পতিত স্বৈরাচারদের আচরণ ও পরিণতি
প্রথমে বলে রাখি যে, “স্বৈরাচার” বা “ফ্যাসিবাদ” বলা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক বা সমাজবিজ্ঞানী দৃষ্টিভঙ্গি। এটা কোনো জাতিসংঘের অফিসিয়াল টার্ম নয়। জাতিসংঘ বা ICC কখনো সরকারকে “স্বৈরাচার” বা “ফ্যাসিবাদী” ঘোষণা করে না।
তাহলে স্বৈরাচার কে?
স্বৈরাচার (autocracy / authoritarianism) বলতে বোঝায় এমন এককেন্দ্রিক শাসন যেখানে নির্বাচনী গণতন্ত্র দুর্বল, বিচার বিভাগ ও প্রশাসন শাসকের প্রভাবাধীন, বিরোধীদের ওপর দমন চালানো হয়। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীকে স্বৈরাচার বলা হয়ে থাকে।
ফ্যাসিবাদ (fascism)কি?
এটা বলতে বোঝায় কট্টর জাতীয়তাবাদ, কর্তৃত্ববাদ, রাজনৈতিক সহিংসতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার দমন এবং প্রায়শই ব্যক্তি-উপাসনার মাধ্যমে একটি শাসকগোষ্ঠীকে চিরস্থায়ী করার প্রয়াস। এ ধরনের আচরণ ফ্যাসিবাদী আচরণ হিসেবে স্বীকৃত। যিনি বা যারা এমনটা করেন। তাদেরকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়।
বিশ্বে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের পলাতক স্বৈরাচারগণ কি আচরণ করেছেন এটা দেখা যাক-
উগান্ডার ইদি আমিন
উগান্ডার স্বৈরশাসক ইদি আমিন ১৯৭১-১৯৭৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তার শাসনে লাখো মানুষ হত্যার শিকার হয়। ১৯৭৯ সালে তাঞ্জানিয়া ও উগান্ডার বিদ্রোহী বাহিনী যখন কাম্পালা দখল করে, তখন তিনি লিবিয়া হয়ে সৌদি আরব পালিয়ে যান।
সৌদিতে তিনি বিলাসী জীবনযাপন করেন, প্রচুর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন। তার কোনো অনুশোচনা ছিল না, বরং সাংবাদিকদের বলতেন, উগান্ডায় সব ঠিকই করেছিলাম। মানে তিনি ভুল শিকার করেননি। বেঁচে গেলেও পরিস্থিতি পক্ষে না থাকায় ফিরে আসার চেষ্টা করেননি।
আনুমানিক ৩–৫ লাখ মানুষকে হত্যা, জাতিগত নিধন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীদের বিতাড়ন, সম্পদ লুট করেও কোনো তার বিচার হয়নি। সৌদিতে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যু (২০০৩) পর্যন্ত বিলাসবহুল জীবন কাটান।
ফিলিপাইন ফার্দিনান্দ মার্কোস
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস প্রায় ২০ বছর ক্ষমতায় থেকে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালান। ১৯৮৬ সালে জনগণ তাকে উৎখাত করলে তিনি পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে (হাওয়াই) আশ্রয় নেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিজের সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্য মামলা চালিয়েছেন। তিনি বিলাসী জীবন চালাতেন। মারা যাওয়ার পরও তার দেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষিত রাখা হয়, যাতে দেশে ফিরিয়ে রাষ্ট্রীয় সমাধিতে রাখা যায়। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়নি।
শাসনকালে ১৯৬৫–১৯৮৬ সময়ে তার অপকর্ম ছিল মার্শাল ল’ জারি করে বিরোধী দমন, ৩,২০০ হত্যাকাণ্ড, ৭০,০০০ আটক, আনুমানিক ৫-১০ বিলিয়ন ডলার লুট।
শেষ পরিণতি ছিল ১৯৮৯ সালে হাওয়াইতে মৃত্যু। কিন্তু তবে তার পরিবার রাজনীতিতে থেকে যায়, এবং ছেলে বংবং মার্কোস ২০২২ সালে আবার প্রেসিডেন্ট হন। মানে তার বিশাল অনুসারী ছিল এবং তারা তার পক্ষে কাজ করেছিল।
তিউনিশিয়ার বেন আলি
তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জিনে এল আবিদিন বেন আলি ২৩ বছর ধরে শাসন করেন। ২০১১ সালের আরব বসন্তের গণ-আন্দোলনে উৎখাত হয়ে সৌদি আরবে পালান।
সেখান থেকে তিনি ও তার পরিবার রাজনৈতিক আশ্রয় পান, সৌদি আরবে একপ্রকার নির্বাসিত বিলাসী জীবন কাটান। বিভিন্ন সময়ে সংবাদে এসেছে, তিনি দেশ ফিরিয়ে আনতে বা সম্পদ ফেরত পেতে চান কিন্তু বিষয়ে তিনি খুব বেশী অগ্রসর হতে পারেননি।
১৯৮৭–২০১১ শাসনকালে পুলিশি রাষ্ট্র, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, আনুমানিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচারসহ নানা অপকর্ম করেন। ২০১৯ সালে সৌদিতে মারা যান। দেশে ফিরলে কোনো বিচার মুখোমুখি হতেন কিন্তু দেশে ফেরেননি।
হাইতির জান ক্লদ দুভালিয়ে
‘বেবি ডাক’ নামে পরিচিত জান ক্লদ দুভালিয়ে হাইতিতে ১৯৭১-১৯৮৬ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসক ছিলেন। ১৯৮৬ সালে জনরোষে পলায়ন করে ফ্রান্সে চলে যান।
সেখানে তিনি সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত সম্পদ লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ। পিতা “পাপা ডাক” থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়ে ১৫ বছর দেশ চালান। তার অপকর্ম ছিল “তনতুন ম্যাকাউত” বাহিনী দিয়ে ৩০,০০০ এর বেশি মানুষ হত্যা, ভয়াবহ দমন, ব্যাপক দুর্নীতি।
পরে ২০১১ সালে হাইতিতে ফিরে ক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন, কিন্তু দুর্নীতির মামলায় পড়ে যান এবং বিচার চলা অবস্থায় ২০১৪ সালে মারা যান।
ইয়েমেনের আলী আব্দুল্লাহ সালেহ
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী সালেহ তিন দশক ধরে ক্ষমতা ধরে রাখেন। ২০১১ সালে আরব বসন্তের চাপের মুখে পদত্যাগ করেন। তবে দেশ ত্যাগ করেননি; রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে যেতে থাকেন।
সেনাবাহিনীর অংশ নিয়ে পরোক্ষভাবে গৃহযুদ্ধ জারি রাখেন। হুথিদের সঙ্গে মিত্রতা করে আবার ক্ষমতা কায়েমের চেষ্টাও করেন, যা পরে উল্টে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে হুথিরা তাকে হত্যা করে। কারণ তিনি তাদের বিরোধীতাও করেছিলেন।
ইরানের মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলবি
রেজা শাহ পাহলবি (Reza Shah Pahlavi) ছিলেন ইরানের শাহ (রাজা), পাহলবি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯২৫ থেকে ১৯৪১ পর্যন্ত শাসন করেন। তার ছেলে মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলবি, যিনি বেশি পরিচিত, ইরানের শেষ শাহ ছিলেন (১৯৪১-১৯৭৯)। ইসলামী বিপ্লব (১৯৭৯) তাকে উৎখাত করে।
১৯৭৯ সালে খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের পর শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলবি দেশ ছেড়ে পালান। তিনি মিশর, মরক্কো, বাহামা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, এবং অবশেষে আবার মিশরে আশ্রয় নেন।
সারা জীবন তার পরিবার, মিত্ররা এবং তিনি নিজে ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন লালন করতেন। তবে শাহ খুব অসুস্থ ছিলেন (lymphoma ক্যান্সারে আক্রান্ত)। শেষ পর্যন্ত মিশরেই তার মৃত্যু হয় (১৯৮০)।
তিনি শাহ এবং তার পরিবার বিভিন্ন দেশে থেকে প্রচার করতেন যে, ইরানে আবার রাজতন্ত্র ফেরানো দরকার। তাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি-ইজরায়েলের কিছু অংশে লবিষ্ট গ্রুপও যুক্ত ছিল। তার ছেলে রেজা পাহলবি (ক্রাউন প্রিন্স) এখনো ইরানের রাজতন্ত্র ফেরানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
সেন্ট্রাল আফ্রিকার ফ্রাঙ্কোয়া বোজিজে
২০১৩ সালে বিদ্রোহীরা প্রেসিডেন্ট বোজিজেকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে। তিনি পালিয়ে যান কিন্তু ২০২০ সালে আবার প্রার্থী হতে দেশে ফিরে আসেন, যদিও বাধা দেয়া হয়। তার অনুসারীরা সহিংসতা চালায়, সশস্ত্র উপায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালায়।
সুদানের ওমর আল বাশির
২০১৯ সালে বিক্ষোভে উৎখাত হয়ে কারাগারে ছিলেন। তার ইসলামপন্থি দল ও নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আবার রাজনৈতিক মাঠে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছিল। ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর বাশিরপন্থীরা চেষ্টায় ছিল নতুন শাসন ব্যবস্থায় নিজেদের লোক ঢোকাতে।
তিনি নিজেই ১৯৮৯ সালে অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করেন। ২০১৯ সালে গণআন্দোলনে সেনাবাহিনী তাকে উৎখাত করে। তার অপকর্ম এর মধ্যে রয়েছে- দারফুর গণহত্যা (২০০৩-২০০৮) তার মদদপুষ্ট ‘জানজাওয়িদ’ মিলিশিয়া গণহত্যায় আনুমানিক ৩ লাখ মানুষ নিহত ও ২৫ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়। জাতিসংঘ ও ICC (International Criminal Court) একে গণহত্যা (genocide), মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাশিরের বিরুদ্ধে ICC গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে.
রাজনৈতিক বিরোধী দল, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের হাজার হাজার জনকে গ্রেফতার ও গোপনে হত্যা করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থা (NISS) ব্যাপক নির্যাতন চালাতো। তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা তেল সম্পদের আয় থেকে শত শত কোটি ডলার লোপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। Swiss, UAE ও Malaysian ব্যাংকে তাদের সম্পদ ধরা পড়েছে।
সংবাদপত্র বন্ধ, ইন্টারনেট বন্ধ, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা। দক্ষিণ সুদানের বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে লুকিয়ে অস্ত্র-টাকা সরবরাহ করে নতুন নতুন দাঙ্গা তৈরি করতেন, যাতে দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল থাকে।
দক্ষিণ সুদানের রিয়েল মাচার
রিয়েক মাচার ১৯৯১ সালে সুদানের গৃহযুদ্ধে John Garang এর নেতৃত্বাধীন SPLA থেকে বের হয়ে গিয়ে “Nasir Faction” গঠন করেন। সে সময় তার বাহিনী দক্ষিণ সুদানের Bor massacre চালায়, যেখানে প্রায় ২,০০০ ডিন্কা উপজাতির সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়। এটিকে সুদানের গৃহযুদ্ধের প্রথম বড় জাতিগত গণহত্যা বলা হয়। শিশু ও নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, গবাদিপশু লুট করা হয়।
দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার পর ২০১৩-২০১৮ সালে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের চেষ্টায় দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পর (২০১১) মাচার ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট সালভা কিয়েরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি সরাসরি সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন, যা আবারও জাতিগত দাঙ্গায় রূপ নেয় (ডিন্কা বনাম নুয়ের)।
তার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা Bentiu শহর দখল করে তেল স্থাপনা লুট করে। মসজিদে লুকিয়ে থাকা মানুষ, হাসপাতালে রোগী, বাজারের ব্যবসায়ীকে হত্যা করে। ২০১৪ সালে UN জানায় Bentiu-তে শত শত বেসামরিক মানুষকে জাতিগত কারণে হত্যা করা হয়েছে। জাতিসংঘ ও Human Rights Watch বারবার রিপোর্ট করেছে মাচারের বাহিনী শিশু সৈন্য নিয়োগ করেছে, এবং এগুলো সরাসরি তার নেতৃ্ত্বে সংঘটিত।
আন্তর্জাতিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে, মাচারের রাজনৈতিক শিবির তেল রাজস্ব ও সাহায্য তহবিল থেকে কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছে। যুদ্ধের সময় তার বাহিনী গ্রাম ধ্বংস করে গবাদিপশু, খাদ্য, ঘরবাড়ির মালপত্র লুট করত। খাদ্য সরবরাহ ও ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে দুর্ভিক্ষে ফেলেছে।
মাচারের আন্দোলনের ভেতরেও ভিন্নমত পোষণকারী নুয়ের নেতাদের হত্যা করা হয়। তার উপদেষ্টা ও স্থানীয় কমান্ডাররা যারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, তাদের অপহরণ ও হত্যা করা হয়। রাজনৈতিক বিরোধীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গুপ্তহত্যা চালায় তার বাহিনী।
বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৩-২০১৬ ও পরে দেশ ত্যাগ করেন।
মালির ইব্রাহিম বৌবাকার কিতা
IBK নামে পরিচিত। মালির প্রেসিডেন্ট ছিলেন ২০১৩-২০২০। ২০২০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে তাকে উৎখাত করা হয়। তার শাসনে কোটি কোটি ইউরোর অস্ত্র চুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ে বড় বড় অনিয়ম ধরা পড়ে। বিশেষ করে মালির সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম কেনায় অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ।
২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে কলঙ্কিত। নির্বাচন কমিশন ও আদালতকে প্রভাবিত করে নিজের জয় নিশ্চিত করেন বলে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ।
২০২০ সালে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়। সাংবাদিক, নাগরিক সমাজকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো ও আটক করা হয়।
পতনের পর তিনি সরাসরি ফিরে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেননি, তবে তার ঘনিষ্ঠরা সামরিক শাসনের উপর চাপ দিতে থাকে পুরনো শাসন ফেরানোর জন্য। ২০২১-২২ আবারো অভ্যুত্থান হলে তার অনুসারিরা সক্রিয়ভাবে প্রভাব খাটাতে চেয়েছিল।
জার্মানি অ্যাডলফ হিটলার
নাৎসি পার্টি (NSDAP)-এর নেতৃত্বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ তিনি। দখলদারিত্ব ও গণহত্যা (Holocaust): আনুমানিক ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা, সাথে রোমা, পোলিশ, প্রতিবন্ধী, সমকামীদের ওপর গণহত্যা। ইউরোপের শিল্পকর্ম, স্বর্ণ, ব্যাংক সম্পদ লুট করে বার্লিনে ও সুইস ব্যাংকে পাঠানো ইত্যাদি ছিল তার অপকর্ম অনেকে মনে করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণই হলো হিটলার।
উৎখাতের পর ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে বার্লিনের বাংকারে আত্মহত্যা করেন। তবে তার ভক্তগোষ্ঠী (Neo-Nazi, SS-veterans, ODESSA) ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকায় গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে, কিছু অস্ত্র মজুদ করে, আর্থিক ফান্ড তৈরি করে — যেন ভবিষ্যতে নাৎসি আদর্শ ফিরিয়ে আনা যায়।
ইতালির বেনিতো মুসোলিনি
তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনে (1922-1943), বাকস্বাধীনতা ও বিরোধী দল দমন করেন। আফ্রিকার ইথিওপিয়া, লিবিয়া, আলবেনিয়ায় নৃশংস দখল ও গ্যাস হামলা চালান। ইহুদি-বিরোধী আইন প্রণয়ন, রাজনৈতিক হত্যা ও গুম তার অবদান।
১৯৪৩ সালে মিত্র বাহিনী ইতালি দখল করলে মুসোলিনিকে গ্রেফতার করে। হিটলারের কমান্ডো বাহিনী তাকে জেল থেকে মুক্ত করে Nazi-অধীনে উত্তর ইতালিতে Salò Republic গঠন করেন। সেখান থেকে পুনরায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে নৃশংসতা চালান, কিন্তু অবশেষে ১৯৪৫ সালে ইতালীয় গেরিলাদের হাতে ধরা পড়ে গুলি খেয়ে নিহত হন। তার লাশ মিলান শহরে উল্টে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
ফ্রান্সের মার্শাল ফিলিপ পেতাঁ
1940 সালে নাৎসিদের সাথে সহযোগিতা করেন । ইহুদি বিতাড়ন, বিরোধী দল গ্রেফতার, জার্মানিকে শ্রমিক ও সম্পদ সরবরাহ।
যুদ্ধশেষে গ্রেফতার হলে মৃত্যুদণ্ড হলেও পরে তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। বৃদ্ধ বয়সে নিভৃতে দ্বীপে নির্বাসিত অবস্থায় মৃত্যু হয়। ক্ষমতা ফেরানোর কোনো বাস্তব চেষ্টা করতে পারেননি।
হাঙ্গেরির মিকলোস হরথি
তার অপকর্ম ছিল তিনি হরথির শাসনে ইহুদি আইন ও নাৎসি মিত্রতা। WWII-তে নাৎসিদের পাশে থেকে সোভিয়েত ও যুগোস্লাভদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা।
১৯৪৪ সালে নাৎসিরা হরথিকে সরিয়ে তার পরিবারকে জিম্মি করে ফ্যাসিস্ট নেতা সালাসিকে বসায়। যুদ্ধশেষে হরথি আ
