আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও অফিসে গ্রীষ্মকালীন ছুটি পালন করা হয়। তবে আপনি কি জানেন, এই প্রথার উৎপত্তি ঘটে রোমে?
রোমান অভিজাতদের মধ্যে গ্রীষ্মের দিনে কয়েকদিন বিশ্রাম নেওয়ার রেওয়াজ ছিল। শীতের তীব্রতা কমে আসার সময় নদীর বরফ গলে যেতো, চারদিকে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ত, প্রকৃতি তার সব সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিত। এই সময়ে রোমানরা শহরের চাঞ্চল্য থেকে দূরে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতেন।
ধনী রোমানরা শহরের আশেপাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা প্রাসাদ বা অবকাশকেন্দ্র নির্মাণ করতেন। এগুলো সারা বছর খালি থাকলেও, গ্রীষ্মকালে তারা সেখানে আসতেন, ঘুরে বেড়াতেন, শিকার করতেন, নদী বা সাগরে মাছ ধরতেন এবং প্রকৃতির নীলাভ কুঞ্জে সময় কাটাতেন।
রোমের কাছে তাস্কানি (Tuscany) অঞ্চলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক জায়গা ছিল, যা রোমানদের গ্রীষ্মকালীন প্রিয় অবকাশকেন্দ্র। এখানকার বনাঞ্চলে তারা হরিণ ও পাখি শিকার করতেন। এছাড়া, ইংল্যান্ডের ধনী মানুষরাও রোমানদের অনুকরণে গ্রীষ্মকালে স্কটল্যান্ডে চলে যেতেন, যেখানে তখন বরফ গলেছিল এবং চারপাশে ফুল-ফল ও সবুজের সমারোহ থাকত।
রোমানদের অবকাশকেন্দ্রগুলো এমনভাবে তৈরি হতো যে, অনেক ধনী ব্যক্তি ঘরে শুয়ে শুয়ে নদী বা সাগরে মাছ ধরতে পারতেন।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা পম্পেই ও হারকুলিয়াম শহরের পাশের ক্যাম্পানিয়া অঞ্চলে একটি প্রাচীন অবকাশকেন্দ্র খুঁজে পান। ৭৯ খ্রিস্টাব্দে বিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই কেন্দ্রটি মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। খননকালে দেখা গেছে, এখানে অবকাশযাপনকারীদের ছিপ, তীর-ধনুক, শিকার করা মাছ ও পশুপাখি, এমনকি তাদের খাট-পালঙ্কও প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই মানুষরা আনন্দ-উৎসব করতে এসে হঠাৎই মাটির নিচে চাপা পড়েছিল।
রোমানদের এই গ্রীষ্মকালীন ছুটির প্রথা আজও বিশ্বজুড়ে প্রযোজ্য। আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালীন ছুটি প্রবর্তন করেছিলেন ইংরেজরা। তারা চলে গেলেও, তাদের প্রথা এখনও আমরা পালন করি।

