ফ্ল্যাট বন্ধকী দলিল
বন্ধকী দলিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনগত দলিল যা সম্পত্তির লেনদেনের সময় উভয় পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে। এটি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো বিরোধ এড়াতে সহায়তা করে। নিচের দলিলটি শুধুমাত্র একটি নমুনা (Sample) এবং শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হচ্ছে। বাস্তবে কোনো বন্ধকী লেনদেন একজন যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানের অধীনে করা উচিত।
(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)
ফ্ল্যাট বন্ধকী দলিল
প্রথম পক্ষ/ বন্ধক দাতা:
নাম: সুমাইয়া আক্তার, পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকানা: ৭/৩/সি/৪, রাজারবাগ, ঢাকা। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- গৃহিণী।
দ্বিতীয় পক্ষ/ বন্ধক গ্রহীতা:
নাম: মোঃ রবিউল হাসান, পিতা: মোঃ নাসির উদ্দিন, ঠিকানা: ১৫/বি, মগবাজার, ঢাকা। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।
পরম করুণাময় মহান আল্লাহতায়ালার নাম স্মরণ করে আমি প্রথম পক্ষ সুমাইয়া আক্তার আমার বিশেষ প্রয়োজনে আমার মালিকানাধীন ৭/৩/সি/৪, নং রাজারবাগ হোল্ডিং-স্থিত ছয় তলা বিল্ডিং-এর নিচ তলার দক্ষিণ পার্শ্বের ২ (দুই) রুমের ফ্ল্যাটটি (বাথরুম ও রান্নাঘরসহ) বন্ধক রাখতে চাইলে আপনি দ্বিতীয় পক্ষ মোঃ রবিউল হাসান সেটি ৪,০০,০০০.০০ (চার লক্ষ) টাকায় বন্ধক নিতে রাজি হন। ১৮/১১/২০২৩ ইং তারিখে ৩,৫০,০০০.০০ (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা, আমি প্রথম পক্ষ আপনি দ্বিতীয় পক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করলাম। দ্বিতীয় পক্ষ বাকি ৫০,০০,০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা এপ্রিল ২০২৪ মাসের মধ্যে প্রদান করবেন। জানুয়ারী ১, ২০২৪ ইং সালে প্রথম পক্ষ ফ্ল্যাটটির দখল দ্বিতীয় পক্ষকে হস্তান্তর করবেন, যেখানে দ্বিতীয় পক্ষ ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৭ ইং সাল পর্যন্ত বসবাস বা ভাড়া দিয়ে ভোগ দখল করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই ৪ (চার) বছরের আগে প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে টাকা ফেরত দিয়ে বন্ধককৃত ফ্ল্যাটের দখল ফেরত নিতে পারবেন না। ৪ বছর পূর্ণ হওয়ার পর প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে বন্ধক হিসেবে গ্রহণ করা ৪,০০,০০০.০০ (চার লক্ষ) টাকা ফেরত দিয়ে বন্ধককৃত ফ্ল্যাটের দখল ফেরত নিতে পারবেন।
শর্তাবলী:
১। বন্ধক গ্রহণের তারিখ থেকে ৪ বছর পর প্রথম পক্ষ বন্ধক হিসেবে নেওয়া全部 টাকা দ্বিতীয় পক্ষকে এককালীন নগদ ফেরত প্রদান করবেন এবং টাকা পাওয়ার পর দ্বিতীয় পক্ষ তার দখলকৃত ফ্ল্যাটটির দখল প্রথম পক্ষকে বুঝিয়ে দেবেন।
২। প্রথম পক্ষ উক্ত ফ্ল্যাটে বিদ্যুতের আলাদা মিটার (প্রয়োজনে সাব-মিটার)-এর মাধ্যমে সংযোগের ব্যবস্থা করবেন। ব্যবহৃত বিদ্যুতের খরচ মিটার অনুযায়ী দ্বিতীয় পক্ষ বহন করবেন।
৩। প্রথম পক্ষ উক্ত ফ্ল্যাটে গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করবেন। যত দিন পর্যন্ত গ্যাসের লাইনের সংযোগ না পাওয়া যায়, ততদিন দ্বিতীয় পক্ষ সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করবেন, যার খরচ দ্বিতীয় পক্ষ বহন করবেন।
৪। প্রথম পক্ষ উক্ত ফ্ল্যাটে পানির সংযোগের ব্যবস্থা করবেন। দ্বিতীয় পক্ষ উল্লেখিত ৪ বছর পানি ব্যবহার করবেন, যার বিল (খরচ) প্রথম পক্ষ বহন করবেন।
৫। বন্ধককালীন সময়ে ফ্ল্যাটটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দ্বিতীয় পক্ষ (বন্ধক গ্রহীতা)-এর হবে। তবে任何 প্রকার的 গাঠনিক (Structural)損害 বা বড় ধরনের মেরামতের দায়িত্ব প্রথম পক্ষ (বন্ধক দাতা)-এর থাকবে।
উক্ত ফ্ল্যাট বন্ধকের বিষয়ে আমি প্রথম পক্ষ বা আমার কোনো ওয়ারিশগণ এই বন্ধক চুক্তিনামা নিয়ে কোনো প্রকার আপত্তি বা দাবি-দাওয়া করতে পারবে না। করলেও তা所有 আদালতে অগ্রাহ্য ও বাতিল বলে গণ্য হবে।
এতদ্ব্যতীত, স্বেচ্ছায়, সুস্থ শরীরে ও সরল মনে অন্যের কোনো প্ররোচনা ছাড়াই এই ফ্ল্যাটের বন্ধকীনামা দলিল পড়ে উপস্থিত স্বাক্ষীগণের面前 নিজ নিজ নাম সই করে সম্পাদন করলাম। ইতি, তারিখ- ১৪/১১/২০২৩ ইং।
বন্ধকীনামা দলিলের তফসিল পরিচয়:
জেলা- ঢাকা, থানা- সবুজবাগ ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস খিলগাঁও অধীন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং নং ৭/৩/সি/৪, রাজারবাগ-স্থিত নিচ তলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটটি এই দলিল দ্বারা বন্ধকী দেওয়া হলো।
এই বন্ধকী দলিল ৩ (তিন) পাতায় কম্পিউটারে টাইপ করা হলো।
স্বাক্ষীগণের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর:
১) (স্বাক্ষর) _________________
নাম: মোঃ সেলিম মিয়া
ঠিকানা: ৩০, রাজারবাগ, ঢাকা
পেশা: ব্যবসা
২) (স্বাক্ষর) _________________
নাম: মোঃ আলীমুজ্জামান
ঠিকানা: ১২, মগবাজার, ঢাকা
পেশা: চাকরি
প্রথম পক্ষ/ বন্ধক দাতার স্বাক্ষর, তারিখ ও ফোন নম্বর:
(স্বাক্ষর) _________________
সুমাইয়া আক্তার
তারিখ: ১৪/১১/২০২৩ ইং
মোবাইল: ০১৭১০-XXXXXX
দ্বিতীয় পক্ষ/ বন্ধক গ্রহীতার স্বাক্ষর, তারিখ ও ফোন নম্বর:
(স্বাক্ষর) _________________
মোঃ রবিউল হাসান
তারিখ: ১৪/১১/২০২৩ ইং
মোবাইল: ০১৮২০-XXXXXX
পরামর্শ:
আইনজীবীর পরামর্শ নিন: এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ নমুনা দলিল। প্রতিটি লেনদেনের বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হয়। তাই, বাস্তবে কোনো বন্ধকী দলিল তৈরি ও সম্পাদনের আগে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া এবং তার সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি সম্পত্তির মালিকানা যাচাই করবেন এবং দলিলটি আইনগতভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবেন।
নিবন্ধন (Registration): বন্ধকী দলিল সম্পাদনের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন না হলে এটি আইনগতভাবে প্রমাণযোগ্য হবে না।
স্ট্যাম্প (Stamp): দলিলের মান অনুযায়ী যথোপযুক্ত মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দলিলটি সম্পাদন করতে হবে।
স্পষ্টতা: দলিলে সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ (যেমন: দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ ইত্যাদি) যতটা সম্ভব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
নগদ লেনদেনের রসিদ: যদি টাকা নগদে লেনদেন করা হয়, তবে তার একটি পৃথক রসিদ তৈরি করতে হবে এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে।
নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

