ফ্রিজ
ফ্রিজ

নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার রাখলে বাঁচবে খাবার, কমবে অপচয়

ফ্রিজ পরিষ্কার রাখুন: অগোছালো নয়, থাকুক সতেজ ও স্বাস্থ্যকর

ঘরের প্রতিটি কোণ ঝকঝকে রাখার চেষ্টা করি আমরা। তবে রান্নাঘরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ—ফ্রিজটির দিকে নজর দিতে অনেকেই ভুলে যাই। অথচ ফ্রিজই এমন একটি জায়গা, যেখানে পুরনো সস, বাকি থাকা খাবার, দুধ কিংবা শুকিয়ে যাওয়া সবজি জমে থেকে একসময় দুর্গন্ধ ও অগোছালো অবস্থার সৃষ্টি করে।

পেশাদার গৃহসমন্বয় বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘লাইফ ইন জেনারেল’-এর প্রতিষ্ঠাতা জেন রবিন বলেন, “একটি পরিষ্কার ও গোছানো ফ্রিজ শুধু দেখতে সুন্দর নয়, এটি খাবার দীর্ঘসময় টাটকা রাখে, অপচয় কমায় এবং অর্থ সাশ্রয়েও সাহায্য করে।”

মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিন

রবিনের মতে, প্রথমেই ফ্রিজ থেকে দুধ, দই, পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবারের মেয়াদ দেখে নিতে হবে। আগের সপ্তাহের পুরনো খাবারগুলো ফেলে দিতে হবে। পাশাপাশি ফলমূল ও সবজির ট্রে খুলে দেখা জরুরি—যেগুলো নরম, পচে যাওয়া বা পিচ্ছিল হয়ে গেছে, সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলুন।
তিনি পরামর্শ দেন, “সপ্তাহে অন্তত একদিন পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারগুলো দেখে ফেলে দিন। এতে ভবিষ্যতে অপচয় রোধ হবে এবং ফ্রিজও থাকবে সতেজ।”

অব্যবহৃত সস ও চাটনি

চার মাস আগের সরিষার সস বা মেয়োনিজের বোতলটি কি এখনও পড়ে আছে? রবিন বলেন, “প্রত্যেকের ফ্রিজেই এমন একটি বোতল থাকে, যা একবার খুলে আর ব্যবহার করা হয়নি।”
তার পরামর্শ, “গত ছয় মাসে এটি ব্যবহার করেছেন কি না ভেবে দেখুন। যদি না করেন, তবে এখনই ফেলে দিন।” নিয়মিত ব্যবহৃত সস বা ড্রেসিংগুলো স্বচ্ছ ও সহজে ধরার মতো কন্টেইনারে রাখলে ফ্রিজ থাকবে আরও গুছানো।

অপছন্দের খাবার রাখবেন না

অনেক সময় নতুন কিছু কিনে পরে বুঝি, এটি খেতে ভালো লাগে না। রবিন বলেন, “এমন খাবার ফ্রিজে জায়গা দখল করে রাখে, অথচ কেউ খায় না।” তাই এসব খাবার ফেলে দিতে দোষ নেই। “সবাই কখনও না কখনও ভুল খাবার কেনে,” যোগ করেন তিনি, “বিষয়টা হলো সেটি আবার না করা।”

অজানা কন্টেইনারের রহস্য

প্রায় প্রতিটি পরিবারের ফ্রিজেই কিছু ‘রহস্যময় বাক্স’ থাকে, যেগুলোর ভেতরে কী আছে কেউ জানে না। রবিনের পরামর্শ, “যদি মনে না থাকে কখন রেখেছেন বা এর ভেতরে কী আছে, তবে বিনা দ্বিধায় ফেলে দিন।” ভবিষ্যতে এমন অবস্থা এড়াতে স্বচ্ছ ও লেবেলযুক্ত বাক্সে খাবার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

ভাঙা বা পুরনো বাক্স বাদ দিন

ফ্রিজ গোছানো রাখতে ভালো মানের সংরক্ষণ বাক্স গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো বা ভাঙা বাক্স যেগুলোর ঢাকনা ঠিকমতো বন্ধ হয় না, সেগুলো ফেলে দিন। “ফ্রিজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি মডুলার কন্টেইনার ব্যবহার করুন,” বলেন রবিন। এতে শুধু ফ্রিজই থাকবে পরিপাটি নয়, খাবারের সতেজতাও বজায় থাকবে।

একই জিনিসের একাধিক বোতল

একই সস বা ড্রেসিংয়ের একাধিক বোতল অনেকের ফ্রিজেই থাকে। রবিন বলেন, “তিনটি একই ধরনের স্যালাড ড্রেসিং বা দুই বোতল সস অপ্রয়োজনীয়ভাবে জায়গা দখল করে।” মেয়াদ কাছাকাছি থাকলে একত্র করতে পারেন, তবে মেয়াদ ভিন্ন হলে মেশানো উচিত নয়। এতে দূষণ হতে পারে।

পুরনো বেইকিং সোডা বদলান

ফ্রিজের গন্ধ দূর করতে বেইকিং সোডা কার্যকর হলেও তা চিরদিন কাজ করে না। যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা ‘আর্ম অ্যান্ড হ্যামার’ জানায়, খোলা বেইকিং সোডার বাক্স প্রতি ৩০ দিন পর বদলে ফেলতে হয়। নিয়মিত পরিবর্তন করলে ফ্রিজ থাকবে সতেজ ও গন্ধমুক্ত।

একটি পরিষ্কার, গোছানো ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষিত ফ্রিজ শুধু ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তারও নিশ্চয়তা দেয়।

সূত্র: জ্ঞানের কথা
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: channel24bd.tv

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply