২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার: রাজনৈতিক দলের জন্য
বাংলাদেশের সমস্যাগুলো তার সমাধান নিয়ে কাজ করার সুযোগে আমি কিছু বিষয়ে এখানে আলোকপাত করেছি। সেগুলো আমার ধারণার মধ্যে রয়েছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি চাইবো। আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যেন তাদের ইশতেহারে এই বিষয়গুলো অন্তভূক্ত করে। তবে এই বিষয়ের বাইরে যেমন অনেক বিষয় থাকতে পারে। তেমনি একটি বিষয়ে আরো অনেক ধারণা থাকতে পারে। তবে আমি কেন এই বিষয়গুলো ঠিক করেছি। তা উপসাংহারে দেয়া লিংকে গেলে ব্যাখ্যা জানা যাবে।
আপাতত এই লেখার উদ্দেশ্য হলো। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে লেখায় তাদেরকে সহযোগিতা করা। এছাড়া যেকোনো দল তাদের ইশতেহার প্রণয়নে আমাকে এবং আমার টিমের সহযোগিতা নিতে পারবে। এজন্য কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হবে না। – জাহাঙ্গীর আলম শোভন।
ক) সংসদ ও নির্বাচন ব্যবস্থা
১) সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ঠ। তাতে উচ্চকক্ষ ১০০ আসন। যা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবে। যারা আইন প্রণয়ন করবে। এর নাম হবে প্রতিনিধিসভা
২) সংসদের নিন্মকক্ষ হবে ৩০০ আসনের এটি প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সরকার ও প্রশাসন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কাজ করবে। এই কক্ষের নাম হবে। গণসভা।
৩) সাংসদেরা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবেনা। তাদের হাতে কন্টাক্টর, টেন্ডার ও থানায় খবরদারীর ক্ষমতা থাকবেনা।
৩) এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে স্থানীয় সরকার। জেলা পরিষদ উন্নয়ন পরিকল্পনা করবে। উপজেলা পরিষদ তা বাস্তবায়ন করবে। ইউনিয়ন পরিষদ সহযোগিতা করবে।
৪) উচ্চকক্ষ প্রতিনিধিগণ উচ্চশিক্ষিত ও বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ হবেন। গনসভার ও জেলাপরিষদ সদস্যগণ স্নাতক, উপজেলা পর্ষদ সদস্যগণ উচ্চ মাধ্যমিক এবং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যগণ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হবেন।
৫) গণসভা সদস্য পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ছায়া সংসদের সদস্য নির্বাচন হবেন। এই সংসদ মুল সংসদে বিভিন্ন প্রস্তাব প্রেরণ করতে পারবে। ছায়া সংসদগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে সভা করবেন। তারা সভা উপস্থিত হলে সম্মানি পাবেন। কোনো বেতন ভাতা প্রাপ্ত হবেন না।
৬) জেলা পরিষদ সভাপতি সরকার কতৃক নির্বাচিত হবেন। তবে এর সদস্য হবেন সংশ্লিষ্ঠ জেলায় নির্বাচিত গনসভার সদস্য (এমপি)দের ১ জন করে প্রতিনিধি।
৬) উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্ধন্ধী প্রার্থীগণ জেলা ছায়া পরিষদ সদস্য হবেন। তারা যেকোনো বিষয়ে নিজেরা সভা করে পরামর্শ প্রেরণ করতে পারবেন মূল পরিষদ এর নিকট।
৭) উপজেলা পরিষদের সদস্য হবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গণ। উপজেলা ছায়া পরিষদ এর সদস্য ইউনিয়ন পরিষদে নিকটতম প্রতিদ্ধন্ধিগণ চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ। তারা সভার মাধ্যমে মূল পরিষদকে বিভিন্ন প্রস্তাবনা পেশ করতে পারবেন।
৮) গণপরিষদে আইনের প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হলে তা আইনে পরিণত হবে।
৯) প্রতিনিধি পরিষদে সংবিধান সংশোধন বিল পাস হলে তা সাংবিধানিক আদালতে গৃহিত হবে।
১০) সুপ্রীম কোট এর ২ জন উপপ্রধান বিচারপতি থাকবেন। তাদের একজন হবেন ন্যায়পাল।
১১) ন্যায়পাল যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক সমযোতার উদ্যোগ নিবেন। এবং তিনি সাংবিধানিক আদালতের প্রধান হবেন।
১২) সাংবিধানিক আদালতের একটি সংবিধান বেঞ্চ থাকবে। সংবিধান নিয়মিত এবং প্রতিবছর আপডেট হবে। এই বেঞ্চ তা নিয়ে কাজ করবে।
১৩) প্রতিনিধিসভা ও গণসভা দুটো মিলে ৫১% সদস্য একমত হলে সংবিধান সংশোধন করা যাবে। অথবা গণসভার উপস্থিত ৬৬% এবং প্রতিনিধি সভার উপস্থিত সদস্যের ৬৬% একমত হলে সংবিধান সংশোধন করা যাবে। সভায় যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থিতির শর্ত ৫১%। কিন্তু সংবিধান সংশোধন এর ক্ষেত্রে তা হনে ৬০%।
১৪) রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এবং একজন উপ রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করা হবে।
১৫) ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে ১ জন প্রধানমন্ত্রী যুক্তিসঙ্গত নয়। তাই একজন উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করা হবে।
১৬) প্রতিটি বিভাগে একজন বিভাগীয় মন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করা হবে। তিনি বিভাগীয় পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব প্রাপ্ত হবেন।
১৭) জেলাপরিদ সভাপতিগণ বিভাগীয় পরিষদের সদস্য হবেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ সদস্য হবেন। ইউপি চেয়ারম্যান গণ উপজেলা পরিষদ সদস্য হবেন।
খ) সরকার ও রাজনীতি
১) রাজনীতির মান উন্নয়নের জন্য ‘‘বাণিজ্য সংগঠন আইন’’ ও ‘‘ সামাজিক সংগঠন আইন’’ এর অনুরুপ ‘‘রাজনৈতিক সংগঠন আইন’’ পাস করা হবে।
২) রাজনৈতিক সংগঠন আইনের অধীনে রাজনৈতিক সংগঠন বিধিমালা জারি করে রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ার জন্য নূন্যতম যোগ্যতার বিধান জারি করা হবে। যাতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ঋণখেলাপের শর্ত ও আয়কর রিটার্ন এর বাধ্যতা রাখা হবে।
৩) প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের যেকোনো কমিটি অন্তত ৩ স্তরের সাংগঠনিক কাঠামো দ্বারা নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। উধ্বতন নেতার পছন্দে স্থানীয় কমিটিতে পদ-পদবির সুযোগ রহিত করা হবে।
৪) প্রতিটি সরকারী দপ্তর মাসে অথবা ৩ মাসে একদিন গুণশুনানীর নিয়মের অন্তভূক্ত থাকবে। যাতে জনসাধারণ সরাসরি অংশগ্রহণ ও অভিযোগ করতে পারে।
৫) রাস্তায় ও খোলা জায়গায় রাজনৈতিক সমাবেশ নিরুৎসাহিত করা হবে। রাজনীতিতে মিছিল ও মাইকিং থাকবেনা।
৬) জনগনের সকল দাবী ও চাওয়া পাওয়া যথা সময়ে সমাধান করার লক্ষ্যে সরকারী জাতীয় পর্যায়ে গণদাবী কাউন্সিল গঠন করবে। যাতে সরকারী বেসরকারী প্রতিনিধি থাকবে। এবং জেলা পর্যায়ে কাউন্সিল সম্প্রসারিত করা হবে।
৭) সরকারের নিকট যেকোনো দাবী যেকোনো দল, সংগঠন, ব্যক্তি ও এলাকাবাসী। জাতীয় গণদাবী কাউন্সিলের নিকট প্রেরণ করবে। গণদাবী কাউন্সিল সরকারী প্রতিনিধি ও দাবীকারীদের উন্মুক্ত শুনানী অনুষ্ঠিত হবে। শুনানী শেষে দাবী বাস্তবায়নে কাউন্সিল সরকারী সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরকে একটি সুপারিশনামা পেশ করবে। সে অনুযায়ী সরকারী দপ্তর তা বাস্তবায়ন করবে।
৮) কাউন্সিলে দাবী গ্রাহ্য না হলে নাগরিক হিসেবে অন্যান্য যেকোনো ভাবে দাবী আদায়ের জন্য মত প্রকাশের সকল স্বাধীনতা উন্মুক্ত রাখা হবে।
৯) দূর্নীতি অবৈধ ব্যবসা যেকোনো ফৌজদারী অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের সারাজীবনের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করা হবে।
গ) আইন ও বিচার ব্যবস্থা
১) দেশের সকল সকল আইন পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২) আদালতে মামলার জট কমাতে উপজেলা পর্যায়ে মেজিস্ট্রেট এর অধীনে ‘‘প্রাক-আদালত’’ থাকবে। তারা পারিবারিক, জামিনযোগ্য, ভুল বোঝাবুঝি জনিত মামলাগুলো আদালতের আগে সমযোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিবে।
৩) জজকোর্ট, মেট্রোপলিটন কোট, জেলা কোট থেকে যেকোনো মামলা বাদী ও বিবাদীর সম্মতিতে সমযোতার জন্য প্রাক আদালতে স্থানান্তর করা যাবে।
৪) প্রাক আদালতে যেকোনো ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী ব্যক্তি বা আইন পেশায় ১ বছরের ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তি অথবা বাদী বিবাদী নিজেরা মামলা পরিচালনা করতে পারবে।
৫) কোন কোন মামলা প্রাক আদালতে করতে হবে। কোন কোন মামলা কিভাবে প্রাক আদালতে স্থানান্তর করা যাবে তা আইনে নির্ধারিত থাকবে।
৬) বিশেষ আদালত গঠন করে জমে থাকা ১৬ লক্ষ মামলার জট সরানো হবে।
৭) পরিবহন, পরিবেশ, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে আলাদা আদালত প্রতিষ্ঠা করা হবে।
৮) আদালত ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে গতি বাড়ানো হবে। এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দূরে থাকা স্বাক্ষী ও আসামীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে।
৯) কিছু মামলা এক কোর্টে বা একইদিনে নিস্পত্তির নীতি গ্রহণ করা হবে। যা বিশ্বের অনেক দেশে রয়েছে।
১০) ভার্চুয়াল ও নাগরিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হবে। যাতে যেকোনো নাগরিক যেকোনো স্থান থেকে স্বাক্ষ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ করতে পারবে।
১১) প্রতিটি সরকারী ও বেসরকারী অফিসে আভ্যন্তরীণ নিষ্পত্তি বিভাগ খোলা হবে। জনসাধারণ তাৎক্ষনিকভাবে তাতে অভিযোগ করতে পারবেন। এবং তা সাথে সাথে নিষ্পত্তি হবে। এতে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে। সেবার মান উন্নয়ন হবে। স্থায়ী অভিযোগ কমে যাবে। বেশীরভাগ সমস্যা আদালতে যাওয়ার আগে সমাধান হবে।
১২) নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হবে।
১৩) রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা করার সুযোগ রহিত করা হবে।
১৪) দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে বিনামূল্যে আইনিসেবা নিশ্চিত করা হবে।
১৫) নতুন আইনগুলো এমনভাবে তৈরী করা হবে। যাতে দিনের পর দিন মানুষকে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হবে না।
১৬) কারাগারের পরিবেশ উন্নয়ন করা হবে। কারাগারে নানাবিধ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
১৭) কারাগারে সামাজিক সংগঠনসমূহকে কাজ করার সুযোগ করে দেয়া হবে।
১৮) বিনাবিচারে জেল খাটা এবং অপরাধ করে পার পাওয়ার যেসব আইনের ফাঁক আছে। সেগুলো বন্ধ করা হবে।
ঘ) সরকারী সেবা, নাগরিক অধিকার ও নাগরিক অংশগ্রহণ
১) ইউনিয়ন পরিষদে সরকারী সচিব এর পাশাপাশি একজন বা দুইজন নাগরিক সচিব নিয়োগের বিধান চালু করা হবে। সেবা গতিশীল করতে তিনি সহযোগিতা করবেন।
২) উপজেলা পর্যায়ে ইউপি নিকটতম পরাজিত মেম্বার প্রার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নাগরিক পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা পরামর্শ প্রেরণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।
৩) জেলা পর্যায়ে সরকারী ও বেসরকারী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নাগরিক দাবী কাউন্সিল গঠন করা হবে। যাতে যেকোনো নাগরিক যেকোনো দাবী নিয়ে উক্ত কাউন্সিলে উপস্থিত হতে পারবেন। নাগরিকগণ তাদের যেকোনো দাবী উক্ত কাউন্সিল এর নিকট পেশ করার পর। কাউন্সিল শুনানীর আয়োজন করবে। শুনানী শেষে দাবী যুক্তযুক্তি মনে হলে তা সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে কাউন্সিল এর পক্ষ থেকে প্রেরণ করা হবে।
৪) বিভাগীয় পর্যায়ে পেশাজীবি পরিষদ গঠন করা হবে। তাতে বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। তারা তাদের নিজস্ব খাতভিত্তিক পরামর্শ সরকারের নিকট পেশ করতে পারবেন।
৫) সরকারী অফিসে বেসরকারী ও স্বাধীন নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেবা এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে।
৬) সরকারী অফিসের কাজের গতি ও সেবার মান বাড়াতে। সেবা টোকেন চালু করা হবে। যাতে কর্মচারীদের বাড়তি কাজের জন্য বাড়তি মুজুরী দেয়া হবে। এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে দেয়া টোকেন কত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে তা ট্রাক করা হবে।
৭) উপজেলা পর্যায়ে নাগরিক অধিকার ও সেবা বিষয়ক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। সরকারী এবং বেসরকারী পর্যায়ে সেবাবঞ্চিত যেকোনো নাগরিক তার কাছে গিয়ে সেবার বিষয়ে অভিযোগ করে নিষ্পত্তি গ্রহণ করতে পারবেন।
৮) প্রতিটি থানায় নাগরিকদের পরামর্শ দেয়ার জন্য কাউন্সেলিং অফিসার নিয়োগ করা হবে। যারা মনস্তাত্বি বিষয়ে প্রশিক্ষিত হবেন। এবং নাগরিকদের যেকোনো কথা শুনে তাকে পরামর্শ দিবেন।
৯) সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নাগরিক পরামর্শগ্রহণ, প্রযোজ্যক্ষেত্রে সভায় নাগরিক প্রতিনিধি অন্তভূক্ত করণ এবং নাগরিক সেবা ও অধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঙ) নিরাপত্তা ও পুলিশ প্রশাসন
১) পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হবে এবং স্বায়ত্তশাসিত ও স্বাধীন জননিরাপত্তা কমিশন গঠন করে তার অধীনে ন্যস্ত করা হবে।
২) পুলিশ প্রশাসনে বিভিন্ন উপশাখা চালু করা হবে। যেমন পরিবেশ পুলিশ যারা নদী খাল ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার জন্য কাজ করবে।
৩) থানার ভেতরে অশস্ত্র পদে স্বাধীন নাগরিকদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। ২২-২৫ বছর বয়সের নাগরিকদের সরকারী চাকুরীর ইন্টারর্নশীপ হিসেবে ১ বছরের জন্য থানায় সেবা এজেন্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবে।
৪) পুলিশের বেতন ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে তাদের নিরাপদ ও উন্নত জীবন যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আরো বেশী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে তাদেরকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থেকে দূরে রাখা হবে।
চ) প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
১) দেশকে ১৬টি বিভাগ, ৯৬টি জেলায় ভাগ করা হবে। আরো নতুন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন সৃষ্টি করা হবে।
২) সকলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে কিছু কিছু মন্ত্রণালয়কে বিকেন্দ্রীকরণ করে বিভাগীয় অফিসের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
৩) রাজধানী ঢাকার উপর চাপ কমাতে অন্য একটি শহরকে শিক্ষা নগরী, একটি শহর চিকিৎসা নগরী, একটি শহরকে শিল্প নগরী, একটি শহরকে ফিল্মসিটি, একটি শহরটি আইটি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মাষ্টার প্লান তৈরী করা হবে।
৪) বিভাগীয় সচিবালয় ও বিভাগীয় পরিষদ কার্যালয় স্থাপন করা হবে।
৫) উপজেলা পর্যায়ে প্রাক আদালত স্থাপন করে আইনসেবাকে জনগনের আরো কাছে নিয়ে যাওয়া হবে।
৬) সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কাউন্সিলরদের স্বতন্ত্র কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ করা ও কাজের ভারসাম্য সৃষ্টি করা হবে।
৭) প্রশাসনিক কাঠামো থেকে ব্রিটিশ আমলের নীতি পরিহার করে এটি আধুনিক অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থায় রুপান্তর করব।
৮) প্রশাসনে বদলি ও রদবদলে রাজনৈতিক বিবেচনার বদলে একটি নিরপেক্ষ নীতি ও মানদন্ড চালু করবো।
৯) সরকারী অফিস পারফর্ম ইন্ডিকেটর এর মাধ্যমে সেবার মান, কাজের গতি ও পদোন্নতি নিশ্চিত করবো।অ
জ) দূর্ণীতি দমন ও পদ্ধতিগণ সংষ্কার
১) বিভাগীয় পর্যায়ে দুদকের কার্যালয় ও সেবাকে সুসংহত করা হবে।
২) প্রতিটি দপ্তরে একটি আভ্যন্তরীণ ‘‘সমাধান ও মনিটরিং ইউনিট’’ খোলা হবে। যারা তাদের কার্যালয়ের সেবা ও অনিয়মের উপর সার্বক্ষনিক নজর রাখবে। প্রয়োজনে এখানে বেসরকারী ও নাগরিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।
৩) দূর্নীতির মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
৪) মানি লণ্ডারিং আইন সংশোধন করে মানি লণ্ডারিং এর শুভংকরের ফাঁকি বন্ধ করা হবে।
৫) সরকারী কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ সুবিধা বৃদ
