Agreement. personal. alap, contact

ব্যক্তিগত ঋণ চুক্তি

নিচে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে (যেমন: পারিবারিক জরুরি প্রয়োজন, চিকিৎসা, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট মোকাবিলার জন্য) ঋণ গ্রহণ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিপত্র দেওয়া হলো। এটি পূর্বের চুক্তির মতোই সম্পূর্ণ সুদমুক্ত এবং এতে লভ্যাংশ বা উপহার প্রদানের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বন্ধুত্বের সম্পর্কের কারণে এই ঋণ প্রদান করা হচ্ছে বলে চুক্তির ভাষায় তা উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত ঋণ চুক্তিপত্র

আজ ইং ২২ আগস্ট, ২০২৪ ইং, মোতাবেক ৬ ভাদ্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। নিম্নলিখিত শর্তাবলী ও মর্মানুযায়ী এই ঋণ চুক্তিপত্র সম্পাদিত হলো।

পক্ষগণের বিবরণ

প্রথম পক্ষ (ঋণদাতা):
জনাব মেহেদী হাসান
পিতা: জনাব আব্দুস সামাদ
গ্রাম/সড়ক: ১২/কে, ব্লু-বার্ড আবাসিক এলাকা, বাড়ি নং ২৩৪
ডাকঘর: নিউ মার্কেট থানা: ধানমন্ডি, জেলা: ঢাকা
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ১৯৯৫১২৩৪৫৬৭৮৯০১
পেশা: সরকারি চাকরিজীবী
মোবাইল নম্বর: ০১৭১২-৩৪৫৬৭৮

দ্বিতীয় পক্ষ (ঋণগ্রহীতা):
জনাব সাইফুল ইসলাম
পিতা: মৃত নজরুল ইসলাম
গ্রাম/সড়ক: বাড়ি নং ৪৫৬, রোড নং ০৮, আদাবর
ডাকঘর: আদাবর থানা: মোহাম্মদপুর, জেলা: ঢাকা
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ১৯৯৩১২৩৪৫৬৭৮৯০২
পেশা: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী
মোবাইল নম্বর: ০১৯১২-৯৮৭৬৫৪

উভয় পক্ষকে একত্রে “পক্ষগণ” এবং পৃথকভাবে “পক্ষ” বলে উল্লেখ করা হবে।

প্রেক্ষাপট

যেহেতু, প্রথম পক্ষ (জনাব মেহেদী হাসান) এবং দ্বিতীয় পক্ষ (জনাব সাইফুল ইসলাম) দীর্ঘ ১৫ বছর ধরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরস্পরের প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন;

যেহেতু, দ্বিতীয় পক্ষের পরিবারের একজন সদস্যের জরুরি চিকিৎসার জন্য (অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা, যেমন: পারিবারিক অনুষ্ঠান/বিয়ে/ছোটখাটো সংস্কার কাজ ইত্যাদি) কিছু আর্থিক সংকট দেখা দিয়াছে;

যেহেতু, প্রথম পক্ষ বন্ধু হিসাবে দ্বিতীয় পক্ষের পাশে দাঁড়াইতে এবং এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করিয়াছেন;

যেহেতু, উভয় পক্ষই এই ঋণের লেনদেন সম্পূর্ণ সুদমুক্ত এবং কোনো প্রকার ব্যবসায়িক লাভ-লোকসানের হিসাব বহির্ভূত রাখিতে সম্মত হইয়াছেন;

সেহেতু, ভবিষ্যতে কোনোরূপ ভুল বোঝাবুঝি এড়াইতে এবং বন্ধুত্ব অটুট রাখিতে এই লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইল।

চুক্তির শর্তাবলী

১। ঋণের পরিমাণ ও প্রাপ্তিস্বীকার:
১.১ প্রথম পক্ষ (ঋণদাতা) দ্বিতীয় পক্ষকে (ঋণগ্রহীতা) দুই লক্ষ টাকা (২,০০,০০০/-) মাত্র ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজনে ঋণ হিসাবে প্রদান করিলেন।
১.২ এই অর্থ নগদে অথবা প্রথম পক্ষের ব্যাংক একাউন্ট (ইসলামী ব্যাংক, আদাবর শাখা, জনাব মেহেদী হাসানের হিসাব নং ২০৫৪৬৭৮৯০০১) হইতে দ্বিতীয় পক্ষের ব্যাংক একাউন্ট (ব্র্যাক ব্যাংক, আদাবর শাখা, জনাব সাইফুল ইসলামের হিসাব নং ১৫০২৩৪৫৬৭৮৯)-এ স্থানান্তর করা হইয়াছে।
১.৩ দ্বিতীয় পক্ষ উক্ত অর্থ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করিতেছেন এবং এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়াই অর্থ প্রাপ্তির চূড়ান্ত রশিদ হিসাবে গণ্য হইবে।

২। সুদ সংক্রান্ত শর্ত:
২.১ এই চুক্তির অধীনে প্রদত্ত ঋণ সম্পূর্ণরূপে সুদমুক্ত ও নির্লোভ
২.২ প্রথম পক্ষ (ঋণদাতা) এই ঋণের জন্য কোন প্রকার সুদ, অতিরিক্ত অর্থ বা বাড়তি টাকা গ্রহণ করিতে পারিবেন না।
২.৩ দ্বিতীয় পক্ষ (ঋণগ্রহীতা) কেবলমাত্র ঋণের মূল টাকাই ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবেন। তাঁকে সুদ বা লাভ বাবদ এক টাকাও প্রদান করিতে হইবে না।

৩। লভ্যাংশ/উপহার প্রদানের বিধি:
৩.১ এই চুক্তিতে কোনো প্রকার লভ্যাংশ, কমিশন, বা উপহার প্রদানের বাধ্যবাধকতা নাই
৩.২ প্রথম পক্ষ ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার কারণে নিঃস্বার্থভাবে এই ঋণ প্রদান করিয়াছেন। তিনি এই ঋণের বিনিময়ে দ্বিতীয় পক্ষের কোনো সম্পত্তি, ভবিষ্যত আয়ের অংশ, বা কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা দাবি করিবেন না।
৩.৩ দ্বিতীয় পক্ষ, কৃতজ্ঞতা স্বরূপ, যদি কোনো উপহার দিতে চান, তবে তাহা সম্পূর্ণরূপে তাঁহার ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল এবং ইহা চুক্তির অংশ হিসাবে গণ্য হইবে না। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বা মূল টাকা পরিশোধের পর প্রদত্ত কোনো উপহারের সঙ্গে এই চুক্তির কোনো সম্পর্ক নাই।

৪। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ও পদ্ধতি:
৪.১ দ্বিতীয় পক্ষ সম্মত হইয়াছেন যে, অদ্য হইতে ৪ (চার) বৎসর অর্থাৎ ৪৮ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ঋণের মূল টাকা প্রথম পক্ষকে ফেরত প্রদান করিবেন।
৪.২ অর্থ পরিশোধের সর্বশেষ তারিখ হইবে ২১ আগস্ট, ২০২৮ ইং
৪.৩ দ্বিতীয় পক্ষ মাসিক কিস্তিতে (যেমন: ৪,১৬৭ টাকা হারে) অথবা এককালীন অর্থ প্রদান করিতে পারিবেন। তবে তিনি চাইলে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেও যে কোনো সময় সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করিতে পারিবেন।
৪.৪ অর্থ পরিশোধ নগদে অথবা প্রথম পক্ষের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া যাইবে। ব্যাংকে জমা দিলে ডিপোজিট স্লিপের সত্যায়িত কপি এবং নগদে দিলে প্রথম পক্ষের লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার প্রমাণ হিসাবে রাখিতে হইবে।

৫। অগ্রিম পরিশোধ ও সময় বাড়ানোর সুযোগ:
৫.১ ঋণগ্রহীতা চাইলে মাসিক কিস্তির পরিমাণ বাড়াইতে পারেন বা নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করিতে পারিবেন। ইহাতে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হইবে না।
৫.২ যদি ঋণগ্রহীতা কোনো বৈধ কারণে নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধে অসমর্থ হন, তবে তাঁকে অন্তত ৩০ দিন আগে লিখিতভাবে ঋণদাতাকে জানাইয়া সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানাইতে হইবে। ঋণদাতা চাইলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিবেচনা করে সময় বৃদ্ধি করিতে পারেন।

৬। চুক্তি ভঙ্গের শর্ত:
৬.১ যদি দ্বিতীয় পক্ষ নির্ধারিত সময়ের (৪ বছর) মধ্যে ঋণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন এবং প্রথম পক্ষ সময়ো বৃদ্ধিতে অসম্মতি প্রকাশ করেন, তাহা হইলে প্রথম পক্ষ তাঁহাকে লিখিত নোটিশ প্রদান করিবেন।
৬.২ নোটিশ পাওয়ার পরও যদি পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করা হয়, তবে প্রথম পক্ষ বন্ধু হিসাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ব্যর্থ হইলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাখেন।

৭। মৃত্যু বা অক্ষমতা জনিত শর্ত:
৭.১ এই চুক্তির মেয়াদের মধ্যে প্রথম পক্ষের মৃত্যু ঘটিলে, ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ তাঁহার আইনানুগ উত্তরাধিকারী বা ওয়ারিশগণকে পরিশোধ করিতে হইবে।
৭.২ দ্বিতীয় পক্ষের মৃত্যু বা স্থায়ী শারীরিক/মানসিক অক্ষমতা ঘটিলে, তাঁহার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হইতে এই ঋণের অর্থ প্রথম পক্ষকে পরিশোধ করিতে তাঁহার উত্তরাধিকারীরা বাধ্য থাকিবেন। এই চুক্তি দ্বিতীয় পক্ষের উত্তরাধিকারীদের জন্য আইনত বাধ্যতামূলক হইবে।

৮। গোপনীয়তা ও বন্ধুত্বের অঙ্গীকার:
৮.১ উভয় পক্ষ এই চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্মানজনকভাবে সংরক্ষণ করিবেন এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে তৃতীয় পক্ষের নিকট প্রকাশ করিবেন না।
৮.২ এই ঋণ লেনদেন কোনোভাবেই উভয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করিবে না। এই চুক্তি কেবলমাত্র একটি আর্থিক দলিল হিসাবে গণ্য হইবে।

৯। জরুরি যোগাযোগ:
চুক্তি সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য বা সতর্কবার্তার জন্য নিম্নোক্ত ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাইবে:

  • প্রথম পক্ষ: জনাব মেহেদী হাসান, মোবাইল: ০১৭১২-৩৪৫৬৭৮, ইমেইল: mehedi.h@email.com

  • দ্বিতীয় পক্ষ: জনাব সাইফুল ইসলাম, মোবাইল: ০১৯১২-৯৮৭৬৫৪, ইমেইল: saiful.islam@email.com

১০। আইনের প্রয়োগ ও সালিশি:
১০.১ এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত হইবে।
১০.২ কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে প্রথমে পারস্পরিক আলোচনা ও বন্ধুদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হইবে। তাতে ব্যর্থ হইলে ঢাকা জেলার আদালতের এখতিয়ারাধীন থাকিবে।

১১। সাক্ষী:
উপরোক্ত শর্তাবলীতে উভয় পক্ষ স্বাধীন ইচ্ছায় এবং কোনো প্রকার প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিলেন।

পক্ষগণের স্বাক্ষর:

প্রথম পক্ষ (ঋণদাতা)
জনাব মেহেদী হাসান
তারিখ: ২২/০৮/২০২৪

দ্বিতীয় পক্ষ (ঋণগ্রহীতা)
জনাব সাইফুল ইসলাম
তারিখ: ২২/০৮/২০২৪

সাক্ষীগণ:

১. __________________________
নাম: জনাব আরমান হোসেন
পিতা: মোঃ কাশেম মিয়া
ঠিকানা: বাড়ি ৭৮, রোড ২, আদাবর, ঢাকা
পেশা: ব্যবসায়ী
স্বাক্ষর: ______________
মোবাইল: ০১৮১৬-৩৩২২১১

২. __________________________
নাম: জনাব নওশাদ আহমেদ
পিতা: মোঃ হাবিবুর রহমান
ঠিকানা: ফ্ল্যাট ৫বি, বাড়ি ১২৩, ব্লু-বার্ড আবাসিক এলাকা, ঢাকা
পেশা: ব্যাংকার
স্বাক্ষর: ______________
মোবাইল: ০১৭১১-৪৪৭৭৮৮

(চুক্তির শেষ)

দ্রষ্টব্য: এই চুক্তির দুটি সমান সমতুল্য কপি তৈরি করা হইয়াছে। একটি কপি প্রথম পক্ষ (ঋণদাতা) এবং অপরটি দ্বিতীয় পক্ষ (ঋণগ্রহীতা)-এর নিকট রাখা হইল। প্রয়োজনে স্ট্যাম্প পেপারে এই চুক্তি সম্পাদন করা যাইতে পারে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply