বাজেটে ই-কমার্স
বাজেটে নীতি তৈরীকারকদের সাথে ই-কমার্স খাতের বোঝাপড়ার বিস্তর ব্যবধান বাজেট চিত্র দেখলে সহজে বোঝা য়ায়।

২০২৪-২৫ সালের বাজেটে ই-কমার্স খাতের কানাকড়ির খতিয়ান

২০২৪-২৫ সালের বাজেটে ই-কমার্স খাতের কানাকড়ির খতিয়ান

(পর্ব ০২:  ট্যাক্স ইস্যু)

 

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

রাজস্ববোর্ড আর ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে করব্যবস্থা নিয়ে একটা সাধারণ মতদ্বৈততা বছরের পর বছর ধরে বিদ্যমান আছে। সেটা হলো ব্যবসায়ী সমাজের মতে কর ব্যবস্থা শিথিল করে ব্যবসা বিকাশের সুযোগ দিলে ব্যবসাখাত বড়ো হয় এবং পরবর্তীতে দেশের জন্য বৈদেশিক মূদ্রা এবং সরকারের জন্য কর দুটোই বড় আকারে বয়ে আনে। এই তত্ত্বের সত্যতা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। কিছুক্ষেত্রে কাংখিত সাফল্য নাও আসতে পারে সেজন্য হয়তো শুধু করভার দায়ী নয় অন্য কোনো নিয়ামকও থাকতে পারে, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি বা কাজ করেনি।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে রাজস্ব বোর্ড এর ধারণা ব্যবসায়ীরা বা নাগরিকেরা কর দিতে চায় না বা কর ফাঁকি দিতে চায়। তারা শুধু কর রহিতকরণ চায় এমনকি কখনো কখনো করসংক্রান্ত তথ্যগোপন করে থাকে।

এই তত্ত্বের সত্যতা প্রমাণের প্রয়োজন নেই। এমনটা হামেশাই হয়ে থাকে। নিজের উপার্জিত অর্থ অন্য কাউকে দিতে কষ্ট হওয়া আমাদের মতো কম সুবিধাপ্রাপ্ত সমাজের চিত্রে এমনটা থাকা ভাল নয় আবার অস্বাভাবাবিকও নয়। একদিকে করের অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা নিয়ে আছে শংকা অন্যদিকে করদাতার প্রশংসা করার নেই চর্চা।

যাই হোক, আমি ব্যক্তিগতভাবে বহু তরুন ব্যবসায়ীকে বলতে শুনেছি তারা যখন প্রথম ব্যবসা শুরু করেন তাদের ইচ্ছে ছিল সঠিকভাবে হিসেব রেখে সরকারকে কর দিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা। কিন্তু রাজস্ব বিভাগের লোকেরা সেটা বিশ্বাস করে না এবং তারা নানারকম হয়রানি করে। তাদের এই প্রবণতায় একটা দরদাম করার জায়গা রাখতে অনেকে কৌশল করেন বলে শোনা যায়।

এই তত্ত্বের সত্যতা জানি না। তবে একটি বিষয় বিগত কয়েক বছর ধরে বাজেট প্রস্তাবনা তৈরী উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করে দেখলাম। রাজস্ব বোর্যড আসলে তাদের লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টি মাথায় রাখে। তারা যদিওবা কোনো বছর ২/১টি দাবী পূরণ করে। তাহলে আরো নতুন ৪টি শর্ত বা বিধান যুক্ত করে দেয়। এতে একদিকে কখনো কখনো দেখা যায় দাবী আদায় হয়েও কোনো লাভ হয়না আবার কখনো কখনো এমন হয় পরের বছর মূল দাবী বাদ দিয়ে নতুন সমস্যাটা সমাধান করার জন্য ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাপ করতে হয়।

এতে রাজস্ব বোর্ড তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে বটে কিন্তু ব্যবসাখাত ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

আসছে অর্থবছরে তাই ই-কমার্স খাতের চাওয়া একটু বেশী। কিছু রয়েছে অনার্থিক বিষয়। কারণ ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান করার নিয়ম ও শর্তে এমন কিছু বিধান রয়েছে সেগুলোও ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

 

নুনতম কর:

বিগত কয়েক বছর ধরে ই-মার্স খাত থেকে এই বলে প্রস্তাব করছে যে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য নূন্যতম কর ০.৬% থেক্রে হ্রাস করে ০.১% করার জন্য। কারণ বিদ্যমান বিধানে একজন ব্যক্তি, ফার্ম বা একটি কোম্পানির লাভ লোকসান যাই হোক না কেনো তার ক্ষেত্রে  ন্যূনতম কর হবে-
১.তামাক উৎপাদনকারীর জন্য সর্বোমোট প্রাপ্তির ১%
২. মোবাইল অপারেটরের জন্য সর্বোমোট প্রাপ্তির ২%
৩. তামাক উৎপাদনকারী বা মোবাইল অপারেটর ব্যতীত অন্য কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার সর্বোমোট প্রাপ্তির তিন কোটি টাকার উপরে সেক্ষেত্রে সর্বনিম্ন কর হবে প্রাপ্তির ০.২৫%।
৪. এবং অন্য যেকোন ক্ষেত্রে এই হার হবে সর্বমোট প্রাপ্তির ০.৬০%। দাবীতে বলা হয়েছে, এটি একচি বর্ধণশীল ও সম্ভাবনাময় খাত হলেও এতে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠান লাভের মূখ দেখেনি। এখানকার মোট লেনদেন দেশের খুচরা বাজারের অতি ক্ষুদ্র অংশ। তাই এই সুবিধা পাওয়া দরকার।

এছাড়া আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫২(২)(xv) এবং বিধি ১৬। অনুসারে উৎসে করের বিধান রহিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য।

 

স্থাপনা মালিকের আয়কর রিটার্ন

বহুল আলোচিত এই দাবীটি যারপরনাই নায্য হলেও রাজস্ব বোর্ড চায় কম জনবল খরচ করে বেশী আয়কর সংগ্রহ করতে তাই এটি আলোর মুখ দেখা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দাবী অনুযায়ী বাড়িওয়ালার আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের কপি) সংগ্রহ করার নিয়ম রহিত করতে আবেদন করা হয়েছে। আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ২৬৪(৩)(৪২) অনুসারে যে কোন সিটি কর্পোরেশনে অবস্থিত বাড়ির ক্ষেত্রে, ভাড়াটিয়াকে অবশ্যই বাড়িওয়ালার কাছ থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের কপি) সংগ্রহ করতে হবে। আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী, যার নিকট হতে কর সংগ্রহ করা হচ্ছে সেই ব্যক্তি যদি অর্থপ্রদানের সময় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের স্বীকৃতির কপি) জমা দিতে না পারেন, তাহলে ভাড়ার উপর উৎসে কর কর্তন/ সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হারের থেকে ৫০% বেশি হবে (৫% থেকে ৭.৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি)।

এছাড়াও, পেমেন্ট প্রাপক যদি পেমেন্টের সময় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের কপি) জমা দিতে না পারেন, আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৫৫(ণ) অনুযায়ী, মোট ভাড়া সম্পর্কিত খরচগুলো অব্যাহতি দেয়া হবে না এবং আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী ৩০% আয়কর আরোপ করা হবে উক্ত অননুমোদিত খরচের উপর।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের দিক থেকে বলা হচ্ছে, এটা শুধু অযৌক্তিকই নয়। সবচেয়ে বড়ো কথা সরকারী সংস্থার কাজ বেসরকারী সংস্থার দ্বারা করা সম্ভব নয়। একজন স্থাপনা মালিক কেন তার ভাড়াটিয়ার কথা শুনবে? যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের কথাই না শুনে তাকে ভাড়াটিয়া কোনো চাপে ফেলতে পারবে এমনটা সঠিক নয়। মাঝখান দিয়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে পড়ছে। কারণ বাড়িওয়ালার জবাব ‘‘পোষালে থাকো নাহলে কেটে পড়ো’’।

 

প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য ব্যয় বৃদ্ধি

বর্তমান বিধান মতে, আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৫৫ এর  ‘‘ঞ’’ অনুসারে বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে। প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের কমপক্ষে ৫% অনুমোদনযোগ্য ব্যয় করা যুক্তিসঙ্গত। কারণ ই-কমার্সের ক্ষেত্রে এবং নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই হার বাস্তবসম্মত নয়।  ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ মুলত বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের প্রচারের জন্য অর্থ ব্যয় করে থাকে যা ব্যতীত তারা তাদের ক্রেতার নিকট পণ্য আকৃষ্ট করতে পারে না। সেক্ষেত্রে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের কমপক্ষে ৫% অনুমোদনযোগ্য ব্যয় করা যৌক্তিক। বিশেষ করে প্রথমদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে প্রচারণার দ্বারা বাজারে প্রবেশ করতে হয়। তাছাড়া ই-কমার্স  প্রতিষ্ঠানের মূল খরচগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচারণামূলক খরচ।

 

মাসিক উৎসে আয়কর কর্তনের দাখিলপত্র

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ১৭৭(৩) অনুসারে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের উৎসে কর্তনের দাখিলপত্র পেশ করার বিধান হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবী এই সময়সীমা কমপক্ষে ২০ তারিখ হওয়া উচিৎ কারণ গ্রুপ অফ কোম্পানির ক্ষেত্রে যাদের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের একই সময় সকল কোম্পানির ভ্যাট ও উৎসে কর্তনের চালান সরকারী কোষাগারে জমাদান এবং দাখিলপত্র পেশ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

প্রকৃত প্রস্তাবে এটা কোনো দাবী নয়। এটা করপ্রদানের কাজটি সহজ করতে এনবিআর এর সহযোগিতা নেয়া।

 

বার্ষিক রিটার্ন দাখিলের জন্য বর্ধিত সময়

কিছু অনার্থিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। প্রতিবছর এ ধরনের এমন কিছু নিয়ম চালু করা হয়। পরবর্তী বছর এগুলো নিয়ে লবিং করতে হয়। এটা কাংখিত নয়। এ ধরনের নিয়মের ক্ষেত্রে বাস্তবতা ও করদাতার মতামতকে গ্রাহ্য করা উচিৎ।

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ১৬৫ অনুযায়ী কর দিবসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এই ক্ষেত্রে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন এর কোনো সুযোগ নেই। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৭৫ অনুযায়ী দুইটি প্রস্থে ৪ মাস সময় বাড়ানোর আবেদন এর বিধান ছিল। আয়কর আইন ২০২৩-এ একই বিধান বিদ্যমান রাখলে করদাতাগণ রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় পাবে। কারণ- অনেক সময় কোম্পানিগুলো সময়মত অডিট সম্পন্ন করতে পারে না। এই ক্ষেত্রে সময় বর্ধন এর আবেদন এর বিধান রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

পারকুইজিট বাবদ প্রদত্ত অর্থের অনুমোদনযোগ্য পরিমাণ

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৫৫(ঘ) অনুসারে ধারা ৩২ এ সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট বাবদ কোন কর্মচারীকে প্রদত্ত ১০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত যেকোন প্রদান অননুমোদিত ব্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে। এটা কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকা হওয়া উচিৎ কারণ টাকার মান যেভাবে কমেছে আর পণ্য সেবামূল্যের দাম যেভাবে বেড়েছে ২০ লক্ষ টাকার মূল্যমান সে জায়গাতে নেই এটা সবার বুঝতে হবে। এটা যদি সঠিক অংক ঠিক করতে হয় তাহলে বার্ষিক লেনদেন এর সাথে একটি শতাংশ কিংবা বেতনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হারও ঠিক করা যেতে পারে। যেমন এ ধরনের প্রদেয় মোট লেনদেন এর ১০% এর বেশী হবে না। কিংবা মোট বেতনের ৫% এর বেশী হবে না। বা ব্যক্তিকে এ ধরনের সুবিধা প্রদান করা হবে তা তার বেতনের বা তার সম পর্যায়ের বেতনের ২৫% এর বেশী হবে না। যদিও প্রস্তাবগুলো ধারণাভিত্তিক এই প্রস্তাবটি এমন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা উচিৎ যাদের এ ধরনের লেনদেন রয়েছে।

 

ব্যাংক ব্যতীত অন্য মাধ্যমে প্রদত্ত অর্থের সীমা

আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৫৫ এর ঢ অনুসারে কর্মচারীদের প্রদত্ত অর্থ, বাড়িভাড়া প্রদান ও কাঁচামাল ক্রয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত যেকোন প্রদান ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যতীত অন্যান্য মাধ্যমে প্রদত্ত হইলে অননুমোদিত ব্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে। ৫০ হাজার টাকার এই সীমাটি অন্তত ৫ লক্ষ টাকা হওয়া উচিৎ। কারণ এমন কোনো অযৌক্তিক শর্ত থাকা উচিত নয় যাতে কোম্পানীগুলো অনিয়ম ও তথ্য গোপন করতে প্ররোচিত হয়। এটা মনে রাখতে হবে বর্তমান বাজার এটা টাকার মান কত? এক্ষেত্রে অংকটি অন্যকোনো সম্পুরক অংকের সাথে হারভিত্তিক করা যেতে পারে। কারণ এটাও মনে রাখতে হবে যে, লিমিটেড কোম্পানী অর্থ অপসারণের জন্য কোনো সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ করে দেয়া যথার্থ হতে পারে না।

কানাকড়ির খতিয়ান তৈরীর প্রস্তাব আর মহিষ দৌড়ের বাজেট নিয়ে বচসা চলবে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য এক হলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারবো বৈকি?

এখন দেখার বিষয় হলো, রাজস্ব বোর্ড কি বিগত দিনের পথ অনুসরণ করে নাকি নতুন কোনো দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে ২০২৬ সালে দেশের এলডিসি গ্রাজুয়েশন হবে। এর মধ্যে আমাদের অন্যান্য আইন বিধি এমনকি করনীতি আন্তজাতিক মানসম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে আমরা যেমন অনেক দেশের সাথে বাণিজ্য করতে পারবো না। তেমনি অনেক দেশ আমাদের নামে নানারকম আর্জি অভিযোগ জানাবে। তাই আমাদেরকে একটু অগ্রসর চিন্তা করতে হবে কারদাতা ও করগ্রহীতা উভয় দিক থেকেই।  করের রেয়াতের আশার ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।

তবে কোনো দাবী না মানার জন্য রাজস্ব বোর্ড এর ব্যাপারে ব্যবসায়ী সাধারনের যে কথিত ধারণা রয়েছে যে, তারা মুল দাবীটি না মানার জন্য নতুন কিছু শর্ত ও বিধি প্রয়োগ করে পরে ব্যবসায়ীরা সেটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তখন সেটি মেনে নিয়ে তাদেরকে স্বান্তনা দেয়া হয় যে, আপনাদের কথা আমরা শুনেছি। এটা যদি সত্যিকার কৌশল হয়ে থাকে। তাহলে এটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে না। আমাদেরকে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারষ্পরিক বোঝাপড়া, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার সমান্তরাল চর্চার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। যদি দেশটাকে ভাল রাখতে চাই, ভাল রাখতে চাই দেশের মানুষকে।

লেখক: নির্বাহী পরিচালক, ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

প্রথম পর্ব : (ভ্যাট ইস্যু) এবারের বাজেট ও ই–কমার্স খাতের প্রত্যাশার বেলুন: দৈনিক আজকের পত্রিকা

https://www.ajkerpatrika.com/op-ed/column/ajp1gefw5nlix

তৃতীয় ও শেষ পর্ব ( কাস্টমস ও ক্রসবর্ডার ই-কমার্স: অপেক্ষমান)