জাতীয় নাগরিক পার্টি

জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি: একটি বিশ্লেষণ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) — একটি বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সাধারণত দুই ধরণের রাজনীতির লড়াই: পারিবারিক ও দলগুলোর ঐতিহ্যভিত্তিক ক্ষমতার দখল। ২০২৪ সালের জুলাইতে জন আন্দোলনএকটি মোড় পরিবর্তন করেছে। (যেখানে ছাত্র ও তরুণ অংশগ্রহণ বেশি ছিল। সেই আন্দোলনের প্রভাব থেকে গড়ে উঠেছে একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যা দাবি করে হয় আগের সব পুরোনো বল—দুর্নীতি, স্বৈরাচার, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, নির্বাচনী তদারকি ও জনগণের মৌলিক অধিকার—সবকিছু সংস্কার করতে। সেই দল হচ্ছে – জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party, NCP)।

 প্রেক্ষাপট ও সমস্যা উপলব্ধি

২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতীয় বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, জনমত, ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ বোধ প্রবল হয়েছিল সরকারবিরোধী সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক অনিয়ম ও স্বৈরাচারাচরণ নিয়ে। এই জুলাই আন্দোলন (“July Uprising”) স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে একটি বড় জন-আন্দোলন হিসেবে দেখা হয়েছিল।

আন্দোলনের সময় “Students Against Discrimination” (হিন্দু, পার্থক্য, শ্রেণী, ধর্ম, রাজনৈতিক দমন, স্বাধীনতার সীমা এমন সব ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র সংগঠন) ও “Jatiya Nagorik Committee” (জাতীয় নাগরিক কমিটি) গঠিত হয়।

পার্টি গঠন ও আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে NCP আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।  পার্টির মুখ্য নেতৃত্বে ছিলেন নাহিদ ইসলাম (Convener) এবং আখতার হোসেন (Member Secretary)। একইসাথে একটি ‘আংশিক সমন্বয় কমিটি’ (partial convening committee) গঠন করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ এক বছরের জন্য নির্ধারিত।

উদ্দেশ্য ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি

NCP গঠনের ঘোষণা ছাড়াও তারা “দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র” (Second Republic) ও একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ের দাবি তুলেছে। বর্তমান সংবিধান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হবে বলে তারা ব্যাখ্যা করেছে।

পার্টির ঘোষণাপত্রে উল্লেখ আছে – জনতা হবে সার্বভৌম, মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ কম হবে, রাজনীতি ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

বৈশিষ্ট্য

নিচে NCP-এর কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো:

বৈশিষ্ট্য বিবরণ
ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব NCP বলছে এটি প্রথম “ছাত্র-নায়িত” রাজনৈতিক দল। ছাত্র আন্দোলন ও তরুণদের অংশগ্রহণ প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
স্বৈরাচারবিরোধী ও জনগণকেন্দ্রিক নীতি দল দাবি করছে, ফ্যাসিস্ট শাসন আর হবে না, সাধারণ মানুষের অধিকার ও মতের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা হবে।
নতুন সংবিধান ও রাষ্ট্র গঠন “Second Republic” গড়ার প্রতিশ্রুতি, একটি নির্বাচিত সংবিধানসভা (Constituent Assembly) গঠন করার কথা বলা হয়েছে।
ওয়ার্কার্স উইং ও শ্রমিক অধিকার পার্টি দ্রুত একটি Workers’ Wing গঠন করেছে ১৬১ সদস্যের সমন্বয় কমিটি সহ, শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সুষ্ঠু বেতন ইত্যাদি প্রাধান্য দিচ্ছে।
যুব ও ছাত্র সংগঠন যুব উইং “জাতীয় যুবশক্তি (Jatiyo Jubo Shokti)” গঠন করা হয়েছে, যুব নেতৃত্বকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে আনা হচ্ছে।
স্বচ্ছবাদিতা ও নীতিমালা দলে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, প্রথাগত নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দলীয় কাঠামো কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি, আঞ্চলিক ও থানা পর্যায়ে সংগঠন গঠনের উদ্যোগ আছে।

বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ

NCP এখনো নতুন; তাই কিছু শক্তি ও সীমাবদ্ধতা আছে। নীচে বর্তমান অবস্থা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলোর আলোচনা:

বর্তমান অবস্থা:

পার্টি ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনীতি-সংক্রান্ত নীতি প্রস্তাব করেছে, যেমন ক্ষমতা-বণ্টন, নির্বাচনী সময় সরকারসংক্রান্ত পরিবর্তন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা বাড়ানো ইত্যাদি।

সাম্প্রতিকভাবে একটি ২৪-পয়েন্ট ঘোষণা (manifesto) প্রকাশ করেছে, যার মধ্য দিয়ে তারা “নিউ বাংলাদেশ” গড়ার রূপরেখা দিয়েছে।

দল বলেছে, আওয়ামী লীগরে পুনর্বাসন (rehabilitation) তারা কোনওভাবেই মেনে নেবে না।

চ্যালেঞ্জ ও সমস্যাসমুহ:

অভিজ্ঞতার অভাব
তরুণ নেতৃত্বে দল গঠন হয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তারা পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতো প্রস্তুত নাও হতে পারে। নির্বাচনী রাজনীতি, স্থানীয় প্রশাসন, ভোট সংগ্রহ ও ভোটার বেস গঠন ইত্যাদিতে সময় লাগবে।

ভোটার আস্থা অর্জন
অনেক ভোটার এখনও পুরোনো দলগুলোর প্রতি আস্থা দেখায়; নতুনদের ক্ষেত্রে আস্থা অর্জন কঠিন কাজ। জনমত ও মিডিয়ার মধ্যে পার্থক্য – কিছু সংবাদমাধ্যম কিছু ভুল তথ্য প্রচার করতে পারে, বা নেতাদের আচরণ নিয়ে সমালোচনা হতে পারে।

সংগঠন ও অঞ্চলভিত্তিক উপস্থিতি
থানা, ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ে শক্ত ভিত্তি তৈরি করা এখনো অসম্পূর্ণ। সাধারণ নির্বাচনী মোকাবিলায় এই ভিত্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক বাধা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
পুরোনো দলগুলোর শক্ত প্রভাব, প্রশাসনিক বাধা, প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন এবং আইনগত বাধাসমূহ থাকতে পারে।

নিয়মিত অর্থায়ন ও তহবিল
একটি রাজনৈতিক পার্টি চলমানভাবে কাজ করতে হলে প্রচারণা, অফিস খরচ, সংগঠকদের ভ্রমণ, জনসভা ইত্যাদির জন্য অর্থের প্রয়োজন। নতুন দল হিসাবে এটি সুবিধাজনকভাবে সুরক্ষিত নাও হতে পারে।

সম্ভাবনা ও দিকনির্দেশনা

যদিও চ্যালেঞ্জ আছে, NCP-এর সম্ভাবনাগুলোও রয়েছে:

নবপ্রজন্মের সমর্থন: ছাত্র ও যুবসমাজ যারা পুরোনো রাজনীতি থেকে হতাশ, তাদের কাছে NCP আকর্ষণ তৈরি করছে।

স্বপ্ন ও নীতি ভিত্তিক রাজনীতি: যারা নীতি-ভিত্তিক রাজনীতি চান, দমন-নির্যাতন, দুর্নীতি ও স্বৈরশাসন বন্ধ করতে চান, তাদের জন্য NCP পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

নীতিমালা ও সামাজিক ন্যায়: শ্রমিক, নারী, সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, স্থানীয় মানুষের অধিকার প্রাধান্য পাবে বলেই আশাবাদ রয়েছে।

রাজনৈতিক সংস্কার: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংবিধান পরিবর্তন ও আইন-প্রণয়নে ভূমিকা আছে, যা দেশের রাজনীতিতে সংস্কার আনতে পারে।

 বাস্তবতা

১) দলের নেতাদের ইতিবাচক ইচ্ছা ও কর্মকান্ড ভাল হলেও। যেহেতু কাঠামোগত দিক থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাথে কোনো পার্থক্য নেই ফলে একসময় একই রকম দলে পরিণত হওয়ার আশংকা আছে। অথচ যদি নতুন ধরনের কাঠামো নিয়ে আসতো পারতো তাহলে ভাল কিছু হতো।

যেমন: এনসিপির এখন কি করা উচিৎ?

২) তারা যেহেতু একটি সংগঠন আগে করেছে। যা এদেশের মানুষের ৯০% সমর্থন ছিল। তাই সেটিকে মাদার অর্গানাইজেশন রেখে দল গঠন করতে পারতো। বা একটি মাদার অরাজনৈতিক সংগঠন করে সারাদেশে নেটওয়ার্ক ও কর্মী তৈরী করে রাজনীতিতে আসতো পারতো। তাহলে তারা হতো এই সময়ের অপ্রতিদ্ধন্ধি রাজনৈতিক দল। এবং প্রথমবারের ছক্কা হাকাতে পারতো।

যেমন-

ভোটবিমুখ রাজনৈতিক সংগঠন

 

৩) তাদের সুযোগ রয়েছে দেশের বর্তমানে ৪৮% ভাসমান ভোটার ( যারা এখনো কোনো দলকে সমর্থন করে না) তাদেরকে দলে নেয়ার এজন্য তারা জিয়াউর রহমানের কৌশল নিতে পারতেন। তিনি যেমন রাজনীতি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি বিভিন্ন শাখায় দেশের সেরা নাগরিকদের দলে নিয়েছেন। নিরপেক্ষ সামাজিক ও বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। দেশে ও প্রবাসে যাদের বেশীরভাগ দলের বাইরে। তাদের বিরাট অংশকে নিলে জনগনের একটা বিরাট অংশকে তারা যুক্ত করতে পারতো। কিন্তু তারা সেটা করছেনা।

যেমন এটা পড়লে ব্যাপারটা বোঝা যাবে: নতুন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামো,

৪) অভিজ্ঞতার অভাবে তাদের রাজনৈতিক কাজ খুব সংগঠিন নয়। তারা এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব দিলেও জনসভা করার সময় মিছিল করার সময় অন্যান্য দলের মতোই করছে। সূতরাং ব্যতিক্রম কোনো বার্তা যাচ্ছে না। যেমন তারা বিভাগীয় জনসভায় সব নেতা গিয়েছে। অথচ তারা জনশক্তি ভাগ করে জেলা পর্যায়ে এতদিনে সভা করতে পারতো।

বিষয়টা বুঝতে এই লেখাটা পড়া যায়:  কেমন হওয়া উচিত একুশ শতকের রাজনৈতিক সংগঠন

৫) আধুনিক যুগের দল হিসেবে তাদের প্রয়োজন ধাপ ও স্তর ভিত্তিক সভা। সেখানে ১০০ থেকে ৫০০ লোক থাকবে। তার বেশী নয়। প্রথমে কেন্দ্রীয় নেতারা কর্মপরিকল্পনা তৈরী করবে। তা বিভাগীয় ১০০-২০০ নেতাকে ঢাকায় ঢেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বুঝিয়ে দেবে। তারপর জেলা নেতাদেরকে বিভাগী পর্যায়ে ডেকে ১০০-৩০০ নেতাকে কর্মশালার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেবে। তারা জেলায় গিয়ে ১০০-২০০ উপজেলা নেতাকর্মী নিয়ে সেমিনার করবে। তারপর তারা ইউপিতে গিয়ে ১০০-১৫০ জন কর্মী সমর্থক নিয়ে মত বিনিময় করবে। সেখান থেকে কর্মীরা গ্রামে পাড়ায় উঠান বৈঠক করবে। তাদের উদ্দ্যেশ্যে থাকবে। অন্তত ২৫% ভোটার এবং ৬০% তরুনকে কোনোনা কোনো ভাবে যুক্ত করা বা তাদেরকে টাচ করা।

যেমন- নতুন রাজনৈতিক দল কাঠামো

৬) তারা যেভাবে রাজনীতি করছে বিভিন্ন দলের বিরুদ্ধে গিয়ে তাদেরকে নিজেদের বিরুদ্ধে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে রাজনৈতিকভাবে তারা একা ও কোনঠাসা হয়ে যাচ্ছে।

এজন্য তারা আসলে বিশ্বে কি হচ্ছে সেটা দেখা দরকার:

বিশ্বের অগ্রসর রাজনৈতিক দলগুলো

৭) তরুনরা একটা পর্যায়ে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। কারণ তরুনদের যে সমস্যা সেটা নিয়ে তাদের কোনো কর্মসূচী নেই, পরামর্শ নেই, সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা নেই।

ক) তারা তরুনদের নিয়ে নেতৃত্ব, আইসিটি, ব্যক্তিগত দক্ষতা, ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিতে পারতো। তারা দলের নেতারা মিলে যদি ব্যবসায়িক ভাবে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তৃণমূল তরুনদের বাণিজ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ দেয়। সবাই লাভবান হবে।

খ) তারা সরকারের কাছে তরুন উদ্যোক্তা, পেশাজীবি, ফ্রিল্যান্সার, বিদেশগামী, ছাত্র এবং ঋণপ্রত্যাশী তরুনদের কোনো দাবী দাওয়া বা পরামর্শ বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেনি। যাতে করে তরুনরা তাদের ‍উপর ভরসা করতে পারে এবং তাদের দিকে ঝুকতে পারে।

গ) তারা ক্ষমতায় গেলে তরুনদের কি কি করবে। তারও কোনো মাষ্টারপ্লান দিতে পারেনি। এমনকি তরুনদের নিয়ে তাদের কি সমস্যা সেগুলো জানতেও চায়নি।

এখান থেকে তরুন সম্পর্কিত পরামর্শগুলো তারা দেখে নিতে পারে:।

৮) তারা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পেছনে যে সময় দিচ্ছে। সে সময়টা যদি প্রান্তিক পর্যায়ে সংগঠন গোছানোর জন্য দিতো তাহলে তাদের আওয়ামী ও ছাত্রলীগকে তারা আরো বেশী করে প্রতিরোধ করতে পারতো। তারা জনগন বা সরকারের দিকে চেয়ে বসে আছে। কিন্তু তারা নিজেদের অবস্থা ও শক্তি প্রমাণ করতে না পারলে জনগন ও সরকার কেউ তাদের সাথে যেভাবে থাকা দরকার সেভাবে থাকবেনা।

তারা যদি একটি “রাজনৈতিক সংগঠন আইন ও বিধিমালা’’ প্রস্তাব করে সব দল মিলে পাশ করিয়ে নিতে পারে। শুধু আওয়ামীলীগ নয়। যে দল বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করবে সেসব দল ও ব্যক্তি রাজনীতিতে চীর নিষিদ্ধ হবে। এবং সেটাই কি স্বাভাবিক নয়।

এই বিধিমালা পাশ করাতে পারলে সন্ত্রাসী ও লুটেরাদের রাজনীতি বন্ধ হয়ে যাবে।

৯) তাদের প্রয়োজন ছিল দল ও সরকারে না গিয়ে ১টা নির্বাচন সবাই মিলে একসাথে করে। ফ্যাসিস্ট ফিরে আসার পথ বন্ধ করা। এবং নতুন যারা সরকারে আসতো তাদেরকে ১ বছর সময় ও পরামর্শ দিতো। যেহেতু দেশের রাজনৈকি, প্রশাসনিক ও দলীয় কাঠামোগত সমস্যা আছে। তাই কেউ এই সময়ে ভাল দেশ চালাতে পারবেনা। তাতে ১/২ বছর পর তারা অরাজনৈতিক সংগঠনকে মাদার সংগঠন হিসেবে রেখে তাদের রাজনৈতিক শাখা ঘোষণা করতো এবং ততদিনে তারা সবার সমর্থ