দেহের রক্ত সাধারণত লাল রঙের মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি অক্সিজেনের উপস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন রঙের হতে পারে। রক্তের প্রধান রঙ নির্ধারণ করে লোহিত কণিকা (Red Blood Cells, RBCs) এবং হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin)।
লোহিত কণিকা ও হিমোগ্লোবিনের ভূমিকা
রক্তের ৪৫% অংশ লোহিত কণিকা নিয়ে গঠিত, যা দেহের কোষগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ করে। লোহিত কণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন একটি লাল রঙের প্রোটিন, যা অক্সিজেনকে শ্বাসনালী থেকে পেশীতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। হিমোগ্লোবিনের মধ্যে আয়রন উপাদান থাকায় অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হলে রঙ গাঢ় লাল দেখা যায়।
রক্তের মধ্যে শ্বেত কণিকা (White Blood Cells) এবং প্লেটলেট (Platelets) থাকে, কিন্তু এগুলোর সংখ্যা লোহিত কণিকার তুলনায় খুবই কম। তাই পুরো রক্ত লালাভ দেখায়।
রক্তের রঙ সবসময় একই থাকে না। এটি মূলত নির্ভর করে অক্সিজেনের পরিমাণের ওপর:
-
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত: ফুসফুস থেকে রক্ত যখন অক্সিজেন সংগ্রহ করে আসে, তখন রক্ত উজ্জ্বল বা গাঢ় লাল হয়। এই রঙ মূলত হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে হয়।
-
অক্সিজেন কম থাকা রক্ত: যখন রক্ত শরীরের কোষে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়, তখন অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এই অবস্থায় রক্তের রঙ হয় নীলাভ বা গাঢ় লালাভ, যা বিশেষ করে শিরায় (Veins) দেখা যায়।
এই কারণেই আমরা আর্ম বা পায়ের শিরায় রক্ত নীলাভ দেখতে পাই, কিন্তু কেটে রক্ত বের হলে তা লাল দেখায়।
কীভাবে রক্ত রঙ পরিবর্তনের বিজ্ঞান ঘটে?
-
লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের আয়রন অংশ অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রঙে পরিবর্তন ঘটায়।
-
অক্সিজেনযুক্ত হিমোগ্লোবিনকে বলা হয় অক্সিমোগ্লোবিন, যা উজ্জ্বল লাল।
-
অক্সিজেন ছাড়া হিমোগ্লোবিনকে বলা হয় ডিঅক্সিমোগ্লোবিন, যা নীলাভ বা গাঢ় লালাভ।
-
রক্ত যখন দেহের সমস্ত কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়, তখন এটি আবার ফুসফুসে ফিরে আসে এবং নতুন করে অক্সিজেন গ্রহণ করে উজ্জ্বল লাল রঙ ধারণ করে।
-
প্লাজমা: রক্তের সর্দার অংশ হল প্লাজমা, যা হালকা হলুদ রঙের। এতে লবণ, প্রোটিন, হরমোন ও পুষ্টি পদার্থ থাকে।
-
রক্তের বিভিন্ন শিরা: শিরায় রক্ত নীলাভ দেখায় কারণ শিরার দেয়ালের মাধ্যমে আলো প্রবেশ করে এবং অক্সিজেন কম থাকার কারণে নীলাভ প্রতিফলন বেশি হয়।
-
রক্তের বর্ণ বিজ্ঞান: এই প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বর্ণবিকৃতি (Colorimetry of Blood) নামে পরিচিত।
রক্তের রঙ শরীরের ভেতরের অক্সিজেনের মাত্রার উপর নির্ভর করে। অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি হলে রক্ত গাঢ় লাল হয়, এবং অক্সিজেন কম থাকলে তা নীলাভ বা গাঢ় লালাভ হয়। লোহিত কণিকা, হিমোগ্লোবিন, শিরা এবং প্লাজমা—all মিলিয়ে এই রঙের পরিবর্তন ঘটে।

