The Book Thief (দ্য বুক থিফ)
পরিচালক: ব্রায়ান পার্সিভাল
ইন্ডাস্ট্রি: হলিউড (যুক্তরাষ্ট্র)
প্রোডাকশন হাউজ: টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স, টেম্পেল হিল এন্টারটেইনমেন্ট
কাস্টিং: সোফি নেলিস (লিসেল মেমিংগার), জিওফরি রাশ (হ্যান্স হুবারম্যান), এমিলি ওয়াটসন (রোসা হুবারম্যান), বেন স্নেচ্টজার (ম্যাক্স), রজার এল্লাম (ডেথ / বর্ণনাকারী)
কাহিনির সারসংক্ষেপ
১৯৩৯ সালের নাৎসি জার্মানিতে বাবা-মাকে হারানো কিশোরী লিসেল মেমিংগারকে একটি দম্পতির কাছে দত্তক দেওয়া হয়। নতুন পরিবারে এসে লিসেল ধীরে ধীরে নতুন জীবনে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করে। সে পড়ে শেখে, পড়ে ভালোবাসে, আর বই চুরি করতে শুরু করে—প্রথমে প্রয়োজন থেকে, পরে প্রেমে পড়ে। হ্যান্স হুবারম্যান নামের স্নেহময় পালক পিতা তাকে পড়তে শেখান। লিসেলের এই ‘বইচুরি’র ঘটনা এক সময় জীবনের সঙ্গে, মৃত্যু ও স্মৃতির সঙ্গে মিশে যায়। এ সময়েই তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয় এক ইহুদি তরুণ, ম্যাক্স, যাকে নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে লুকিয়ে রাখা হয়। যুদ্ধ যত ঘনিয়ে আসে, লিসেলের বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তত গভীর হয়। এই বই-ভালোবাসাই তাকে ভয়াবহ সময়েও কিছুটা মুক্তি দেয়।
পটভূমি ও চিত্রায়ন
দ্য বুক থিফ-এর চিত্রনাট্য মার্কাস জুসাক-এর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি, যেখানে মৃত্যু নিজেই কাহিনির বর্ণনাকারী। জার্মান শহর মলকিং-এর নির্মল অথচ ছায়াঘন আবহে মুভির সেট গড়ে তোলা হয়েছে। ধূসর আলো, জমাট বাতাস, এবং আতঙ্কে মোড়ানো নীরবতা, সব মিলিয়ে সময়ের নির্মমতা পর্দায় স্পষ্ট।
সিনেমাটির ভালো দিক
অভিনয়: সোফি নেলিসের অনবদ্য পারফরম্যান্স ছবির হৃদয়। তার চোখে মিশে আছে ভয়, কৌতূহল ও সাহস, তিনটি স্তরেই তিনি সংবেদনশীল। জিওফ্রি রাশ হ্যান্স চরিত্রে এক অভিভাবকসুলভ কোমলতা নিয়ে হাজির হন, যা ছবির আবেগকে ভারসাম্য দেয়।
সংলাপ ও আবেগ: সংলাপগুলো সংক্ষিপ্ত, কিন্তু গভীর। যুদ্ধকালীন ভয়াবহতার মধ্যে একটি শিশুর আবেগ কীভাবে রূপ নেয়, তা খুব সূক্ষ্মভাবে ধরা হয়েছে।
আলো ও শব্দ: নিঃশব্দতা এবং অন্ধকারই এখানে সবচেয়ে বড় শব্দ। পিয়ানো এবং স্ট্রিংসের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ছবির আবেগকে গভীর করে তোলে।
সম্পাদনা: ছন্দ মেনে এগিয়েছে দৃশ্যগুলো। কোথাও বাড়াবাড়ি নেই, কোথাও হঠাৎ থেমে যায় না।
সিনেমাটির খারাপ দিক
গল্পের গতি কিছু কিছু জায়গায় শ্লথ লাগে। সিনেমার প্রথমার্ধে আবেগ নির্মাণে যত্ন নেয়া হলেও দ্বিতীয়ার্ধে কিছু দৃশ্য খানিকটা নাটকীয় হয়ে যায়। যারা উপন্যাসটি পড়েছেন, তাদের কাছে সিনেমা কিছুটা সংক্ষিপ্ত বা আবেগহীন মনে হতে পারে।
বলা চলে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শান্ত প্রতিবাদ এই গল্পে—এক শিশুর চোখ দিয়ে।
Chicago Tribune একে “a quietly powerful film” বলে উল্লেখ করেছে, যেখানে শব্দের চেয়ে নীরবতাই বেশি কথা বলে।
দর্শকের ভাবনা থেকে
লিসেলের চোখে আমরা দেখি, শব্দ কেবল বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে আসে না, শব্দ আসে রুটি ভাগ করার সময়, মৃত ইহুদির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়, অথবা কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে ছেলেমেয়েদের গল্প বলার সময়। বই এখানে কেবল জ্ঞানের উৎস নয়, এক ধরণের প্রতিরোধ, যার মাধ্যমে লিসেল, এবং তার মতো হাজারো মানুষ, দুঃসময়েও মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকে।
শিক্ষণীয় দিক
এই ছবি শেখায়, শব্দের শক্তি যুদ্ধের চেয়ে বড় হতে পারে। শেখায়, ভালোবাসা সবসময় রক্ত দিয়ে প্রকাশ পায় না, কখনো কখনো এক কাপ স্যুপ বা এক পৃষ্ঠার গল্প দিয়েও মানুষ বেঁচে থাকে। সাহস কেবল বন্দুক ধরার নয়, একে অপরকে আগলে রাখার মাঝেও সাহস থাকে।
The Book Thief কোনো বড় নাটকীয় মুহূর্তের উপর দাঁড়িয়ে নেই। এটি ছোট ছোট মুহূর্ত, নীরবতা, দৃষ্টি এবং আবেগের গল্প। যুদ্ধের গল্প হলেও এটি আসলে বেঁচে থাকার গল্প, ভয়কে মেনে নিয়েও এগিয়ে যাওয়ার গল্প।
উৎস:
তথ্য: ইন্টারনেট, সম্পাদনা: এআই, ছবি: PhotoFunia

