SME, Super shop, Shopper

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভ্যাট ট্যাক্স সংক্রান্ত কতিপয় সমস্যা

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভ্যাট ট্যাক্স সংক্রান্ত কতিপয় সমস্যা

ভ্যাট ট্যাক্স সংক্রান্ত আমার লেখার সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। লেখাগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়েছিল। বিষয় ভিত্তিক ও সমন্বিত সব ধরনের লেখা ছিল। ছিল সমাধান ও পরামর্শ। আজকের এই লেখায় একটি সভায় উঠে আসার সমস্যাগুলো আলাদা করে তুলে ধরা হলো।

মাসিক ভ্যাট রিটার্ণ:

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা  বিভিন্ন সময়ে নানা  কারণে বিস্তারিত না জেনে BIN রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু তারা নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ণ দেন না। ফলে কয়েকবছর পর তাদের ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা তৈরী হয়। এতে করে তারা সমস্যার মধ্যে পড়ে যান। অনেকে বিদেশে যাওয়া ও ভিসা প্রাপ্তির জন্য Vat রেজিস্ট্রেশন করে থাকেন। কিন্তু ভ্যাট দেন না কিংবা প্রতিমাসে ভ্যাট রিটার্ণ জমা দেন না। তারা বিভিন্নভাবে আত্মীয় স্বজন থেকে টাকা ধার নিয়ে ব্যাংকে টাকাও রাখেন কিন্তু পরবর্তীতে তারা এ সংক্রান্ত জটিলতার মধ্যে পড়ে যান।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য মাসিক ছাড়াও ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক রিটার্ণ অপশন থাকতে পারে। এছাড়া সময়মতো নোটিশ যাওয়া বিধান রাখা যেতে পারে যা ই-মেইল বা এসএমএসএর মাধ্যমে যাবে। এছাড়া কারো ব্যবসা বন্ধ হলে বিআইএন স্থগিত বা বাতিলের বিধান সহজ করতে হবে।

 

এক প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্রান্ড

অনেকে ফেসবুকে এড রিচ হওয়ার সুবিধার্থে একটি  মাত্র প্রতিষ্ঠান, একই ওয়েবসাইট, একই ব্যাংক একাউন্ট এবং একই ঠিকানা সত্বেও একাধিক ফেসবুক পেইজ খুলে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। তাদেরকে এনবিআর একাধিক ট্রেড লাইসেন্স ও একাধিক বিন করার জন্য চাপ দিচ্ছে যা যুক্তিসঙ্গত নয়।

এনবিআর এর উচিৎ এই বিষয়ে শিথিলতা দেখানো বা একে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা। প্রতিষ্ঠান যদি সকল লেনদেন ব্যাংক এর মাধ্যমে করে থাকে এবং সকল বিক্রিতে ভ্যাট প্রদান করে তাহলে একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শপ বা ব্রান্ড চালুর অনুমতি দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ট্রেড মার্ক সহজ ও দ্রুত করে ট্রেড মার্ক করার শর্ত দেয়া যেতে পারে।

ই-কমার্সে অনলাইন কেনাকাটার উপর বর্তমানে ৫% ভ্যাট দিতে হয়। মার্কেটপ্লেস এর মতো শুধু বাড়তি চার্জ এর উপর ভ্যাট দিলে সমস্যা নেই। কিন্তু পুরো বিক্রয়মূল্যের উপর ৫% ভ্যাট অযৌক্তিক। কারণ বেশীরভাগ সময় ৫% লাভ করাও কঠিন হয়ে যায়।

অবিলম্বে পরিপত্র জারির মাধ্যমে সকলের জন্য একই নীতি চালু করতে হবে।

ই-কমার্সে বেশীরভাগ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। যারা আসলে ছোট দোকানের মতো। দোকানগুলোতে যেসব ভ্যাট ট্যাক্স প্রযোজ্য নয় তা যদি অনলাইন শপ এর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। তাহলে তারা অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে যায়। ভ্যাট এর ক্ষেত্রে ই-কমার্স এর পণ্য সেবার ক্যাটাগরি করে আলাদা সার্ভিস কোড চালু করলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে মার্কেটপ্লেস এর মতো এগ্রিগেটর এজেন্সি বিবেচনায় শুধুমাত্র বাড়তি যুক্তমূল্যের উপর ভ্যাট দেয়ার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এনবিআরকে দিতে হবে।

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply