বংশানুক্রমের বাইরে মতামত ও পরামর্শভিত্তিক পদ্ধতিতে সভ্যতায় শাসক নির্বাচন
প্রাচীন গ্রিসে সরাসরি গণতন্ত্রের মাধ্যমে নাগরিকেরা শাসক নির্বাচন করতেন। ভারতে ছিল ‘রাজর্ষি’ ধারণা — যেখানে শাসককে জ্ঞানী, ন্যায়পরায়ণ ও আত্মসংযমী হতে হতো। ইসলামি শাসন ব্যবস্থায় খলিফা নির্বাচন হয়েছে শুরা বা পরামর্শের মাধ্যমে, আবার কখনো উত্তরাধিকার ভিত্তিতে। পাশ্চাত্যে ‘সামাজিক চুক্তি’র তত্ত্ব দিয়ে হোবস, লক ও রুশো শাসকের বৈধতা ব্যাখ্যা করেছেন।
মানবসভ্যতার ইতিহাসে শাসন কাঠামো সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। অধিকাংশ সমাজে রাজতন্ত্র ও বংশপরম্পরার মাধ্যমে শাসক নির্বাচনের প্রথা দেখা গেলেও, অনেক সভ্যতায় এমন কিছু ব্যতিক্রম পাওয়া যায়, যেখানে শাসক নির্বাচিত হয়েছেন গণমত, বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শ বা নৈতিক গুণাবলির ভিত্তিতে। এই ধারাগুলো সভ্যতার রাজনৈতিক বিবর্তনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
১. প্রাচীন গ্রিস: সরাসরি গণতন্ত্রের অগ্রদূত
প্রাচীন গ্রিস, বিশেষ করে এথেন্স নগররাষ্ট্র, রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ। এখানে শাসক নির্বাচন হতো জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে। প্রত্যেক পুরুষ নাগরিক, যিসভ্যতায় শাসক নির্বাচন: বংশানুক্রমের বাইরে মতামত ও পরামর্শভিত্তিক পদ্ধতি
মানবসভ্যতার ইতিহাসে শাসন কাঠামো সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। অধিকাংশ সমাজে রাজতন্ত্র ও বংশপরম্পরার মাধ্যমে শাসক নির্বাচনের প্রথা দেখা গেলেও, অনেক সভ্যতায় এমন কিছু ব্যতিক্রম পাওয়া যায়, যেখানে শাসক নির্বাচিত হয়েছেন গণমত, বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শ বা নৈতিক গুণাবলির ভিত্তিতে। এই ধারাগুলো সভ্যতার রাজনৈতিক বিবর্তনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
১. প্রাচীন গ্রিস: সরাসরি গণতন্ত্রের অগ্রদূত
প্রাচীন গ্রিস, বিশেষ করে এথেন্স নগররাষ্ট্র, রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ। এখানে শাসক নির্বাচন হতো জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে। প্রত্যেক পুরুষ নাগরিক, যিনি নির্দিষ্ট বয়সে উপনীত, তিনিই ভোটদানে সক্ষম ছিলেন।
এথেন্সের এক অসাধারণ দিক ছিলো ‘লটারি পদ্ধতি’ (sortition), যার মাধ্যমে অনেক সরকারি পদে সাধারণ নাগরিকদের এলোমেলোভাবে নির্বাচিত করা হতো, যাতে শ্রেণিগত পক্ষপাত দূর হয় এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
২. প্রাচীন ভারত: ‘রাজর্ষি’ এবং ধর্মাশ্রিত নৈতিক নির্বাচন
ভারতীয় সভ্যতায় ‘রাজর্ষি’ ধারণা ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আদর্শ। এখানে শাসকের মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো জ্ঞান, ন্যায়বোধ, আত্মসংযম ও ধার্মিকতা। মহাভারত ও বেদে এমন শাসকদের উল্লেখ আছে, যাঁরা রাজসিংহাসন লাভ করেছেন জনমতের সম্মতিক্রমে বা ঋষিদের পরামর্শে।
উদাহরণস্বরূপ, রাজা জনকের নাম পাওয়া যায় যিনি ছিলেন মুনি-ঋষিদের পরামর্শদাতা। তাঁর শাসন ছিলো ন্যায়নিষ্ঠ ও দার্শনিক চেতনায় সমৃদ্ধ। এই ধারা অনুযায়ী, শাসক হতেন রাষ্ট্রের প্রধান সেবক, প্রভু নয়।
৩. ইসলামি শাসনব্যবস্থা: শুরা ও খিলাফতের গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামের রাজনৈতিক দর্শনে “শুরা” বা পরামর্শের মাধ্যমে শাসক নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পর তাঁর উত্তরসূরিদের নির্বাচন হয়েছিলো পরামর্শ এবং মুসলিম উম্মাহর মতামতের ভিত্তিতে।
প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.)-কে নির্বাচন করা হয় সাহাবাদের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে। এরপর উমর ইবনুল খত্তাব (রা.)-কে নিযুক্ত করেন আবু বকর (রা.), তবে তা ছিলো সাহাবাদের সম্মতির ভিত্তিতে।
পরবর্তী সময়ে খিলাফত উত্তরাধিকারভিত্তিক হয়ে উঠলেও ইসলামি রাজনৈতিক নীতিতে মতামতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
৪. পাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শন: সামাজিক চুক্তি ও জনগণের সম্মতি
হোবস, লক ও রুশো রাজনৈতিক বৈধতার ভিত্তি হিসেবে ‘সামাজিক চুক্তি’র তত্ত্ব প্রস্তাব করেন।
হোবস মনে করেন, মানুষ নিজ নিজ স্বার্থে একজন শক্তিশালী শাসককে ক্ষমতা দিয়ে দেয়, যেন সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
লক বলেন, শাসকের কর্তৃত্ব জনগণের কাছ থেকে আসে, এবং জনগণ চাইলে তাকে সরিয়ে দিতেও পারে।
রুশো ‘সাধারণ ইচ্ছা’ (general will)-এর ভিত্তিতে শাসন ব্যবস্থাকে ন্যায্য বিবেচনা করেন।
এই দৃষ্টিভঙ্গি পশ্চিমা গণতন্ত্রের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যেখানে শাসক নির্বাচন হয় জনগণের সম্মতি ও সামাজিক চুক্তির ভিত্তিতে।নি নির্দিষ্ট বয়সে উপনীত, তিনিই ভোটদানে সক্ষম ছিলেন।
এথেন্সের এক অসাধারণ দিক ছিলো ‘লটারি পদ্ধতি’ (sortition), যার মাধ্যমে অনেক সরকারি পদে সাধারণ নাগরিকদের এলোমেলোভাবে নির্বাচিত করা হতো, যাতে শ্রেণিগত পক্ষপাত দূর হয় এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
২. প্রাচীন ভারত: ‘রাজর্ষি’ এবং ধর্মাশ্রিত নৈতিক নির্বাচন
ভারতীয় সভ্যতায় ‘রাজর্ষি’ ধারণা ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আদর্শ। এখানে শাসকের মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো জ্ঞান, ন্যায়বোধ, আত্মসংযম ও ধার্মিকতা। মহাভারত ও বেদে এমন শাসকদের উল্লেখ আছে, যাঁরা রাজসিংহাসন লাভ করেছেন জনমতের সম্মতিক্রমে বা ঋষিদের পরামর্শে।
উদাহরণস্বরূপ, রাজা জনকের নাম পাওয়া যায় যিনি ছিলেন মুনি-ঋষিদের পরামর্শদাতা। তাঁর শাসন ছিলো ন্যায়নিষ্ঠ ও দার্শনিক চেতনায় সমৃদ্ধ। এই ধারা অনুযায়ী, শাসক হতেন রাষ্ট্রের প্রধান সেবক, প্রভু নয়।
৩. ইসলামি শাসনব্যবস্থা: শুরা ও খিলাফতের গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামের রাজনৈতিক দর্শনে “শুরা” বা পরামর্শের মাধ্যমে শাসক নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পর তাঁর উত্তরসূরিদের নির্বাচন হয়েছিলো পরামর্শ এবং মুসলিম উম্মাহর মতামতের ভিত্তিতে।
প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.)-কে নির্বাচন করা হয় সাহাবাদের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে। এরপর উমর ইবনুল খত্তাব (রা.)-কে নিযুক্ত করেন আবু বকর (রা.), তবে তা ছিলো সাহাবাদের সম্মতির ভিত্তিতে।
পরবর্তী সময়ে খিলাফত উত্তরাধিকারভিত্তিক হয়ে উঠলেও ইসলামি রাজনৈতিক নীতিতে মতামতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
৪. পাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শন: সামাজিক চুক্তি ও জনগণের সম্মতি
হোবস, লক ও রুশো রাজনৈতিক বৈধতার ভিত্তি হিসেবে ‘সামাজিক চুক্তি’র তত্ত্ব প্রস্তাব করেন।
হোবস মনে করেন, মানুষ নিজ নিজ স্বার্থে একজন শক্তিশালী শাসককে ক্ষমতা দিয়ে দেয়, যেন সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
লক বলেন, শাসকের কর্তৃত্ব জনগণের কাছ থেকে আসে, এবং জনগণ চাইলে তাকে সরিয়ে দিতেও পারে।
রুশো ‘সাধারণ ইচ্ছা’ (general will)-এর ভিত্তিতে শাসন ব্যবস্থাকে ন্যায্য বিবেচনা করেন।

