জাতিসংঘ পিসল্যান্ড হতে পারে আরব সমস্যার সেরা সমাধান

জাতিসংঘ পিসল্যান্ড হতে পারে আরব সমস্যার সেরা সমাধান

তৃতীয় রাষ্ট্র হতে পারে ফিলিস্তিন-ইজরাইল সংকটের সেরা সমাধান

 – জাহাঙ্গীর আলম শোভন

ফিলিস্তিন ইস্যুকে ছোট বেলা থেকে বিশ্বের মানুষের মতো আমিও কমবেশী ভাবনার খোরাক হিসেব হিসেবে পেয়েছি। গত শতকে ২টি বিশ্বযুদ্ধ হওয়া সত্বেও এই ইস্যুটি ২ শতক ধরে চলা সবচেয়ে লম্বা ও অমীমাংসিত বিষয়। যা কখনো চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

পেশাগত জীবনে বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এমনকি বেশকিছু জায়গায় রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে আমার চিন্তা ও প্রস্তাব থেকে বেশকিছু সমাধান বের হওয়া পর এসব বিষয়ে আমার ধারণা বা আইডিয়ার উপর আমার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমি বিশ্বের কিছু দেশ ভ্রমণ করি। যে দেশটি ভ্রমণ করি সে দেশের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে ভাবতে এবং সেগুলো নিয়ে লিখতে বা কতৃপক্ষকে সে প্রস্তাবগুলো মেইল করে পাঠাতে আমি বেশ আনন্দ পাই। উপরের দুটো বিষয় বিভিন্ন সমাধান নিয়ে ভাবা ও সরকারী কিছু বিষয়ে আমার প্রস্তাব হওয়া এবং বিদেশের সমস্যা নিয়ে ভাবার সাথে সাথে আরো দুটো বিষয় একটার সাথে একটার সম্পর্ক দেখে ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে ভাবতে আমার প্রলুব্দ হই।

এ ব্যাপারে ছোট দুটো গল্প আছে। আপাত দৃষ্টিতে গল্পে ভেতরে যা দেখেছি সেগুলো খুব নগন্য ইস্যু হলেও এই বিষয়ে ভাবার এর গভীরতা তাৎপর্য আমাকে অবাক করে দিয়েছে।

একবার দেখলাম দুটো বিড়াল ঝগড়া করছে। প্রথম দেখা ঝগড়া থেমে যাওয়া পর তারা গোঙানী দিচ্ছে একজন অন্যজনকে। এমতাবস্থায় আমি পানি মেরে দিই যাতে তারা সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু দেখলাম সে লড়াইটা মারাত্বক আকার ধারণ করলো। তারা এতটাই ক্ষুব্দ হলো সম্ভবত একে অপরকে দোষারোপ করে ভীষন প্রাণঘাতি লড়াইয়ে জড়িত হলো তারা দুজনে ছাদ থেকে পড়ে গেল। তারা আমার দৃষ্টির অগোচরে চলে যাওয়াতে আমি তাদের শেষ পরিণতি দেখতে পাইনি।

বিড়াল নিয়ে পরের ঘটনাটি তার উল্টো। দুটো বিড়াল হালকা ঝগড়া করেছে। আবার লাগতে যাবে। একজন আরেকজনকে শাসাচ্ছে। এরমধ্যে আরেকটি বিড়াল এসে দুজনের মাঝখানে দাঁড়াল। একটু আগপিছ ও উপরনিচ করলো তার দুটো বিড়ালকে শান্ত করে মাঝখানের বিড়ালটি ঝগড়া থাকাতে সফল হলো।

দুটো ঘটনা আমাকে ভাবালো আমি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে এ ধরনের আরো ভিডিয়ো দেখতে পেলাম। আমি ভেবে দেখলাম মনুষ্য সমাজেও এই তৃতীয় ব্যক্তির সমযোতার বিষয়টা বেশ কার্যকর। আন্তজাতিক ক্ষেত্রে তাই হয় কখনো কখনো। বিগত বছর ২ ধরে ফিলিস্তিন ও ইজরাইল সংকট আরো জটিল আকার ধারণ করায়। আমার মনে হলো বিড়ালদের ঘটনাগুলো এবং মানুষের সমাজে তারসাথে মিল থাকার বিষয়টি।

তারপর আমি ফিলিস্তিন ইজরাইল সংকটের শুরু থেকে পাঠ শুরু করি। তারপর দেখতে পারি সেখানে অনেকগুলো সমাধানের কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি। আমি যেটা ভাবছি সেটা আবার তখন ভাবা হয়নি। আমি ভারত পাকিস্তান বিভক্তির সাথে ইসরাইল ফিলিস্তিন ঘটনার একটা যোগসূত্র পেলাম। সেটা হলো দুটো জায়গায় প্রায় ১ ধরনের সমাধান করা হয়েছে।

ভারত পাকিস্তানকে ২ ভাগ করা হয়েছে। এখানে একাধিক ভাগ বিশেষ করে ৩ ভাগ করা বা তৃতীয় দেশ হিসেবে ‘‘বাংলা’’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব, সম্ভাবনা  ও সুযোগ থাকা সত্বেও। বাস্তবতা হলো দেশভাগের ২৪ বছর পর সেই তৃতীয় দেশের অনিবার্য জন্ম হলো। যদিও তখনকার প্রেক্ষাপটে দু-রাষ্ট্র সমর্থনের বহুযোক্তিকতা যেমন ছিল তেমনি সমর্থণও ছিল। কিন্তু সেটি সেরা বা সঠিক সমাধান ছিলনা সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

ইসরাইল ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্ব নেতারা যে সমাধান দিয়েছিল সেটি যে সঠিক ছিল না। সেটি গত ৭৮ বছরে (১৯৪৭ থেকে) বার বার এবং প্রতিবার প্রমাণিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন নষ্ট হয়ে সেটি প্রতিদিন ও প্রতিনিয়ত প্রমাণিত হচ্ছে। কিন্তু সকলে শুধু ইসরাইলকে থামতে বলছে আর ফিলিস্তিনকে বলছে ইসরাইলকে মেনে নিতে। এরচেয়ে কোনো বিকল্প সমাধান নিয়ে কেউ ভাবছেনা।

তাই একজন নগন্য মানুষ হিসেবে, সৃজনশীল ভাবনার চর্চা ও অভ্যাস, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও মনোভাব, বিশ্ব নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও বিশ্ব মানবতার জন্য কিছু করার অংশ হিসেবে এই সমস্যা ভাবা সেটি সমাধান প্রস্তাব করা ও বিশ্বকে জানানোর কাজ শুরু করেছি। না শুধু এটি নয়। আমি অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ভাবি, ভাবছি তার কিছু কিছু সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যে লিখেছি কিছু সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ঠদের বার্তাও প্রেরণ করে করেছি। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার এরচেয়ে বেশী কিছু করার ক্ষমতা নেই। তবে যতটা আছে সেটাও যদি ব্যবহার না করি তাহলে নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার জন্য আমার কোনো অবদান বা চেষ্টা থাকবেনা। আর সেজন্য আমি নিজেকে হয়তো কোনোদিন ক্ষমাও করতে পারবো না। তাই নিচের প্রস্তাবনা তুলে ধরছি।

– জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

 

ফিলিস্তিনের সমস্যা সমাধানে যেসব প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে-

সেসময় মূলত ইহুদিদের পূনবাসন ও ফিলিস্তিনে তাদের বসতি স্থাপনের জন্য 1947 সালে আরো বেশ কয়েকটি প্রস্তাব আলোচনা করা হয়েছিল। সেগুলো ছিল-

১) ফিলিস্তিন ও ইসরাইলীদের যৌথ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। ( তখনকার বাস্তবসম্মত ছিলনা, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন সম্মত হয়নি)
২) ইসরাইলীদের মাদাগাস্কার দ্বীপে অভিবাসন করা। (ইসরাইল সম্মত হয়নি)
৩) ইসরাইলীদের রাশিয়ার একটা প্রদেশের স্বায়ত্বশাসিত জাতি হিসেবে অভিবাসিত করা। (ইসরাইল সম্মত হয়নি)
৪) আফ্রিকার কোনো খালি জায়গায় তাদের ভিন্ন দেশ দেয়া। (ইসরাইল সম্মত হয়নি)
৫) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের পূণবাসন করা। (ইসরাইল সম্মত হয়নি তাছাড়া এত অভিবাসী তখন কেউ নিতে চায়নি। যদি বিগত বছরে ইউরোপ ও আমেরিকা তারচেয়ে বেশী অভিবাসী নিয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে)

 

ধর্মীয় তীর্থস্থানসমূহ ও তাদের অবস্থান:
ইসলাম/ মুসলিম (পূর্ব জেরুজালেম) আল-আকসা মসজিদ: পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটির দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।​
খ্রিস্টান, চার্চ অব দ্য হোলি সেপালচার(পূর্ব জেরুজালেম): ওল্ড সিটির পশ্চিমাংশে অবস্থিত।​
ইহুদি, য়েস্টার্ন ওয়াল বা কোটেল (পূর্ব জেরুজালেম): ওল্ড সিটির পশ্চিমাংশে অবস্থিত।

ডোম অফ দ্য রক (কুব্বাত আস-সাখ্‌রা): ওল্ড সিটির কেন্দ্রে অবস্থিত।

 

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের ভূমি বন্টন অতীত থেকে এক ঝলক
১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে ফিলিস্তিনের মোট আয়তন ছিল প্রায় ২৭,০০০ বর্গকিলোমিটার। ​বর্তমানে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করে, যা মোট প্রায় ৬,০২০ বর্গকিলোমিটার। ​বর্তমানে ফিলিস্তিনিরা ১৯৪৬ সালের ফিলিস্তিনের মোট আয়তনের প্রায় ২২% ভূমি নিয়ন্ত্রণ করে। ​১৯৪৬ সালের তুলনায় বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। ​

 

১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিলিস্তিনকে ইহুদি ও আরব রাষ্ট্রে ভাগ করা হয়েছিল। এই প্রস্তাবে ইহুদিদের জন্য প্রায় ৫৬% (প্রায় ১৫,১২৮ বর্গকিলোমিটার) ভূমি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে তাদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৭%। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রায় ৪৩% (প্রায় ১১,৬৭২ বর্গকিলোমিটার) ভূমি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে তাদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬২%।​
১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর, ইসরাইল তার নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমির পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৭৮% (প্রায় ২০,৮৬৪ বর্গকিলোমিটার) করে। ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্ধারিত ৪৩% ভূমির মধ্যে থেকে ইসরাইল প্রায় ৩৫% দখল করে, যা তাদের মোট ভূমির পরিমাণে যুক্ত হয়েছে।​ জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত ৫৬% ভূমির কিন্তু ইসরাইল প্রায় ৭৮% ভূমি দখল করেছে।

 

 

বর্তমানে কেন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

১) বিগত কয়েক বছরের নৃশংসতা ও লাখো মানুষের প্রাণহানি।

২) যুগের পর সমস্যার সমাধান না হওয়া ও মানবিক বিপর্যয়।

৩) ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার বিপন্নতা ইসরাইলে নিরাপত্তাহীনতার আশংকা

৪) পুরো অশান্তি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া। ইজরাইল ফিলিস্তিন ইস্যুতে পৃথিবীর অন্য দেশ এমনকি ইউরোপ আমেরিকাতেও উগ্রপন্থা, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অসহিষ্ণুতা। লেবানন ও সিরিয়াতে সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপের জন্ম হওয়া।

৫) চলমান ধারায় ভবিষ্যতেও এই সমস্যার সমাধান না হওয়ার লক্ষণ।

 

তাহলে কি হতে পারে সমাধান : তৃতীয় পক্ষ ধারণা বা তিন দেশ প্রস্তাব
যদি প্রস্তাব করা হয় যে, এই ভূখন্ডের ২৭০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে (বর্তমান ইসরাইল ও ফিলিস্তিন বা পুরনো ফিলিস্তিন) ৩ টি ভাগে ভাগ করা হবে। । একটি অংশ ফিলিস্তিনীদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে। এবং অন্য অংশটি থাকবে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে তা নিয়ে ইসরাইল রাষ্ট্র হবে। এবং ৩য় দেশটি হবে নিরপেক্ষ। এই দেশটি হবে আল আকসা মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, জেরুজালেম সিটি, জেরুজালেম জেলা ও আরো কিছু অংশ নিয়ে। যা নিলে একদিকে নতুন রাষ্ট্র একটি সমূদ্র অঞ্চল ও সমূদ্র সোপান পাবে । এই নতুন দেশের সীমানা ভাবে হবে এটি ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের মাঝখানে। ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনকে এমনভাবে আলাদা করবে যাতে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের পরষ্পরের সাথে সীমান্ত না থাকে।

নতুন দেশে ইসরাইলী ও ফিলিস্তিনী বা ইহুদি ও মুসলিম উভয় বসবাস করবে। একটি বহুপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে দেশটি গঠিত হবে। জাতিসংঘ কতৃক একটি কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত হবে, পর্যায়ক্রমে স্বায়ত্তশাসন ও এক পর্যায়ে চূড়ান্ত স্ব-নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর বাসিন্দাদের হাতে এর ক্ষমতা অর্পিত হয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্ম প্রকাশ করবে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মতো। তখন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে এক পর্যায়ে জাতিসংঘ সরে আসবে। তবে শুরু থেকে তারা আলাদা জাতি সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে তাদের সরকার, পুলিশ, সংসদ, জাতীয় প্রতীক, জাতীয় পতাকা, মূদ্রা, জাতীয় সংগীত দূতাবাস, পাসপোর্ট, জাতিসংঘ সদস্যপদ সবই থাকবে। শুধু ৩টি দেশের নিরাপত্তার খাতিরে গণতান্ত্রিক সরকার ও সেনাবাহিনী পর্যায়ক্রমে গঠিত হবে। সাম্ভাব্য সীমা ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার হতে পারে তার ক্ষেত্রফল। জনসংখ্যা হতে পারে কমবেশী ২০ লক্ষ।

 

কেমন হবে সে তৃতীয় রাষ্ট্র?

১) তৃতীয় সে দেশটিতে ইসরাইলি, ফিলিস্তিনী, আরব খ্রিষ্টান ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এবং সবাই একমত হলো নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিন্ন জাতি সত্তার লোকও থাকতে পারে। জনসংখ্যা হবে ২০ লক্ষ বা ২ মিলিয়ন (কমবেশী)

২) যে রাষ্ট্রটি হবে তা বির্কিত এলাকা নিয়ে হবে যে এলাকা কেউ ছাড়তে চায়না। তার আশপাশের এলাকাও যুক্ত থাকবে। থাকবে সে দেশের জনসংখ্যার আনুপাতিক ভূমি এবং সমূদ্র সংযোগ। সাম্ভাব্য সীমা ৬৮০০ কিলোমিটার। যা জেরুজালেম এর আয়তন। বা ৬ থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার।

৩)  ইজরাইল ও ফিলিস্তিনীদের মধ্য থেকে সে দেশের প্রস্তাবের বিষয়ে জরিপ ও ইচ্ছুক অধিবাসী চাওয়া হবে। যদি খুব সংখ্যক বা নগন্য অধিবাসী হয় এই আ্য়তন। আর যদি উভয় দেশের মোট জনসংখ্যার ২০% এর বেশী লোক এই দেশে থাকতে চায়। তাহলে আয়তন বাড়ানো যেতে পারে।

৪) এই দেশের নাম হবে জেরুজালেম। রাজধানী জেরুজালেম সিটি। তাদের নিজস্ব জাতীয় পতাকা, পুলিশ ও সীমান্ত পুলিশ থাকবে। তবে অন্যনামও হতে পারে। থাকবে মূদ্রা, পতাকা, পাসপোর্ট, জাতীয় সংগীত, দূতাবাস, পতাকা ও জাতীয় প্রতীক। এছাড়া থাকবে জাতিসংঘ ও আরবলীগ সদস্যপদ।

৫) নতুন দেশটির সেনাবাহিনী থাকবে মূলত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন সেখানে তাদের নিজ দেশের নাগরিকও থাকতে পারে। ক্রমান্বয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সংখ্যা বাড়বে আর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী সংখ্যা কমতে থাকবে।

৬) জেরুজালেম হবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ইজরাইল ও ফিলিস্তিন ব্যতিত পৃথিবীর সকল দেশের নাগরিকদের তাতে ভিসা লাগবে। ইজরাইল ও ফিলিস্তিন এবং অন্যান্য প্রতিবেশীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধন করে অনুমতি নিয়ে নতুন দেশ ভ্রমণে যেতে পারবে।

৭) দেশটিতে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন নাগরিকেরা যারা দেশটিতে থাকতে চাইবে তারা থাকলেও দেশটি ইজরাইল বা ফিলিস্তিন কারো নিয়ন্ত্রণ থাকবেনা। সে দেশটি হবে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রণে এবং একটি কাউন্সিল এর অধীনে।

৮) এই রাষ্ট্রে একাধিক রাজ্য ও তাদের উপকাউন্সিল থাকবে। জেরুজালেম শহর আল আকসা মসজিদ ও অন্যান্য বিবদমান এলাকা ও তার পাশের এলাকা সেন্ট্রাল কাউন্সিল এর অধীনে থাকবে।

৯) এই দেশের অধিবাসী হওয়ার জন্য জাতি সংঘ প্রথম ১ বছরে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ১০ লাখ বা ১ মিলিয়ন মোট ২০ লাখ বা ২ মিলিয়ন লোককে সুযোগ দেবে। দেশের সরকারী অবকাঠামোর জন্য জাতিসংঘ তহবিল গঠন করবে। ব্যক্তি অবকাঠামোর জন্য উন্নয়ন সংস্থা কাজ করবে এবং বানিজ্যিক অবকাঠামোর জন্য বিনিযোগ নীতি থাকবে।

১০) দেশটি ইসরাইল ও ফিলিস্তিন এর মাঝখানে থাকবে। এই দেশটির মাধ্যমে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন এর সাথে পারষ্পরিক সীমান্ত পরিহার করা হবে। ইসরাইল ও ফিলিস্তিন কেউ কাউকে আক্রমণ করতে হলে এই দেশের উপর দিয়ে করতে হয় বা যেন সরাসরি আক্রমণ করতে না পারে, এবং তা নিষিদ্ধ থাকবে।

১১) সেখানে বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল উভয়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সাথে সেখানে ১০-১৫ শতাংশ বিদেশীও বিনিয়োগ ও সমাজসেবা ও অন্যান্য শর্ত সাপেক্ষে তৃতীয় ও মাঝখানের দেশে বসতি স্থাপন করতে পারবে। তবে তাদের ধর্ম, ভাষা ও দেশ ভিত্তিক কোটা থাকবে। যাতে করে কেউ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয়।

১২) সকল ফিলিস্তিনী ও ইহুদি সেখানে যেতে পারবে। সে দেশের সরকার বা কাউন্সিল বা জাতিসংঘ বা আন্তজাতিক পু