বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রসারে ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স (Cross-border E-commerce) একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্য বিক্রি (আউটবাউন্ড) কিংবা বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির (ইনবাউন্ড) ক্ষেত্রে বেশ কিছু কাঠামোগত, আইনি এবং লজিস্টিকসগত জটিলতা রয়েছে। আমাদের দেশের সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নাকি ABC ফরম্যাটে কাজ করে। মানে প্রথমে তারা যেকোনো সমস্যাকে Avoid করে। ক্রস বর্ডার ই-কমার্স এখনো A পর্যায়ে রয়েছে তাদের কাছে। তারপর আসবে ‘‘বাইপাস’’ তারপর ‘‘কনফিউশন’’ তারপর কি হয় দেখা যাক।
বাংলাদেশের ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের প্রধান সমস্যাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের সীমাবদ্ধতা
সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দ্বিমুখী (Two-way) আন্তর্জাতিক পেমেন্ট চ্যানেল বা গেটওয়ের অভাব।
-
পেপ্যাল (PayPal) না থাকা: ফ্রিল্যান্সার এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্বস্ত ও বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য পেমেন্ট মাধ্যম ‘Paypal’ বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছ থেকে সহজে টাকা নেওয়া যায় না।
-
আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স জটিলতা: বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নিয়মের কারণে বিদেশ থেকে টাকা আনা যতটুকুই সহজ, দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাঠানো (যেমন: ফেসবুক/গুগল এ বিজ্ঞাপন দেওয়া, বিদেশি সফটওয়্যার বা সাবস্ক্রিপশন কেনা) অত্যন্ত জটিল।
২. জটিল শুল্ক ও কাস্টমস প্রক্রিয়া (Customs & Duty)
আমাদের কাস্টমস প্রক্রিয়া এখনো প্রথাগত বা বাল্ক (Bulk) আমদানির ওপর ভিত্তি করে চালিত, যা ই-কমার্সের খুচরা বা একক অর্ডারের জন্য উপযুক্ত নয়।
-
ধীরগতি এবং সনাতন পদ্ধতি: প্রতিটি ছোট পার্সেল বা প্যাকেজের শুল্কায়ন ম্যানুয়ালি করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাগে, যা ই-কমার্সের মূল বৈশিষ্ট্য (দ্রুত ডেলিভারি) ব্যাহত করে।
-
স্পষ্ট নীতিমালার অভাব: ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের জন্য সুনির্দিষ্ট এবং সহজীকৃত কোনো ‘ডি মিনিমিস ভ্যালু’ (De minimis value — যে সীমার নিচে পণ্য আনলে শুল্ক দিতে হয় না) বা রিফান্ড পলিসি না থাকা।
৩. উচ্চ লজিস্টিকস ও শিপিং খরচ
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার খরচ অনেক বেশি।
-
একটি ছোট পণ্যের দাম যদি হয় ৫ ডলার, তবে সেটি বিমানযোগে পাঠাতে শিপিং খরচই লেগে যায় ২০ থেকে ৩০ ডলার। ফলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা কমে যায়।
-
আন্তর্জাতিক ডাক বিভাগের (বিপিও) সেবার মান উন্নত ও আধুনিক না হওয়ায় উদ্যোক্তাদের বাধ্য হয়ে দামি বেসরকারি কুরিয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়।
৪. রিফান্ড ও রিটার্ন পলিসির জটিলতা (Reverse Logistics)
আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে পণ্য পছন্দ না হলে বা ত্রুটিপূর্ণ হলে তা ফেরত (Return) দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক।
-
বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য বিদেশে পাঠানোর পর তা যদি কোনো কারণে ক্রেতা ফেরত পাঠান, তবে সেই ফেরত আসা পণ্য বাংলাদেশে ঢোকানোর সময় কাস্টমসে নতুন করে আমদানি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং পুনরায় শুল্ক দাবি করা হয়। এই ‘রিভার্স লজিস্টিকস’ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে স্থানীয় বিক্রেতারা আন্তর্জাতিক বাজারে নামতে ভয় পান।
৫. সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব
-
গ্রামীণ বা প্রান্তিক পর্যায়ের হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের (যেমন: পাটজাত পণ্য, জামদানি, মৃৎশিল্প) বৈশ্বিক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে (যেমন: Amazon, eBay, Etsy) কীভাবে তালিকাভুক্ত হতে হয় বা ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হয়, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব রয়েছে।
৬. ব্যাংক ও পলিসিগত সমন্বয়হীনতা
-
বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), কাস্টমস এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স নিয়ে নীতিগত সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ই-কমার্সকে সাধারণ বাণিজ্যিক রপ্তানির চেয়ে আলাদা এবং দ্রুতগতির খাত হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি।
এখন আমরা দেখব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের ক্রস বর্ডার ব্যবসার উন্নয়নে কী করেছে?
বিগত এক দশকে বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাতের একটি হলো ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স (Cross-border E-commerce)। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক খুচরা বাণিজ্যের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা (UNCTAD)-এর মতে, বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল বাণিজ্যের একটি বড় অংশই এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের মাধ্যমে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SMEs) বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ আর্থিক নীতিমালা, কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং লজিস্টিকস অবকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে গৃহীত সফল পদক্ষেপগুলো এবং সেগুলো কীভাবে বাণিজ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখছে, তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. কাস্টমস ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন (Customs & De Minimis Rules)
ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রথাগত বা বাল্ক (Bulk) আমদানির নিয়ম দিয়ে ছোট ছোট একক পার্সেলকে মূল্যায়ন করা। বিশ্বজুড়ে সফল দেশগুলো এই প্রক্রিয়া সহজ করতে দুটি মূল পদক্ষেপ নিয়েছে:
-
ডি মিনিমিস ভ্যালু (De Minimis Value) বৃদ্ধি: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়ম মেনে বহু দেশ তাদের ‘ডি মিনিমিস’ (নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা, যার নিচে পণ্য আনলে কোনো শুল্ক বা কাস্টমস প্রক্রিয়া লাগে না) সীমা বাড়িয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ডি মিনিমিস সীমা বাড়িয়ে $800 করেছে। এর ফলে ৮০০ ডলারের নিচের কোনো আন্তর্জাতিক পার্সেল মার্কিন কাস্টমসে কোনো প্রকার শুল্ক বা দীর্ঘায়িত ছাড়পত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছে যায়।
-
ইলেকট্রনিক সিঙ্গেল উইন্ডো (Electronic Single Window): উন্নত দেশগুলো কাস্টমস, ভ্যাট এবং ব্যাংককে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। কাগজের নথির বদলে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ডাটা সরাসরি কাস্টমসের সিস্টেমে চলে যায়। ফলে পণ্য বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া (Paperless Pre-clearance) সম্পন্ন হয়ে যায়।
২. বিশেষায়িত অর্থনৈতিক জোন ও পাইলট প্রজেক্ট: চীনের মডেল
ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স প্রসারে সবচেয়ে যুগান্তকারী ও সফল মডেল তৈরি করেছে চীন। ২০১৫ সাল থেকে তারা দেশজুড়ে ১৬0টিরও বেশি “ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স কমপ্রিহেনসিভ পাইলট জোন” (CBEC Pilot Zones) প্রতিষ্ঠা করেছে। এই মডেলের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
-
বন্ডেড ওয়্যারহাউজ বা “অনলাইন শপিং বন্ডেড ইমপোর্ট মোড”: এই নিয়মে বিদেশি বিক্রেতারা তাদের পণ্য বিপুল পরিমাণে এনে চীনের কাস্টমস বন্ডেড ওয়্যারহাউজে (শুল্কমুক্ত গুদাম) রেখে দিতে পারেন। কোনো চীনা ক্রেতা অনলাইনে অর্ডার করার পর, সেই গুদাম থেকে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে যায়। পণ্য বিক্রি হওয়ার আগ পর্যন্ত বিক্রেতাকে কোনো শুল্ক দিতে হয় না।
-
ব্যক্তিগত ব্যবহার হিসেবে স্বীকৃতি: সাধারণ বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে যে কঠোর লাইসেন্সিং বা জটিল ফাইলিংয়ের নিয়ম থাকে, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের কেনাকাটাকে “ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য” (Personal Use Goods) হিসেবে গণ্য করে সেই কঠোরতা শিথিল করা হয়েছে।
৩. আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রেমিট্যান্সের সহজীকরণ
পেমেন্ট সিস্টেমের সহজলভ্যতা ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ফ্রেন্ডলি দেশগুলো তাদের আর্থিক নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে:
-
বহু-মুদ্রা সমর্থন ও ফিনটেক সহযোগিতা: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো (যেমন: সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া) তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল ওয়ালেটকে (যেমন: PayPal, Stripe, Wise) উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় ক্ষুদ্র বিক্রেতারা কোনো জটিল এলসি (Letter of Credit) ছাড়াই সরাসরি ক্রেতার মুদ্রা থেকে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা রূপান্তর করতে পারেন।
-
রিভার্স লজিস্টিকস ও ফান্ড রিফান্ড গ্যারান্টি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রিটার্ন (Return) একটি সাধারণ বিষয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এমন একটি ব্যাংকিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছে যেখানে পণ্য ফেরত গেলে গ্রাহকের রিফান্ড এবং বিক্রেতার শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়।
৪. সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস অবকাঠামো
শিপিং খরচ ও ডেলিভারি সময় কমানোর জন্য রাষ্ট্রীয় ডাক বিভাগকে আধুনিকায়ন করা এবং বেসরকারি খাতের সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে।
-
জাতীয় ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন (Cross-border Postal Integration): জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের রাষ্ট্রীয় ডাক বিভাগকে বৈশ্বিক ট্র্যাকিং সিস্টেম (EMS) এবং আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সাথে এপিআই (API) দিয়ে যুক্ত করেছে। এর ফলে অত্যন্ত কম খরচে আন্তর্জাতিক পার্সেল ট্র্যাকিং সুবিধাসহ পাঠানো যায়।
-
ওভারসিজ ওয়্যারহাউজ (Overseas Warehouses): চীন এবং ভারতের মতো বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশগুলোর সরকার তাদের উদ্যোক্তাদের জন্য লক্ষ্যণীয় বাজারগুলোতে (যেমন: ইউরোপ বা আমেরিকা) নিজস্ব গুদামঘর বা ‘ওভারসিজ ওয়্যারহাউজ’ স্থাপনে ভর্তুকি ও নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পণ্য আগে থেকেই বিদেশের মাটিতে মজুদ থাকে এবং অর্ডার পাওয়ার সাথে সাথে ‘লাস্ট-মাইল ডেলিভারি’ নিশ্চিত করা যায়।
এই পদক্ষেপগুলো যেভাবে বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়েছে:
১. SME খাতের বিশ্বায়ন: আগে যেখানে কেবল বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানি করতে পারত, এই সহজ নীতিমালার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারছে।
২. অপারেশনাল খরচ হ্রাস: ডি মিনিমিস সুবিধা এবং পেপারলেস কাস্টমসের কারণে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমেছে, যা পণ্যের সামগ্রিক ট্রানজিট খরচ ২০-৩০% পর্যন্ত কমিয়ে এনেছে।
৩. ক্রেতার আস্থা বৃদ্ধি: ট্র্যাকিং সুবিধা এবং দ্রুত ডেলিভারির কারণে আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভয় ও অনিশ্চয়তা কেটে গেছে, যা বৈশ্বিক ই-কমার্স বাজারের আকার ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে।
সংক্ষেপে: বাংলাদেশে তৈরি পোশাক (RMG) খাতের বাইরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) বৈশ্বিক বাজারে নিয়ে যেতে হলে কাস্টমস ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সহজীকরণ এবং সাশ্রয়ী শিপিং সুবিধা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি।
বাংলাদেশ ক্রস বর্ডার ই-কমার্স টাস্কফোর্স
যখন কোনো একটি খাতের উন্নয়ন কেবল একটি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে চলে যায় (যেমন এখানে জড়িত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর/কাস্টমস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগ), তখন প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক উপায়ে ফাইল চালাচালি করে দ্রুত সমাধান আনা অসম্ভব।
একটি কার্যকর টাস্কফোর্স কীভাবে এই অচলাবস্থা ভাঙতে পারে এবং এর কাঠামো কেমন হওয়া উচিত, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
কেন এই টাস্কফোর্স সফল হতে পারে? (The Rationale)
-
এক টেবিলে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী: বর্তমানে ই-ক্যাব বা বেসিস কোনো দাবি তুললে তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআর, এনবিআর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে ঘুরতে ঘুরতে বছরের পর বছর কেটে যায়। টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সব পক্ষের নীতিনির্ধারকরা এক টেবিলে বসবেন, ফলে ব্লেম-গেম (একে অপরকে দোষারোপ করা) বন্ধ হবে।
-
বাস্তবসম্মত বাণিজ্যের চাহিদা উপস্থাপন: সরকারি কর্মকর্তারা অনেক সময় ফ্রিল্যান্সিং বা ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের লজিস্টিকস ও টেকনিক্যাল জটিলতাগুলো ভেতর থেকে বুঝতে পারেন না। টাস্কফোর্সে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা থাকলে তারা মাঠপর্যায়ের আসল সমস্যা এবং বিশ্ববাজারের ট্রেন্ড সরাসরি সরকারের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।
-
নির্দিষ্ট ডেডলাইনভিত্তিক জবাবদিহিতা: সাধারণ সরকারি কমিটির মতো নয়, টাস্কফোর্সের কাজ হবে নির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ এবং ‘ট
