বাংলাদেশে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে ‘গুরু’ বানিয়ে দিচ্ছে

বাংলাদেশে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে ‘গুরু’ বানিয়ে দিচ্ছে

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বাংলাদেশে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক, instagram, টিকটক বই ইউটিউব এর মাধ্যমে  মানুষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে খুব দ্রুত। কেউ রান্নার ভিডিও, কেউ ফ্যাশনের ভিডিও, আবার কেউ ধর্মীয়, স্বাস্থ্য অথবা শিক্ষামূলক বিষয়ে কথা বলে থাকেন। মানুষ ধীরে ধীরে তাদের মাধ্যমে যেমন প্রভাবিত হয় তেমনি অনেক অনুসারীরা তাদের ‘গুরু’ মেনে থাকেন।  সোশ্যাল মিডিয়ার কিভাবে বাংলাদেশের মানুষকে ‘গুরু’ বানিয়ে দিচ্ছে। চলুন জেনে নিই-

যেভাবে গুরু হয়ে ওঠেন 

বিশেষ জ্ঞান বা কনটেন্ট এর মাধ্যমে 

কেউ যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপর যেমন- স্বাস্থ্য, ফ্যাশন, পড়াশোনা, রূপচর্চা বা প্রযুক্তি ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানসমৃদ্ধ ভিডিও বানায় সেক্ষেত্রে মানুষ তাদের গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কেননা নিয়মিত বিনোদনমূলক বা তথ্যমূলক ভিডিও ও সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞতা আকর্ষণ তৈরি করে এবং অনুসারীদের আস্থা অর্জন করতে সহায়তা করে।

পণ্য  ও ব্র্যান্ডের প্রচার 

জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারদের দিয়ে কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপন করে থাকে যার মাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সাররা ইনকাম করেন। কিন্তু মানুষ ভাবে তারা এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। গবেষণায় জানা গেছে, অনুসরণকারীদের মধ্যে ৫০% আগে ইনফ্লুয়েন্সার এর দেখিয়ে দেওয়া পণ্য কিনেছেন এছাড়াও ৪৩% মহিলা মনে করেন কোন পণ্য কেনার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় এটি। 

সামাজিক সচেতনতা ও আন্দোলন 

সোশ্যাল মিডিয়া অনেক সময় সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অনেক কনটেন্ট পিরিয়ডের রয়েছেন যারা সচেতনতামূলক বিষয়বস্তু নিয়ে ভিডিওতে আলোচনা করেন। 

অনুসারীদের সংখ্যার জন্য 

ফলোয়ার ও ভক্ত বেশি হওয়ার কারণেও মানুষ বিশ্বাস করে। অনেকেই ভাবেন মানুষ এর কথা শুনছে নিশ্চয় তিনি সব জানেন।  

গুরু হওয়ার ইতিবাচক প্রভাব:

  • নতুন কোন ধারণা সকলের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। 
  • সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা শেয়ার করতে পারে অন্যদের সাথে এতে অন্যরাও উপকৃত হতে পারে।
  • কনটেন্ট ক্রিয়েটররা পণ্যের প্রচার, বিজ্ঞাপন বা ব্র্যান্ডস্পন্সর এর মাধ্যমে অনেক টাকা আয় করতে পারে। এতে করে নিজেরা প্রভাবশালীরা গুরু হয়ে উঠতে সক্ষম হোন। 
  • বিশেষ করে ব্যবসার জন্য একটি পণ্য বা সেবা প্রচারের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। 

নেতিবাচক প্রভাব:

  • সবাই যে বিশেষজ্ঞ হন এমন নয় বরং অনেকেই ভাইরাল হওয়ার জন্য ভুয়া তথ্য প্রচার করে। 
  • অনেকে আবার জনপ্রিয় হওয়ার জন্য বিভ্রান্তিকর কথা বলেন। 
  • সোশ্যাল মিডিয়াতে অন্যের চাকচিক্যময় জীবন দেখে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ে।
  • গবেষণা থেকে জানা যায় , বাংলাদেশের অনেক মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার জন্য একাকীত্ব, বিষন্নতায় ভুগছেন। বাংলাদেশের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৫% মানুষ গুরুতর একাকীত্ব এবং ৫৫% মানুষ ভুগছেন বিষন্নতায় যার সাথে যুক্ত ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদর্শনের প্রবণতা।  

তাই উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি সোশ্যাল মিডিয়া এখন শুধু বিনোদনের জায়গা নেই বরং এটি রাতে রাতে মানুষকে গুরু বানিয়ে দিচ্ছে। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা সোশ্যাল মিডিয়ায়  কিছু লোক যেমন সত্যিই উপকার হচ্ছে তেমনি কিছু লোক ভুল পথে মানুষকে ধাবিত করবে। তাই আপনাকেই ঠিক করতে হবে আপনি কাকে গুরু

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply