জমি
জমি বিক্রয়

জমি বন্ধক চুক্তি বা লিজ দলিল

জমি বন্ধকনামা চুক্তিপত্র বা লিজের দলিল

জমি বন্ধক দেওয়া বাংলাদেশের গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলে একটি প্রচলিত এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লেনদেন। এটি সাধারণত স্বল্পমেয়াদী ঋণের প্রয়োজন মেটানোর একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একটি সঠিক ও আইনসম্মত বন্ধকনামা চুক্তিপত্র উভয় পক্ষের অধিকার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিচের নমুনা চুক্তিটি দেখে আপনি এই ধরনের দলিলের সাধারণ গঠন, ভাষা ও শর্তাবলি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাবেন। মনে রাখবেন, এটি শুধুমাত্র একটি শিক্ষণীয় নমুনা; বাস্তবে ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিতে হবে।

জমি বন্ধকনামা চুক্তিপত্র

প্রথম পক্ষ (বন্ধকদাতা)
নাম: মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকানা: ভাদালীয়া গ্রাম, ধামরাই, ঢাকা। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- কৃষি।

দ্বিতীয় পক্ষ (বন্ধকগ্রহিতা)
নাম: মোঃ শামীম মিয়া, পিতা: মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ঠিকানা: দক্ষিণ বান্দা, ধামরাই, ঢাকা। জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।

পরম করুণাময় মহান আল্লাহতায়ালার নামে এই চুক্তি শুরু করলাম। যেহেতু প্রথম পক্ষ নিচের তফসিলে বর্ণিত জমিটির প্রকৃত মালিক এবং শান্তিপূর্ণভাবে এর দখল ও ভোগ করছে। প্রথম পক্ষের নগদ টাকার বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায় দ্বিতীয় পক্ষকে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব করে। দ্বিতীয় পক্ষ সেই প্রস্তাব মেনে নিয়ে জমিটি বন্ধক নিতে রাজি হয়েছেন। তাই উভয় পক্ষ নিচের শর্তগুলো মেনে এই চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছেন।

শর্তাবলী:

০১। প্রথম পক্ষ (বন্ধকদাতা) দ্বিতীয় পক্ষ (বন্ধকগ্রহিতা) এর কাছ থেকে এককালীন নগদ ৩,০০,০০০.০০ (তিন লক্ষ) টাকা ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এর বিনিময়ে নিচের তফসিলে বর্ণিত ফসলি জমিটি বন্ধক হিসেবে রেখেছেন। টাকার অংক উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বুঝে নেওয়া হয়েছে।

০২। যেহেতু জমিটি ফসলি জমি, তাই বন্ধককালীন সময়ে জমিতে উৎপাদিত ফসলের মালিকানা ও ভোগের অধিকার সম্পূর্ণরূপে দ্বিতীয় পক্ষের থাকবে। তিনি নিজে চাষ করতে পারবেন অথবা অন্য কাউকে দিয়ে চাষ করিয়ে ফসল ভোগ করতে পারবেন।

০৩। প্রথম পক্ষ যেকোনো সময় উক্ত ৩,০০,০০০.০০ (তিন লক্ষ) টাকা পরিশোধ করে তার জমি ফেরত নেওয়ার অধিকার রাখেন। প্রথম পক্ষ টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে, দ্বিতীয় পক্ষ আইনানুগ যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখবেন এবং প্রথম পক্ষ এতে কোনো আপত্তি করতে পারবে না। একইভাবে, টাকা ফেরত পাবার পর দ্বিতীয় পক্ষ যদি জমির দখল ফেরত দিতে বিলম্ব বা গড়িমসি করেন, তাহলে প্রথম পক্ষও আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন।

০৪। চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় প্রথম পক্ষের মৃত্যু হলে, তার বৈধ উত্তরাধিকারীরা প্রথম পক্ষের সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য বহন করবে এবং দ্বিতীয় পক্ষকে টাকা পরিশোধ করে জমি উদ্ধার করতে বাধ্য থাকবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় পক্ষের মৃত্যু হলে, তার একমাত্র উত্তরাধিকার মোঃ সাকিব আল হাসান (জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ১৯৯২৬৭১৬৪৩০০০০১) এই চুক্তির সকল অধিকার ও দায়িত্ব পাবেন। তাঁকে টাকা গ্রহণ করার পর জমির দখল প্রথম পক্ষ অথবা উত্তরাধিকারীর কাছে ফেরত দিতে হবে।

০৫। ভবিষ্যতে এই চুক্তি বা জমি নিয়ে কোনও মতবিরোধ দেখা দলে, উভয় পক্ষ প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করবেন। আলোচনায় ব্যর্থ হলে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।

০৬। এই চুক্তির বিষয়ে প্রথম পক্ষের পরিবার বা অন্য কোনো উত্তরাধিকারের কোনো ধরনের আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। করা হলে তা আদালতে অগ্রাহ্য বলে গণ্য হবে।

০৭।  এই বন্ধক চুক্তি কোনভাবেই জমির স্থায়ী বিক্রয় চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে না। এটি কেবলমাত্র একটি জামানত বা নিরাপত্তা দলিল।

০৮। জমি সংক্রান্ত কোনো ধরনের আইনি জটিলতা, যেমন দখল বিবাদ বা মামলা থাকলে প্রথম পক্ষই তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবেন এবং দ্বিতীয় পক্ষের এতে কোনো ক্ষতি হলে প্রথম পক্ষ তা পূরণ করবে।

এতদ্ব্যতীত, স্বেচ্ছায়, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনে, কারোর প্ররোচনা ছাড়াই, এই বন্ধকনামা দলিলটি পাঠ করে বুঝে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নিজ নিজ নামে স্বাক্ষর করে দিলাম।

তারিখ: ২১ অক্টোবর, ২০২৩

বন্ধকী জমির তফসিল:

  • জেলা: ঢাকা

  • থানা: ধামরাই

  • সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: কালামপুর

  • মৌজা: ভাদালীয়া

  • দাগ নং: ৪৫৬

  • জমির পরিমাণ: মোট ১২৪ (একশত চব্বিশ) শতাংশ। [বিবরণ: ৮৪ শতাংশ + ৩০ শতাংশ + ১০ শতাংশ]

(এই দলিলটি মোট ৩ (তিন) পৃষ্ঠায় কম্পিউটারে টাইপ করা হয়েছে)।

সাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর:

১. __________________ (মোঃ করিম উদ্দিন), ঠিকানা: ভাদালীয়া, ধামরাই
২. __________________ (মোঃ জাহিদ হাসান), ঠিকানা: দক্ষিণ বান্দা, ধামরাই
৩. __________________ (নাসরিন আক্তার), ঠিকানা: ভাদালীয়া, ধামরাই

 

__________________

প্রথম পক্ষ/বন্ধকদাতার স্বাক্ষর
(মোঃ রফিকুল ইসলাম)

 

__________________

দ্বিতীয় পক্ষ/বন্ধকগ্রহিতার স্বাক্ষর
(মোঃ শামীম মিয়া)

কম্পোজকারক:
মোঃ কামরুল হাসান
৮৯/ক, গ্রীন রোড, ফার্মগেট, ঢাকা।

 

পরামর্শ:

আইনী পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: এই নমুনা চুক্তি কেবলমাত্র একটি ফরম্যাট। যেকোনো বাস্তব লেনদেনের আগে একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন। তিনি স্থানীয় আইন এবং জমির প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী চুক্তিটি প্রস্তুত করতে সাহায্য করবেন।

জমির জরিপ করুন: চুক্তির আগে জমির দাগ নম্বর, পরিমাণ এবং মালিকানা সঠিক কি না, তা খতিয়ান থেকে যাচাই করে নিন।

সাক্ষী নির্বাচন: বিশ্বস্ত এবং সম্মানিত ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে নিন, যারা প্রয়োজনে আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

রেজিস্ট্রেশন: বন্ধকনামা দলিল অবশ্যই সরকারি রেজিস্ট্রি অফিসে সঠিকভাবে রেজিস্ট্রি করতে হবে। না হলে এটি আইনত প্রয়োগযোগ্য হবে না।

স্পষ্ট শর্ত: টাকা ফেরত দেওয়ার সময়সীমা, ফসল ভোগের নিয়ম এবং বিবাদ সমাধানের পদ্ধতি সম্পর্কে শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখুন।

নোট: এটি একটি নমূনামাত্র, আইনজীবি অথবা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply