বাংলাদেশের কিছু ভিন্ন প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ যেসব অলিখিত বাস্তবতায় চলে।
– জাহাঙ্গীর আলম শোভন
প্রতিটি দেশ ও সমাজে কিছু ব্যতিক্রমী বিষয় থাকে। তা অন্য সমাজের সাথে খাপে খাপে মিলে না। বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক এমন কিছু প্রেক্ষাপট রয়েছে। যা অন্য সমাজ ও সময়ের সাথে যায় না। তাই এই বিষয়গুলো আমাদের উপলব্দিতে না আনলে আমরা সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান বের করতে পারবনা। অথবা কোনো সমাধান বের করলেও তা আমাদের ক্ষেত্রে ঠিকঠাক করা করে না। তাহলে সবার আগে আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট গুলো কেন আলাদা সে বিষয়ে একটু আলোকপাত করা যাক।
* আইনে শুভংকরের ফাঁকি
অদ্ভুৎ সব আইন ও নীতির উপর এই দেশ চলে। এবং বাংলাদেশের এত আইন পৃথিবীর খুব কম দেশে আছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। যা জানলে আপনি চমকে উঠবেন।
বাংলাদেশের আইন ও বিধি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। যাতে বিচারক চাইলে কাউকে বাঁচাতে পারেন অথবা চাইলে কাউকে ফাঁসাতে পারেন। এর মূল কারণ হলো বেশীর ভাগ হয়তো বৃটিশ আমলের। অথবা ব্রিটিশ আইন থেকে কিছুটা সংশোধন করা। কিন্তু মূল সূর রয়েছে। কারণ ইংরেজরা আইনগুলো এমনভাবে তৈরী করেছে। যাতে তারা চাইলে কোনো সাদা ইংরেজেকে যে অপরাধে খালাস দিতে পারে আবার একই অপরাধে কোনো কালা ভারতীয়কে শাস্তি দিতে পারে।
এখনো যেসব আইন তৈরী করা হয়। শুরুতে বলে দেয়া হয়‘‘ এটা যেন অন্য আইনের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়’’। এখনকার আইনগুলোতে শুভংকরের ফাঁকি থাকে কমপক্ষে ২টা। প্রথমটা হলো যাতে সরকার দল তাদের দলীয় লোককে চাইলে বাঁচাতে পারে আর চাইলে অন্যদের ফাঁসাতে পারে সে ‘‘ফাঁক’’ রাখা হয়। আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও আমলাদের কোনো রকমের দায় জবাবদিহিতা রাখা হয়না।
তাই টাকা বা বুদ্ধি বা ক্ষমতার আশীবাদ এগুলো পেলে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো কোনো ব্যাপার না।
* ১ টাকা বৈধভাবে আয় করা কঠিন আর ১ কোটি টাকা পাচার করা সহজ
একটি ট্রেড লাইসেন্স করতে গেলে নানা শর্ত, একটি চাকরী পেতে নানা নিয়ম, একটা কাজ করতে নানা পরিচয় লাগে। কেউ যদি হালাল ভাবে কাজ করে খেতে চায় নানারকম নিয়ম আর বাঁধা। কিন্তু অবৈধভাবে আয়ের জন্য নেই শাস্তি অন্যদিকে হাজারো লোক বসে আছে সে কাজে সহযোগিতা করার জন্য এমন একটা সমাজ ব্যবস্থায় দূর্নীতি দমন কঠিন বটে।
বাংলাদেশে একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য একটি সৎ ও বৈধ উপায়ে আয় করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পক্ষান্তরে, কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করেও কেউ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয় না। এই বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি প্রশাসনিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন।
* সমস্যাগুলো রাজনৈতিক নয়, সামাজিক
আমরা প্রথাগতভাবে সব সমস্যাকে রাজনৈতিক রঙে দেখি, কিন্তু বাস্তবে এর শিকড় অনেক গভীরে—সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণগত ব্যর্থতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়েই অধিকাংশ সংকটের জন্ম হয়।
এছাড়া আমরা যখন ডাক্তারের কথা বলি তখন বলি তাদের সমস্যা, যখন পুলিশের কথা বলি তখন বলি তাদের সমস্যা। আসলে সমস্যাটি সামাজিক সমাজ নষ্ট হওয়ার কারণে তার প্রভাব সর্বত্র গিয়ে পড়ছে। তাই ভুল বাটনে প্রেস করে সমস্যার সমাধান হবে না।
* আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তার অভাব
দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানহীনতা ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা বাংলাদেশে নাগরিকদের অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে চলেছে। কেউ জানে না, পরদিন হঠাৎ একটি অসুস্থতা তাকে পথে বসিয়ে দেবে কি না।
একজন মানুষ যখন বুঝতে পারে রাষ্ট্র তার ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেবে না। রাষ্ট্র তার শিক্ষা-চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়না, রাষ্ট্র তার সন্তানের ভবিষ্যত কি সেটা নিয়ে ভাবিত নয়। একটা বয়সের পর তাকে তখন পরিবারের আর্থ সামাজিক নিরাপত্তার কথা ভাবতে হয়।
সাদাচোখে এটা তেমন সমস্যা মনে না হলেও এখান থেকেই আজ মধ্যবিত্ত শ্রেণী বিপথে পরিচালিত হচ্ছে।
* দীর্ঘদিন পরও দেশের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন না হওয়া
স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ন্যায়বিচার ও সুশাসনে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি আসেনি। জনমনে একধরনের ক্লান্তি ও হতাশা জমে উঠেছে। এক পর্যায়ে তারা আশা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের জীবনের কথা ভাবছে এবং বিদেশে পাড়ি জমাতে উদগ্রীব হয়ে আছে।
* স্বার্থান্বেষী মহলের নানারকম চক্রান্ত
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি, বিভাজন ও সংকট তৈরি করে রেখেছে। উন্নয়নের পথে চলার চেয়ে তারা সংকটকে ধরে রাখতে অধিক আগ্রহী।
দীর্ঘদিন ধরে দূর্নীতি ও টাকাপাচার চলে আসার কারণে দেশের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষদের একটা অংশের মধ্যে এখন কিভাবে লুটেপুটে টাকার মালিক হওয়া যায় সে ধরনের মানসিক বিকার তৈরী হয়েছে।
দুর্নীতির দুষ্টুচক্র
একটি অফিসে ঘুষ না দিয়ে কাজ হয় না—এই সত্য জনগণ মেনে নিয়েছে। যারা ঘুষ দেয়, তারাও জানে এটা অন্যায়; কিন্তু বিকল্প নেই। দুর্নীতির এই চক্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে গ্রাস করে ফেলেছে।
এখানকার সিস্টেমগুলো এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জনগন সেধে ঘুষ দিতে চায়।
নেতিবাচক রাজনীতির জনবিরোধী ও নেতিবাচক রূপ
বড় দলের নেতৃত্বাধীন বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে গণতন্ত্রের চেয়ে দলীয় স্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলীয়করণ, দমননীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। তাদের হিংসার চাষ এতটাই ফলন দিয়েছে তারা মানুষের উপর যেসব নির্যাতন ও লুটপাট করেছে তাদের উপর সেটা করা এখন ন্যায্য মনে করছে একদল মানুষ।
বৈধ কাজগুলোকে এমনভাবে আইন দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় যাতে কাজটি অবৈধভাবে করতে হয়
অনেক সময়ই সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বা নাগরিক সেবা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনিক জটিলতা, অপ্রাসঙ্গিক নিয়ম-কানুন এমনভাবে সাজানো যে, নাগরিককে বাধ্য হয়ে ‘উপায়’ খুঁজতে হয়। বাধ্য হয়ে মানুষ নিজেরাই ঘুষ অফার করে ।
আমলারা সরকার ব্যবস্থাপনা শ্লথ করে তাদের হাতে ক্ষমতা রেখে ফায়দা লুটতে চায়
বিভিন্ন প্রকল্প, ফাইল ও অনুমোদন দীর্ঘসূত্রিতার ফাঁদে পড়ে থাকে, যেন আমলারা ‘ফয়সালাকারী’ হয়ে উঠতে পারেন। এতে করে রাজনৈতিক নেতৃত্বও প্রায়শ তাদের হাতে বন্দী হয়ে পড়ে।
তারা নিজেদের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চায় এবং বিভিন্ন সেক্টরে দেখা যায় সরকারী ডিজিটাল সেবায়ও নানারকম সার্ভার ইস্যু তৈরী করে সেবায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হয়। যাতে করে মানুষ বাড়তি টাকা দিয়ে সেবা নেয়। সারাবছর পাসপোর্ট অফিসে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে রাখা হয়। তারপর বলা হয় জরুরী পাসপোর্ট নিতে হলে বাড়তি টাকা দিতে হবে। এভাবে বাড়তি টাকা দেয়ার সিস্টেম সবক্ষেত্রে দেখা যায়।
এসব পদ্ধতি পরিবর্তন ও সমাজের রুপরেখা বদলানো সমস্যা সমাধানের জন্য আমি ভিন্ন ভিন্নভাবে নিয়মিত প্রাস্তাবনা উপস্থাপন করে চলেছি। আমার অন্যান্য প্রস্তাবনায় এসব সমস্যার সমাধান রয়েছে।
এখানে বাথরুমে যাওয়ার দোয়া শেখানো হয়, কিন্তু আইল ঠেলা অপরাধ বলা হয় না
নৈতিক শিক্ষায় একধরনের একমুখীতা দেখা যায়। ধর্মীয় ও আচরণগত শিক্ষার মাঝে যে বাস্তব জীবনদর্শন প্রয়োজন, তা অনুপস্থিত। ফলে নৈতিকতার চর্চা হয় কাগজে-কলমে, আচরণে নয়।
গোটা সমাজ যেন এক বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখানে সমাজের মুল সমস্যাগুলোকে পাশ কাটিয়ে মানুষকে অন্য কিছুতে ব্যস্ত রেখে দেশকে পিছিয়ে রাখার জন্য কাজ করছে নানা গোষ্টি। এভাবে মানুষের মূল সমস্যা ও সেগুলোর সমাধান বাদ দিয়ে আগডুম বাগড়ুম ইস্যু নিয়ে পড়ে আছে গোটা জাতি। এভাবে চলতে থাকলে কখনোই এ জাতির মুক্তি মিলবেনা।
সুশীল সমাজ ভাল ভাল কথা বলে কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে নিজেরা কিছু করে দেখাতে পারে না
অনেক বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সংগঠন ও এনজিও প্রচারমাধ্যমে উচ্চকণ্ঠ হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদাহরণ রাখে না। তারা কেবল মতামতের ভুবনে বাস করে, বাস্তব জগতে নয়।
দেখে মনে হয় শুধু কথা বলা পেশা তৈরী হয়েছে। টিভি ও পত্রিকায় একশ্রেণীর মানুষ অন্যদের জ্ঞান দেয় সমালোচনা করে উপদেশ দেয়। কিন্তু নিজেরা কিছু করে দেখাতে পারে না। ফলে মানুষের কাছে এসব উপদেশের কোনো দাম নেই। তরুনরা এগুলো শুনেও না গুরুত্বও দেয়না।
মধ্যবিত্ত সমাজের নৈতিক ভিত্তি ভেঙ্গে পড়েছে কিতাব সর্বস্ব শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে
শিক্ষা এখন শুধুই সার্টিফিকেট আর চাকরি পাওয়ার উপায়। মূল্যবোধ, মানবতা ও সমাজচিন্তা আজ পাঠ্যক্রমে অনুপস্থিত। এই শূন্যতা মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আত্মকেন্দ্রিক করে তুলেছে।
একসময় যাহোক মানুষ চাকরীর জন্য লেখাপড়া করতো এখন তাও করে না। এখন শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য করে। সামনের দিকে শুধু টাইম পাস করার জন্য লেখাপড়া করবে। কারণ তাদের লেখাপড়া তাদের কর্মজীবনে কোনো কাজে আসেনা।
তরুণ সমাজের কাছে অনুকরণীয় কোনো রোল মডেল নেই
বর্তমান প্রজন্মের জন্য সফলতা মানেই প্রভাব, অর্থ আর ক্ষমতা। সত্যিকারের সংগ্রামী, নীতিনিষ্ঠ মানুষরা হারিয়ে গেছে গণমাধ্যম ও পাঠ্যপুস্তকের আড়ালে।
বিগত ৪০ বছর ধরে ১ জন ড.ইউনুছ ছাড়া তরুনদের কাছে কোনো রোল মডেল আমরা উপস্থাপন করতে পারিনি। যাকে তারা অনুসরণ করবে। উনাকে বিতর্কিত করার জন্য আবার এক সাইকোর নেতৃত্বে বিশাল একটা দল ২০ বছর ধরে তার পেছনে লেগে আছে। এভাবে আমরা একটা মেধাহীন জাতিতে পরিণত হচ্ছে। যা হয়তো টের পেতেও আমাদের বহুদিন সময় লেগে যাবে
একটি দেশের কর্মস্থল হিসেবে তৈরী করার জন্য এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গড়ে তোলেনি অতীতের সরকারগুলো
দক্ষ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ গড়ে তোলার কথা বলা হলেও কার্যত প্রযুক্তিনির্ভর, সমসাময়িক ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারা শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি হয়নি। ফলে কর্মক্ষেত্রের আধিপত্য হারাচ্ছে এদেশের মানুষ।
শিক্ষা যেন ধ্বংস করা হয়েছে তেমনি ধ্বংস করা হয়েছে কারিগরি শিক্ষা। অন্যদের প্রেসক্রিপশনে দেশের কারিগরি শিক্ষাকে এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। যা সাধারণ শিক্ষার চেয়েও খারাপ মানে গিয়ে পৌঁছেছে। এমনকি বিশ্বব্যাংকের প্রজেক্টগুলোও মান ঠিক করতে পারেনি। সেখানে আবার তদারকীতে থাকে প্রতিবেশী দেশের লোকজন। এভাবে ভারতের পণ্যের বাজারের পর এখন কাজের বাজারের জন্য এদেশকে তৈরী করা হয়েছে। আর এদেশের তরুনরা বিদেশে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করছে।
এদেশের মানুষকে অদক্ষ রেখে প্রতিবেশী দেশের মাদকের বাজারে পরিণত করতে চায়
কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের একটি বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে অদক্ষ, বেকার ও আসক্ত করে রাখার চেষ্টা চলছে। এতে করে মাদক ও নিম্নমানের পণ্য সহজেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে।
একসময় আইটি শিক্ষার নামে কম্পিউটার অপারেটিং শিখিয়ে বিশাল তরুন সমাজকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ফ্রি-ল্যান্সিং এর নামে ডেটা এন্ট্রি আর ই-কমার্সএর নামে ফেসবুক শিখিয়ে দেশের তরুনদের ভবিষ্যত নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। আর সীমান্ত দিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে মাদক।
এগুলোর প্রতিটি বিষয়ের গভীরে গেলে বোঝা যায়, বাংলাদেশে একটি সচেতন, দায়িত্ববান ও নৈতিকভাবে দৃঢ় সমাজের অভাব রয়েছে। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, প্রয়োজন নৈতিক ও সামাজিক পুনর্জাগরণ। সমস্যা শুধু দায়িত্ববানদের নয়। সমস্যা দেশের সর্বত্র। এখন এর মেরামত কোথা থেকে শুরু হবে। এখনই সুযোগ যদি শক্ত হাতে তা করা না যায় তাহলে আমাদের ঘুরে দাড়ানো আরো কঠিনতর হবে।
