ফ্ল্যাট বিক্রয় চুক্তিপত্র
ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনা জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্ত এবং বিনিয়োগ। বিশেষত যখন এটি একটি under-construction প্রকল্প থেকে কিস্তিতে কেনা হয়, তখন একটি স্পষ্ট, বিস্তারিত এবং আইনগতভাবে শক্তিশালী চুক্তিপত্র থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ডকুমেন্টটি উভয় পক্ষের অধিকার, দায়িত্ব ও শর্তাবলী নির্ধারণ করে, ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য দ্ব্যর্থতা বা বিরোধ এড়ায়। নিচের এই চুক্তি একটি নমুনা, আপনি এটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, তবে যে কোনও বড় ধরনের রিয়েল এস্টেট লেনদেনের আগে একজন যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চুক্তিপত্র
মোট মূল্য: ৩৫,০০,০০০/- (পঁয়ত্রিশ লাখ) টাকা মাত্র।
বুকিং মানি: ১০,০০,০০০/- (দশ লাখ) টাকা মাত্র।
ডাউন পেমেন্ট: ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লাখ) টাকা মাত্র (বুকিং মানি বাদে)।
প্রকল্পের নাম: গোল্ডেন টাওয়ার্স (বিজয় নগর, ঢাকা)।
ফ্ল্যাটের পরিমাণ ও অবস্থান: ৯৮০ বর্গফুট, ৪র্থ তলা, দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ।
মোট কিস্তি: ২৪ (চব্বিশ) টি।
সর্বনিম্ন কিস্তি: ৮৩,৩৩৪/- (তিরাশি হাজার তিনশত চৌত্রিশ) টাকা মাত্র।
অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া: রেজিস্ট্রির সময় সম্পূর্ণ অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে হবে।
রেজিস্ট্রির সম্ভাব্য সময়: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সালের মধ্যে।
হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময়: রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে।
দলিল গ্রহীতার (ক্রেতা) নাম ও ঠিকানা:
নাম: শিরিন আক্তার
পিতা/ স্বামীর নাম: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
মাতার নাম: আয়েশা বেগম
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: নয়াপাড়া, ডাকঘর: কদমতলী, থানা: দেবিদ্বার, জেলা: কুমিল্লা।
বর্তমান ঠিকানা: একই।
জন্ম তারিখ: ০৫/০৮/১৯৮৫
পেশা: গৃহিনী / শিক্ষিকা।
আয়ের উৎস: ব্যক্তিগত tuition ও স্বামীর আয়।
মনোনীত ব্যক্তির পরিচিতি: আরিয়ান ইসলাম
সম্পর্ক: পুত্র
ফোন: ০১৭১২-৩৪৫৬৭৮
জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর: ১৯৯৪৬৫১৩০০৫৬
দলিল দাতার (বিক্রেতা) নাম ও ঠিকানা:
১। নাম: মোঃ রফিকুল ইসলাম
পিতা/ স্বামীর নাম: মোঃ জালাল উদ্দিন
মাতার নাম: জেবুন্নেছা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: চর পর্বতিপুর, ডাকঘর: সুজাতপুর, জেলা: শরীয়তপুর।
বর্তমান ঠিকানা: ১২/ক, রোড নং ১১, ব্লক-সি, বিজয় নগর, ঢাকা-১২১২।
জন্ম তারিখ: ১০/১২/১৯৭৫
পেশা: ব্যবসা (রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার)
আয়ের উৎস: ব্যবসা
জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর: ১৯৭২১০১২৩৪৫৬৭৮
প্রকল্পের মালিক পক্ষ:
২। নাম: গোল্ডেন ভিশন রিয়েল্টি লিমিটেড
ঠিকানা: ১২/ক, রোড নং ১১, ব্লক-সি, বিজয় নগর, ঢাকা-১২১২।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মোঃ রফিকুল ইসলাম (উপরোক্ত)
