নাল জমি রেহান (বন্ধক) দলিল: একটি সম্পূর্ণ নমুনা ও ব্যবহার নির্দেশিকা
শোভনীয় কনটেন্ট: গ্রামীণ এলাকায় নগদ টাকার প্রয়োজনে নাল জমি (খাল/জলাশয়) বন্ধক দেওয়া একটি সাধারণ প্রথা। এই ধরনের লেনদেনে জমির প্রকৃতি ও ব্যবহারের ধরন ভিন্ন হওয়ায় একটি স্পষ্ট দলিলের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচের নমুনা দলিলটি এ ধরনের চুক্তির一একটি সাধারণ রূপরেখা প্রদর্শন করে। এটি কেবলমাত্র একটি শিক্ষামূলক উদাহরণ; বাস্তবে ব্যবহারের আগে একজন যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
নাল জমি রেহান (বন্ধক) নামা দলিল
প্রথম পক্ষ / বন্ধকদাতা
নাম: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, পিতা: মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ঠিকানা: পূর্ব খিলগাঁও, ঢাকা। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- কৃষি।
দ্বিতীয় পক্ষ / বন্ধকগ্রহিতা
নাম: মোঃ রবিউল করিম, পিতা: মোঃ জালাল উদ্দিন, ঠিকানা: পশ্চিম খিলগাঁও, ঢাকা। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- মৎস্য চাষ।
পরম করুণাময় মহান আল্লাহতায়ালার নামে এই রেহান দলিল শুরু করলাম। আমি প্রথম পক্ষ, নিচের তফসিলে বর্ণিত নাল জমিটির বৈধ মালিক এবং শান্তিপূর্ণভাবে এর ভোগদখল করছি।
বর্তমানে আমার নগদ টাকার বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায়, আমি উক্ত নাল জমিটি রেহান (বন্ধক) রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আপনি দ্বিতীয় পক্ষ ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে এটি রেহান রাখতে রাজি হন। তাই, ৩১/১০/২০২৩ ইং তারিখে, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে, আমি প্রথম পক্ষ আপনার (দ্বিতীয় পক্ষের) কাছ থেকে ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা নগদ হাতে হাতে গ্রহণ করেছি এবং বুঝে নিয়েছি। এর বিনিময়ে আমি নিচের তফসিলে বর্ণিত নাল জমিটি বন্ধক রাখলাম।
আমি স্বীকার, অঙ্গীকার এবং ঘোষণা করছি যে, আমি প্রথম পক্ষ যখনই আপনার (দ্বিতীয় পক্ষের) নিকট এই বন্ধকের টাকা পরিশোধ করতে পারব, তখনই আপনি আমার নাল জমিটি আমাকে ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন। এতে আপনি দ্বিতীয় পক্ষ কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি, দাবি-দাওয়া ইত্যাদি করতে পারবেন না। করলেও তা সকল আইন আদালতে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য ও বাতিল বলে গণ্য হবে।
শর্তাবলী:
০১। দ্বিতীয় পক্ষ যদি তার প্রয়োজনে টাকা ফেরত চান, তাহলে তাঁকে অন্তত ০১ (এক) মাস আগে আমাকে (প্রথম পক্ষকে) লিখিত বা মৌখিকভাবে জানাতে হবে।
০২। আমি প্রথম পক্ষ যেকোনো সময় টাকা ফেরত দিয়ে আমার জমি ফেরত নেওয়ার অধিকার রাখি।
০৩। দ্বিতীয় পক্ষ উক্ত নাল জমিটি মৎস্য চাষ, জলাধার, বা অন্য কাজে ব্যবহার করার অধিকার রাখবেন। এতে আমার (প্রথম পক্ষের) কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি বা দাবি-দাওয়া থাকবে না। করলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
০৪। আমি প্রথম পক্ষ যতদিন পর্যন্ত বন্ধকী টাকা সম্পূর্ণরূপে ফেরত না দিই, ততদিন পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষ জমিটি ভোগ ও ব্যবহার করার সম্পূর্ণ অধিকার রাখবেন।
০৫।বন্ধক কালীন সময়ে, জমির কোনো প্রকারের ক্ষতি বা দূষণের দায়িত্ব দ্বিতীয় পক্ষের থাকবে। তিনি নালটি রক্ষণাবেক্ষণ করবেন এবং তার স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখবেন।
০৬। জমিটি বন্ধক নেওয়ার সময়, উভয় পক্ষ যৌথভাবে এর সীমানা ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করেছেন এবং তাতে সম্মত হয়েছেন।
বন্ধকী নাল জমির তফসিল:
-
জেলা: ঢাকা
-
থানা: খিলগাঁও
-
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: তেজগাঁও
-
মৌজা: খিলগাঁও
-
দাগ নং: ১২৩৪
-
জমির প্রকৃতি: নাল জমি (জলাধার)
-
আনুমানিক আয়তন: ২০ শতক
(এই দলিলটি মোট ২ (দুই) পৃষ্ঠায় কম্পিউটারে টাইপ করা হয়েছে)।
এতদ্ব্যতীত, আমি স্বেচ্ছায়, সুস্থ শরীরে ও সুস্থ মনে, অন্য কারোর প্ররোচনা ছাড়াই, এই রেহাননামা দলিলটি পড়ে বুঝে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নিজ নিজ নামে সই করলাম।
তারিখ: ৩১/১০/২০২৩ ইং
সাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর:
১. __________________ (মোঃ শামীম মিয়া), ঠিকানা: পূর্ব খিলগাঁও, ঢাকা
2. __________________ (মোঃ আলীম উদ্দিন), ঠিকানা: পশ্চিম খিলগাঁও, ঢাকা
3. __________________ (নাসিমা আক্তার), ঠিকানা: পূর্ব খিলগাঁও, ঢাকা
__________________
প্রথম পক্ষ / বন্ধকদাতার স্বাক্ষর
(মোঃ জাহাঙ্গীর আলম)
__________________
দ্বিতীয় পক্ষ / বন্ধকগ্রহিতার স্বাক্ষর
(মোঃ রবিউল করিম)
পরামর্শ:
-
জমির মালিকানা যাচাই করুন: বন্ধক নেওয়ার আগে, জমির মালিকানা, দাগ নম্বর এবং আয়তন জমি রেকর্ড খতিয়ান, দাখিলা, থেকে গভীরভাবে যাচাই করুন যে, প্রথম পক্ষের এটি বন্ধক দেওয়ার আসলেই অধিকার আছে।
-
স্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ: নাল জমির সীমানা মাঠে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করুন এবং সম্ভব হলে একটি খসড়া মানচিত্র বা স্কেচ দলিলের সাথে সংযুক্ত করুন, যাতে পরে সীমানা নিয়ে কোনো বিবাদ না হয়।
-
ব্যবহারের অধিকার স্পষ্ট করুন: দলিলে দ্বিতীয় পক্ষ ঠিক কী কী কাজে জমিটি ব্যবহার করতে পারবেন মাছ চাষ, সেচ, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। বিপরীতভাবে কোন কোন কাজ করতে পারবেন না পাড় কাটা, মাটি ভরাট, তাও উল্লেখ করুন।
-
পরিবেশগত দিক: নাল জমি একটি স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্র। নিশ্চিত করুন যে দ্বিতীয় পক্ষ এমন কোনো কাজ করবেন না, যা পরিবেশের ক্ষতি করে বা প্রতিবেশীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার।
-
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ: প্রয়োজন মনে হলে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সম্পর্কিত দপ্তর কে এটি সম্পর্কে জানানো বিবেচনা করা যেতে পারে।
নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

