বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার—এই দেশগুলো ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আফগানিস্তান ও ইরান ঐচ্ছিকভাবে যুক্ত হতে পারে বৃহত্তর দক্ষিণ ও মধ্য এশীয় সংযোগের কারণে। ভিন্ন বিবেচনায় চীন, জাপান ও সংলগ্ন পূর্ব এশীয় দেশগুলোকে অংশীদার/ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এই প্রস্তাবনায় দেখানো হয়েছে—কোন কোন ভিত্তিতে সংগঠন গড়া যায়, কোন দেশ নিয়ে কোন ধরনের সংগঠন যুক্তিযুক্ত, এবং প্রতিটি সংগঠনের সম্ভাব্য নাম, উদ্দেশ্য, কাজ, কাঠামো ও সদর দপ্তরের যৌক্তিকতা।
নদী সংকটের সমাধানের জন্য সংগঠন: GIBTARC
প্রস্তাবিত সংগঠন: GIBTARC — Ganges–Irrawaddy-Brahmaputra-Tista– Regional Council
সদস্য: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার ও চীন
উদ্দেশ্য: নদীভিত্তিক পরিবেশ, পানি বণ্টন, জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়।
কাজ:
- যৌথ নদী ডেটা শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম
- বন্যা ও খরা পূর্বাভাস ব্যবস্থা
- নদী দূষণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
কাঠামো:
- রাষ্ট্রপ্রধান সম্মেলন (৩ বছর অন্তর)
- মন্ত্রীসভা পরিষদ (পানি/পরিবেশ)
- টেকনিক্যাল সেক্রেটারিয়েট ও ডেটা সেন্টার
সদর দপ্তর: ঢাকা — কারণ বাংলাদেশ নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত এবং নদী ব্যবস্থাপনায় সরাসরি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ভিত্তিক সংগঠন: SACEA
(SAFTA থাকার কারণে এর প্রয়োজনীয়তা নাও থাকতে পারে)
প্রস্তাবিত সংগঠন: SACEA — South Asian & Connectivity Economic Alliance
সদস্য: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার (ডায়ালগ: চীন, জাপান, ইরান)
উদ্দেশ্য: আঞ্চলিক বাণিজ্য, শিল্প ভ্যালু চেইন ও কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি।
কাজ:
- আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও ট্রানজিট ফ্রেমওয়ার্ক
- SME ও স্টার্টআপ সহযোগিতা
- ডিজিটাল পেমেন্ট ও কাস্টমস সমন্বয়
কাঠামো:
- অর্থমন্ত্রীদের কাউন্সিল
- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বোর্ড
- প্রাইভেট সেক্টর ফোরাম
সদর দপ্তর: ঢাকা বা কলকাতা — বঙ্গোপসাগর সংযোগ ও পূর্ব–পশ্চিম বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু।
জ্বালানি ও অবকাঠামো সহযোগিতা ভিত্তিক সংগঠন: REAP
প্রস্তাবিত সংগঠন: REAP — Regional Energy & Power Partnership
সদস্য: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার (ঐচ্ছিক: ইরান)
উদ্দেশ্য: নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি নিরাপত্তা।
কাজ:
- হাইড্রো ও সোলার পাওয়ার পুল
- ক্রস-বর্ডার গ্রিড কানেকশন
- ক্লিন এনার্জি ফান্ড
কাঠামো:
- এনার্জি মিনিস্টারিয়াল কাউন্সিল
- রেগুলেটরি টাস্কফোর্স
- প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট ইউনিট
সদর দপ্তর: থিম্পু বা কাঠমান্ডু — হাইড্রোপাওয়ার কেন্দ্রিক নিরপেক্ষ অবস্থান।
মানবিক, অভিবাসন ও নিরাপত্তা (নন-মিলিটারি): AHMS
প্রস্তাবিত সংগঠন: AHMS, Asian Human Mobility & Stability Forum
সদস্য: চীন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, নেপাল, আফগানিস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, লাওস, কম্বোডিয়া, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ।
উদ্দেশ্য: অভিবাসন, শরণার্থী, মানবপাচার ও সীমান্ত মানবিক ইস্যু।
কাজ:
- মানবিক করিডোর নীতি
- যৌথ ডাটাবেস ও প্রশিক্ষণ
- রোহিঙ্গা ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী বিষয়ক সমন্বয়
কাঠামো:
- হোম/সোশ্যাল মিনিস্টার কাউন্সিল
- মানবাধিকার উপদেষ্টা বোর্ড
সদর দপ্তর: ঢাকা — বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মানবিক লিডারশিপের কারণে।
প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা
প্রস্তাবিত সংগঠন: AIFT — Asian Innovation & Future Technologies Forum
সদস্য: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান + ডায়ালগ পার্টনার: চীন, জাপান
উদ্দেশ্য: AI, সাইবার সিকিউরিটি, স্মার্ট সিটি ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্স।
কাজ:
- যৌথ গবেষণা ল্যাব
- স্টার্টআপ এক্সিলারেটর
- নীতি ও নৈতিকতা ফ্রেমওয়ার্ক
কাঠামো:
- টেক মিনিস্টার কাউন্সিল
- ইন্ডাস্ট্রি–অ্যাকাডেমিয়া বোর্ড
সদর দপ্তর: বেঙ্গালুরু বা ঢাকা (ডুয়াল হাব) — প্রযুক্তি সক্ষমতা ও উদীয়মান বাজার।
এই প্রস্তাবনার মূল দর্শন হলো—রাজনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে কার্যকর, বিষয়ভিত্তিক ও ধাপে ধাপে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়া। বাংলাদেশ ভৌগোলিক ও নৈতিকভাবে বহু ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিতে পারে, বিশেষত মানবিক, নদী, জলবায়ু ও কানেক্টিভিটি ইস্যুতে। এসব সংগঠন ধীরে ধীরে আস্থা তৈরি করে ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক কমিউনিটির ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।
লেখা: এআই, ছবি: পিক্সা বে

