মানুষ চায় তার ঘাম ঝরানো টাকার নিরাপত্তা। অতীতে অনেকবার দেখা গেছে, কিছু ব্যাংকে আমানত আটকে গেছে, গ্রাহকরা টাকা তুলতে গিয়ে পড়েছেন ভোগান্তিতে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রশ্ন উঠছে—কোন ব্যাংকে টাকা রাখা নিরাপদ?

আগে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য যাচাই করতে ক্রেডিট রেটিং, ক্যামেলস স্কোর, মূলধন পর্যাপ্ততা, খেলাপি ঋণের হার ইত্যাদি সূচক দেখা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সূচকগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্বল ব্যাংকও পাচ্ছে উচ্চ রেটিং, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে রয়েছে অস্পষ্টতা। কেউ কেউ খেলাপি ঋণও গোপন করছে নানা সুবিধা দেখিয়ে। এতে সাধারণ আমানতকারীর পক্ষে ‘ভালো’ ব্যাংক চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেশি সুদ মানেই নিরাপদ নয়

ব্যাংকে টাকা রাখার সময় অনেকেই বেশি সুদের আশায় ঝুঁকে পড়েন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যাংক যদি অস্বাভাবিক হারে সুদ দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তারা তারল্য সংকটে আছে। এতে ভবিষ্যতে টাকা ফেরত পাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাই কেবল বেশি সুদের লোভে নয়, নিরাপদ বিনিয়োগ নিশ্চিত করেই টাকা রাখা উচিত।

অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা জরুরি

বর্তমানে অনেকেই মোবাইল কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে লেনদেন করতে চান। তাই ব্যাংকটি মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা কতটা সহজে ও নিরাপদে দিচ্ছে, তা দেখে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ব্যাংকের সার্ভিসের মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গ্রাহকসেবা বিবেচনা করা উচিত।

আমানতের নিরাপত্তায় কৌশল

একই ব্যাংকে সব টাকা না রেখে একাধিক ব্যাংকে ভাগ করে রাখা যেতে পারে। এতে ঝুঁকি কমে যায়। একটি ব্যাংকে কোনো জটিলতা দেখা দিলেও বাকি আমানত নিরাপদ থাকে।

ভালো ব্যাংক চেনার উপায়

ভালো ব্যাংক বাছাই করার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

১. পরিচালনা পর্ষদের স্বচ্ছতা: সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পরিচালকদের নাম, পেশা ও ভাবমূর্তি যাচাই করুন। যারা স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করেন, তাদের ব্যাংকে ঝুঁকি কম থাকে।

২. বড় গ্রাহক কারা: ব্যাংকটি কারা থেকে আমানত নিচ্ছে এবং কাদের ঋণ দিচ্ছে, তা খেয়াল করুন। বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য থাকে।

৩. নিয়োগপ্রক্রিয়া ও পেশাদারিত্ব: নিয়োগ কতটা স্বচ্ছ, কর্মকর্তারা কতটা অভিজ্ঞ ও পেশাদার, এসব বিষয়ও একটি ব্যাংকের নিরাপত্তার বারোমাসি সূচক।

৪. আর্থিক সূচক ও ভাবমূর্তি: ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, শেয়ার বাজারে পারফরম্যান্স ও গণমাধ্যমে ভাবমূর্তিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

ব্যাংকে টাকা রাখা মানে শুধু সঞ্চয় নয়, এটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। তাই কোন ব্যাংক বেশি দিচ্ছে নয়, কোন ব্যাংক নিরাপদ তা বিচার করাই জরুরি। নিজে খোঁজখবর নিয়ে, সুদের হার যাচাই করে, পরিচালনা পর্ষদ ও আর্থিক সূচক বুঝেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাহলেই আপনার সঞ্চয় থাকবে নিরাপদ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply