Palestine

ফাতাহ আন্দোলন এবং হামাসের সংগঠনগত কাঠামো ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড

ফাতাহ আন্দোলন এবং হামাসের সংগঠনগত কাঠামো ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড

ফাতাহ আন্দোলন এবং হামাস, ফিলিস্তিনের প্রধান দুটি রাজনৈতিক সংগঠন, যা ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সংগঠনগুলির ইতিহাস, কাঠামো এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ ফিলিস্তিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিবেশের অনুধাবনে সহায়ক।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সেনাবাহিনী থাকলেও ফিলিস্তিন ব্যতিক্রম। তাই এই লেখায় ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা করব।

 ফাতাহ আন্দোলন

 মাদার অর্গানাইজেশন
ফাতাহ ১৯৫৯ সালে ইয়াসের আরাফাত এবং তার সঙ্গীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলন এবং পিএলও (প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন)-এর প্রধান সংগঠন হিসেবে বিবেচিত।

আমাদের দেশের আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে যেমন আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে। দুটোই রাজনৈতিক সংগঠন হওয়ার কারণে একটিকে বিলুপ্ত করে আরেকটি হয়েছে। তেমনি করে ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করে বাকশাল গঠন করা হয়েছে।

কিন্তু রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি গঠন করা হয়েছে। RSS হলো BJP এর মাতৃ সংগঠন। এখানে আরএসএস বিলুপ্ত হয়নি কারণ আর এসএস বিজেপি  একই ধরনের সংঘঠন নয়। আরএসএস মূলত নেটওয়ার্ক ও সমাজসেবা বা ধর্মীয় সংঘঠন এর কথা বলে। আর বিজেপি সরাসরি রাজনীতি পরিচালনা করে।

 অ্যাফিলিয়েট অর্গানাইজেশন

ফাতাহর বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট সংগঠন রয়েছে, বিশেষ করে সশস্ত্র শাখা যেমন আল-আকসা শহীদ ব্রিগেড।

আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গ সংগঠন মূলক শাখা সংগঠন এবং ফাতাহ-র সহযোগী সংগঠন আল-আকসা শহীদ ব্রিগেড কাঠামোগত ভাবে স্বাধীন।

 রাজনৈতিক কাঠামো ও নেতৃত্ব
ফাতাহর নেতৃত্ব একটি স্তরবিন্যাসে পরিচালিত হয়, যার সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি। ফাতাহর নেতা সাধারণত প্যালেস্টাইন অথরিটির (পিএ) প্রেসিডেন্ট হন। বর্তমানে মাহমুদ আব্বাস ফাতাহর নেতা এবং পিএ-এর প্রেসিডেন্ট।

 স্থানীয় ও শাখা সংগঠন
ফাতাহর স্থানীয় শাখাগুলি বিভিন্ন ফিলিস্তিনি প্রদেশে সংগঠিত হয়, যেখানে তারা রাজনৈতিক এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 কাজের পদ্ধতি
ফাতাহ সাধারণত অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠন এবং আরব দেশগুলির সাথে মিত্র সম্পর্ক বজায় রাখে। তারা মূলত কূটনৈতিক চ্যানেল এবং আলোচনা মাধ্যমে কাজ করে, তবে ইন্তিফাদায় সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নিয়েছে।

 রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড
ফাতাহর প্রধান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কূটনীতি, আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন লাভ করা। তারা ইসরায়েলের সাথে একটি দুই-রাষ্ট্র সমাধান সমর্থন করে।

 হামাস

 মাদার অর্গানাইজেশন
হামাস ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। হামাস বিশেষভাবে গাজা অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে গুরুত্ব পায়। এখানে মুসলিম ব্রাদারহুডকে মাদার সংগঠন বলা যায় কিন্তু অফিসিয়ালী সেটা স্বীকৃত নয়। এখানে মুসলিম ব্রাদারহুড়কে রুট অর্গানাইজেশন  বা শেকড় সংগঠন বলা যেতে পারে।

 অ্যাফিলিয়েট অর্গানাইজেশন

হামাসের বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট সংগঠন রয়েছে, বিশেষত সশস্ত্র শাখা যেমন ইজ্জাদ-দীন আল-কাসাম ব্রিগেড। কাসাম ব্রিগেট এবং হামাসের মধ্যে পার্থক্য হলো হামাস নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক ভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। অন্যদিকে কাসাম ব্রিগেট সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেই। হামাস সব সময় কাসাম ব্রিগেটকে সহায়তা করে থাকে।

হামাসের কর্মীরা ফিলিস্তিনে সামাজিক কাজে অংশ নেয়। মানুষের জন্য খাদ্য ও ঔষধ জোগাড় ইত্যাদি।

 রাজনৈতিক কাঠামো ও নেতৃত্ব

হামাসের নেতৃত্ব একটি কেন্দ্রীভূত কাঠামোতে পরিচালিত হয়, যার সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হলো রাজনৈতিক ব্যুরো।

স্থানীয় ও শাখা সংগঠন
হামাস গাজার মতো এলাকায় সামাজিক সেবা প্রদান এবং রাজনৈতিক কাজের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেছে। তারা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, এবং কল্যাণ কর্মসূচি পরিচালনা করে।

 কাজের পদ্ধতি
হামাস মুসলিম দেশগুলির সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং ইরানের সাথে মিত্রতা প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের কাজের পদ্ধতি মূলত সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড
হামাসের প্রধান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

 তুলনামূলক বিশ্লেষণ
ফাতাহ এবং হামাসের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনগত কাঠামোতে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। ফাতাহ কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমে কাজ করে, কিন্তু হামাস সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

ফাতাহ এবং হামাস উভয়ই ফিলিস্তিনের রাজনীতিতে প্রভাবশালী, এবং তাদের সংগঠন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বুঝতে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply