বারবার হাই উঠছে? এটি হতে পারে আপনার শরীরের সংকেত
হাই ওঠা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ক্লান্ত লাগলে, ঘুম পেলে বা বিরক্তি কাজ করলে প্রায় সবারই হাই ওঠে। দিনে দুই–চারবার হাই ওঠা সাধারণ ঘটনা। কিন্তু দিনের বেলা অস্বাভাবিকভাবে ঘন ঘন হাই উঠছে—এটা উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়। এর পেছনে থাকতে পারে ঘুমজনিত সমস্যা কিংবা শরীরের গভীর কোনো অস্বস্তি।
ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মতলেবুর রহমান জানালেন, কখন বারবার হাই ওঠাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং কেন তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
কেন বারবার হাই উঠছে?
রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অথবা ঘুমের গুণগত মান ভালো না হলে দিনের বেলায় বারবার হাই ওঠে। অনেক সময় রাতে ঘুমালেও যদি ঘুমের মাঝে সমস্যা থাকে, যেমন—
- স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের মাঝে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া)
- রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম (পায়ে অস্বস্তি)
- দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা
—তবে ঘুম পর্যাপ্ত হলেও ঘুমের ঘাটতি থেকে যায়।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল, কিছু ওষুধ এবং ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী অভ্যাসও দিনের ক্লান্তির জন্য দায়ী হতে পারে। এসব কারণেই আপনি হয়তো অফিসে, পড়ার টেবিলে বা গাড়ি চালানোর সময় একটার পর একটা হাই তুলছেন।
কী বিপদ হতে পারে?
ঘন ঘন হাই ওঠা মানে আপনার দেহ সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। এর ফলে—
- কাজের সময় মনোযোগ হারিয়ে ফেলতে পারেন
- অফিস মিটিং বা ক্লাসে তন্দ্রাচ্ছন্ন বোধ হতে পারে
- অতিরিক্ত চা-কফির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন
সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো মাইক্রোস্লিপ—অর্থাৎ কয়েক সেকেন্ডের জন্য মস্তিষ্ক ঘুমিয়ে পড়ে। আপনি হয়তো রান্না করছেন, গাড়ি চালাচ্ছেন বা সূক্ষ্ম কোনো কাজ করছেন, তখন এই কয়েক সেকেন্ডের ঘুমে ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন এভাবে চললে কাজের মানও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ভবিষ্যতে যেসব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
যদি নিয়মিত দিনের বেলা হাই উঠতে থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি চলতে থাকে, তাহলে তা:
- মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে
- ডিপ্রেশন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়
- স্ট্রোক বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্ভাবনা তৈরি করে
সুস্থ থাকতে যা করবেন
- নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন—প্রতিদিন অন্তত ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি
- ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম কমান
- সন্ধ্যার পর ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন
- চা-কফি সীমিত করুন, বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে
অনেক সময় দেখা যায়, ঘুমের ঘাটতি কাটাতে বাড়তি কফি খাওয়া হচ্ছে, অথচ সেটাই আবার রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এতে পরদিন ক্লান্তি আরও বাড়ে, আর আপনি আবারও বারবার হাই তুলছেন—এভাবে তৈরি হয় একটি ক্লান্তির চক্র।
কবে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
যদি হাই ওঠার পাশাপাশি মাথাব্যথা, দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে, তাহলে তা শুধুই ঘুমের ঘাটতির কারণে নয়। সেক্ষেত্রে এটি হতে পারে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ, যেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
সতর্কতা:
দিনের বেলায় ঘন ঘন হাই ওঠা অবহেলার বিষয় নয়। এটি হতে পারে আপনার দেহের সতর্কবার্তা। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে সময়মতো ঘুম, বিশ্রাম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

