আমরা প্রতিদিন কতরকম খাবার খাই—মিষ্টি, ঝাল, টক, নোনতা। এই সবকিছুর সঙ্গে আমাদের শরীরের একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস তৈরি হয়েছে। কোন খাবার ভালো লাগে, কোনটা অপছন্দ, কোনটা শরীরের জন্য ভালো বা খারাপ—এসব কিছুই ধীরে ধীরে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র শিখে ফেলেছে।
ধরুন, সামনে গরম গরম রসগোল্লা রাখা আছে। আপনি শুধু দেখলেন, এখনো মুখে দেননি—কিন্তু তবুও জিভে পানি চলে এলো। আবার টক আচার বা কাঁচা আম দেখলেও শরীর কেমন শিরশির করে, মুখে লালা জমে।
এটা কেন হয়?
এগুলো হচ্ছে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যাকে বলে Reflex (রিফ্লেক্স)। মানে, চোখ দিয়ে দেখার পর সেই উত্তেজনা বা সিগন্যাল চলে যায় মস্তিষ্কে, আর মস্তিষ্ক আবার সিগন্যাল পাঠায় মুখের গ্রন্থিগুলোতে—“থুথু বের করো, খাবার আসছে!”
এখন উল্টো দিকটা ভাবুন।
আপনি হঠাৎ রাস্তার পাশে নোংরা পানি, পচা কিছু, বা বমি জাতীয় কিছু দেখলেন। সঙ্গে সঙ্গেই কেমন যেন গা গুলিয়ে ওঠে, মুখে তিতা থুথু চলে আসে, অনেক সময় বমি বমি ভাবও হয়।
এর পেছনেও আছে একই ধরনের রিফ্লেক্স, তবে কাজটা উল্টো দিকে।
আমাদের শরীরে ফ্রেনিক নার্ভ নামে একটি বিশেষ স্নায়ু আছে। যখন আমরা নোংরা, ঘৃণ্য বা পচা কিছু দেখি বা গন্ধ পাই, তখন চোখ, নাক ইত্যাদি ইন্দ্রিয় থেকে সিগন্যাল যায় মস্তিষ্কে। এরপর মস্তিষ্ক কিছু পেশি ও নার্ভকে উত্তেজিত করে, যাদের মধ্যে ফ্রেনিক নার্ভও থাকে।
এই উত্তেজনার ফলেই—
-
মুখে অতিরিক্ত রস বা থুথু তৈরি হয়
-
বুক আর পেটের কিছু পেশি সঙ্কুচিত হতে থাকে
-
বমি বমি ভাব আসে
-
কখনো কখনো সত্যি সত্যিই বমি হয়ে যায়
এটা আসলে শরীরের সেলফ–ডিফেন্স সিস্টেম।
নোংরা বা বিষাক্ত কিছু যেন ভুল করে মুখে বা পেটে না যায়, তাই শরীর আগেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দেয়।
কটু গন্ধ পেলেও একই ঘটনা
শুধু দেখা নয়,
-
পচা গন্ধ
-
দুর্গন্ধযুক্ত নালা
-
বাসি-সড়া খাবারের গন্ধ
এসব নাকে গেলেও ফ্রেনিক নার্ভ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তখন—
-
মুখে থুথু আসে
-
পেট কেমন যেন গরম হয়ে পাকায়
-
বেশি হলে পেট ফেঁপে ওঠে
-
অনেকেই বমি করে ফেলেন
সব মিলিয়ে, নোংরা বা বিষাক্ত কিছু থেকে নিজেকে বাঁচাতে শরীর নিজেই ব্যবস্থা নেয়—এটাই মূল কথা।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
