আইনি_দস্তাবেজ
আইনি_দস্তাবেজ

দোকানঘরের বন্ধকী দলিল

একটি সেমি-পাকা দোকানঘরের বন্ধকী দলিল

বন্ধকী দলিল হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনী দলিল। যখন কেউ ঋণ নেওয়ার জন্য তার জমি বা দোকান বা অন্যান্য সম্পত্তি জামানত রাখে, সেই ক্ষেত্রে এই দলিল তৈরি করা হয়। এটি পড়ে উভয় পক্ষ—যে ঋণ দিচ্ছে (বন্ধকগ্রহীতা) এবং যে ঋণ নিচ্ছে (বন্ধকদাতা)—তাদের অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে। নিচের লেখাটি শুধুমাত্র একটি নমুনা বা উদাহরণ, শিক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবে এমন দলিল তৈরি করতে হলে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া একদম জরুরি।

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

 

প্রথম পক্ষ (বন্ধকদাতা):
নাম: আব্দুল করিম
পিতা: রহমত আলী
ঠিকানা: বাড়ি নং- ১২/ক, মাদারটেক, সবুজবাগ, ঢাকা
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
পেশা: ব্যবসা

দ্বিতীয় পক্ষ (বন্ধকগ্রহীতা):
নাম: মো: শহিদুল ইসলাম
পিতা: মো: জাহাঙ্গীর আলম
ঠিকানা: বাড়ি নং- ৪৫, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
পেশা: ব্যাবসা

পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার নাম নিয়ে আমি, এই বন্ধকী দলিল লেখা শুরু করছি। আমি, প্রথম পক্ষ, এই জমি আমি আমার বাবার কাছ থেকে ওয়ারিশসূত্রে পেয়েছি। আমাদের পরিবারের অন্যান্য ভাইদের সঙ্গে আপোষ-মীমাংসা (বণ্টননামা) হয়ে গেছে, সেই দলিল অনুযায়ী আমি এই জমিটি পরিষ্কারভাবে পেয়েছি। ওই জমির উপর আমি একটি সেমি-পাকা টিনের দোকান নির্মাণ করেছি এবং সেটি ভাড়া দিয়ে আসছি।

এখন আমার জরুরি নগদ টাকার প্রয়োজন পড়েছে। তাই, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে মাদারটেক, হোল্ডিং নং ৬৪/সি-তে থাকা একটি শাটারযুক্ত সেমি-পাকা টিনের দোকানঘর আমি বন্ধক রাখব। আমি যখন এই প্রস্তাবটি দ্বিতীয় পক্ষকে দিলাম, তখন আপনি এটিকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকায় বন্ধক নিতে রাজি হলেন। সুতরাং, আজ ১২/১০/২০২৩ তারিখ, বৃহস্পতিবার, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে, আমি, প্রথম পক্ষ, এই দলিল লিখছি এবং স্বাক্ষর করছি।

আমি, প্রথম পক্ষ, আপনার (দ্বিতীয় পক্ষ) কাছ থেকে উপরে উল্লেখিত ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা নগদ হাতে হাতে গ্রহণ করেছি এবং পুরোপুরি বুঝে নিয়েছি। এর বিনিময়ে, আমি ঘোষণা করছি এবং অঙ্গীকার করছি যে, নিচে বিস্তারিত উল্লেখিত দাগের উপর থাকা আমার সেমি-পাকা টিনের দোকানঘরটি আমি আপনার কাছে বন্ধক রাখলাম।

আমি আরও স্বীকার করছি এবং অঙ্গীকার করছি যে, যখনই আমি আপনাকে এই বন্ধকী টাকা (১,০০,০০০/-) ফেরত দিতে পারব, ঠিক তখনই আপনি আমাকে আমার দোকানঘরটি সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিতে এবং বুঝিয়ে দিতে বাধ্য থাকবেন। এ নিয়ে আপনি (দ্বিতীয় পক্ষ) কোনো রকম অজুহাত, আপত্তি বা দাবি করতে পারবেন না। এমনকি আপনি করলে, আইন-আদালত সেটাকে একদম গ্রহণ করবে না এবং বাতিল বলে গণ্য হবে।

এটাও জানানো হচ্ছে যে, যদি আমি (প্রথম পক্ষ) টাকা ফেরত দিতে চাই, অথবা আপনি (দ্বিতীয় পক্ষ) আপনার প্রয়োজন অনুসারে টাকা ফেরত চান, তবে ন্যূনতম ০৩ (তিন) মাস আগে একে অপরকে নোটিশ দিয়ে জানাতে হবে।

এটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, যতদিন পর্যন্ত আমি আপনার টাকা সম্পূর্ণ ফেরত দিচ্ছি না, ততদিন আপনি (দ্বিতীয় পক্ষ) এই দোকানঘরটির ভাড়া সম্পূর্ণভাবে ভোগ করবেন। এছাড়া, আপনি ইচ্ছা অনুযায়ী ভাড়াটিয়া পরিবর্তন করতে পারবেন। এ নিয়ে আমি (প্রথম পক্ষ) কোনো রকম আপত্তি বা দাবি করতে পারব না। করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না, বাতিল বলে গণ্য হবে।

আরও একটি শর্ত, যতদিন টাকা ফেরত হচ্ছে না, ততদিন দোকানঘরের ভাড়া আপনি (দ্বিতীয় পক্ষ) পাবেন; তবে এর সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিল (বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানি বিল—সব) আপনাকেই, সাব-মিটার অনুসারে, পরিশোধ করতে হবে।

সবশেষে, আমি সম্পূর্ণভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে, সুস্থ শরীরে ও সুস্থ মনে, কারোর চাপ ছাড়াই, পুরো বন্ধকী দলিলটি পড়ে বুঝে, সাক্ষীদের সামনে, নিজের নামে স্বাক্ষর করলাম।

তারিখ: ১২/১০/২০২৩ ইং

বন্ধকী নামা দলিলের বিবরণ (তফসিল):

  • জেলা: ঢাকা

  • থানা: সবুজবাগ

  • সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: খিলগাঁও

  • সম্পত্তি: ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং নং ৬৪/সি, মাদারটেক-এ অবস্থিত ১ (এক)টি সেমি-পাকা টিনের দোকানঘর।

এই সম্পত্তিটি সম্পূর্ণভাবে এই দলিলের মাধ্যমে বন্ধক দেওয়া হলো। এই বন্ধকী দলিলটি মোট ৩ (তিন) পৃষ্ঠায় কম্পিউটারে টাইপ করা হয়েছে।

সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানা:

১) নাম: মো: রফিকুল ইসলাম
ঠিকানা: মাদারটেক, ঢাকা
স্বাক্ষর: _________________________

২) নাম: শামীমা বেগম
ঠিকানা: রামপুরা, ঢাকা
স্বাক্ষর: _________________________

৩) নাম: আলমগীর হোসেন
ঠিকানা: মাদারটেক, ঢাকা
স্বাক্ষর: _________________________

 

_________________________

প্রথম পক্ষ / মালিকের স্বাক্ষর
(আব্দুল করিম)

 

_________________________

দ্বিতীয় পক্ষের স্বাক্ষর
(মো: শহিদুল ইসলাম)

পরামর্শ :

আইনী সাহায্য নিন: একজন বিশ্বাসযোগ্য ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে দলিল যাচাই করুন। নিশ্চিত করুন সব শর্তাদি সঠিক এবং স্থানীয় আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য।

মূল দলিল যাচাই করুন: সম্পত্তির সব মূল কাগজপত্র (যেমন: ভূমি দলিল, মিউটেশন, ট্যাক্স রশিদ) যাচাই করুন। নিশ্চিত করুন কাগজপত্র আপনার নামের অন্তর্গত।

রেজিস্ট্রি করা জরুরি: দলিল স্বাক্ষর করার পর, স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি করুন। না হলে দলিলের আইনী শক্তি থাকবে না।

স্পষ্ট ছবি সংযুক্ত করুন: বন্ধক দেওয়া সম্পত্তির স্পষ্ট ছবি তুলে রাখুন। ছবি দলিলের সঙ্গে সংযুক্ত করুন।

দুই পক্ষের কপি রাখুন: রেজিস্ট্রি হওয়ার পর উভয় পক্ষের কাছে একটি করে স্বীকৃত কপি রাখুন।

নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply