ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জবস চলচ্চিত্রটি আপনাকে কী শিক্ষা দেয়?

Jobs (জব্‌স) একটি মানুষ, যাকে সবাই বোঝে না

পরিচালক: জোশুয়া মাইকেল স্টার্ন
ইন্ডাস্ট্রি: হলিউড (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
প্রোডাকশন হাউজ: Open Road Films
কাস্টিং: অ্যাশটন কুচার (স্টিভ জবস), জোশ গ্যাড (স্টিভ ওজনিয়াক), ডারমট মালরুনি, ম্যাথিউ মোডিন, লুকাস হ্যাস

“Jobs” সিনেমাটি এমন একজন মানুষকে নিয়ে নির্মিত, যার স্বপ্ন, জেদ এবং দৃষ্টিভঙ্গি কেবল প্রযুক্তি জগতেই নয়, গোটা আধুনিক জীবনের উপর ছাপ ফেলেছে। কিন্তু চলচ্চিত্রটি কোনোভাবেই তাকে অতিমানব হিসেবে উপস্থাপন করেনি। বরং তার খুঁত, সংবেদনশীলতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও স্বার্থপরতাও খোলাখুলি তুলে ধরা হয়েছে।

ছবির শুরুটা ঘটে ২০০১ সালে অ্যাপলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া স্টিভ জবসের একটি উদ্বুদ্ধকারী বক্তব্য দিয়ে। এরপরই আমরা ফিরে যাই ১৯৭৪ সালের এক যুবকের জীবনে, যে কলেজ ছেড়ে দিয়েছে, ভারতে ঘুরে বেড়ায় এবং নিজের পরিচিতির খোঁজে দিন কাটায়। ধীরে ধীরে প্রযুক্তির সঙ্গে তার সংযোগ ঘটে, ওজনিয়াকের সঙ্গে গ্যারেজে কাজ শুরু করে, এবং জন্ম নেয় ‘Apple’।

চলচ্চিত্রটি মূলত ১৯৭০-এর শেষ থেকে শুরু করে ২০০০-এর প্রথম দশক পর্যন্ত অ্যাপলের উত্থান-পতন এবং জবসের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দ্বন্দ্বের একটা প্রামাণ্যচিত্রধর্মী উপস্থাপন।

অভিনয় ও নির্মাণ

অ্যাশটন কুচারের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রথমদিকে সমালোচকরা সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু জবসের হাঁটা, কথা বলা, চোখের দৃষ্টি, এমনকি বসার ভঙ্গি পর্যন্ত তিনি এতটাই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে Variety পত্রিকার মতে, “কুচার brings an eerie physical likeness to the role, which becomes unsettlingly effective over time.”

জোশ গ্যাড ওজনিয়াক চরিত্রে ভারসাম্য এনেছেন—সোজাসাপ্টা, সংবেদনশীল ও প্রযুক্তিতে ডুবে থাকা এক চরিত্র। পরিচালক স্টার্ন সিনেমাটিকে সাজিয়েছেন অনেকটা ডকুমেন্টারি ঘরানায়, তবে তার পেসিং মাঝেমধ্যে অসংগতিপূর্ণ মনে হয়েছে।

শক্তি ও সীমাবদ্ধতা

সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বাস্তবধর্মী চিত্রনাট্য ও নিখুঁত ক্যামেরার কাজ। সাউন্ডস্কোর গুলো নির্দিষ্ট সময় ও আবেগ অনুযায়ী ঠিকঠাক বসানো হয়েছে। ফ্রেমে ৮০ ও ৯০-এর দশকের ক্যালিফোর্নিয়ার আবহ, পোশাক, ডিভাইস ইত্যাদিতে নিখুঁত নিপুণতা আছে।

তবে দুর্বলতা হলো চরিত্রগুলোর গভীরতায় না যাওয়া। স্টিভ জবসের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে সংক্ষিপ্তভাবে দেখানো হয়েছে। তার ভেতরের দ্বিধা, সম্পর্কের টানাপড়েন, এবং আত্মোপলব্ধির মুহূর্তগুলো অনেকটাই ছেঁটে ফেলা হয়েছে। কিছু সংলাপ কেবল তথ্য দেওয়ার জন্য মনে হয়, নাটকীয় আবেগ তৈরি করতে ব্যর্থ।

ব্যক্তিগত উপলব্ধি

এ ছবিটি দেখতে গিয়ে একজন দর্শক হিসেবে অনুভব করেছি, কতটা নিঃসঙ্গ হতে পারে একজন উদ্ভাবক, যখন তার চিন্তা সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকে। স্টিভ জবস সবসময় সবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেননি, কিন্তু তার প্রতি বিশ্বাস ছিল তার দৃষ্টিভঙ্গির।

জীবনে এই একটি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে:
তোমাকে সবাই বুঝবে না, তবুও নিজের স্বপ্নে আস্থা রাখতে হবে।
স্টিভের মতো ভিন্নমত থাকা, ভিন্নভাবে চিন্তা করা কখনো কখনো কষ্টের হলেও, দীর্ঘমেয়াদে সেটাই বড় পরিবর্তনের সূত্র হতে পারে।

Jobs মুভিটি একজন মানুষের স্বপ্ন, একগুঁয়ে মনোভাব, ব্যর্থতা এবং নতুন করে শুরু করার ক্ষমতা নিয়ে নির্মিত একটি চলমান আখ্যান। যদিও এর নির্মাণভঙ্গি নিয়ে কিছু অভিযোগ থেকে যায়, তবুও সিনেমাটি একজন দর্শকের জন্য চিন্তা, অনুপ্রেরণা এবং আত্মসমালোচনার উপলক্ষ হতে পারে।

RogerEbert.com–এর মতে, “It may not be the definitive Steve Jobs movie, but it captures something essential about the man: his relentless intensity.”

এই ইনটেনসিটিই আমাদের ভাবায়, চালিত করে—নিজের ভেতরের অসমাপ্ত জিনিসগুলো শেষ করতে।

তথ্য: ইন্টারনেট, সম্পাদনা: এআই, ছবি: PhotoFunia

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply