ফেনী সার্কিট হাউজের স্মৃতি:  নাম – সুনাম (২০১৬)

ফেনী সার্কিট হাউজের স্মৃতি: নাম – সুনাম (২০১৬)

ফেনী সার্কিট হাউজের স্মৃতি: নাম – সুনাম

২০১৬ সালে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ যাওয়ার সময় নির্ধারিতসূচী অনুসারে জেলা প্রশাসক অতিথি হিসেবে আমার একরাত ফেনী সার্কিট হাউজে থাকার কথা। যথারীতি সার্কিট হাউজে চলে যাই। সেসময় দেশের সব জেলাতে সরকারী গেস্টহাউজে আমি অতিথি হিসেবে ছিলাম এজন্য কোনো মূল্য চুকাতে হয়নি।

সারাদিন ফেনী শহরের বিভিন্নস্থানে বন্ধু শুভার্থীদের শুভেচছাগ্রহণ শেষে ফেনী সার্কিট হাউজে পৌঁছানোর পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক আমিন আল আহসান কামাল যিনি পরবর্তীতে খুলনার ডিসি ও বরিশাল এর বিভাগীয় প্রশাসক। তিনি সেখানকার কেয়ারটেকারকে বলার পর তিনি একটা রুম দিলেন। কিন্তু রুমের দরজা খোলার পর থেকে সে লোক ‘‘ফ্যান ফ্যান’’ করে যাচ্ছে। ‘‘ কনে আমনেগোরে কয় এসব কইরতে’’ নানা বক বকানি। কাছে ডেকে কথা বললাম। ১ কেজী কমলা দিলাম যেগুলো আমার জন্য কিনেছিলাম। কিন্তু তার মনোভাব কোনোভাবে বদলায়নি। সে ভাড়া চাইল। ভাড়াও দিলাম। যদিও বাংলাদেশের কোনো সরকারী গেস্টহাউসে তখন আমার কাছে ভাড়া নেয়নি। তবুও তার মুখ বন্ধ নেই। একটু পর আসে আর একটা কমেন্ট করে। আমার সাথে একজন দেশীয় গেস্ট ছিলেন । যেহেতু ফেণী আমার নিজের বাড়ি। তিনি বললেন, ভাই আপনি এখানে থাকলে থাকেন আমি এক মুহুর্তেও না।
তারপর ভাড়া দিয়েও রাতে সার্কিট হাউজে না থেকে একাডেমী রোডে ছোট মামার বাসায় চলে যাই হেঁটে। সকালে ডিসির সাথে দেখা করার জন্য আবারো হেঁটে আসি। যদিও সেদিন চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত থেকে হেঁটে গিয়েছিলাম। সারাদিন ফেনী শহরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হেঁটেই যোগদান করেছিলাম। কারণ ওই সময়ের মধ্যে আমি এক জায়গায় বার বার যেতে হলেও গাড়িতে উঠিনি।

যাই হোক বন্ধু বান্ধবদের বিষয়টি জানানোর তারা মনোক্ষুন্ন হলো। বলল বিষয়টি ডিসিকে জানাতে। আমি জানাইনি। এমনকি রাতে কোনো অসুবিধা হলো কিনা? সার্কিট হাউজে থাকতে কেমন লাগল? ইত্যাদি তিনি জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি- কোনো অসুবিধা হয়নি। ভালই লেগেছে। আমি রাতে সার্কিট হাউজে ছিলাম না। এটাও ডিসিকে বলিনি।
আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি যদি কথাটা ডিসিকে বলি। অফিস টাইমে তিনি যখন তার সে লোকটিকে জিজ্ঞেস করবেন তখন সে লোকটি তার নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য এমন কিছু বলবেন যাতে ডিসির কাছে আমার সম্মানহানি হতে পারে। কারণ তখন আমি থাকবো না। আর আমার ব্যাপারে যা বলবে তার কোনো সত্যতাও আমি প্রমাণ করতে পারবো না। মাঝখান দিয়ে ভদ্রলোক হয়তো আমার ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পাবেন।

যদিও যেহেতু ডিসির সাথে দেখা হয়েছে। সেজন্য সে লোক মনে মনে ভেবে নিতে পারে আমি ডিসিকে কিছু বলেছি। কারণ যেহেতু তার মানসিক অত্যাচারে আমি রাত ১০ টায় সার্কিট হাউজ ছেড়ে চলে যাই। সে ধরে নিবে আমি তার নামে অভিযোগ করবো। এ ধরনের লোকেরা সব সময় ‘‘প্যারা-দায়ক’’ হয়। হয়তো নিজেকে নিরাপদ করতে সে নিজে থেকেও কিছু বলতে পারে।

যাই হোক ঘটনাটা আজ মনে পড়ল।
ছবি ১: ডিসির সাথে তার বাসভবনে অফিস শুরুর আগে। রোদে পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছিলাম।
ছবি-২: বন্ধুরা বরণ করে নিতে এসেছিল, (৩) ফুল দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক (৪) সাপ্তাহিক ফেনীর সময় কার্যালয়ে।

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply