সবজান্তা
মনে রাখবেন, আপনি সবকিছু জানেন আর বোঝেন আর অন্যরা কম বোঝে এটামনে করার কোনো কারণ নেই

আপনি কি নিজেকে সবজান্তা ভাবেন?

আত্মযাচাই: আপনি কি নিজেকে সবজান্তা ভাবেন?

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

নিজেকে সবজান্তা ভাবেন কি না? এই প্রশ্ন কেউ যখন করে, হয়তো ভাবেন- আমি কি এতই খারাপ নিজেকে সবজান্তা ভাবব?’। কিন্তু বন্ধুবান্ধব ঠিকই সামনে-পিছনে এরকম বলে তাকে যে, ‘তুমি তো নিজেকে মহাপন্ডিত ভাব’ অথবা ‘ভাব দেখে মনে হয়, সে-ই সব কিছু বোঝে আর কেউ কিছু বোঝে না’। অবস্থা যখন এরকম তখন নিজেই নিজেকে যাচাই করুন। আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ কতটা সত্য।

আসুন নিজের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিই: প্রতিটি ক উত্তরের জন্য ১৫, খ উত্তরের জন্য ১০ ও গ উত্তরের জন্য ৫ নাম্বার দিন।
১) কথায় কথায় প্রায় সময় বলে থাকেনÑ
ক) আমি মানুষের চেহারা দেখলে বুঝি, কে কেমন মানুষ।
খ) আসলে কখনো কখনো মানুষের হাবভাব দেখলে অনেক কিছু বোঝা যায়।
গ) মানুষকে কি আর চেহারা দেখে বোঝা যায়?

২. বন্ধুদের মাঝে কথা বলার সময় যে আচরণটি করে থাকেনÑ
ক) অন্যদের কথা বলার সুযোগ না দিয়ে নিজেই কথা বলতে থাকেন।
খ) অন্যদের কথা বলা শেষ হলে শুরু করেন; তারপর সহজে শেষ করেন না।
গ) অন্যদের কথা বেশি শোনেন, নিজে কম বলেন।

৩. প্রায় সময় অন্যদের বলে থাকেনÑ
ক) এই বিষয়ে তুমি আমার চেয়ে বেশি বোঝ না।
খ) এই বিষয়ে আমি অনেক কিছু জানি।
গ) এই বিষয়ে আমি শুধু এটুকু জানি যে,……

৪. প্রায় সময় আপনাকে এই কথাগুলো শুনতে হয়Ñ
ক) তুমি এত কথা বলো কেন?
খ) তুমি একটু বেশি বোঝ।
গ) তারপর বলো, কী হয়েছে?

৫. কখনো কখনো নিজেই বুঝতে পারেন যে,
ক) অন্যদের চেয়ে বেশি জানেন।
খ) কিছু কিছু ব্যাপারে ভালোই জানেন।
গ) আরো অনেক জানার বাকি রয়েছে।

৬. আপনাকে বক্তৃতার মঞ্চে যে সময় দেয়া হয়Ñ
ক) সব সময় তা পার করে দিয়েও বক্তৃতা দিতে থাকেন, ¯িøপ দেয়ার পরও বলতে থাকেন।
খ) সব সময় পুরোটা সময় ব্যবহার করেন, শেষ করতে বললে শেষ করেন।
গ) একটি কাক্সিক্ষত ও যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ করেন। পরিস্থিতি বুঝে সময় নেন।

৭. কেউ আপনার কাছে কোনো বিষয়ে পরামর্শ চাইলে যা করেনÑ
ক) যেকোনো বিষয়ে একটা মতামত বা মন্তব্য দিয়ে বসেন।
খ) বুঝে-শুনে কথা বলার চেষ্টা করেন।
গ) জানলে কিছু বলে দেন। না জানলে বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করেন।

উপদেশ দেয়ার ব্যাপারে আপনি বরাবরইÑ
ক) যাকে-তাকে যেকোনো উপদেশ বা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
খ) কেউ আপনার কাছে পরামর্শ চাইলে তাকে যতটুকু বলার ততটা বলেন।
গ) পারতপক্ষে কাউকে উপদেশ দেন না।

৯. বয়সে ছোট, চাকরিতে অধস্তন বা নতুন পরিচয় অথবা গ্রাম থেকে আসাÑ এ সমস্ত লোকের ব্যাপারে যা করেনÑ
ক) আগে থেকে ধারণা করে নেন যে, যেহেতু লোকটি কোনো একবিষয়ে আপনার চেয়ে পেছনের অবস্থানে আছে, সুতরাং সে আপনার চেয়ে কম জানে।
খ) লোকের হাবভাব দেখে আন্দাজ করার চেষ্টা করেন লোকটি কম জানে, নাকি বেশি জানে।
গ) মনে করেন যে, প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন এবং কিছু বিষয়ে তার কমতি থাকতেই পারে। সেটা তার দুর্বল দিক নয়।
অথবা কারো জানা-অজানা নিয়ে আপনার কোনো মাথা-ব্যথাই নেই।

১০. কখনো কোনো ভুল করার পর যা করেন¬Ñ
ক) কখনোই স্বীকার করতে চান না যে, আপনার ভুল হয়েছে।
ক) পরিস্থিতি বুঝে কখনো কখনো বলেন যে, আচ্ছা, ঠিক আছে। এটা আসলে ওভাবে ছিল না এভাবে হবে।
গ) অকপটে ভুল স্বীকার করেন, দুঃখিত বলেন এবং নতুন করে কাজে মনোযোগ দেন।

এবার আপনার স্কোর মেলানোর পালা।
১৩০-১৫০: নিজেকে সবজান্তা ভাবছেন প্রতিনিয়ত।
১০০-১২৫: ভাবেন, যা জানেন তা আশপাশের মানুষের তুলনায় অনেক বেশি।
৭৫-৯৫- আপনি নিজেকে মোটামুটি একজন জানাশোনা মানুষ মনে করেন।
৫০-৭০: মনে করেন, হয়তো কিছু বিষয় জানেন। এরকম প্রতিটি মানুষই কিছু না কিছু বিষয়ে জ্ঞান রাখে।
সুতরাং এবার ভাবুন বদলে যাওয়ার কথা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply