ডিজিটাল কনটেন্ট সম্পর্কে জেনে নিই
জাহাঙগীর আলম শোভন
ডিজিটাল যুগে এতকিছু যখন ডিজিটাল তখন কনটেন্ট কেন ডিজিটাল হবে না। বরং ডিজিটাল কনটেন্ট দিয়েই ডিজিটাল যুগের সূচনা। কনটেন্ট ছাড়া যেহেতু কোনো মাধ্যমের প্রকাশ কিংবা বিকাশ হয়না প্রসার কিংবা কিংবা বিস্তার হয়না।
সংজ্ঞাটা হতে পারত এমন যা কিছু ডিজিটালি গণ্য করা যায় তাই ডিজিটাল কনটেন্ট।
বইতে লেখা রয়েছে, কোনো কনটেন্ট যদি ডিজিটাল উপাত্ত আকারে বিরাজ করে, প্রকাশিত হয় কিংবা প্রেরিত-গৃহীত হয় তা হলে সেটিই ডিজিটাল কনটেন্ট। সহজ কথায় ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত কনটেন্টই ডিজিটাল কনটেন্ট। সহজ কথায় কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে ব্যবহৃত ও আদানপ্রদানকৃত সব কনটেন্ট ডিজিটাল কনটেন্ট।
ডিজিটাল কনটেন্ট ডিজিটাল বা অ্যানালগ যে কোনো পদ্ধতিতেই সংরক্ষিত হতে পারে ডিজিটাল কনটেন্ট কম্পিউটারের ফাইল আকারে অথবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্প্রচারিত হতে পারে। কিন্তু তার প্রকাশ ও আদান প্রদানের সময় ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করলে সেটি ডিজিটাল কনটেন্ট হয়ে যায়।
লিখিত তথ্য, ছবি, শব্দ কিংবা ভিডিও যেকোনো কনটেন্টই ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারের ফলে তথ্য উপস্থাপন ও স্থানান্তর সহজতর হয়।
সাধারণত লিখিত কনটেন্ট ডিজিটাল মাধ্যমে টেক্স আকারে থাকলে সেটা টেক্স ডিজিটাল কনটেন্ট। কিন্তু যদি লেখারিএকটি ফাইল হাতের লেখা একটি পাতা কম্পিউটারে স্ক্যান করা হয় তখন সেটার টেক্স কিন্তু ডিজিটাল নেই। কিন্তু ডিজিটাল মাধ্যমে স্থানান্তর করার পর সেটা একটি ছবি বা ইমেজ হিসেবে কিন্তু এটি ডিজিটাল কনটেন্ট বটে।
ডিজিটাল কনটেন্ট এর প্রধান ভাগ চারটি।
(১) লেখনি: টেক্সট বা লিখিত কনটেন্ট
(২) ছবি: আলোকচিত্র বা যেকোনো ইমেজ
(৩) ভয়েস: শব্দ বা অডিও
(৪) চলমান ছবি: ভিডিও ও এনিমেশন।
টেক্সট কনটেন্ট বা লিখিত বিষয়বস্তু:
ডিজিটাল মাধ্যমে লিখিত আকারে প্রকাশিত তথ্য, বক্তব্য, বার্তা যা কোনো অর্থ প্রকাশ করে তা লিখিত কনটেন্ট। এটা টেকনিক্যাল হতে পারে আবার ননটেকনিক্যাল হতে এবং বিভিন্ন ভাষায় হতে পারে। কম্পিউটার সফটওয়ারের যে কোডিং বা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ তা হলো টেকনিক্যাল কনটেন্ট। আর এই বইটি যা সাধারণ ভাষায় লিখা এটা হলো নন টেকনিক্যাল কনটেন্ট। বাংলা ইংরেজী আরবি যে ভাষা হোকনা কেন এটা সাধারণ লিখিত কনটেন্ট। এই বইটির কনটেন্ট প্রথম কম্পিউটারে ডিজিটাল কটেন্ট আকারে তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু ছাপাখানায় প্রিন্ট হওয়ার পর এটা এখন এনালগ কনটেন্ট। আমাদের চারপাশে লিখিত কনটেন্ট এর মধ্যে রয়েছে। বই, পত্রিকা, ব্লগ, চিঠিপত্র ইত্যাদি।
(ছবি: একটি বই লিখিত কনটেন্ট এর উদাহরণ একটি ই-বুক ডিজিটাল কনটেন্ট এবং একটি ব্লগও)
ছবি:
ছবিকে আমরা ইংরেজীতে বলি ইমেজ। এখানে ইমেজ হতে পারে কোনো আলোকচিত্র বা ফটোগ্রাফ, হতে পারে কোনো হাতে আঁকা ছবি বা চিত্র, হতে পারে কোনো গ্রাফিক্স ডিজাইন কিংবা নকশা। এসবই ইমেজ কনটেন্ট। একটা ডিজাইনের মধ্যে মানুষের ছবি ও সাথে কোনো লেখা থাকে সব মিলিয়ে সেটি লিখিত কনটেন্ট। ইমেজে আরো নানা মাত্রা যুক্ত হতে পারে কাটুন, ইনফোগ্রাফিক্স, এনিমেটেড ছবি ও কাগজকাটা শিল্প চিত্রের মাধ্যমে।
(ছবিতে দেখুন ইমেজ এর ৬ টি উদাহরণ: আলোকচিত্র, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এ্যানিমেশন, ইনফোগ্রাফিক্স, কার্টুন, ও কাগজকাটা চিত্র। )
শব্দ বা অডিও:
যেসব বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট আমরা দেখতে পাইনা কেবল শুনতে পাই। সেগুলো অডিও।
শব্দ বা অডিও আকারের সকল কনটেন্ই ভয়েস বা অডিও কনটেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে ভাষা ও সংকেত।
ভাষা হিসেবে রয়েছে: বক্তব্য, গান, কবিতা আবৃত্তি সংবাদ, বার্তা ইত্যাদি।
সংকেত হিসেবে রয়েছে: বাজনা, ঘন্টাধ্বনি, যেকোনো সাংকেতিক শব্দ, ও যেকোনো প্রাণীর ডাক।
পাখির ডাক থেকেও মানুষ ভাষা বানায়। তুরষ্কের একটি গ্রাম রয়েছে। নাম
কুশকয়। কৃষ্ণ সাগর পাড়ে পাহাড় ঘেষাএই গ্রামের মানুষেরা পাহাড়ে কাজ করার সময় অদ্ভুতভাবে নিজেদের মধ্যে পাখির ভাষায় যোগাযোগ রক্ষা করেন। তারা পাখির মতো শব্দ করে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করেন। কৃষকরা চা, ভুট্টা, বীট ও অন্যান্য শস্য চাষের কাজে যখন মাঠে যান।তখন দূরত্বের কারণে েএকে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করতে এই সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে।
যেমন, একজন চা বাগানে কাজ করছেন, বাড়ির সামনে থেকে তাদের উদ্দেশে আরেক জন শিস দিয়ে জানাচ্ছেন, খাবার প্রস্তুত, খেতে আস। উচ্চস্বরের এই শিস অনেক দূর থেকে শোনা যায়। প্রায় ৫শ বছর আগে এই ভাষার সূচনা হয়। ইউনেসকোর তথ্যমতে, তুরস্কের ঐ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই পাখি ভাষা অর্থাৎ শিস দিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেন। এখানে এই ভাষাটাই কনটেন্ট। এই ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় স্কুলগুলোতে এই ভাষার উপর বাচ্চাদের পড়ানো হচ্ছে।
(ছবি: তুরষ্কের কশকয় গ্রাম)
ভিডিও
বর্তমানে যেকোনো কনটেন্ট এর চেয়ে চলমান ছবি বেশী আবেদন তৈরী করে। এজন্য বিশ্বব্যাপী চলমান চিত্র আবিষ্কার হওয়ার পর বদলে যায় দৃশ্যপট। সিনেমা বা টিভির ভিডিও কনটেন্ট যদিও চলমান প্রিন্ট বা নেগেটিভ কপি। কিন্তু বর্তমানে এসবের সিলিকন চিফ ভিত্তিক ডিজিটাল ভার্ষন রয়েছে। আমাদের ডিজিটাল ক্যামেরায় ধারণকৃত যেকোনো চলমান ছবি বা ভিডিও আসলে ডিজিটাল ভিডিও কনটেন্ট।
ভিডিও কনটেন্ট এর জনপ্রিয়তার কারণে ইন্টারনেটে ভিডিও কনটেন্টের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেকোনো ধারণকৃত ভিডিও, তৈরীকৃত এ্যানিমেশন, মোশন গ্রাফিক্স বা চলমান ডিজাইন এবং লাইভ স্ট্রিমিং ভিডিও কনটেন্ট এর অন্তভূক্ত।
চলচ্চিত্র আবিষ্কারের প্রথম যুগে চলমান ছবির সাথে শব্দ না থাকলেও বর্তমানে শব্দ এবং ছবির সমন্বয় ভিডিও তৈরী হয়। পুরনো যুগের বিশেষ ষোলো ফ্রেমের ছবিগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন এসব চলমান ছবিতে একসময় শব্দ ছিলোনা। সিনেমা হলে প্রদর্শনের সময় একদল বাজিয়ে পিয়ানো বাজাতো। পরে আসে পেছন থেকে সংলাপ বলার রীতি। চার্লি চ্যাপলিন কনটেন্ট গুলোও আজকের দিনে কম জনপ্রিয় নয়। সেগুলো নির্বাক যুগের চলচ্চিত্র।
( ছবি: চার্লি চ্যাপলিনে এই কনটেন্টগুলো একসময় সিনেমার নির্বাক রিল থাকলেও এখন এগুলোকে ডিজিটাল মাধ্যমে রুপান্তর করা হয়েছে। যখন লোকেরা হলে দেখেছে তখন এটা ডিজিটাল কনটেন্ট না হলেও আপনি যখন ইউটিউবে দেখেন তখন সেটা ডিজিটাল কনটেন্ট)

