বালু
বালু

বালু তৈরি হলো কেমন করে

বালু তৈরি হলো কেমন করে

নদীর পারে, রাস্তার ধারে কিংবা সমুদ্রতটে—যেদিকেই তাকানো যায়, চোখে পড়ে বালুর স্তূপ। কিন্তু এই বালু আসলে কীভাবে তৈরি হয়? কোথা থেকে আসে এত বিপুল পরিমাণ বালু? বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা বেশ আকর্ষণীয়।

বিজ্ঞানীরা বলেন, বালু আসলে পাথরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরো। পাহাড়-পর্বতের প্রকাণ্ড পাথরগুলো বছরের পর বছর বাতাস, বৃষ্টি ও বরফের আঘাতে ধীরে ধীরে ভেঙে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পাথর গুঁড়ো হয়ে পরিণত হয় বালুকণায়। পরে বাতাসে উড়ে বা নদীর স্রোতে ভেসে এ কণাগুলো ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কোথাও নদীর মোহনায়, কোথাও বা সাগরের ঢেউয়ে জমে তৈরি হয় বালিয়াড়ি, চড়া আর মরুভূমি।

নদীর তীর, সমুদ্রতট কিংবা মরুভূমি—প্রায় সব জায়গাতেই তাই বালুর বিস্তৃত উপস্থিতি দেখা যায়। বলা হয়, বিশ্বের বহু মরুভূমি আসলে একসময় ছিলো সমুদ্রের তলদেশ। কোটি কোটি বছর আগে ভূত্বকের পরিবর্তনে এসব এলাকা উঠে এসেছে উপর দিকে, আর শুকিয়ে যাওয়া সমুদ্রের তলায় রয়ে গেছে শুধু বালু।

একটি বালুকণার আকার এতটাই ক্ষুদ্র যে, তা প্রায় বিশ্বাসই করা কঠিন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি বালুকণার ব্যাস সাধারণত শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ (০.০৫) থেকে দুই দশমিক পাঁচ (২.৫) মিলিমিটারের মধ্যে।

বালুর গঠনে ব্যবহৃত পাথর তৈরি হয় বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সংমিশ্রণে। তাই বালুর মধ্যেও পাওয়া যায় নানারকম খনিজ উপাদান। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় স্ফটিক বা কোয়ার্টজ (Quartz), যা অত্যন্ত শক্ত এবং প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। কোনো কোনো বালুর প্রায় ৯৯ শতাংশই কোয়ার্টজ দিয়ে গঠিত।

এ ছাড়া বালুর সঙ্গে মিশে থাকে ফেল্ডস্পার (Feldspar), ক্যালসাইট (Calcite), মিকা (Mica), লৌহ আকরিক (Iron ores), গারনেট (Garnet), টোরমালিন (Tourmaline) ও তোপাজ (Topaz) প্রভৃতি খনিজ।

অর্থাৎ, বালু শুধু মাটির মতো কোনো সাধারণ পদার্থ নয়। এটি প্রকৃতির দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তৈরি এক বিস্ময়কর সৃষ্টি—যার প্রতিটি দানায় লুকিয়ে আছে পৃথিবীর কোটি বছরের ইতিহাস।

সূত্র: জ্ঞানের কথা
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply