জনবিরল দেশে নতুন আবাস গড়তে চান
আমাদের দেশে আমরা যতই জনসংখ্যার চাপে থাকি। বিশ্বের এমন দেশ রয়েছে। যেখানে জনসংখ্যা কম এবং আরো কমছে। কোথাও গ্রামীণ জনসংখ্যা কমে লোকেরা শহরে চলে যাচ্ছে কোথাও অন্যদেশে চলে যাচ্ছে কোথাও আবার জন্মহার কম। ফলে জনসংকট বিশ্বের কোনো কোনো একটি ক্রমবর্ধমান জটিল সমস্যা, যা বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন আকারে দেখা দিচ্ছে। কেউ কেউ কম জন্মহার এবং বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার চাপে ভুগছে, আবার কেউ কেউ জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। কয়েকটি দেশের ওপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো, যেখানে জনসংকটের ধরন, কারণ, সমাধানের উদ্যোগ এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
জনসংকটের ধরন ও বিভাজন
বিশ্বব্যাপী জনসংকট প্রধানত দুই ধরনের:
-
জনসংখ্যার পতন ও বার্ধক্য: প্রধানত উচ্চ-আয়ের এবং কিছু মধ্যম-আয়ের দেশে দেখা যায়। জন্মহার কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যার অনুপাত হ্রাস পাওয়াই এর মূল কারণ।
-
জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ ও বাস্তুচ্যুতি: নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে বেশি দেখা যায়। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়।
বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা সংকট দুই রূপে দেখা দিচ্ছে—একদিকে উন্নত দেশগুলোতে জন্মহার কমে কর্মক্ষম জনশক্তির তীব্র সংকট, অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যুব বুল্জ ও কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা। বাংলাদেশের জন্য এটি এক অনন্য সুযোগ। নিচে ১২টি উন্নত দেশের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো, যেখানে বাংলাদেশী কর্মী ও পেশাজীবীদের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কানাডা
পরিচিতি ও জনসংকটের প্রকৃতি: কানাডা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় অভিবাসন-বান্ধব দেশ। ২০২৬ সালে প্রায় ৫,০০,০০০ নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটি । জনসংখ্যার বার্ধক্য ও জন্মহার হ্রাসের কারণে কানাডার কর্মবাজারে প্রতি বছর ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়।
আবহাওয়া ও কৃষি: বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া; শীতকালে অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা -২০°সে থেকে -৩০°সে পর্যন্ত নেমে যায়। কৃষি প্রধানত প্রেইরি অঞ্চলে (গম, ক্যানোলা, বার্লি) কেন্দ্রীভূত।
খাদ্য ও পেশা: বহুসাংস্কৃতিক খাদ্যাভ্যাস; ম্যাপল সিরাপ, পাউটিন (কিউবেকের ঐতিহ্যবাহী খাবার) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খাবার জনপ্রিয়। চাহিদাসম্পন্ন পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে: আইটি, স্বাস্থ্যসেবা (নার্স, ফার্মাসিস্ট), ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রান্সপোর্ট সেক্টর (পাইলট, বিমান মেকানিক) এবং ট্রেডস (মেকানিক, ওয়েল্ডার) ।
অভিবাসন নীতি: কানাডার এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমের অধীনে চাকরির অফার ছাড়াই স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করা যায়। পয়েন্ট-ভিত্তিক এই পদ্ধতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বয়স ও ভাষাগত দক্ষতার ভিত্তিতে স্কোর নির্ধারণ করা হয় । ২০২৬ সালের জন্য নতুন এক্সপ্রেস এন্ট্রি ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সিনিয়র ম্যানেজার এবং ট্রান্সপোর্ট খাতের পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার উপায়: উচ্চশিক্ষা (বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ) সম্পন্ন করে পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসের পথ সুগম। এক্সপ্রেস এন্ট্রির অধীনে দক্ষ পেশাজীবীরা চাকরির অফার ছাড়াই আবেদন করতে পারেন। আইইএলটিএস পরীক্ষায় ভালো স্কোর আবশ্যক।
ফরাসি ভাষায় দক্ষতা থাকলে স্থায়ী বসবাসের জন্য আলাদা টার্গেটেড ভিসা সুবিধা রয়েছে ।
জার্মানি
পরিচিতি ও জনসংকটের প্রকৃতি: ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার কারণে তীব্র শ্রমিক সংকটের মুখোমুখি। বার্ষিক প্রায় ১০ লক্ষের বেশি অভিবাসী গ্রহণ করছে দেশটি । ফ্রেগোমেনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৮৫ মিলিয়ন কর্মীর ঘাটতি হবে, যার একটি বড় অংশ জার্মানির শিল্পখাতে প্রভাব ফেলবে ।
আবহাওয়া ও কৃষি: নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া; চারটি ঋতুই বিদ্যমান। কৃষিতে গম, বার্লি, আলু এবং শাকসবজি উৎপাদন হয়। বনভূমি দেশের বিশাল অংশ জুড়ে।
খাদ্য ও পেশা: জার্মান খাদ্যের মধ্যে সসেজ, ব্রাটওয়ার্স্ট, সাউরক্রাউট (টক বাঁধাকপি) এবং প্রেটজেল উল্লেখযোগ্য। পেশার মধ্যে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং (বিশেষত মেকানিক্যাল ও অটোমোটিভ), স্বাস্থ্যসেবা এবং কারিগরি পেশা (ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার) অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন ।
অভিবাসন নীতি: জার্মানি “অপারচুনিটি কার্ড” (চান্সকার্টে) পয়েন্ট-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে দক্ষ পেশাজীবীরা চাকরির অফার ছাড়াই জার্মানি এসে এক বছর পর্যন্ত চাকরি খোঁজার সুযোগ পান । এছাড়া ইউরোপিয়ান ব্লু কার্ডের মাধ্যমেও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীরা সহজে কাজের ভিসা পেতে পারেন। অ-ইইউ নাগরিকদের জন্য সাম্প্রতিক আইনগুলি ভিসা প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করেছে ।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার উপায়: জার্মান ভাষায় দক্ষতা (বিশেষত বি১ বা বি২ লেভেল) ভিসা পেতে সহায়ক। আইটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় দক্ষতা থাকলে চাকরির অফার ছাড়াই অপারচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।
অস্ট্রেলিয়া
পরিচিতি ও জনসংকটের প্রকৃতি: অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক প্রায় ৪,০০,০০০ অভিবাসী গ্রহণ করে । দেশটির ইঞ্জিনিয়ারিং, কনস্ট্রাকশন এবং নার্সিং খাতে তীব্র দক্ষ কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ ন্যূনতম মজুরির দেশগুলোর একটি অস্ট্রেলিয়া।
আবহাওয়া ও কৃষি: বৈচিত্র্যময় জলবায়ু; উত্তর অংশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয়, দক্ষিণ অংশ নাতিশীতোষ্ণ। কৃষি প্রধানত গম, বার্লি, আখ, ফলমূল ও গবাদিপশু পালনে সমৃদ্ধ।
খাদ্য ও পেশা: অস্ট্রেলিয়ান খাদ্যের মধ্যে ভেজিমাইট, মিট পাই, এবং বারামুন্ডি মাছ জনপ্রিয়। চাহিদাসম্পন্ন পেশা: ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল, মেকানিক্যাল, মাইনিং), নার্স, আইটি প্রফেশনাল, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, এবং কারিগরি ট্রেডস (ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার) ।
অভিবাসন নীতি: অস্ট্রেলিয়ার স্কিলড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ১৮৯) পয়েন্ট-ভিত্তিক ব্যবস্থায় চাকরির অফার ছাড়াই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয় । আবেদনের জন্য বয়স ৪৫-এর নিচে হতে হবে, পেশা অবশ্যই স্কিলড অকুপেশন লিস্টে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে (আইইএলটিএস বা পিটিই) ।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে সিডনি, মেলবোর্ন বা পার্থে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে (মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ সহ একাধিক রুট)। পয়েন্ট-ভিত্তিক অভিবাসনের জন্য পেশাগত দক্ষতা মূল্যায়ন করিয়ে নিতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্পেন
পরিচিতি ও জনসংকটের প্রকৃতি: স্পেন সম্প্রতি ইউরোপের একটি প্রধান অভিবাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১২ লক্ষের বেশি অভিবাসী স্পেনে প্রবেশ করেছেন । কৃষি, পর্যটন এবং বয়স্ক পরিচর্যা খাতে তীব্র শ্রমিক সংকট রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার স্পেনে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে ।
আবহাওয়া ও কৃষি: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু; মৃদু শীত ও উষ্ণ গ্রীষ্ম। জলপাই, টমেটো, সাইট্রাস ফল এবং আঙ্গুর উৎপাদনে বিশ্বনেতা।
খাদ্য ও পেশা: পায়েলা (চালের পোলাও-জাতীয় খাবার), তাপাস, এবং জামন (সেরানো হ্যাম) বিখ্যাত। পর্যটন, কৃষি (ফল ও সবজি চাষ), হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবস্থাপনা, এবং বয়স্ক পরিচর্যা প্রধান পেশা ।
অভিবাসন নীতি: স্পেন অভিবাসন নীতিতে নমনীয়তা দেখাচ্ছে। অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা চালু করেছে, যা দূরবর্তী কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় । বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি ভিসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে ।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার উপায়: কৃষি খাতে মৌসুমি কাজের ভিসা এবং পর্যটন খাতের ভিসার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ-স্পেন দ্বিপাক্ষিক কর্মী নিয়োগ চুক্তির অগ্রগতি হচ্ছে ।
ইতালি
পরিচিতি ও জনসংকটের প্রকৃতি: ইতালি বার্ষিক প্রায় ৪,৫০,০০০ অভিবাসী গ্রহণ করে । দেশটির জন্মহার অত্যন্ত কম (প্রতি নারীতে ১.১৩ সন্তান) এবং গড় বয়স ৪৯.১ বছর—ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ। কৃষি ও পর্যটন খাতে শ্রমিক সংকট তীব্র।
আবহাওয়া ও কৃষি: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু; দক্ষিণে উষ্ণ, উত্তরে শীতল। জলপাই, আঙ্গুর, গম, টমেটো এবং সাইট্রাস ফল উৎপাদনে বিখ্যাত।
খাদ্য ও পেশা: পাস্তা, পিৎজা, রিসোটো, এবং জেলাটো বিশ্ববিখ্যাত। পেশার মধ্যে কৃষি শ্রম, পর্যটন, ফ্যাশন, অটোমোবাইল শিল্প এবং বয়স্ক পরিচর্যা প্রধান।
অভিবাসন নীতি: ইতালি অ-ইইউ দেশগুলোর জন্য কাজের ভিসা কোটা নির্ধারণ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি ও পর্যটন খাতে ভিসা কোটা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য ২০২৫-২৬ সালে নতুন নিয়োগ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার উপায়: কৃষি খাতে মৌসুমি কাজের ভিসা (বিশেষত ফল ও সবজি সংগ্রহের মৌসুমে) পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলমান।
যুক্তরাজ্য
পরিচিতি ও জনসংকটের প্রকৃতি: যুক্তরাজ্য বার্ষিক প্রায় ৯,০০,০০০ দীর্ঘমেয়াদী অভিবাসী গ্রহণ করে, যাদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যখাত ও উচ্চশিক্ষার সুবাদে আসেন । ব্রেক্সিট-পরবর্তীকালে ইইউ দেশগুলোর কর্মী প্রবাহ কমে যাওয়ায় অ-ইইউ দেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ বেড়েছে।
আবহাওয়া ও কৃষি: নাতিশীতোষ্ণ সামুদ্রিক আবহাওয়া; সারা বছর মৃদু ও আর্দ্র। কৃষিতে গম, বার্লি, আলু, এবং পশুপালন প্রধান।
খাদ্য ও পেশা: ব্রিটিশ খাবারের মধ্যে ফিশ অ্যান্ড চিপস, রোস্ট ডিনার, এবং পাই উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস-এ নার্স ও ডাক্তার), আইটি, ফিনান্স, এবং শিক্ষকতা চাহিদাসম্পন্ন পেশা ।
অভিবাসন নীতি: যুক্তরাজ্য ২০২৬ সালে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে । “গ্র্যাজুয়েট রুট” ভিসার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ২ বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পান। স্বাস্থ্যসেবা খাতের জন্য “হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা” বিশেষভাবে সহজীকৃত। স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসার জন্য চাকরির অফার এবং নির্দিষ্ট ন্যূনতম বেতনের শর্ত পূরণ করতে হয়।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার উপায়: উচ্চশিক্ষা (মাস্টার্স বা পিএইচডি) সম্পন্ন করে গ্র্যাজুয়েট রুট ভিসা নেওয়া একটি জনপ্রিয় পথ। স্বাস্থ্যসেবা পেশায় দক্ষতা থাকলে সরাসরি কাজের ভিসার সুযোগ রয়েছে।
স্পেন
পরিচিতি ও জনসংকটের প্রকৃতি: স্পেন সম্প্রতি ইউরোপের একটি প্রধান অভিবাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১২ লক্ষের বেশি অভিবাসী স্পেনে প্রবেশ করেছেন । কৃষি, পর্যটন এবং বয়স্ক পরিচর্যা খাতে তীব্র শ্রমিক সংকট রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার স্পেনে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে ।
আবহাওয়া ও কৃষি: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু; মৃদু শীত ও উষ্ণ গ্রীষ্ম। জলপাই, টমেটো, সাইট্রাস ফল এবং আঙ্গুর উৎপাদনে বিশ্বনেতা।
খাদ্য ও পেশা: পায়েলা (চালের পোলাও-জাতীয় খাবার), তাপাস, এবং জামন (সেরানো হ্যাম) বিখ্যাত। পর্যটন, কৃষি (ফল ও সবজি চাষ), হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবস্থাপনা, এবং বয়স্ক পরিচর্যা প্রধান পেশা ।
অভিবাসন নীতি: স্পেন অভিবাসন নীতিতে নমনীয়তা দেখাচ্ছে। অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা চালু করেছে, যা দূরবর্তী কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় । বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি ভিসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে ।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে মাদ্রিদ বা বার্সেলোনায় সরাসরি ফ্লাইট নেই; মধ্যপ্রাচ্যের কোনো হাব হয়ে (কাতার, তুর্কি, ইতিহাদ) যেতে হয়। কৃষি খাতে মৌসুমি কাজের ভিসা এবং পর্যটন খাতের ভিসার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ-স্পেন দ্বিপাক্ষিক কর্মী নিয়োগ চুক্তির অগ্রগতি হচ্ছে ।
সৌদি আরব
পরিচিতি ও জনসংকটের প্রকৃতি: সৌদি আরব বর্তমানে বাংলাদেশী অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় গন্তব্য। ২০২৫ সালে একাই ৭,৫০,০০০-এর বেশি বাংলাদেশী কর্মী সৌদি আরব গেছেন—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক দেশে সর্বোচ্চ রেকর্ড । বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লক্ষ বাংলাদেশী বসবাস করেন, যাদের বার্ষিক প্রেরিত রেমিট্যান্স ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ।
জনসংকটের মূল কারণ: সৌদি আরব ভিশন ২০৩০-এর অধীনে ব্যাপক অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার জন্য বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও অর্ধ-দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন।
আবহাওয়া ও কৃষি: মরু জলবায়ু; গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত উত্তপ্ত (তাপমাত্রা ৫০°সে পর্যন্ত)। কৃষি সীমিত, মূলত মরুদ্যানভিত্তিক খেজুর ও শাকসবজি উৎপাদন হয়। খাদ্য সরবরাহের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
খাদ্য ও পেশা:
