দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই
-জাহাঙ্গীর আলম শোভন

দীর্ঘদিন ধরে প্রায় বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছে যার কারণে মানুষের আয় কমেছে। আমিষ ভোগের ক্ষমতা কমেছে। দারিদ্রতা বেড়েছে। এমনকি দারিদ্রসীমা পরিবর্তনের সময় ও প্রশ্ন এসেছে।
আমাদের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও এ সংক্রান্ত বেশীরভাগ সমস্যা কারণ সকলের জানা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের বাজার অর্থনীতির কাঠামোর কারণে আমাদের দেশে ফড়িয়ারা বেশ শক্তিশালী হয়ে থাকে। অধিকন্তু ভূমি কম মানুষ বেশী এবং উৎপাদনখাতে কতিপয় সিন্ডিকেট এবং বিগফিস এর কাছে খাতভিত্তিক অর্থনীতি জিম্মি হয়ে আছে।
আর তাই এর থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন বহুমাত্রিক উদ্যোগ। তবে ক্রেতা সাধারণের ভূমিকাও যে আছে সেটাও মনে রাখতে হবে। সাধারণ পণ্যের দাম বাড়লে তার ব্যবহার কমে এটা বিশ্বজুড়ে ব্যবহারিক সত্য। কিন্তু আমাদের দেশে এর প্রভাব এত কম যে, ফড়িয়ারা সে সুযোগটা নেয়। কারণ পণ্যের দাম বাড়িয়ে কয়দিনের কারো কারো ভাগ্য বদলে যায়। ফলে তারা এই সুযোগ বার বার নেয়। শুধু ভোগপণ্যটি বদলে নেয়।
একবার পেঁয়াজ দিয়ে করলে পরের বার আলু। কেউ ডিম দিয়ে করলে কেউ ছোলা দিয়ে করে। এভাবে চলে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ভাল দিক হলো এই বাজারে কারা খেলে আর কিভাবে খেলে সেটা আমরা সবাই জানি। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পদ্ধতি ঠিক করার ক্ষেত্রে এই বিষয়টা আমাদের একধাপ এগিয়ে রাখে। আরেকটা বিষয় হলো বিগত দিনগুলোতে কোন কোন পদ্ধতি ফেল করেছে এটা বিচার বিশ্লেষণ করা জরুরী।
এছাড়া বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের অনেক কাজ সহজ করে দিয়েছে । সেটাও মাথায় রাখতে পারি। তবে কোনো কোম্পানী বন্ধ করে, জেলে নিয়ে, হামলা করে , ভাঙচুর করে সমস্যার সমাধান হবে না। এটাও মনে রাখতে হবে। আবার ১০০ ভাগ ছেড়ে দিয়েও হবে না। আমি শুনেছি এসব কোম্পানীর ম্যানেজারের ভোক্তা অধিকারের সভায় সব ‘‘ইয়েস’’ বলে বের হয়। লিফট থেকে মেনে ম্যানেজারকে ফোন দিয়ে বলে দেয়। ‘‘টিভিতে যা বলেছি সেটা দেখার দরকার নেই। আগের মতো চলবে। ’’
আমার অল্প কিছু অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে দেশ নিয়ে ভাবনার ফলাফল হিসেবে কিছু সমন্বিত প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলো।
আশা করছি নতুন সরকার এখান থেকে কোনো আইডিয়া গ্রহণ করতে পারবে।

ক। বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ

১) সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা: এর কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অযুহাত খুঁজে পায়।
২) জনসংখ্যার অতিঘনত্ব ও আমদানীর উপর নির্ভরতা। এতে করে ডলার, জাহাজ ভাড়া, কর যেকোনো একটির একটুখানি বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা অনেকখানি দাম বাড়িয়ে নেয়।
৩) খাদ্যে পরনির্ভরশীলতা। আবাদী জমি কম হওয়ার কারণে বিশাল জনগোষ্ঠির খাদ্যের জন্য অন্যদের উপর নির্ভর বাংলাদেশ।
৪) বাজার ব্যবস্থায় অসাধু সিন্ডিকেটের রাজত্ব। বিভিন্ন খাতে অন্যদের জন্য ব্যবসার সুযোগ সীমিত করে একটি প্রতিষ্ঠান বা দল নিজেরা রাজত্ব কায়েম করে এবং দাম বাড়িয়ে নিতে পারে সুবিধামত।
৫) সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা।
৬) রাজনৈতিক দলগুলোর দখলবাজি ও চাঁদাবাজি
৭) অসমন্বিত ও অগোছালো সাপ্লাই চেইন।
৮) বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, জ্বালানির অশান্তমূল্য, কোল্ডস্টোরের অতি খরচ ইত্যাদি
৯) স্থানীয় ফড়িয়া, মহাজন, দাদনদারদের দৌরাত্ম
১০) তথ্য সমন্বয়ের অভাব ও সরকারী জনবল সংকট।
১১) যথাযথ কতৃপক্ষের অভাব ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা
১২) ক্ষণস্থায়ী বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ এর অনুপস্থিতি।
১৩) দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলেও অনেকসময় জনসাধারণ পর্যায়ে পণ্যটির ব্যবহার কমতে দেখা যায় না। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বাড়াতে আরো বেশী আগ্রহী হয়ে উঠে।

ধাপে ধাপে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের উপায় :
ধাপ ১ : জমির দাম কমাতে হবে-

১) জমির দাম কমানোর জন্য একজন মানুষ ও কোম্পানী কি পরিমাণ জমি কিনতে পারবে এবং বাড়তি কর দিয়ে সর্বোচ্চ কি পরিমাণ জমি কিনতে পারবে তার একটি হিস্যা থাকা জরুরী।
২) অনাবাদী জমির জন্য বাড়তি ট্যাক্স এবং ৩ বছর অনাবাদী থাকার কারণে তামাদি হয়ে যাওয়ার বিধান চালু করতে হবে।
৩) আবাসন খাতে স্বেচ্চাসেবি সংগঠন ও এনজিও এর কাজের পরিধি প্রসারিত করতে হবে।
৪) ব্যাংক লোন এর মাধ্যমে জমি কেনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৫) কোন এলাকার জমি কি কাজে ব্যবহার করা যাবে তা নির্ধারণ করতে হবে। সব এলাকায় কৃষি ও সব এলাকায় শিল্প এবং সব এলাকায় আবাসভূমি একসাথে থাকতে পারে না।
৬) জমির দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে পারে না। সব এলাকার জন্য জমির দাম অথবা জমির দাম নির্ধারণের নীতি ঠিক করতে হবে।
৭) অনাবাদী জমির উপর ঋণ দেয়া বন্ধ করতে হবে। অনাবাদী জমির মালিককে ‘‘খোড়া’’ উপাধি দিতে হবে।
৮) অনাবাদী জমি কমানোর জন্য তেভাগা চাষ চালু করতে হবে সমিতির মাধ্যমে।

ধাপ ২: স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে

১) প্রতিটি স্থানীয় হাট ও বাজারে সরকারী ভূমি, ভবন ও কার্যালয় থাকতে হবে। সরকারী অফিস ছাড়া বাজার অনুমোদন দেয়া হবে না। বাজার বেসরকারী সংস্থাও বসাতে পারবে কিন্তু সেখানে সরকারী ব্যবস্থাপনা কতৃপক্সের জন্য কার্যালয় রাখতে হবে।
২) বাজার কার্যালয় সরকার, বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় ব্যবহারকারীদের সহযোগিতায় নির্মিত হবে।
৩) বাজারে সরকারী প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমিতি, নাগরিক সমাজ ও ভোক্তা ফোরাম থাকবে এই চার শ্রেণীর অংশগ্রহণ থাকতে হবে। তাদের সমিতি ও কমিটি থাকতে পারে।
৪) সমিতি ও কমিটিগুলোর একটি নির্দেশিকা থাকবে তারা স্থানীয় সরকার থেকে অনুমোদন নেবে। অথবা জেলা প্রশাসন থেকে বা জেলা স্থানীয় সরকার অফিস থেকে। এটা সমাজকল্যাণ থেকে নেয়া বাধ্যতামূলক করা যাবে না। কারণ সমাজকল্যাণের কাঠামোর সাথে এর বৈপরীত্য থাকবে।
৫) সমিতিগুলোর খুব ন্যুনতম চাঁদা থাকবে। তাদের কমিটি ও নির্বাচন থাকবে। সদস্যপদ সরকারী নিয়মে ও ব্যবস্থাপনায় হবে। ডিজিটাল অভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে তা পরিচালিত হবে।
৬) সমিতি ও কমিটিগুলো বাজারের উপর নজর রাখবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবে।
৭) সরকারের একটি জাতীয় রেটচার্ট পোর্টাল থাকবে। সমিতি, কমিটি, পরিষদ ও সরকারী প্রতিনিধি সকলে মিলে বাজার উন্নয়ন ও ভোক্তা অধিকার রক্ষা করবে। তারা উভয়ে স্থানীয় মার্কেট কাউন্সিল বা বাজার পরিষদ নামে পরিচিত হবে। এর মধ্যে নাগরিক কমিটিতে ও ভোক্তা ফোরামে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোক থাকবে।
৮) সরকারের ১ জন নিয়োগকৃত সচিব থাকতে পারে যিনি পরিষদের সেক্রেটারী হিসেবে কাজ করবেন এবং উপজেলা পর্যায়ের ১ জন প্রথমশ্রেণীর কর্মকর্তা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সমিতি, কমিটি ও ফোরামের আলাদা কমিটি থাকবে আলাদা অফিস কক্ষ থাকবে।
৯) বাজারগুলোকে ক/খ/গ শ্রেণীভূক্ত করে বা কৃষি, শিল্প,সেবা শ্রেণীভূক্ত করে সেগুলোর জন্য কমিটি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করা যেতে পারে।
১০) বাজারের বর্তমান ইজারা পদ্ধতি পরিবর্তন করে ঢেলে সাজাতে হবে।
১১) বাজারের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব এই ব্যবস্থাপনা কতৃপক্ষ বহন করবে। এটা ছোটখাটো সিটি কর্পোরেশনর মতো হবে। বাজারটা তাদের দায়িত্বে থাকবে এখানকার ছোটখাটো উন্নয়নও তারা করবে।
১২) বাজারের স্থান কম থাকলে নিচ তলায় আড়ত বা খোলা বাজার উপরতলায় অফিস এভাবে সাজাতে হবে।
১৩) বাজারে আধুনিক সুবিধা যেমন পার্কিং, পয়নিস্কাশন, বজ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দ নিয়ন্ত্রণ, দৃশ্যদূষণ রোধ ইত্যাদির জন্য সরকারের নিয়ম ও নির্দেশিকা থাকবে।
১৪) বাজারে ছাত্র ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সাম্ভাব্যক্ষেত্রে আলাদা কর্ণার রাখতে হবে।

ধাপ ৩: সাপ্লাইচেইন তদারকী

১) উৎপাদিত, বিক্রিত, ক্রিত, গুদামজাতকৃত সকল পণ্য পোর্টালে এন্ট্রি করতে হবে।
২) পন্যগুলো কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে তা প্রযুক্তির মাধ্যমে তদারক করতে হবে।
৩) রাস্তার লাইনম্যানগুলো নিবন্ধনের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে। ডিভাইসের মাধ্যমে লাইনম্যানের সকল কাজের হিসেব রাখতে হবে।
৪) রাস্তায় চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। এটা সরকারী ট্যাক্সের মধ্যে এনে। রাস্তায় পার্কিং রোধে বেসরকারী সংস্থার অধীনে পার্কিং পুলিশ নিয়োগ করে সড়ক নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এতে করে চাঁদাবাজেরা পেশা পাবে এবং সরকার রাজস্ব পাবে আর মালবাহী পরিবহনগুলো রাস্তায় নিরাপত্তা পাবে ও হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে।

ধাপ ৪: জাতীয় ‘‘বাজার দর পোর্টাল’’ তৈরী করতে হবে

১) সারাদেশের সব পন্যের দাম নিয়ে একটি জাতীয় ‘‘বাজার দর পোর্টাল’’ তৈরী করতে হবে। যা সার্বক্ষনিক হালনাগাদ করা যাবে।
২) এই পোর্টালে দেশের সকল পণ্য সেবা স্থানীয় এবং আমদানীকৃত বিভিন্ন পর্যায়ে অন্তভূক্ত থাকবে ও প্রতিদিনের বাজার দর উল্লেখ থাকতে হবে।
৩) পণ্যের আমদানীমূল্য, বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনমূল্য এখানে ইনপুট দিতে হবে। ইনপুট না দিলে বাজারে কেউ পণ্য বিক্রি করতে পারবেনা।
৪) কোনো ভুল তথ্য দাতা বা উদ্দেশ্যমূলক তথ্য;দাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫) বাজার ব্যবস্থার সম্পর্কিত সকল পক্ষ তাদের তথ্য পোর্টালে দিতে হবে।

ধাপ-৫: আইন সংশোধন ও জরিমানা

১। প্রচলিত আইনসমূহ সংশোধন করে সমযোপোযোগী করতে হবে।
২। বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট স্থাপন ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাক-আদালত স্থাপন করতে হবে।
৩। জেলা পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার, ফেয়ার ট্রেড ও বাজার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিশেষ আদালত স্থাপন করতে হবে।
৪। নতুন আইনে ছোট ছোট শাস্তি এবং তা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে নিয়ে আসতে হবে। সামাজিক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে প্রথমবার ক্ষমা করার রীতি চালু করতে হবে। কিছু অপরাধ প্রথমবারের জন্য ফৌজদারী শাস্তি তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। তাদেরকে সমাজসেবামূলক কাজ শাস্তি হিসেবে দিতে হবে। যেমন ৭ দিন বিনালাভে পণ্য বিক্রি করবে এমন শাস্তিও যুক্ত করা যায়।
৫। তবে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার থেকে অবশ্যই কঠিন শাস্তি দিতে হবে। তবে প্রথমবার অপরাধের পরিমাণ বেশী হলে তা প্রথমবারেও ফৌজদারী শাস্তি প্রয়োগ হতে পারে। বিচারহীনতা থেকে বের হয়ে লঘু শাস্তিও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে একধাপ অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
৬। প্রতিযোগিতা কমিশনকে পূনগঠন করে ফেয়ার ট্রেড কমিশন গঠন করে তা বিভাগীয় পর্যায়ে বিস্তুত করতে হবে। কমিশন এর অফিসের ভেতরে আদালত স্থাপন করে অভিযোগের প্রাথমিক নিষ্পত্তির সুযোগ রাখতে হবে।
৭। ব্যবসায়ীদের মামলা যেন বছরের পর বছর না ঝুলে থাকে এবং এক মামলায় যেন বার বার সাজা না হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
৮। আইন সংশোধন করে অর্থপাচারকারীদের জন্য দেশে ব্যবসা করা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৯। আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় সর্বশ্রেণীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
১০। আইনের মধ্যে মৌলিক ও বেসিক বিষয়গুলো রেখে বাকী বিষয়গুলো বিধিতে অন্তভূক্ত করতে হবে। যাতে দ্রততম সময়ে তা পরিবর্তন করা যায়।
১১। প্রতিটি আইন ও বিধি কততম সময়ের মধ্যে পরিবর্তন বা প্রণীত হবে তার সময়সীমা থাকতে হবে। এবং প্রতিটি আইন নিয়ে প্রতিবচর পর্যালোচনা প্রতিবেদন তৈরী করতে হবে যে, এগুলো সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কিনা বা বাস্তবক্ষেত্রে এগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে কিনা।
১৩। সরকারী চাকুরিজীবি ও রাজনীতিবিদদের সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ রেজিস্ট্রি অফিস ছাড়াও নিজ নিজ বিভাগে অবহিতকরণ পদ্ধতি চালু করতে হবে। ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবিদের জন্য সম্পদ অর্জনে নিজ নিজ দপ্তরে তথ্য দেয়ার বিধান রাখতে হবে।

ধাপ ৬: জনসচেতনতা

১) জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারী সকল দপ্তরের প্রচার প্রচারণা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে এর সাথে সংশ্লিষ্ঠ এসোসিয়েশন ও প্রাইভেট সেক্টরকে যুক্ত করতে হবে।
২) প্রতিটি বাজার ইউনিটে ভোক্তা অধিকার পরিষদ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩) জনগনকে কর প্রদান, পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ে অগ্রগামী করতে হবে।
৪) সেবার ক্ষেত্রে করদাতাদের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ সেল গঠন করতে হবে।
৬) বিভিন্ন পরিষদ ও মতামত গ্রহণ পক্রিয়ায় শীর্ষ করদাতাদের যুক্ত করতে হবে।
৭) প্রতিটি অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঘটনায় প্রতিবেদন তৈরী করে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। তদন্ত কমিটিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
৮) করপ্রদান বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তভূক্ত করতে হবে। সিলেবাসে না থাকলেও অতিরিক্ত পুস্তিকা হিসেবে তা অন্তভূক্ত করতে হবে।
৯) ব্যক্তিগত পর্যায়ে করমূক্ত আয়সীমা কমিয়ে নূনতম কর ও করহার কমানোর মাধ্যমে বেশীরভাগ মানুষকে করদাতা বানাতে হবে। স্কুলের শিক্ষক করদাতা হলে ছাত্ররা ভবিষ্যতে করদিতে আগ্রহী হবে।
১০) কোনো পণ্যের দাম বাড়ার আশংকা না দিলে না বেশী কিনে রাখার পরিবর্তে তার ব্যবহার কমানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরী করতে হবে আগে থেকে।
১১) দাম বাড়ার সাথে সাথে মনিটরিং সেলকে মাঠে নেমে জনগনকে তথ্য জানাতে হবে।

ধাপ ৭: সড়কে চাঁদাবাজি রোধ

১। সড়কে চাঁদাবাজি রোধ করে সড়ক মনিটরিং এর কাজ স্থানীয় সরকার বা বাজার পরিষদ এর উপর ন্যাস্ত করা যেতে পারে।
২। চাঁদাবাজদের জন্য বিকল্প কর্মসূস্থান এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। চাঁদাকে এনবিআরএর টোকেনে অন্তভূক্ত করে সরকারী আয় ও কর বাড়ানো যাবে। এবং সে আয় থেকে এলাকা ভিত্তিক ইজারাদার বা বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করে তাকে সড়কে লাইনম্যানের দায়িত্ব দিয়ে রাস্তায় ময়লা ফেলা বন্ধ করা এবং অবৈধ পার্কিং নিয়ণ্ত্রণ ও সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পা