গোছানো সংগঠন তৈরী করা ও বিভেদহীন সংগঠনের রুপরেখা
আপাত দৃষ্টিতে বিষয়টি শুনতে ও দেখতে ভাল না লাগলেও এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অতোটা খারাপও নয়। আমরা হয়তো বলতে পারি- আরে ভাই নতুন একটা দল করবা একজন একপোস্টে থাকলেইতো হবে। সবাইতো নিজেরা। পরেওতো পোস্ট পাওয়া যাবে। আর পোস্ট না পেলেই দেশের জন্য কাজ করা যায়না। তোমারা পোস্ট ছাড়াই কাজ করে দেখিয়েছো।
এবার অন্য কথায় বললে, যারা আন্দোলন করেছে এবং মাঠে আছেন। তারা দেশ নিয়ে ভাবেন এবং দেশকে বদলানোর একটা লক্ষ্য, স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছেন এবং এগুচ্ছেন। তাদের সে জায়গাটতে ঠিকভাবে নিজের পরিকল্পনামতো কাজ করার জন্য পোস্ট পজিশন দরকার।
প্রশ্ন হলো, শুধু বাংলাদেশের এরকম দরকার হয়। অন্যদেশের হয়না। অন্যদেশে কেন এমন হয়না। এর কারণ হলো সিস্টেস বা কাঠামো ঠিক করা। কাঠামোই পারে যেকোনো দল ও সংগঠনে এরকম বিশৃংখলা দূর করে সুস্থ্যভাবে এগিয়ে নিতে।
একটি প্রতিষ্ঠিত দলে কাঠামো, পদবন্টন ও অন্যান্য বিষয় উন্নত বিশ্বের যেকোনো দলের দিকে তাকালে বোঝা যাবে। কারণ কাঠামো না থাকলে আমেরিকান নির্বাচনে বহু প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এমনকি এক দল থেকেও অনেত প্রার্থী আসতো। তাহলে নতুন দলে কিভাবে কাঠামোবদ্ধ আচরণ সংগঠিত করা যাবে???
এই প্রশ্নটার উত্তর খুজবো এখন। যদিও নতুন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের কাঠামো নিয়ে আমি এর আগে আরো দুটি লেখা দিয়েছি।
এবার আসি কাঠামোগত বিষয়ে-
প্রথমত:
যারা রাজনৈতিক দল গঠন করবেন তাদের মধ্যে নির্বাচিত ৩/৪ জন এবং ২/৩ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে তারা একটি দলীয় কাঠামো তথা গঠন তন্ত্র কার্যপ্রণালী তৈরী করবেন। খসড়া গঠনতন্ত্র তৈরী হওয়ার পর। তারা তাদের পরেরর লেখারে ২০-২৫ জনকে যুক্ত এটিকে জিরো ড্রাপ্ট আকারে উপস্থাপন করবেন। ২ থেকে ৩ সপ্তাহ বিশ্লেষণ করে তারা এটি চূড়ান্ত করবেন। হতে পারে আহবায়ক কমিটি কাজটি করবে সেক্ষেত্রে প্রথম কাজ হবে আহবায়ক কমিটি গঠন। আর আহবায়ক কমিটি গঠনতন্ত্র তৈরীর পরে হলে ক্যাচাল আরো কমে যাবে। আর আহবায়ক কমিটিতে একজন আহবায়ক আর বাকী সব সদস্য হলে পদ নিয়ে টানাটানিও কমবে।
দ্বিতীয়ত:
গঠনতন্ত্রে পরবর্তী কমিটিগুলো গঠনের ফর্মূলা এবং প্রথম কমিটি গঠনের এক হতে পারে বা ভিন্ন হতে পারে। গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রথমে একটি আহবায়ক কমিটি গঠিত হবে। আহবায়ক কমিটি পরবর্তী সাধারণ সদস্য এবং অন্যান্য সদস্যদের অন্তভূক্ত করবে। সদস্যরা গঠনতন্ত্রের প্রাপ্ত ক্ষমতা অনুসারে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন। পোস্টগুলো আগে ঠিক করা থাকবে। সে পোষ্ট অনুসারে নেতা নির্বাচন হবে।
তৃতীয়ত:
বর্তমান ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ক্ষেত্রে গতানুগতিক কৌশল সঠিক হবে না। তাদের কাজ হবে এই সংগঠনকে শুধু ছাত্র-অধিকার সংগঠন হিসেবে আগে প্রতিষ্ঠিত করা। সেজন্য উপরের ২টা ধাপ অনুসরণ করা এবং সারাদেশে নেটওয়ার্ক ও এলাকা কমিটি গঠন করা। এই সংগঠনকে রাজনৈতিক সংগঠনে রুপদান এই সংগঠন থেকে রাজনীতি করা বা এই সংগঠনকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার না করা ভাল হবে। এটা আইন ও নীতিগত কোনো সমস্যার জন্য নয়। এটা একটা কৌশলগত বিষয়। বলা থাকবে যেকোনো সংগঠনের লোকেরা এই সংগঠন করতে পারবে। শর্ত হলো অন্য সংগঠনের পদে থাকলে এখানে হতে সাধারণ সদস্য আর এখানে পদে অন্য সংগঠন করাই যাবে না। অন্য সংগঠন বলতে রাজনৈতিক সংগঠন নয়।
চতুর্থত:
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এই সংগঠন সারাদেশে বিস্তার লাভ করার পরে। সারাদেশে যখন বাছাইকৃত ছাত্ররা এর সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। তারপর এই সংগঠন থেকে কিছু মানুষ বের হয়ে আলাদা রাজনৈতিক সংগঠন রুপ দেবে। তার নাম, কাঠামো ও কমিটি ভিন্ন হবে। এই কমিটিতে তখন সর্বস্তরের লোক থাকবে। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ থেকে যারা রাজনীতি করতে চায় তারা এখানে যুক্ত হবে। এখানে একটি কাঠামো ঠিক করে সংগঠন গোছানো হবে। তাতে একজন কিভাবে কোন পদে আসবে সেসব বিস্তারিত থাকবে এবং দলের সবাই তা অনুসরণ করবে।
পঞ্চমত:
এই দলের কাঠামো হবে একুশ শতুকের কাঠামো। এই কাঠামো কোনো দলের সাথে মিলবেনা। এবং অবশ্যই এখানে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি সদস্য নিয়মগুলো মানবে। না মানলে রেটিং এবং রিভিউ দ্বারা তারা সমালোচিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
কেমন হতে পারে একুশ শতকের রাজনৈতিক দলের কাঠামো সে বিষয়ে আমার অন্য লেখা রয়েছে।
লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন
ছবি: প্রথম আলো আয়োজিত জুলাই অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র প্রদর্কশণী থেকেে
এই বিষয়ে আরেকটি লেখা: https://shovonio.com/%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%88%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%A6%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8B/