পরম করুণাময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির উপর নির্মিতব্য ফ্ল্যাটের বিক্রয় চুক্তির দলিল লিখতে শুরু করলাম। যেহেতু নিম্ন তফসিল বর্ণিত ফ্ল্যাট ঢাকা জেলার বিজয় নগর থানাধীন বাড়ি নং ১২/ক-তে অবস্থিত। নিযুক্ত আম-মোক্তার গোল্ডেন ভিশন রিয়েল্টি লিমিটেড এর পক্ষে তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম চুক্তিপত্র দলিল নং- ২০২৩-৪৫৬৭ নং আম-মোক্তারনামা দলিল বলে ফ্ল্যাট বিক্রি করার ক্ষমতা প্রাপ্ত। যেহেতু নিম্ন লিখিত শর্তে দলিল গ্রহীতা শিরিন আক্তার এর সাথে ফ্ল্যাট বিক্রয় চুক্তিতে আবদ্ধ হলেন। ইতি- তাং- ২৮/০৮/২০২৫
মূল্য পরিশোধের নিয়মাবলী:
দলিল গ্রহীতা নিম্নলিখিত শর্তাবলী পালন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করার পর হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সাব-কাবলা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে।
১. বুকিং মানি, ডাউন পেমেন্ট, মেয়াদী কিস্তি এবং অন্যান্য চার্জ গোল্ডেন ভিশন রিয়েল্টি লিমিটেড এর指定 ব্যাংক একাউন্টে (একাউন্ট নং: 123.456.789, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, বিজয় নগর শাখা) পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফ্ট বা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। যার বিপরীতে স্ব স্ব টাকার রশিদ কোম্পানি কর্তৃক ইস্যু করা হবে।
২. বিলম্বে কিস্তি প্রদান এর ক্ষেত্রে গ্রহীতাকে ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া মূল্যের উপর বার্ষিক ১২% হারে বিলম্ব ফি দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্মাণ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে কোম্পানি দায়ী থাকবে না। ৯০ দিনের বেশি বিলম্বিত হলে কোম্পানি ফ্ল্যাট বিক্রয় চুক্তিটি বাতিল করতে পারবে এবং পরিশোধিত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না বলে উভয় পক্ষ সম্মত।
৩. গ্যাস, পানি, পয়ঃনিস্কাশন ও বিদ্যুৎ এর সংযোগ ফি/ চার্জ, জামানাত এবং এর সাথে সম্পর্কিত আনুসাঙ্গিক খরচ অ্যাপার্টমেন্ট মূল্যের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এ সকল টাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহীতার পক্ষে সরাসরি কোম্পানি কর্তৃক প্রদান করা হবে। উক্ত খরচ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ গ্রহীতার নিকট চাওয়া মাত্র কোম্পানিকে অগ্রিম প্রদান করতে হবে।
৪. রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সকল সরকারি ফি, স্টাম্প ও আইনগত ব্যয় ক্রেতাকে বহন করতে হবে।
৫. কোম্পানির অনিবার্য কারণ বশতঃ অথবা প্রকল্পের বৃহত্তর স্বার্থে (যেমন: RAJUK/সিটি কর্পোরেশন এর নীতিমালা变更) নকশা অথবা পরিকল্পনা, অ্যাপার্টমেন্টের আকার-আকৃতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পরিবর্তন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ক্রেতার প্রদেয় অর্থ বা মূল্যের সাথে অবশ্যই সমন্বয় করা হবে এবং ক্রেতাকে লিখিতভাবে通知 করা হবে।
৬. অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন পরিমাপ করতে নীট আয়তনের সাথে কমন এরিয়া যেমন: অভ্যর্থনা, লবি, সিঁড়ি, লিফট শ্যাফ্ট ও ভয়েড স্পেস বাবদ অত্র বিল্ডিং এর অন্যান্য অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন অনুযায়ী আনুপাতিক হারে সমন্বয়কৃত স্পেস যোগ করতে হবে।
৭. জমির মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক ডেভেলপার কোম্পানি সাব-স্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করবেন। সাব-স্টেশন স্থাপনের খরচ ইউটিলিটি চার্জের আওতাভুক্ত নয় এবং তা ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হবে।
৮. কিস্তির সম্পূর্ণ টাকা, অন্যান্য খরচ এবং বকেয়া পাওনা সম্পূর্ণ রূপে প্রদান করার পর বরাদ্দ গ্রহীতাকে অ্যাপার্টমেন্টের দখল যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। তৎপূর্ব পর্যন্ত দখল ডেভেলপার “গোল্ডেন ভিশন রিয়েল্টি লিমিটেড” এর অধীনে থাকবে। তবে ডেভেলপারের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে গ্রহীতা ফ্ল্যাটের আভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার (ইন্টেরিওর) কাজ করতে পারবেন।
৯. প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর এবং দখল হস্তান্তরের আগে, ক্রেতা একটি “ফাইনাল ইনস্পেকশন” এর সুযোগ পাবেন যাতে যে কোনও ত্রুটি বা কাঠামোগত সমস্যাচিহ্নিত করা যায়, যা বিক্রেতা দখল হস্তান্তরের আগে ঠিক করতে বাধ্য থাকবেন।
এতদ্ব্যতীত, স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ্য শরীরে, সরল মনে অন্যের বিনা প্ররোচনায় অত্র চুক্তিপত্র পাঠ করে ও পাঠ করিয়ে এর মর্ম অবগত হয়ে এবং শর্তসমূহ মেনে অত্র চুক্তিপত্র সম্পাদন করলাম। ইতি, তারিখ- ২৮/০8/২০২৫ ইং
অত্র চুক্তিনামা ৩ (তিন) পাতায় কম্পিউটার কম্পোজ এবং (৩) জন স্বাক্ষী বটে।
| স্বাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর | প্রথম পক্ষ/ বিক্রেতার স্বাক্ষর |
|---|---|
| ১) নাম: মোঃ করিম উদ্দিন ঠিকানা: মিরপুর, ঢাকা স্বাক্ষর: _______________ |
|
| ২) নাম: মোঃ সেলিম মিয়া ঠিকানা: আদাবর, ঢাকা স্বাক্ষর: _______________ |
গোল্ডেন ভিশন রিয়েল্টি লিমিটেড এর পক্ষে, মোঃ রফিকুল ইসলাম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) স্বাক্ষর: _______________ |
| ৩) নাম: আনিসুর রহমান ঠিকানা: মহাখালী, ঢাকা স্বাক্ষর: _______________ |
|
| দ্বিতীয় পক্ষ/ ক্রেতার স্বাক্ষর শিরিন আক্তার স্বাক্ষর: _______________ |
পরামর্শ:
আইনগত পরামর্শ: এই চুক্তি স্বাক্ষর করার আগে অবশ্যই একজন রিয়েল এস্টেট আইন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরামর্শ নিন। তিনি চুক্তির শর্তগুলো আপনার জন্য পরীক্ষা করে নেবেন এবং আপনার অধিকার সুরক্ষিত কিনা তা নিশ্চিত করবেন। কোম্পানি যাচাই: ডেভেলপার কোম্পানির বিশ্বাসযোগ্যতা, অন্যান্য সম্পন্ন প্রকল্প এবং RAJUK/সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রয়োজনীয় সকল অনুমোদন (যেমন: সাইট অ্যাপ্রুভাল, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন) আছে কিনা তা সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করুন। জমির মালিকানা: যাচাই করুন যে প্রকল্পটি যে জমিতে নির্মিত হচ্ছে তার মালিকানা স্পষ্ট এবং কোনো আইনি বিরোধ মুক্ত। দস্তাবেজ: চুক্তির পাশাপাশি সকল প্রাসঙ্গিক রসিদ, পেমেন্টের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, কোম্পানি প্রদত্ত সকল ব্রোশিওর এবং অনুমোদনের কপি নিরাপদে রাখুন। নিয়মিত যোগাযোগ: প্রকল্পের নির্মাণ অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং ডেভেলপারের সাথে যোগাযোগ রাখুন।

